বিষয়বস্তুতে চলুন

হাবিব (ফেরেশতা)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হাবিব হলেন একজন ফেরেশতা, যিনি আগুন ও বরফের সংমিশ্রণে সৃষ্ট বলে বর্ণিত। মুহাম্মাদ-এর লাইলাতুল মেরাজের বর্ণনায় তার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা ৯ম থেকে ১০ম শতাব্দীর মধ্যে লিপিবদ্ধ ও বিধিবদ্ধ হয়।[১] যদিও পরবর্তীকালের মেরাজ-সংক্রান্ত বিবরণগুলিতেই এই ফেরেশতার চরিত্রটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়,[২]:{{{১}}} তবুও আগুন ও বরফ দ্বারা সৃষ্ট একজন ফেরেশতার ধারণা মুকাতিল ইবনে সুলায়মান-এর লেখায় পূর্বেই প্রমাণিত এবং সম্ভবত এটি ইসলামি ইতিহাসের প্রথম শতক থেকেই প্রচলিত ছিল।[২]:252

অনেক প্রাচীন বর্ণনায়, ঐ ফেরেশতা সৃষ্টিকর্তার সর্বব্যাপিতা এবং সামাজিক পুনর্মিলনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।[১] ইসলামি প্রতীকবাদের মতে, যেমন সৃষ্টিকর্তা বরফ না গলিয়ে এবং আগুন না নিভিয়েই অগ্নি ও তুষার থেকে সেই ফেরেশতাকে সৃষ্টি করেছিলেন, তেমনি সৃষ্টিকর্তা অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারেন এবং পরস্পর থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী সত্তাগুলোকেও একত্রিত করতে সক্ষম।[৩]

নিশাপুর আল-কুশাইরি-এর (মৃত্যু ৪৬৫ হিজরি/১০৭২ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে এমন এক সম্পূর্ণ ফেরেশতা-গোষ্ঠীর বর্ণনা পাওয়া যায়, যারা অর্ধেক আগুন ও অর্ধেক বরফ দ্বারা গঠিত এবং যারা মুমিনদের পুনর্মিলনের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে।[২]:257 মেরাজ-সাহিত্যর একটি ফার্সি সংস্করণে, এই ফেরেশতা-গোষ্ঠীর নেতাকে কাবিল নামে ডাকা হয়।[২]:258 ইহুদি গ্রন্থ অ্যাপোক্যালিপ্স অফ মোজেস-এ ঈশিম নামে দেবদূতদের একটি দল রয়েছে, যা সম্ভবত পরবর্তীকালের ইসলামি চিত্রণ দ্বারা প্রভাবিত।[২]:266-263

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 গ্রুবার, ক্রিস্টিয়ানে (২০১০)। দ্য ইলখানিদ বুক অব অ্যাসেনশন: এ পার্সিয়ান-সুন্নি ডিভোশনাল টেল। আই.বি. টরিস। পৃ. ১১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৫৭-৭১৮০৯-৯।
  2. 1 2 3 4 5 কলবি, এফ. এস. (ডিসেম্বর ২০১৯)। "অগ্নি ও তুষারের মিলন: নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মেরাজের মধ্যযুগীয় সংস্করণে 'হাবিব' নামক বিস্ময়কর ফেরেশতার উপস্থাপনা ও ব্যাখ্যা"। দ্য ইন্টারমিডিয়েট ওয়ার্ল্ডস অব অ্যাঞ্জেলস। এরগন-ফারলাগ।
  3. ↑ কলবি, ফ্রেডরিক এস. (২০০৮)। নবী মুহাম্মদের রাত্রিকালীন যাত্রার বর্ণনা: ইবনে আব্বাসের মেরাজ বর্ণনার বিকাশের অনুসরণ। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্ক প্রেস। পৃ. ৩২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-৭৫১৮-৮।