হাইড্রক্সিলঅ্যামাইন
| নামসমূহ | |
|---|---|
| পছন্দসই ইউপ্যাক নাম
হাইড্রক্সিলঅ্যামাইন | |
| অন্যান্য নাম
অ্যামিনোল, আজানোল, হাইড্রক্সিঅ্যামোনিয়া | |
| শনাক্তকারী | |
ত্রিমাত্রিক মডেল (জেমল) |
|
| কেমস্পাইডার | |
| ইসিএইচএ ইনফোকার্ড | ১০০.০২৯.৩২৭ |
| ইসি-নম্বর | |
পাবকেম CID |
|
কম্পটক্স ড্যাশবোর্ড (EPA) |
|
| |
| |
| বৈশিষ্ট্য | |
| NH2OH | |
| বর্ণ | স্বচ্ছ সাদা স্ফটিক |
| ঘনত্ব | ১.২১ গ্রাম/সেমি³ (২০ °সে) |
| গলনাঙ্ক | ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৯১ ডিগ্রি ফারেনহাইট; ৩০৬ kelvin) |
| স্ফুটনাঙ্ক | ৫৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৩৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট; ৩৩১ kelvin) |
| অম্লতা (pKa) | ৬.০৩ ([NH3OH]+) |
| ঝুঁকি প্রবণতা | |
| প্রধান ঝুঁকিসমূহ | বিস্ফোরক, ক্ষয়কারী, স্বাস্থ্যঝুঁকি |
| জিএইচএস সাংকেতিক শব্দ | বিপদ |
| এনএফপিএ ৭০৪ | |
| সম্পর্কিত যৌগ | |
সম্পর্কিত |
হাইড্রক্সিলঅ্যামোনিয়াম সালফেট, হাইড্রক্সিলঅ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড |
সম্পর্কিত যৌগ |
অ্যামোনিয়া, হাইড্রাজিন, হাইড্রোজেন পারক্সাইড |
সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা ছাড়া, পদার্থসমূহের সকল তথ্য-উপাত্তসমূহ তাদের প্রমাণ অবস্থা (২৫ °সে (৭৭ °ফা), ১০০ kPa) অনুসারে দেওয়া হয়েছে। | |
| তথ্যছক তথ্যসূত্র | |
হাইড্রক্সিলঅ্যামাইন (Hydroxylamine) হলো একটি অজৈব যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত NH2OH। শুদ্ধ অবস্থায় এটি একটি বর্ণহীন, আর্দ্রতা-সংবেদনশীল স্ফটিক যৌগ। তবে এটি সাধারণত জলীয় দ্রবণ বা লবণের (যেমন: হাইড্রক্সিলঅ্যামোনিয়াম সালফেট) আকারে ব্যবহৃত হয়।
এটি মূলত নাইলন-৬ (Nylon-6) উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া জীববিজ্ঞানীয় নাইট্রিকরণ (nitrification) প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া থেকে হাইড্রক্সিলঅ্যামাইন তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]১৮৬৫ সালে জার্মান রসায়নবিদ উইলহেম ক্লিমেন্স লোসেন প্রথম হাইড্রক্সিলঅ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড প্রস্তুত করেন। ১৮৯১ সালে ওলন্দাজ রসায়নবিদ লোবরি ডি ব্রুইন এবং ফরাসি রসায়নবিদ লিওন মরিস ক্রিসমার পৃথকভাবে এটি বিশুদ্ধ আকারে প্রস্তুত করতে সক্ষম হন।
গঠন
[সম্পাদনা]হাইড্রক্সিলঅ্যামাইনের নাইট্রোজেন পরমাণুটি পিরামিডীয় আকৃতির। এর সবচেয়ে স্থিতিশীল গঠনে নাইট্রোজেনের মুক্ত জোড় ইলেকট্রন এবং অক্সিজেন-হাইড্রোজেন (OH) গ্রুপ একে অপরের বিপরীত দিকে (anti) অবস্থান করে, যা ইলেকট্রন বিকর্ষণ কমায়।
উৎপাদন
[সম্পাদনা]হাইড্রক্সিলঅ্যামাইন প্রধানত দুটি পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়:
১. নাইট্রিক অক্সাইড থেকে: প্ল্যাটিনাম অনুঘটকের উপস্থিতিতে সালফিউরিক অ্যাসিডের মধ্যে নাইট্রিক অক্সাইডের হাইড্রোজেনেশনের মাধ্যমে হাইড্রক্সিলঅ্যামোনিয়াম সালফেট তৈরি করা হয়।
- 2 NO + 3 H2 + H2SO4 → [NH3OH]2[SO4]
২. রাশিগ প্রক্রিয়া (Raschig process): অ্যামোনিয়াম নাইট্রাইটকে বাইসালফাইট এবং সালফার ডাই অক্সাইড দ্বারা বিজারণ করে এটি তৈরি করা হয়।
রাসায়নিক বিক্রিয়া
[সম্পাদনা]- অক্সাইম গঠন: অ্যালডিহাইড বা কিটোনের সাথে বিক্রিয়া করে এটি অক্সাইম তৈরি করে। জৈব রসায়নে কিটোন বা অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণ ও বিশুদ্ধকরণে এই বিক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- R2C=O + NH2OH → R2C=N−OH + H2O
ব্যবহার
[সম্পাদনা]- নাইলন উৎপাদন: উৎপাদিত হাইড্রক্সিলঅ্যামাইনের প্রায় ৯৫% সাইক্লোহেক্সানোন অক্সাইম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা পরবর্তীতে বেকম্যান পুনর্বিন্যাস (Beckmann rearrangement) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইলন-৬ তৈরির কাঁচামাল 'ক্যাপ্রোল্যাক্টাম'-এ রূপান্তরিত হয়।
- গবেষণাগারে: এটি একটি শক্তিশালী বিজারক হিসেবে বিভিন্ন অজৈব ও জৈব বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। জীববিজ্ঞানীরা ডিএনএ-তে মিউটেশন ঘটানোর জন্য এটি ব্যবহার করেন।
নিরাপত্তা
[সম্পাদনা]হাইড্রক্সিলঅ্যামাইন এবং এর দ্রবণ উত্তপ্ত করলে বিস্ফোরিত হতে পারে। ১৯৯৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত দুটি কারখানা এই যৌগের বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে। এটি ত্বক, চোখ এবং শ্বাসনালীতে তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
