হরিকা দ্রোণাভাল্লি
| হরিকা দ্রোণাভাল্লি | |
|---|---|
| পদক রেকর্ড | ||
|---|---|---|
| মহিলাদের বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ | ||
| ২০১৫ সোচি | একক | |
| এশিয়ান গেমস | ||
| ২০১০ এশিয়ান গেমস | ২০১০ এশিয়ান গেমসে দাবায় মহিলাদের একক | |
হরিকা দ্রোণাভাল্লি (জন্ম ১২ই জানুয়ারী, ১৯৯১) একজন ভারতীয় দাবা গ্র্যান্ডমাস্টার। তিনি ২০১২, ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে মহিলা বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন। হরিকা ২০০৭-০৮ সালে ভারত সরকার দ্বারা অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন[১]। ২০১৬ সালে, তিনি চীনের চেংডুতে মহিলাদের ফিডে গ্রাঁ পি জিতেছেন এবং ফিডে বিশ্ব ক্রমপর্যায়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছিলেন। হরিকার নিজের কথায়, ভ্লাদিমির ক্রামনিক, জুডিট পোলগার এবং বিশ্বনাথন আনন্দ তাঁর দাবা খেলার অনুপ্রেরণা[২]।২০১৯ সালে ক্রীড়া ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্য ও অবদানের জন্য তিনি ভারতের চতুর্থ সর্ব্বোচ্চ পুরস্কার 'পদ্মশ্রী' জয় করেছেন[৩]।
প্রাথমিক জীবন
[সম্পাদনা]হরিকা ১৯৯১ সালের ১২ই জানুয়ারী,অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে শ্রী রমেশ এবং শ্রীমতী স্বর্ণা দ্রোণাভাল্লির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রমেশ দ্রোণাভাল্লি মঙ্গলগিরি উপবিভাগের একজন উপ-নির্বাহী প্রকৌশলী রূপে কাজ করেন[৪] এবং তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের একজন দাবা খেলোয়াড়। হরিকা অন্ধ্র প্রদেশের গুন্টুরের শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর বালা কুটিরের ছাত্রী ছিলেন[৫]। খুব ছোট বয়স থেকেই তাঁর দাবার প্রতি অসীম আগ্রহ ছিল। অনূর্ধ্ব নবম বয়সীদের জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় তিনি একটি পদক জয় করেন, তারপর বিশ্ব যুব দাবা প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব দশম বয়সীদের প্রতিযোগিতায় তিনি রৌপ্য পদক জয় করেন। তখন থেকেই তিনি এন ভি এস রামারাজুর অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন, যিনি হরিকার খেলার রীতিকে আরও পরিশীলিত করেন। কোনেরু হাম্পির পরে হরিকা দ্রোণাভাল্লিই দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা দাবা খেলোয়াড় যিনি গ্র্যাণ্ডমাস্টার উপাধি অর্জন করেছেন।
হরিকা তাঁর পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেননি যেহেতু তিনি তাঁর পরিবারের সহায়তায় দাবাতে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করার সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
২০১৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি কার্তিক চন্দ্রের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় জীবনে প্রথমবারের মত একমাসের বিরতি নেন তিনি।[৬]
হরিকা বিশ্বের প্রায় ৪০টিরও বেশি দেশে ভ্রমণ করেছেন। তিনি মনে করেন যে রাশিয়ানরা দাবা সম্পর্কে সবচেয়ে আগ্রহী। হরিকার ভ্রমণের জন্য প্রিয় স্থান হ'ল নর্ডিক দেশগুলি – আইসল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন। যখন খেলা থাকে না, তখন তিনি এই মনোরম দেশগুলিতে গ্রামাঞ্চলে এবং সমুদ্রতীরে সাইকেল চালাতে ভালবাসেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা চলাকালীন, হরিকা সাধারণত তাঁর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন থাকেন এবং সঙ্গে করে খাবার বানিয়ে নেওয়ার মত বাসন বয়ে নিয়ে যান যাতে নিজের জন্য সহজ দক্ষিণ ভারতীয় খাবার প্রস্তুত করে নিতে পারেন। হরিকার প্রিয় ভ্রমণ সঙ্গী তাঁর বাবা-মা এবং তাঁর দিদিমাও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় তাঁর সাথে ভ্রমণ করেছেন।
সাফল্য
[সম্পাদনা]২০১৯
[সম্পাদনা]- পদ্মভূষণ উপাধি লাভ.
২০১৭
[সম্পাদনা]২০১৬
[সম্পাদনা]- ফিডে মহিলাদের গ্রাঁ পি, খান্তি মানসিয়াক - পঞ্চম স্থান
- ফিডে মহিলাদের গ্রাঁ পি, চেংদু, চীন - স্বর্ণ পদক.
- এশিয়ান মহিলাদের দলগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত
- ভারতীয় দলের সদস্য রূপে র্যাপিড রীতিতে ব্রোঞ্জ পদক
- র্যাপিড রীতিতে ব্যক্তিগত স্বর্ণ পদক
- ঐতিহ্যশালী রীতিতে টপ বোর্ডে ব্যক্তিগত রৌপ্য পদক
২০১৫
[সম্পাদনা]- বিশ্ব মহিলা অনলাইন ব্লিতজ চ্যাম্পিয়নশিপ, রোম - স্বর্ণ পদক.
- এশিয়ান র্যাপিড মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত - ব্রোঞ্জ পদক.
- বিশ্ব মহিলা দলগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, চীন
- ভারতীয় দলের সদস্য রূপে চতুর্থ স্থান
- ব্যক্তিগত রৌপ্য পদক দ্বিতীয় বোর্ড
- ভারতীয় দলের সদস্য রূপে চতুর্থ স্থান
- বিশ্ব মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, সোচি - ব্রোঞ্জ পদক.
- ফিডে মহিলাদের গ্রাঁ পি, শারজাহ - ব্রোঞ্জ পদক.
২০১৪
[সম্পাদনা]- এশিয়ান মহিলা দলগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, ইরান
- ভারতীয় দলের সদস্য রূপে রৌপ্য পদক
- টপ বোর্ডে ব্যক্তিগত স্বর্ণ পদক
- র্যাপিড রীতিতে দলগত রৌপ্য পদক
- ব্লিটজ রীতিতে দলগত স্বর্ণ পদক
২০১২
[সম্পাদনা]- বিশ্ব মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, খান্তি মানসিয়াক - ব্রোঞ্জ পদক.
- এশিয়ান মহিলাদের দলগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, চীন
- ভারতীয় দলের সদস্য রূপে ব্রোঞ্জ পদক
- মহিলা দাবা অলিম্পিয়াড, তুরস্ক
- ভারতীয় দলের সদস্য রূপে চতুর্থ স্থান
- বিশ্ব মহিলাদের দলগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, তুরস্ক
- ব্যক্তিগত রৌপ্য পদক
- দলগত চতুর্থ স্থান
২০১১
[সম্পাদনা]- এশিয়ান মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, ইরান - স্বর্ণ পদক.
- কমনওয়েলথ নারী দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, দক্ষিণ আফ্রিকা - রৌপ্য পদক.
- পুরুষদের গ্র্যান্ড মাস্টার উপাধি- দ্বিতীয় মহিলারূপে পুরুষদের গ্র্যান্ড মাস্টার
২০১০
[সম্পাদনা]- কমনওয়েলথ মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, নতুন দিল্লি - স্বর্ণপদক
- ষোড়শ এশিয়ান গেমস, মহিলাদের ব্যক্তিগত দাবা বিভাগ, গুয়াংজু চীন - ব্রোঞ্জ পদক।
২০০৯
[সম্পাদনা]২০০৮
[সম্পাদনা]- বিশ্ব জুনিয়র বালিকাদের দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, তুরস্ক - স্বর্ণপদক।
- এশিয়ান মহিলা দলগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশাখাপত্তনম
- ভারতীয় দলের অধিনায়করূপে রৌপ্য পদক জয়
- টপ বোর্ডে ব্যক্তিগত রৌপ্য পদক
২০০৭
[সম্পাদনা]- পুরুষদের আন্তর্জাতিক মাস্টার
- দ্বিতীয় এশিয়ান ইন্ডোর গেমস, ম্যাকাও
- র্যাপিড দাবা ব্যক্তিগত বিভাগে - স্বর্ণ পদক.
- সাধারণ রীতিতে ব্যক্তিগত বিভাগে - ব্রোঞ্জ পদক.
- দ্বিতীয় এশিয়ান ইন্ডোর গেমস, ম্যাকাও
- র্যাপিড দাবায় দলগত স্বর্ণ পদক.
- সাধারণ রীতিতে দলগত - রৌপ্য পদক.
- ব্লিতজ বিভাগে দলগত - রৌপ্য পদক.
- এশিয়ান জোনাল মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশ - স্বর্ণ পদক.
- কমনওয়েলথ মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, নতুন দিল্লি - স্বর্ণ পদক.
২০০৬
[সম্পাদনা]২০০৫
[সম্পাদনা]- এশিয়ান জুনিয়র বালিকাদের চ্যাম্পিয়নশিপ, বিকানীর- রৌপ্য পদক.
২০০৪
[সম্পাদনা]- মহিলা গ্র্যান্ড মাস্টার শিরোনাম - এশিয়া মহাদেশের কনিষ্ঠতম মহিলা গ্র্যান্ড মাস্টার।
- কমনওয়েলথ অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, মুম্বই - স্বর্ণ পদক.
- এশিয়ান অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, ইরান - ব্রোঞ্জ পদক.
- বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপ, অনূর্ধ্ব-১৪, গ্রীস - স্বর্ণ পদক.
২০০৩
[সম্পাদনা]- কমনওয়েলথ মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, মুম্বই - রৌপ্য পদক.
- এশিয়ান মহিলা দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, কালিকট- রৌপ্য পদক.
- মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার উপাধি- এশিয়া মহাদেশের কনিষ্ঠ মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার
- এশিয়ান মহিলা দলগত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ, যোধপুর
- ভারতীয় দলের সদস্য রূপে ব্রোঞ্জ পদক.
- চতুর্থ বোর্ডে ব্যক্তিগত স্বর্ণ পদক
২০০২
[সম্পাদনা]২০০১
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Harika's parents on cloud nine"। The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ PowerPlayChess (১৪ আগস্ট ২০১৪)। "Olympiad Tromsø 2014 - A quick chat with Harika Dronavalli" – YouTube এর মাধ্যমে।
- ↑ "Here is the complete list of Padma awardees 2019- The New Indian Express"। ২৬ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ মার্চ ২০২০।
- ↑ "Harika's parents on cloud nine"। The Hindu (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। ৬ আগস্ট ২০০৮। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৮।
- ↑ Subrahmanyam, V. V. (৩ আগস্ট ২০১১)। "Calculated moves"। The Hindu (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৯।
- ↑ https://www.chess.com/news/view/harika-dronavallis-wonderful-wedding
- ↑ Administrator। "Harika, Dronavalli FIDE Chess Profile - Players Arbiters Trainers"। ratings.fide.com (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৭।
- ↑ "World Women's Chess Championship: Harika Dronavalli won bronze and shockingly, India didn't even cheer"। Firstpost (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১৭।
- ২০১০ এশিয়ান গেমসের পদক বিজয়ী
- বিশ্ব জুনিয়র দাবা চ্যাম্পিয়ন
- বিশ্ব যুব দাবা চ্যাম্পিয়ন
- তেলুগু ব্যক্তি
- ২০১০ এশিয়ান গেমসের দাবাড়ু
- ক্রীড়ায় পদ্মশ্রী প্রাপক
- এশিয়ান গেমসের দাবায় পদক বিজয়ী
- ভারতীয় দাবাড়ু
- দাবার নারী গ্র্যান্ডমাস্টার
- জীবিত ব্যক্তি
- ১৯৯১-এ জন্ম
- ২১শ শতাব্দীর ভারতীয় নারী
- দাবার গ্র্যান্ডমাস্টার
- দাবা অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়
- এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জপদক বিজয়ী ভারতীয়
- গুণ্টুর জেলার ব্যক্তি
- অর্জুন পুরস্কার প্রাপক
- ২১শ শতাব্দীর ভারতীয় ব্যক্তি
- ভারতীয় নারী দাবাড়ু
- ২০২২ এশিয়ান গেমসের পদক বিজয়ী
- অন্ধ্রপ্রদেশের নারী ক্রীড়াবিদ
- এশিয়ান গেমসে রৌপ্যপদক বিজয়ী ভারতীয়
- ২০২২ এশিয়ান গেমসের দাবাড়ু