বিষয়বস্তুতে চলুন

হরতনি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

হরতনি
(Common Jezebel)
ডানা বন্ধ অবস্থায়
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: Arthropoda
শ্রেণী: Insecta
বর্গ: Lepidoptera
পরিবার: Pieridae
গণ: Delias
প্রজাতি: D. eucharis
দ্বিপদী নাম
Delias eucharis
(Drury, 1773)

হরতনি[] (বৈজ্ঞানিক নাম: Delias eucharis (Drury)) এক প্রজাতির মাঝারি আকারের প্রজাপতি, যার ডানা হলুদ ও সাদার মিশ্রণ এবং চওড়া লাল কল্কা পাড়যুক্ত। এরা ‘পিয়েরিডি’ পরিবারের এবং 'পিয়েরিনি' উপগোত্রের সদস্য।

প্রসারিত অবস্থায় হরতনির ডানার আকার ৬৬-৮৩ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের হয়।[]

বিস্তার

[সম্পাদনা]

সাধারণত এই জাতীয় প্রজাপতিটি ভারতের প্রায় সর্বত্র এদের দেখা মেলে। এছাড়া পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, মায়ানমারেও দেখা যায়।[] গাছের মাথায় মাথায় সাধারণত স্ত্রী প্রজাপতিরা ঘুরে বেড়ায়। এরা ধীরে এবং অলস গতিতে আহার্য উদ্ভিদের সন্ধান করে। আর পুরুষ প্রজাপতিরা ফুলের মধু খাওয়ার জন্য ঊড়তে থাকে বা এদের ভিজে মাটিতে বসে জল পান করতেও দেখা যায়।

বর্ণনা

[সম্পাদনা]

এই প্রজাপতির পিছনের ডানা উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের। শীর্ষের একটু আগে থেকে শুরু করে নীচ অবধি লাল চওড়া কল্কা পাড় দেখা যায় এবং গোটা সীমানা কাঠ কয়লা রঙের রেখা দিয়ে ঘেরা। এই কাঠকয়লা দাগ আর লাল কল্কার মাঝে এক সরু সাদা দাগ আছে। ডানার ওপর পিঠ সাদা তার উপর শিরাগুলি কাঠ কয়লা রঙের। সামনের ডানার নিচের পিঠ ওপর পিঠের মতো এবং শীর্ষকোণে ঈষৎ হলুদাভ।

বৈশিষ্ট্য

[সম্পাদনা]

হরতনির ডিম হালকা হলুদ বর্ণের হয়। এরা সাধারণত পাতার উল্টো পিঠে ডিম পাড়ে। হরতনি একসাথে ১০-২০ টা ডিম পাড়ে এক জায়গায়। তবে কিছু কিছু বিরল ক্ষেত্রে একসাথে এরা শত খানের ডিমও পাড়ে।[]

শূককীট

[সম্পাদনা]

শূককীট গুলি লম্বাটে এবং সবুজাভ ঘেঁষা পীতাভ বাদামি রঙের আর মাথাটা কালো। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে অনেক ছোট ছোট গুটি দেখা যায়, সেখান থকে সাদা সাদা রোঁয়া দেখা যায় এবং সারা শরীর রোঁয়াতে ঢেকে যায়। এরা সব একসঙ্গে থাকে এবং একই দিকে মুখ করে বসে থাকে।

আহার্য উদ্ভিদ

[সম্পাদনা]

এই শূককীট (নিশিন্দা) Vitex negundo, (বরামান্দা) Dendropthoe falcata,Helicanthus elastica Scurrula parasitica ইত্যাদি গাছের পাতার রসালো অংশ আহার করে।

মূককীট

[সম্পাদনা]

মূককীটের রঙ পীতাভ বাদামি, কিন্তু শূককীটের থেকে হাল্কা রঙের হয়। সারা শরীর জুড়ে অনেক কালো কালো বিন্দু দেখা যায়।

চিত্রশালা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Dāśagupta, Yudhājit̲̲̲̲̲̲a (২০০৬)। Paścimabaṅgera prajāpati (1. saṃskaraṇa. সংস্করণ)। Kalakātā: Ānanda। পৃ. ৬২। আইএসবিএন ৮১-৭৭৫৬-৫৫৮-৩
  2. 1 2 Isaac, Kehimkar (২০০৮)। The book of Indian Butterflies। New Delhi। পৃ. ১৮৭।publisher=Oxford University Press। আইএসবিএন ৯৭৮ ০১৯৫৬৯৬২০ ২{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
  3. Kunte, Krushnamegh (২০০০)। Butterflies of Peninsular India। New Delhi: Orient Blackswan Pvt. Ltd.। আইএসবিএন ৮১-৭৩৭১-৩৫৪-৫

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]