হাইন্স জনসন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
হাইন্স জনসন
হাইন্স জনসন.jpg
১৯৫০ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে হাইন্স জনসন
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামহফনি হোবাহ হাইন্স জনসন
জন্ম(১৯১০-০৭-১৩)১৩ জুলাই ১৯১০
কিংস্টন, জ্যামাইকা
মৃত্যু২৪ জুন ১৯৮৭(1987-06-24) (বয়স ৭৬)
মায়ামি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
উচ্চতা৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি ফাস্ট
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৬৪)
২৭ মার্চ ১৯৪৮ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট২০ জুলাই ১৯৫০ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ২৮
রানের সংখ্যা ৩৮ ৩১৬
ব্যাটিং গড় ৯.৫০ ১৭.৫৫
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ২২ ৩৯*
বল করেছে ৭৮৯ ৪,৪৩৩
উইকেট ১৩ ৬৮
বোলিং গড় ১৮.৩০ ২৩.৩৬
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৫/৪১ ৫/৩৩
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/০ ১৩/০
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

হফনি হোবাহ হাইন্স জনসন (ইংরেজি: Hines Johnson; জন্ম: ১৩ জুলাই, ১৯১০ - মৃত্যু: ২৪ জুন, ১৯৮৭) জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী প্রথিতযশা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন হাইন্স জনসন। দীর্ঘ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চ উচ্চতার অধিকারী দীর্ঘদেহী জনসন মূলতঃ ডানহাতি ফাস্ট বোলিং করতেন। পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিং করতে পারতেন তিনি।

১৯৩৫ সালে জ্যামাইকার পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এ দলের সাথে ১৯৫১ সালে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তার খেলোয়াড়ী জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

খেলোয়াড়ী জীবন[সম্পাদনা]

৯ মার্চ, ১৯৩৫ তারিখে ২৪ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে হাইন্স জনসনের। সফরকারী মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে জ্যামাইকার সদস্যরূপে খেলেন তিনি। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান ছিল। ২৮টি খেলার দশটিই ছিল জ্যামাইকার পক্ষে, তিনটি টেস্ট ও বাদ-বাকী পনেরটি আন্তর্জাতিক খেলা বিদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সদস্যরূপে খেলেছেন।

৩৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। কিন্তু তার টেস্ট জীবন বেশ সংক্ষিপ্ত ছিল। মাত্র তিন টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সবগুলোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল। ৪০ বছর বয়সে সর্বশেষ ১৯৫০ সালে টেস্টে অংশ নেন। অভিষেক টেস্টের উভয় ইনিংসেই পাঁচ উইকেট লাভের কীর্তিগাঁথা রচনা করেন তিনি।[১] ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে এক টেস্টে দশ উইকেট পান। এছাড়াও অভিষেকে সেরা বোলিং পরিসংখ্যানের নজির গড়েন। পরবর্তীতে স্পিন বোলার আল্ফ ভ্যালেন্টাইন তার অভিষেক টেস্টে ১০/৯৭ পেয়েছিলেন।

১৯৩৫ থেকে ১৯৩৯ সময়কালে ছয়টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি যার সবগুলোই জ্যামাইকার পক্ষে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে জ্যামাইকা আঞ্চলিকভাবে খেলা আয়োজন করেছিল।[২][৩]

টেস্ট ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪৭-৪৮ মৌসুমে গাবি অ্যালেনের নেতৃত্বে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আসে। ইংল্যান্ড স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার টেস্টে অংশ নেয়। ঐ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিনজন খেলোয়াড় অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন ও ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়ী হয়। এ প্রসঙ্গে নরম্যান প্রিস্টন উইজডেনকে মন্তব্য করেন যে, ‘কোন সন্দেহই নেই যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাঁদের সক্ষমতা দেখাতে পেরেছে। বর্তমান প্রেক্ষিতে তাঁরা অস্ট্রেলিয়া থেকে অনেকগুণ শক্তিশালী দল। অধিনায়ক বদলের পাশাপাশি হাইন্স জনসনসহ পাঁচজন ভিন্ন ফাস্ট বোলারকে খেলিয়েছে।’[৪][৫]

১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে থাকাবস্থায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চতুর্থ টেস্টে হাইন্স জনসনের অভিষেক ঘটে। ২৭ মার্চ, ১৯৪৮ তারিখে শুরু হওয়া ঐ টেস্টে তখন তার বয়স ছিল ৩৭ বছর। পরিসংখ্যানগতভাবে সিরিজে অন্যান্য ফাস্ট বোলারদের তুলনায় তিনি সর্বাপেক্ষা সফল ছিলেন। অভিষেক টেস্টের উভয় ইনিংসেই তিনি পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন ও চূড়ান্ত টেস্টে দলের বিজয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। ৯৭ রান খরচায় ১০ উইকেট লাভ ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে প্রথম ঘটনা ছিল। এছাড়াও কিংস্টনে সেরা বোলিংয়ের মর্যাদা পায়। ২০০৫ সালে তার গড়া এ রেকর্ড ভেঙ্গে যায়। মাত্র পনেরজন খেলোয়াড় তাদের টেস্ট অভিষেকে দশ বা ততোধিক উইকেট পেয়েছিলেন ও তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে দুইজনের একজন ছিলেন। ১৯৫০ সালে স্পিনার আল্ফ ভ্যালেন্টাইন তার টেস্ট অভিষেকে ১১ উইকেট পান। ঐ টেস্টেও জনসন খেলেছিলেন।[৬][৭][৮][৯]

অবসর[সম্পাদনা]

১৯৫০ সালে ইংল্যান্ড সফরে আঘাতের কারণে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং করতে পারেননি। দ্বিতীয় টেস্টে প্রায়র জোন্স তার স্থলাভিষিক্ত হন। তৃতীয় টেস্টে তিনি খেলতে নামেন যা তার খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বশেষ ছিল। ৪০ততম জন্মদিনের পর তিনি চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।[১০][১১]

উইজডেন জনসনের অভিষেক খেলা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী দীর্ঘদেহী জনসনকে প্রকৃত ফাস্ট বোলার হিসেবে দেখাচ্ছিল। তিনি শর্ট পিচ বোলিং করছিলেন না কিন্তু দূর্দান্ত পেস বোলিং করছিলেন। তবে পিচে বলকে একটু উচ্চতায় রাখছিলেন যাতে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানেরা স্ট্রোকস মারতে উদ্বুদ্ধ হয়।[১২]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "4th Test: West Indies v England at Kingston, Mar 27 – Apr 1, 1948"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১১ 
  2. "First-class matches played by Hines Johnson (28)"Cricket Archive। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  3. "First-class batting and fielding for each team by Hines Johnson"Cricket Archive। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১২ 
  4. Norman Preston। "MCC in West Indies, 1947–48"Wisden। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 
  5. Keith A. P. Sandiford। "Cricket in the West Indies: The Rocky Road to Test Status"। Hilary McD. BecklesA Spirit of Dominance: Cricket and Nationalism in the West Indies। পৃষ্ঠা 37। 
  6. S Rajesh। "The year of the debutant bowler"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 
  7. "West Indies in England Test Series – 1st Test, 1950"। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 
  8. Fazeer Mohammed। "West Indies v Pakistan, 2004–05"Wisden। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 
  9. "Jamaica: A century of sport"espncricinfo। ২৭ জুলাই ১৯৯৯। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 
  10. "West Indies in England 1950"Wisden। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 
  11. "Records / West Indies in England Test Series, 1950 / Most wickets"espncricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 
  12. "England v West Indies 1947–48: Fourth Test match"Wisden। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]