বিষয়বস্তুতে চলুন

হাটে বাজারে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হাটে বাজারে
পোস্টার
পরিচালকতপন সিংহ
প্রযোজকঅসীম দত্ত
রচয়িতাতপন সিংহ (কাহিনী)
বনফুল (গল্প)
শ্রেষ্ঠাংশে
সুরকারতপন সিংহ
চিত্রগ্রাহকদীনেন গুপ্ত
সম্পাদকসুবোধ রায়
প্রযোজনা
কোম্পানি
প্রিয়া ফিল্মস
পরিবেশকনেপচুন পিকচার্স প্রাঃ লিঃ
মুক্তি
  • ২৫ জুন ১৯৬৭ (1967-06-25)
স্থিতিকাল১৩৩ মিনিট
দেশভারত
ভাষাবাংলা

হাটে বাজারে তপন সিংহ পরিচালিত ১৯৬৭ সালের বাংলা ভাষার ভারতীয় চলচ্চিত্র।[১] প্রিয়া ফিল্মসের ব্যানারে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেন অসীম দত্ত।[২] এতে শ্রেষ্ঠাংশে অভিনয় করেন অশোক কুমার, বৈজয়ন্তীমালা, ও অজিতেশ ব্যানার্জী। এটি বৈজয়ন্তীমালার অভিনীত প্রথম বাংলা ভাষার চলচ্চিত্র।[৩] তারকাবহুল এই চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন ছায়া দেবী, ভানু ব্যানার্জী, শামিতা বিশ্বাস, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত ও গীতা দে।[৪] ১৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এটি শ্রেষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে পুরস্কৃত হয়।

কাহিনীসংক্ষেপ

[সম্পাদনা]

ডা. অনাদি মুখোপাধ্যায় (অশোক কুমার) বীরভূমের একটি ছোট উপজাতি-অধ্যুষিত বাজার শহরের সিভিল সার্জন। তিনি সেখানে একজন দেবতুল্য ব্যক্তিত্ব, যাকে সুন্দর তরুণী বিধবা ছিপলি (বৈজয়ন্তীমালা), সবজি বিক্রেতা জগদম্বা, কমলিদিদি ও নানির (ছায়া দেবী) মতো এলাকার দরিদ্র উপজাতি মানুষজন এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সুপার মিস্টার পাণ্ডের মতো এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি—সবাই ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। ডা. মুখোপাধ্যায় একজন কঠোর পরিশ্রমী মানুষ এবং তিনি তার তরুণী স্ত্রী মনুর সাথে বসবাস করেন, যে দীর্ঘস্থায়ী হৃদরোগে আক্রান্ত। স্থানীয় সামন্ত প্রভু ছবিলার ছেলে লক্ষ্মণলালের (অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়) সাথে তার বিরোধ তৈরি হয়; লক্ষ্মণলাল মূলত একজন দুশ্চরিত্র লোক, যে ছিপলিকে কুদৃষ্টিতে দেখে। কিন্তু ভালো ডাক্তারবাবু ছিপলিকে আগলে রাখেন। স্ত্রী মনুর মৃত্যুর পর ডা. মুখোপাধ্যায় তার সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিজের জমানো টাকা দিয়ে দরিদ্রদের জন্য একটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসালয় (Mobile dispensary) শুরু করেন। লক্ষ্মণলাল তার এই কাজে বিরক্ত হয় এবং ডা. মুখোপাধ্যায়ের সাথে ছিপলির সম্পর্ক নিয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়াতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাদলে একজন শিক্ষানবিস নার্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। একটি উপজাতীয় উৎসবের রাতে লক্ষ্মণলাল ছিপলিকে ফাঁদে ফেলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ডা. মুখোপাধ্যায় এই খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছান এবং লক্ষ্মণলালের সাথে হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। লড়াইয়ের এক পর্যায়ে তিনি সেই খলনায়ককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করলেও নিজে মারাত্মকভাবে জখম হন। পরদিন সকালে তিনি মারা যান, কিন্তু এর আগে ডা. মুখোপাধ্যায়ের কাছে তিরস্কৃত হওয়া এক তরুণ ডাক্তারের নির্দেশনায় ছিপলি এবং দলের বাকি সদস্যরা চিকিৎসালয়ের কাজ চালিয়ে যান।

অভিনয়শিল্পীদল

[সম্পাদনা]

সঙ্গীত

[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটির সঙ্গীত পরিচালনা করেন তপন সিংহ। গানে কণ্ঠ দেন হেমন্ত মুখার্জী, আরতি মুখার্জী, মৃণাল চক্রবর্তী ও বৈজয়ন্তীমালা।

সকল গানের সুরকার তপন সিংহ।

গানের তালিকা
নং.শিরোনামকণ্ঠশিল্পী(গণ)দৈর্ঘ্য
১."চেয়ে থাকি চেয়ে থাকি"বৈজয়ন্তীমালা ও মৃণাল চক্রবর্তী 
২."আগে আগে নন্দিনী চলে"মৃণাল চক্রবর্তী ও আরতি মুখার্জী 
৩."ওগো নদী আপন বেগে"হেমন্ত মুখার্জী 

অনুপ্রেরণা

[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটির কাহিনী বনফুল রচিত একই নামের একটি উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি করা হয়েছিল।[৩] উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার-সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার লাভ করে।

মুক্তি

[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটি ১৯৬৭ সালের ২৫শে জুন মুক্তি পায়। এটি ১৯৬০-এর দশকের অন্যতম ব্যবসাসফল বাংলা চলচ্চিত্র।[৩]

বক্স অফিস

[সম্পাদনা]

চলচ্চিত্রটি ১৯৬০-এর দশকের অন্যতম সফল বাংলা চলচ্চিত্র ছিল।[৩]

পুরস্কার

[সম্পাদনা]
বছর পুরস্কার বিভাগ মনোনীত ফলাফল সূত্র.
১৩তম এশিয়া প্যাসিফিক চলচ্চিত্র উৎসব এশিয়া প্যাসিফিক চলচ্চিত্র উৎসব শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র তপন সিংহ
অসীম দত্ত
বিজয়ী [৩]
[৫]
[৬]
[৭]
[৮]
৩২তম বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার বাংলা চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার শ্রেষ্ঠ ভারতীয় চলচ্চিত্র
১৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার শ্রেষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
রাষ্ট্রপতি পুরস্কার ১৯৬৮ রাষ্ট্রপতি পুরস্কার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র তপন সিংহ
অসীম দত্ত
বিজয়ী
১ম নমপেন চলচ্চিত্র উৎসব নমপেন চলচ্চিত্র উৎসব সিলভার ট্রফি

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. ↑ "Film-maker Tapan Sinha passes away"। রেডিফ.কম। ১৫ জানুয়ারি ২০০৯। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৪।
  2. ↑ আশীষ মিশ্র (১৭ নভেম্বর ২০০৯)। "Priya Entertainment to venture into multiplexes in Bengal and Bhutan"। ইন্ডিয়ান টেলিভিশন। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৪।
  3. 1 2 3 4 5 boorback। "Tapan Sinha"। Upperstall.com। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১১।
  4. ↑ "Bengali actress Gita Dey dead"। সাইফি। কলকাতা। ১৭ জানুয়ারি ২০১১। ২০ অক্টোবর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ নভেম্বর ২০২৪।
  5. ↑ Ranjan Das Gupta (২২ অক্টোবর ২০১০)। "Romancing the camera"। The Hindu। Coimbatore। ১০ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ এপ্রিল ২০১১।
  6. ↑ Pandit Shimpi (৪ মে ২০০১)। "Films: 1968 files"। Screen। সংগ্রহের তারিখ ১৪ মে ২০১১।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. ↑ "BFJA Awards (1968)"। Gomolo.com। ২৪ জুন ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১১।
  8. ↑ The Times of India, Entertainment। "National Awards Winners 1967: Complete list of winners of National Awards 1967"। timesofindia.indiatimes.com। ২৪ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২১।

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]