হান্নান সরকার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হান্নান সরকার
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামআব্দুল হান্নান সরকার
জন্ম (1986-02-04) ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ (বয়স ৩৫)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম
ভূমিকাউদ্বোধনী ব্যাটসম্যান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৪)
২১ জুলাই ২০০২ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ টেস্ট১৯ অক্টোবর ২০০৪ বনাম নিউজিল্যান্ড
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৫৯)
৭ আগস্ট ২০০২ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ ওডিআই১৯ মে ২০০৪ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা ১৭ ২০
রানের সংখ্যা ৬৬২ ৩৮৩
ব্যাটিং গড় ২০.০৬ ১৯.১৪
১০০/৫০ -/৫ -/৩
সর্বোচ্চ রান ৭৬ ৬১
বল করেছে -
উইকেট - -
বোলিং গড় - -
ইনিংসে ৫ উইকেট - -
ম্যাচে ১০ উইকেট - -
সেরা বোলিং - -
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৭/- ৮/-
উৎস: ক্রিকইনফো, ৪ আগস্ট ২০১৭

আব্দুল হান্নান সরকার (জন্ম: ১ ডিসেম্বর ১৯৮২) ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার[১] তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। দলে তিনি মূলতঃ ডানহাতে ব্যাটিং উদ্বোধনে মাঠে নামতেন। কিন্তু নিজেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন হান্নান সরকার। পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন তিনি। ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে বরিশাল ও রাজশাহী বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। তন্মধ্যে, বরিশালের পক্ষে মাত্র দুইটি সেঞ্চুরি করতে পেরেছিলেন। এছাড়াও ঢাকাভিত্তিক ক্লাবের সদস্য ছিলেন।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

মাত্র ১৯ বছর বয়সে ২১ জুলাই, ২০০২ তারিখে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ১ম টেস্টে বাংলাদেশের আলমগীর কবির, এহসানুল হকতালহা জুবায়ের এবং শ্রীলঙ্কার সুজিবা ডি সিলভার সাথে তারও একযোগে টেস্ট অভিষেক ঘটে।[২] উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে চমৎকারভাবে খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন তিনি। কলম্বোর পি. সারাভানামুত্তু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২-টেস্টের সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিনি ৬৯ বলে ৫৫ রান করেন। হাবিবুল বাশারের সাথে জুটি গড়ে মধ্যাহ্নভোজনের পূর্বে দলকে ১০৭/২-এ নিয়ে যান। কিন্তু বিরতির পর তিনি সনাথ জয়াসুরিয়া’র প্রথম বলেই এলবিডব্লিউ’র শিকারে পরিণত হন ও পরের ওভারেই মুত্তিয়া মুরালিধরন বাশারকে বিদায় করেন।[৩] দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি মাত্র ১ রান তুলতে পেরেছিলেন। ঐ টেস্টে তার দল ইনিংস ও ১৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হয়েছিল।

২৫ জুলাই, ২০০৩ তারিখে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগতিক দলের বিপক্ষে টেস্টের উভয় ইনিংসেই অর্ধ-শতক (৭৬ ও ৫৫) করেছিলেন। এ সময় তিনি গ্লেন ম্যাকগ্রা, জেসন গিলেস্পি, ব্রেট লিস্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের বল মোকাবেলা করে পাঁচ ঘণ্টারও অধিক সময় ক্রিজে অবস্থান করেন। তন্মধ্যে প্রথম ইনিংসে ১৯৭ মিনিটে নিজস্ব সর্বোচ্চ ৭৬ রান তুলেছিলেন যা প্রয়াত ডেভিড হুকসের মন্তব্যে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দেন। সাবেক অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যান হুকস বলেছিলেন যে, অস্ট্রেলিয়া টেস্টের প্রথম দিনেই ফলাফল এনে দিতে সক্ষম।[১]

২০০৪ সালে সুনীল গাভাস্কারের সাথে তিনিও প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হবার মতো অগৌরবসূচক রেকর্ডের অধিকারী হন। এছাড়াও একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে তিনবার ইনিংসের প্রথম বলেই আউট হয়ে যান। তার এই রেকর্ডের সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেড্রো কলিন্সের নাম জড়িয়ে আছে। দুইবারই তিনি হান্নানকে আউট করেছিলেন।

অবসর[সম্পাদনা]

হান্নান তার সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনের ১৭ টেস্টে মাত্র পাঁচটি অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। তন্মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অর্ধ-শতক করেছিলেন ৩টি করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উদীয়মান তারকা হিসেবে আবির্ভূত হলেও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা না থাকায় দল নির্বাচকমণ্ডলী কর্তৃক তাকে উপেক্ষিত হতে হয়েছে। মূলতঃ কাঁধের সমস্যাজনিত কারণে ইনিংসের প্রথমদিককার কিছু বল মোকাবেলায় ব্যর্থতার জন্য এরূপ ঘটনা ঘটেছে। নিজ দেশে সর্বশেষ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তিনি ০ ও ১ রান হাঁকান যা নির্বাচকদের বেশ হতাশ করেছিল।[৪] ফলশ্রুতিতে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক খেলোয়াড় আফতাব আহমেদকে চট্টগ্রাম টেস্টের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়।[৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Isam, Mohammad। "Hannan Sarkar's Cricinfo Profile"ক্রিকইনফো। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৫ 
  2. Isam, Mohammad। "Match reports - Sri Lanka v Bangladesh, First Test"ক্রিকইনফো। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০১৫ 
  3. "Almenack reports - Sri Lanka v Bangladesh, First Test"ক্রিকইনফো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৭-০৫-১০ 
  4. "Sarkar dropped for Chittagong Test"ক্রিকইনফো। ২০০৪-১০-২২। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৬-২৮ 

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]