বিষয়বস্তুতে চলুন

হারিকেন মেলিসা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হারিকেন মেলিসা
Melissa at peak intensity shortly before landfall in Jamaica on October 28
আবহাওয়ার ইতিহাস
তৈরি হয়October 21, 2025
অজানা শক্তির ঝড়
1-minute sustained (SSHWS/NWS)
Highest winds160
Lowest pressure892 mbar (hPa); ২৬.৩৪ inHg
(Tied for third-lowest in the Atlantic basin)
সামগ্রিক প্রভাব
প্রাণহানি44+
আহত28+
নিখোঁজ1+
ক্ষতিUnknown
ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা
IBTrACSউইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

2025 Atlantic hurricane season এর অংশ

হারিকেন মেলিসা কিউবা থেকে সরে আসছে। এটি একটি শক্তিশালী আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড়। ২০২৫ সালের আটলান্টিক মৌসুমে এটি ত্রয়োদশ নামকরণকৃত ঝড়, পঞ্চম ঘূর্ণিঝড়, চতুর্থ প্রধান ঘূর্ণিঝড় এবং তৃতীয় ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ঝড়। মেলিসা তৈরি হয়েছিল একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় তরঙ্গ থেকে। ওই তরঙ্গটি প্রথম ১৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর উৎস ছিল পশ্চিম আফ্রিকা। সেখান থেকে এটি মধ্য আটলান্টিক অতিক্রম করে উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ–এর দিকে এগিয়ে যায়। পরে দ্রুত পশ্চিমমুখে ক্যারিবিয়ান সাগর–এ প্রবেশ করে। সেখানে এসে এটি ধীরে চলে এবং ২১ অক্টোবর “মেলিসা” নামে একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়। দুর্বল পরিচালন স্রোত ও মাঝারি বায়ুপ্রবাহের কারণে মেলিসা কয়েক দিন ধরে দিক হারিয়ে ঘুরপাক খেতে থাকে। ধীরে ধীরে এটি উত্তর–পশ্চিম দিকে সরে যায় এবং আরও সংগঠিত হতে শুরু করে। ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে মেলিসা দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে। অবশেষে এটি ক্যাটাগরি–৫ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ২৮ অক্টোবর এটি জ্যামাইকার নিউ হোপ–এর কাছে স্থলভাগে আঘাত হানে।

বিশ্বজুড়ে, এটি এখন পর্যন্ত ২০২৫ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়[]। এটি ১৯৩৫ সালের শ্রম দিবসের ঘূর্ণিঝড়–এর সঙ্গে সর্বনিম্ন বায়ুচাপের দিক থেকে তৃতীয়–সবচেয়ে তীব্র আটলান্টিক ঝড় হিসেবে স্থান পেয়েছে (হারিকেন উইলমাগিলবার্ট–এর পরে)। এছাড়া ১৯৩৫ সালের শ্রম দিবসের ঘূর্ণিঝড় এবং ২০১৯ সালের হারিকেন ডোরিয়ান–এর সঙ্গে মেলিসাকে আটলান্টিক অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থলাঘাতকারী ঝড় হিসেবেও গণ্য করা হচ্ছে। এক মিনিটের স্থায়ী বাতাসের গতির দিক থেকে (হারিকেন অ্যালেন–এর পরে)[] এটি দ্বিতীয়–সবচেয়ে তীব্র আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড়। মেলিসা এবং ১৯৩৫ সালের শ্রম দিবসের ঝড়কে একসঙ্গে স্থলভাগে আঘাতের সময় সবচেয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ধরা হয়। রেকর্ড অনুযায়ী, এটি জ্যামাইকার আটলান্টিক অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়।[]

মেলিসার তাণ্ডবে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়। হিস্পানিওলায় বন্যা ও ভূমিধসে ৩৩ জন এবং জ্যামাইকায় আরও ৮ জন প্রাণ হারায়।

আবহাওয়ার ইতিহাস

[সম্পাদনা]
স্যাফির-সিম্পসন মাপনী অনুযায়ী মানচিত্রে ঝড়টির পথ ও তীব্রতা দেখানো হয়েছে।
মানচিত্রের ব্যাখ্যা
  ক্রান্তীয় নিম্নচাপ (≤৩৮ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ≤৬২ কিমি/ঘণ্টা)
  ক্রান্তীয় ঝড় (৩৯–৭৩ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ৬৩–১১৮ কিমি/ঘণ্টা)
  শ্রেণী ১ (৭৪–৯৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ১১৯–১৫৩ কিমি/ঘণ্টা)
  শ্রেণী ২ (৯৬–১১০ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ১৫৪–১৭৭ কিমি/ঘণ্টা)
  শ্রেণী ৩ (১১১–১২৯ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ১৭৮–২০৮ কিমি/ঘণ্টা)
  শ্রেণী ৪ (১৩০–১৫৬ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ২০৯–২৫১ কিমি/ঘণ্টা)
  শ্রেণী ৫ (≥১৫৭ মাইল প্রতি ঘণ্টা, ≥২৫২ কিমি/ঘণ্টা)
  অজানা
ঝড়ের ধরন
▲ অ-ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় / ছোট নিম্নচাপ/ ক্রান্তীয় গোলযোগ / মৌসুমী নিম্নচাপ

২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর, জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র (NHC) পশ্চিমমুখী এক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ শুরু করে। সেটির বিকাশের সম্ভাবনা ছিল। ১৯ অক্টোবর, তরঙ্গটি উইন্ডওয়ার্ড দ্বীপপুঞ্জ পেরিয়ে ক্যারিবিয়ান সাগর–এ প্রবেশ করে। এই অস্থিরতা প্রথমে দ্রুত পশ্চিম দিকে এগোয়, তারপর গতি কমে যায়। এতে একটি স্পষ্ট কেন্দ্র গঠনের সুযোগ তৈরি হয়। ২১ অক্টোবর ভোরের দিকে কেন্দ্রটি শক্তভাবে সংগঠিত হয়ে ওঠে এবং তখনই এটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় মেলিসা–তে পরিণত হয়। দুর্বল পরিচালন স্রোতের কারণে মেলিসা ধীরে ধীরে ও অনিয়মিতভাবে পশ্চিম থেকে উত্তর–পশ্চিম দিকে সরে যেতে থাকে। এটি মধ্য ক্যারিবিয়ান–এর উষ্ণ জলের ওপর দিয়ে চলে। পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে তখন এটি উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হতে পারেনি।

২৩ অক্টোবর, ওই বায়ুপ্রবাহ দুর্বল হতে শুরু করে। ফলে ঝড়ের কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়। এর ফলে মেলিসা আরও উল্লম্বভাবে সংগঠিত হয়ে ওঠে, উত্তরের দিকে ঘুরে যায় এবং পরের দিন আরও শক্তিশালী হয়। অত্যন্ত অনুকূল আবহাওয়ার কারণে, ২৫ অক্টোবর থেকে মেলিসা দ্রুত তীব্র হতে থাকে। মাত্র ১৮ ঘণ্টায় এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ৭০ মাইল (প্রায় ১১৫ কিমি/ঘন্টা) থেকে বেড়ে ১৪০ মাইল (প্রায় ২২৫ কিমি/ঘন্টা)–এ পৌঁছে যায়। কিছুক্ষণ বিরতির পর, আবার তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। ২৭ অক্টোবরের ভোরে, পশ্চিমমুখে অগ্রসর হতে হতে মেলিসা ক্যাটাগরি–৫ মর্যাদা অর্জন করে।

উত্তর–উত্তর–পূর্ব দিকে ঘূর্ণায়মান হতে হতে, পরের দিন সকালে এটি জ্যামাইকার নেগ্রিল থেকে প্রায় ৪৫ মাইল (৭০ কিমি) দক্ষিণ–দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থান করে। তখন এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ১৮৫ মাইল (২৯৫ কিমি/ঘন্টা) এবং কেন্দ্রীয় বায়ুচাপ ছিল মাত্র ৮৯২ মিলিবার (hPa)। ১৭:০০ UTC–তে ঝড়টি তার সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে ওয়েস্টমোরল্যান্ড প্যারিশ–এর নিউ হোপ–এর কাছে স্থলভাগে আঘাত হানে। এটি ১৯৩৫ সালের শ্রম দিবসের ঘূর্ণিঝড়–এর সমান শক্তির ছিল এবং কেন্দ্রীয় চাপের বিচারে আটলান্টিক অঞ্চলে সংঘটিত সবচেয়ে তীব্র স্থলাঘাতগুলির একটি। যদিও NHC জানিয়েছে, চূড়ান্ত র‌্যাঙ্কিং মৌসুম–পরবর্তী বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করবে।

ঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশের পর জ্যামাইকার পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্বল হয়ে পড়ে। তারপর এটি উত্তর উপকূল পেরিয়ে আবার ক্যারিবিয়ান সাগর–এ প্রবেশ করে, তখন এর শক্তি ক্যাটাগরি–৪ পর্যায়ে নেমে আসে এবং এটি কিউবার দিকে অগ্রসর হয়। শীঘ্রই সিস্টেমটি আরও দুর্বল হয়ে ক্যাটাগরি–৩ হারিকেন–এ পরিণত হয়। একটি স্বল্প সময়ের জন্য মেলিসা আবার ক্যাটাগরি–৪ শক্তি ফিরে পায়। পরে ২৯ অক্টোবর সকাল ০৭:১০ UTC–তে এটি পূর্ব কিউবায় স্থলভাগে আঘাত হানে, চিভিরিকো থেকে প্রায় ২০ মাইল (৩০ কিমি) পূর্বে। তখন এর বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১২০ মাইল (১৯৫ কিমি/ঘন্টা)। কিউবার দুর্গম ভূখণ্ড অতিক্রম করার সময় ঝড়টি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রায় আট ঘণ্টা পর যখন এটি উপকূলে ফিরে আসে, তখন এর স্থায়ী বাতাসের গতি নেমে আসে নিম্ন–স্তরের ক্যাটাগরি–২ শক্তিতে।

প্রস্তুতি

[সম্পাদনা]

লেসার অ্যান্টিলিস

[সম্পাদনা]

১৭ অক্টোবর, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো–তে মেলিসার পূর্ববর্তী আবহাওয়া প্রভাব দেখা দেওয়ায় একটি হলুদ প্রতিকূল আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়। ১৮ অক্টোবর, একই ধরনের হলুদ সতর্কতা জারি করা হয় মার্টিনিক–এ। সেই দিনই বার্বাডোস–এ একটি আকস্মিক বন্যার সতর্কতা ঘোষণা করা হয়।

লিওয়ার্ড অ্যান্টিলিস

[সম্পাদনা]

[কুরাকাও]]–এর প্রধানমন্ত্রী গিলমার পিসাস দ্বীপে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও নমনীয়তা আনতে সব বিদ্যালয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

গ্রেটার অ্যান্টিলিস

[সম্পাদনা]

২১ অক্টোবর, হাইতি–র দক্ষিণ অংশের জন্য একটি হারিকেন ওয়াচ জারি করা হয়। একই সঙ্গে জ্যামাইকার জন্য জারি হয় একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় সতর্কতা (ট্রপিক্যাল স্টর্ম ওয়াচ)। ২৩ অক্টোবর, জ্যামাইকার সতর্কতাটি উন্নীত করে হারিকেন ওয়াচ এবং একই সঙ্গে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় সতর্কতা দেওয়া হয়। পরের দিন, সেটিকে আবার হারিকেন সতর্কতায় উন্নীত করা হয়। একই দিনে হাইতির দক্ষিণ অংশের জন্যও একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় সতর্কতা ঘোষণা করা হয়।

[সি আইল্যান্ডার]]–এর মার্গারিটাভিল গ্র্যান্ড কেম্যান এবং জ্যামাইকার স্টপ বাতিল করে রুট পরিবর্তন করে বেলিজহন্ডুরাস–এর দিকে নেওয়া হয়। ডিজনি ট্রেজার জাহাজটি টরটোলাসেন্ট থমাস থেকে রুট পরিবর্তন করে কোজুমেল–এর দিকে যায়, এবং ট্রেজারের এই পরিবর্তনের কারণে ডিজনি উইশ তার সময়সূচী বদলে ক্যাস্টওয়ে কে–তে যাত্রা করে। গ্রেটার অ্যান্টিলিস অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে — যেমন বাহামা, বার্বাডোস, হাইতি, জ্যামাইকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ–এর বিমানবন্দরে মোট ১৬৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

পুয়ের্তো রিকো

[সম্পাদনা]

২২ অক্টোবর, মেলিসার বাইরের অংশ থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিলে, মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা পুয়ের্তো রিকোর বেশ কয়েকটি পৌরসভার জন্য বন্যা সতর্কতা জারি করে।

ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র

[সম্পাদনা]

সান জুয়ান, সান ক্রিস্টোবাল এবং জাতীয় জেলায় মোট চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়, যেখানে ৬১ জন মানুষ আশ্রয় নেন। বারোটি প্রদেশে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। প্রায় ৯০ জন বাসিন্দাকে সাওনা দ্বীপ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

জ্যামাইকা

[সম্পাদনা]

২৭ অক্টোবর, ক্যাটাগরি–৫ হারিকেন মেলিসা জ্যামাইকার দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছে যায়। ঝড়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে GOES–19 ইনফ্রারেড স্যাটেলাইট লুপে ঘূর্ণিঝড়টির গঠন স্পষ্ট দেখা যায়।

জ্যামাইকার পরিবহন মন্ত্রণালয় পোর্টমোর, স্প্যানিশ টাউন, রকফোর্টমন্টেগো বে–তে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩০টি বাস মোতায়েন করে। জাতীয় পানি কমিশন জরুরি দলের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়, মোনা–র শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেখানে নির্ধারিত স্নাতক সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। ঝড়ের আগে সেন্ট অ্যান্ড্রু এলাকায় অবস্থিত স্যান্ডি গলি পরিষ্কার করা হয় যাতে বন্যার পানি জমে না থাকে।

মেলিসার সম্ভাব্য প্রভাবের প্রস্তুতি হিসেবে জাতীয় পানি কমিশন ৫ লাখ ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করে। ২৫ অক্টোবর, দেশের সব বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

জ্যামাইকা আরবান ট্রানজিট কোম্পানি–র অধীনে থাকা সকল পরিবহন পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

কেম্যান দ্বীপপুঞ্জ

[সম্পাদনা]

কেম্যান দ্বীপপুঞ্জের সরকার নাগরিকদের জন্য বালির বস্তা সরবরাহ করে যাতে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। কেম্যান এয়ারওয়েজ ঝড়–সংক্রান্ত কারণে যাত্রীদের ফ্লাইট পরিবর্তনের ফি মওকুফ করে দেয়।

২৪ অক্টোবর, লিটল কেম্যানকেম্যান ব্র্যাক দ্বীপে সব পর্যটন ডাইভিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

কিউবা

[সম্পাদনা]

কিউবা সরকার গুয়ান্তানামো প্রদেশ থেকে প্রায় ১,৪৫,০০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী গুয়ান্তানামো বে নৌ ঘাঁটি থেকে ফ্লোরিডা–তে কয়েক শত লোককে সরিয়ে নেওয়া শুরু করে। এর মধ্যে এমন অনেক মার্কিন নাগরিকও ছিলেন, যাঁদের উপস্থিতি ঘাঁটির মিশনের জন্য অপরিহার্য ছিল না।

প্রভাব

[সম্পাদনা]

লেসার অ্যান্টিলিস

[সম্পাদনা]

১৯ অক্টোবর, বার্বাডোস–এর গ্র্যান্টলি অ্যাডামস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভারী বৃষ্টির সময় ঘণ্টায় ৪৫ মাইল (৭৪ কিমি/ঘণ্টা) বেগে বাতাস বয়। অন্য জায়গাগুলোর মধ্যে সেন্ট লুসিয়ায় বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ৩২ মাইল (৫২ কিমি/ঘণ্টা) এবং মার্টিনিক–এ ঘণ্টায় ৩৭ মাইল (৬১ কিমি/ঘণ্টা)।

পুয়ের্তো রিকো

[সম্পাদনা]

২৪ অক্টোবর, মেলিসার বাইরের অংশ থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। গুয়ানিকা এলাকায় প্রবল বর্ষণে প্রায় ৪০০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কিছু ভবন ও অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়।

হাইতি

[সম্পাদনা]

পোর্ট-অ-প্রিন্স–এর কাছে ভূমিধসে তিনজনের মৃত্যু হয়। মারিগো–তে গাছ ভেঙে একজন মারা যান, আর পেটিট-গোভ–এ নদীর তীর ভেঙে ২৫ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আর্টিবোনাইট বিভাগে দেয়াল ধসে আরও ১৫ জন আহত হন। সারা দেশে মোট ২৯ জনের মৃত্যু এবং অন্তত ৪৫০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র

[সম্পাদনা]

দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে ১১ লাখেরও বেশি মানুষ পানির অভাবে পড়ে, বিশেষ করে পেড্রো ব্র্যান্ড, লস আলকারিজোসসান্তো ডোমিঙ্গো ওয়েস্তে এলাকায়। মোট ৫৬টি জলনালী বন্ধ হয়ে যায়। মারিয়া ত্রিনিদাদ সানচেজ প্রদেশে একটি রাস্তার লেন ধসে পড়ে। কনস্টানজা এলাকায় এক হাসপাতালে ভবনের সামনের অংশ ভেঙে পড়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। সান্তো ডোমিঙ্গো নর্তে এলাকায় নদীতে ভেসে গিয়ে ৭১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যান। লস মামেয়েস–এ এক শিশু ভারী বৃষ্টির সময় নিখোঁজ হয়। দেশজুড়ে মোট চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কোস্টারিকা

[সম্পাদনা]

জ্যাকোসান্তা ক্রুজসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হয়। নদীগুলো উপচে পড়ে বন্যা দেখা দেয়। পুয়ের্তো জিমেনেজ–এ ২৬ অক্টোবর, বন্যার কারণে একজন নাবালক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং স্থানীয় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

পানামা

[সম্পাদনা]

মেলিসার প্রভাবে সারা দেশে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধস হয়। ২৫ অক্টোবর, কোকলে–তে একজন নিখোঁজ হয়ে পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। ২৮ অক্টোবর, নাগাবে–বুগলে এলাকায় দুটি মেয়ে নদীর স্রোতে ভেসে মারা যায়। সব মিলিয়ে, দেশে এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর জন্য মেলিসাকে দায়ী করা হয়েছে।

জ্যামাইকা

[সম্পাদনা]

২৭ অক্টোবর, মেলিসা জ্যামাইকার দক্ষিণ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে সেন্ট এলিজাবেথ, সেন্ট ক্যাথেরিনহ্যানোভার অঞ্চলে তিনজনের পরোক্ষ মৃত্যু ঘটে এবং প্রস্তুতি নিতে গিয়ে ১৩ জন আহত হন। ওল্ড হারবার–এ বন্যা দেখা দেয়। সেন্ট এলিজাবেথের অনেক এলাকায় ভোর ৬টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ১৫:০০ UTC নাগাদ প্রায় ২ লাখ গ্রাহক— অর্থাৎ জ্যামাইকার ৩৫% বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান— বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মেলিসা দ্বীপের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে ৫২,০০০ জন জ্যামাইকা পাবলিক সার্ভিস–এর গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হন। ঝড় আঘাত হানার পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৩০ হাজারে।

হারিকেনটি ওয়েস্টমোরল্যান্ড প্যারিশ–এর নিউ হোপ–এ ক্যাটাগরি–৫ ঝড় হিসেবে স্থলভাগে আঘাত হানে — এটি জ্যামাইকার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী স্থলাঘাত। এটি ১৯৮৮ সালের হারিকেন গিলবার্ট–কেও ছাড়িয়ে যায়, যা ক্যাটাগরি–৪ শক্তিতে পূর্ব জ্যামাইকায় আঘাত হেনেছিল। সেন্ট এলিজাবেথ প্যারিশ প্রায় “পানির নিচে” চলে যায়। বহু গ্রাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়, ভবন ধসে পড়ে। ম্যান্ডেভিলঅ্যালিগেটর পুকুর এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হয়— ঘরবাড়ি ছাদ পর্যন্ত ডুবে যায়। সেন্ট এলিজাবেথ টেকনিক্যাল হাই স্কুল–এর ছাদ উড়ে যায় এবং ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ব্ল্যাক রিভার–এর হাসপাতালও কাঠামোগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়— এর ছাদ সম্পূর্ণ উড়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের জানালা ও গেটও ভেঙে যায়।

একটি গাছ ভেঙে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়। কিংস্টন–এ একটি বিলবোর্ডের কাঠামো আংশিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। গর্ডন টাউন–এ ভূমিধসের কারণে একটি রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। সেন্ট এলিজাবেথের পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে হারিকেনের কারণে অন্তত চারটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

কিউবা

[সম্পাদনা]

মেলিসা সান্তিয়াগো দে কিউবা প্রদেশে পৌঁছানোর আগেই সেখানে বন্যা ও ভূমিধস শুরু হয়। ০৭:১০ UTC–তে ঘূর্ণিঝড়টি চিভিরিকোর পূর্বে স্থলভাগে আঘাত হানে, ঘণ্টায় ১২১ মাইল (১৯৪ কিমি/ঘণ্টা) বেগে বাতাস বয়ে যায়।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Masters, Jeff (২৭ অক্টোবর ২০২৫)। "Jamaica braces for Cat 5 Hurricane Melissa, Earth's strongest storm of 2025"। New Haven, Connecticut: Yale Climate Connections। সংগ্রহের তারিখ ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  2. "Hurricane Melissa live: 'Last chance to protect your life' - storm strengthens again hours before hitting Jamaica"Sky News। ২৮ অক্টোবর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  3. "Live Updates: Hurricane Melissa Makes Landfall in Jamaica with Violent Winds and Rain"The New York Times। ২৮ অক্টোবর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০২৫