হাতিকভাহ
| বাংলা: আশা | |
|---|---|
| הַתִּקְוָה | |
ইসরায়েলি পতাকার নিচে হাতিকভাহর গীতিসঙ্গীত | |
| কথা | নাফতালি হার্জ ইমবার, ১৮৭৮ |
| সঙ্গীত | স্যামুয়েল কোহেন, ১৮৮৮ |
| গ্রহণকাল | ১৮৯৭ (প্রথম জায়নবাদী কংগ্রেস) ১৯৪৮ (অনানুষ্ঠানিকভাবে) ২০০৪ (আনুষ্ঠানিকভাবে) |
| অডিও নমুনা | |
"হাতিকভাহ" (বাদ্যযন্ত্রগত) | |
হাতিকভাহ (হিব্রু ভাষায়: הַתִּקְוָה, আরবি: الأمل, lit. বাংলা: "আশা") একটি ইহুদি গীতিকবিতা এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত। গীতিকবিতাটির রচয়িতা ছিলেন ইহুদি কবি নাফতালি হার্জ ইমবার, যিনি তৎকালীন অস্ট্রীয় শাসনাধীন বর্তমান ইউক্রেনের জোলাখিভ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৭৭ সালে নাফতালি ইমবার যখন ইহুদি পণ্ডিত হিসেবে আতিথীয়তা গ্রহণ করে রোমানিয়ার শহর ইয়াসিতে সফর করছিলেন, তখনই তিনি এই কবিতাটির প্রথম সংস্করণ রচনা করেন। মূলত পূর্বপুরুষদের ফেলে আসা ইসরায়েলের ভূমিতে ফিরে যাওয়ার ২০০০ বছরের সুপ্ত বাসনা এবং সার্বভৌম জাতিরূপে ইহুদিদের মাতৃভূমি পুনরুদ্ধারই হলো এই কবিতা তথা জাতীয় সঙ্গীতটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]"কবিদের শহর"[১] খ্যাত তৎকালীন অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজ্যাধীন জোলোখিভ (বর্তমান ইউক্রেনে) শহরের কবি নাফতালি হার্জ ইমবার ১৮৭৮ সালে এই কবিতাটি রচনা করেন। কিন্তু ১৮৮২ সালে কবি নাফতালি ইমবার ইউরোপ ছেড়ে অভিবাসী হয়ে উসমানীয়-শাসিত ফিলিস্তিনে বাস করতে শুরু করেন এবং রিশোন লিৎজিয়োন, রিহোভোৎ, গেদেরা এবং ইয়েশুদ হামা'আলার মতো গোড়ার দিকে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ইহুদি উপনিবেশগুলোর শহরের কর্ণধারদের কাছে তিনি তার এই কবিতা প্রচার করতে থাকেন।[২]
ধারণা করা হয় যে, ইমবারের হাতিকভাহ্ কবিতার নবম-স্তাবক তিকভাতেনু (যার অর্থ "আমাদের আশা") অংশের পঙক্তিগুলো আধুনিক ইসরায়েলের মধ্যবর্তী শহর পেতাহ তিকভাহ্ প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা জুগিয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮৮৬ সালে কবি ইমবারের প্রথম বই বারকাই-তে (যার অর্থ "প্রভাতের জ্যোতির্ময় নক্ষত্র")" কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর রাশিয়ার হোভেভেয় জায়ন নামক ইহুদীয় সংগঠন তাদের দলের দলীয় সঙ্গীত হিসেবে হাতিকভাহ্কে নির্ধারণ করে এবং পরে ১৮৯৭ সালে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম জায়নবাদী কংগ্রেস নেতৃবৃন্দও হাতিকভাহ্কে তাদের দলীয় সঙ্গীতরূপে স্বীকৃতি দেয়।[৩]
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্বে
[সম্পাদনা]১৯১৯ সালে আরবে জায়নবাদ-বিরোধী আন্দোলন শুরু হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎকালীন ব্রিটিশ মেন্ডেটরি প্রশাসন জনসম্মুখে সঙ্গীতটির প্রচার নিষিদ্ধ করে।[৪]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে ইহুদি গণহত্যার সময়, জোন্ডেরকোমান্ডোসের (কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের কয়েদী-ইহুদীদের একটি ইউনিট, যাদের বলপূর্বক গ্যাস চেম্বারে মৃত শবদেহগুলো পোড়ানোর কাজ করানো হতো) একজন প্রাক্তন কয়েদী-কর্মচারী উল্লেখ করেন যে, চেক-ইহুদীরা মৃত্যুর পূর্বে আউশউইৎজ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের গ্যাস চেম্বারে ঢুকার আগে সমস্বরে হাতিকভাহ্ গানটি গাইতো এবং ওয়াফেন এসএস শাখার নাৎসি সৈন্যরা এই গান শুনে ক্রুদ্ধ হয়ে তাদের পেটাতে শুরু করতো।[৫]
জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি
[সম্পাদনা]১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর, "হাতিকভাহ্" অনানুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিলো। আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে স্বীকৃতি পায়, যখন নেসেট (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) গানটির সংক্ষিপ্ত এবং গানটির সম্পাদনা ও সংস্করণ সহকারে অনুমোদন প্রদান করে।
চরণ
[সম্পাদনা]
| মূল আধুনিক হিব্রু | প্রতিবর্ণ | আধ্বব স্বনিমীয় প্রতিলিপি[ক] | আক্ষরিক বঙ্গানুবাদ |
|---|---|---|---|
כֹּל עוֹד בַּלֵּבָב פְּנִימָה |
কোল ‘ওদ বালেভাভ পেনিমাহ |
/kol od ba.le.vav pe.ni.ma/ |
যতদিন এই হৃদয়ের ভিতর |
উদ্ধৃতি
[সম্পাদনা]টীকা
[সম্পাদনা]- ↑ দেখুন সাহায্য:আধ্বব/হিব্রু
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Weiss, Jakob (২০১১), The Lemberg Mosaic, New York: Alderbrook, পৃ. ৫৯.
- ↑ Tobianah, Vicky (১২ মে ২০১২)। "Pianist explores Hatikva's origins"। cjnews.com। Canadian Jewish News। সংগ্রহের তারিখ ১৬ মে ২০১৭।
- ↑ Naphtali Herz Imber (1904) Barkoi or The Blood Avenger, A.H. Rosenberg, New York (Hebrew and English)
- ↑ Morris, B (১৯৯৯), Righteous victims: a history of the Zionist-Arab conflict, 1881–1999, Knopf.
- ↑ Gilbert, Shirli, Music in the Holocaust: Confronting Life in the Nazi Ghettos and Camps, পৃ. ১৫৪.