বিষয়বস্তুতে চলুন

হটপ্যান্ট

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
হটপ্যান্টের স্কেচ
২০০৮ সালে বেবের জন্য লরিসা পজনিয়াকের মডেলিং করা ব্রোকেড হটপ্যান্ট
২০১০ সালে   হটপ্যান্ট পরিহিত অ্যালেক্সিস টেক্সাস

হটপ্যান্ট বা হট প্যান্ট হলো অত্যন্ত খাটো বা ছোট আকারের শর্টস। ১৯৩০-এর দশক থেকে খেলাধুলা বা অবসরে পরার জন্য যে সাধারণ ব্যবহারিক শর্টস প্রচলিত ছিল, তার বদলে ভেলভেট ও সাটিনের মতো বিলাসবহুল কাপড়ে তৈরি ফ্যাশনেবল শর্টস বোঝাতে ১৯৭০ সালে উইমেনস ওয়্যার ডেইলি প্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করে। হটপ্যান্ট সাধারণত উরুর অংশে, হাঁটুর বেশ উপরে পরা হয়। পরবর্তীতে যেকোনো ধরনের অত্যন্ত ছোট শর্টস বোঝাতেই শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে হটপ্যান্ট মূলধারার ফ্যাশনে অল্প সময়ের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও, সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এটি যৌন শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে মূলধারার ফ্যাশন থেকে এর কদর কমে যায়। তবে, ২০১০ এবং ২০২০-এর দশক পর্যন্তও ক্লাবওয়্যার হিসেবে হটপ্যান্টের জনপ্রিয়তা বজায় ছিল। বিনোদন শিল্পে, বিশেষ করে চিয়ারলিডারদের পোশাক হিসেবে বা নৃত্যশিল্পীদের (বিশেষত ব্যাকআপ ড্যান্সারদের) মধ্যে এটির ব্যবহার প্রায়শই দেখা যায়। ব্রিটনি স্পিয়ার্স এবং কাইলি মিনোগের মতো পারফর্মাররা তাদের প্রকাশ্য পারফরম্যান্স এবং উপস্থাপনার অংশ হিসেবে হটপ্যান্ট পরে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন।

উৎপত্তি ও পরিভাষা

[সম্পাদনা]
২০১১ সালে হটপ্যান্ট পরিহিত টরি ব্ল্যাক

যদিও "হটপ্যান্ট" শব্দটি সাধারণত অত্যন্ত খাটো শর্টস বোঝাতে ব্যবহৃত হয়,[] তবে ১৯৩০-এর দশক থেকেই এই ধরনের পোশাক পরার চল ছিল।[] ১৯৫০-এর দশকে এটার জনপ্রিয়তা এতটা ছিল যে দ্য রয়্যাল টিনসের হিট গান "শর্ট শর্টসে" এই ধরনের পোশাকের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছিল।[] হটপ্যান্টের বিশেষত্ব বা উদ্ভাবনী দিকটি এর উপাদানে ছিল। আগেকার দিনের শর্ট শর্টস মূলত খেলাধুলা বা অবসরের জন্য ডিজাইন করা হতো। কিন্তু হটপ্যান্ট তৈরি হতো ভেলভেট, সিল্ক, ক্রোশে, পশম এবং চামড়ার মতো উপাদান দিয়ে, যা সাধারণত খেলাধুলার পোশাকে ব্যবহৃত হয় না। এগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হতো যাতে রাস্তায়, পার্টিতে, এমনকি বিয়ের কনেও তা পরতে পারে।[][][] ব্রুকলিন মিউজিয়ামের ফ্যাশন কিউরেটর ডরোথি ট্রিকারিও ১৯৭১ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন যে, হটপ্যান্ট আসলে ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকের ফ্যাশনের স্মৃতিমেদুর পুনজাগরণের অংশ, বিশেষ করে হলিউড তারকা রুবি কিলার, ডিয়ানা ডার্বিন এবং বেটি গ্র্যাবল যেসব ছোট পোজ দেওয়া শর্টস পরতেন, তার সাথে এর মিল ছিল।[] তবে ট্রিকারিও এটাও লক্ষ্য করেছিলেন যে, ১৯৭১ সালের শুরুর দিকে হটপ্যান্ট রাস্তাঘাটে বা কর্মক্ষেত্রে পরার পোশাক হিসেবে যতটা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, শর্টসের ক্ষেত্রে আগে কখনো এমনটা দেখা যায়নি।[]

ফ্যাশন প্রচারক এলিনর ল্যাম্বার্টের মতে, ফরাসি রেডি-টু-ওয়্যার কোম্পানি ডরোথি বিসের উদ্ভাবিত ফ্যাশনকে বর্ণনা করতে ১৯৭০ সালে উইমেনস ওয়্যার ডেইলি (ডব্লিউডব্লিউডি) প্রথম "হট প্যান্ট" শব্দটি চালু করে।[] ডব্লিউডব্লিউডির এই দাবিটি ১৯৭১ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং আফ্রিকান-আমেরিকান ম্যাগাজিন জেটের নিবন্ধ দ্বারাও সমর্থিত হয়।[][] জেট'এর ফ্যাশন সম্পাদক অড্রে স্মল্টজ মত দিয়েছিলেন যে, হটপ্যান্ট কৃষ্ণাঙ্গ নারীদেরই সবচেয়ে ভালো মানায়, তাই একে "নকআউট শর্টস" বলা উচিত। কারণ এই নামটি কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য বেশি "প্রাসঙ্গিক" এবং এর মাধ্যমে ফ্যাশনসচেতন আফ্রিকান-আমেরিকান নারীর "নকআউট শরীর" বা আকর্ষণীয় দৈহিক গঠনের প্রতি গর্ব প্রকাশ পায়। পাশাপাশি এটি কৃষ্ণাঙ্গ সত্তা ও সাম্প্রতিক সংগ্রামের প্রতিও এক ধরনের শ্রদ্ধা নিবেদন।[] অন্যান্য বিকল্প নামগুলোর মধ্যে ছিল "লে শর্টস", "শর্ট কাট", "কুল প্যান্ট" এবং "শর্টুটসইস"। এছাড়া একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে "বুটি শর্টস" শব্দটি প্রচলিত হয়।[]

জ্যাকলিন ওশেন এক ধরনের হটপ্যান্ট পরে আছেন যা ডেইজি ডিউকস নামে পরিচিত।

ডেনিম বা জিন্স কেটে তৈরি হটপ্যান্টের অত্যন্ত ছোট সংস্করণটি "ডেইজি ডিউকস" নামে পরিচিত। আমেরিকান টেলিভিশন শো দ্য ডিউকস অফ হ্যাজার্ডে ক্যাথরিন বাখ অভিনীত ডেইজি ডিউক চরিত্রটি এই ধরনের প্যান্ট পরত বলে তার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে।[]

বর্তমানে যেকোনো কাপড়ে তৈরি নৈমিত্তিক পোশাক বা ফ্যাশনেবল শর্ট-শর্টস বোঝাতে হটপ্যান্ট শব্দটি ব্যবহার করা হয়।[১০][১১]

যদিও হটপ্যান্ট মূলত নারীদের জন্য বাজারজাত করা হয়েছিল, তবে পুরুষরাও এর লক্ষ্য ছিল এবং পুরুষদের খুব ছোট শর্টস বোঝাতেও এই শব্দটি ব্যবহার করা যেতে পারে।[][][১১][১২]

গ্রহণযোগ্যতা

[সম্পাদনা]

১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে, ফ্যাশন শিল্প মিনিস্কার্টের ফ্যাশনেবল বিকল্প হিসেবে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত লম্বা মিডি স্কার্ট বা 'মিডি'কে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।[][] মিডি স্কার্টের প্রতি ক্রেতাদের অনাগ্রহের বিপরীতে, তারা শর্ট-শর্টসের ধারণাটিকে বেশ উৎসাহের সাথে গ্রহণ করে। দামী ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে সস্তা রেডিমেড পোশাক, সব স্তরেই এটি পাওয়া যেত।[] ল্যাম্বার্টের মতে, ১৯৭০ সালে ইতালীয় ফ্যাশন লেবেল ক্রিজিয়ার মারিউচিয়া ম্যান্ডেলি প্রথম "হট প্যান্ট" ডিজাইন করেছিলেন।[] এছাড়া মেরি কোয়ান্টকেও হটপ্যান্টের প্রবর্তক হিসেবে অনেকে কৃতিত্ব দিয়ে থাকেন, যিনি ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে খুব ছোট শর্টস বাজারে এনেছিলেন।[][১৩][১৪][১৫] তবে কোয়ান্টের নকশা করা শর্টসগুলো মূলত মিনিড্রেসের নিচে আবরু রক্ষার জন্য অন্তর্বাস বা নিকার্স হিসেবে পরার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল, আলাদা ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে নয়।[১৬] পশ্চিমা বিশ্বের অনেক ডিজাইনার, যেমন- ইভস সেন্ট লরেন্ট, ভ্যালেন্তিনো, হালস্টন এবং বেটসি জনসন সব ধরনের বাজেটের কথা মাথায় রেখে হটপ্যান্টের নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করেছিলেন।[] এছাড়া সিয়ার্সের মেইল-অর্ডার ক্যাটালগের মাধ্যমেও এর বহুল উৎপাদিত সংস্করণগুলো বিক্রি হতো।[]

হটপ্যান্ট মূলত নারীরা পরলেও, পুরুষ ও শিশুদের জন্যও এটি পাওয়া যেত।[১২] জ্যাকলিন কেনেডি ওনাসিস ইয়ট ভ্রমণের সময় পরার জন্য এক জোড়া হটপ্যান্ট কিনেছিলেন।[১২] এছাড়াও এলিজাবেথ টেলর, রাকেল ওয়েলচ এবং জেন ফন্ডার মতো বিখ্যাত তারকারা এটি পরতেন।[] বেশ কিছু সাহসী পুরুষ, ডেভিড বোয়ি, স্যামি ডেভিস জুনিয়র এবং লিবেরাসের মতো শিল্পীদেরও হটপ্যান্ট পরতে দেখা গেছে।[১৭] পুরুষদের হটপ্যান্ট নারীদের তুলনায় সামান্য লম্বা হলেও, সাধারণ শর্টসের চেয়ে তা ছিল অনেকটাই খাটো।[]

ইরানের চলচ্চিত্রের পোস্টারে হটপ্যান্ট

১৯৭১ সালের আগস্টে মুক্তি পাওয়া জেমস ব্রাউনের গান "হট প্যান্টস (শি গট টু ইউজ হোয়াট শি গট টু গেট হোয়াট শি ওয়ান্টস)" তৈরির পেছনের গল্পটি বেশ চমকপ্রদ। ব্রাউনের ট্রম্বোন বাদক ফ্রেড ওয়েসলির মতে, ব্রাসেলসের 'ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ক্লাবে' নানা রঙের নারীদের বিভিন্ন উপাদানে তৈরি হটপ্যান্ট পরতে দেখে ব্রাউন এই গানটি গাওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।[১৮]

ইতিহাসবিদ ভ্যালেরি স্টিল উল্লেখ করেছেন যে, হটপ্যান্ট নামটি এবং পোশাকটি উভয়ই খুব দ্রুত যৌনতা ও পতিতাবৃত্তির সাথে জড়িয়ে পড়ে, কারণ এটি পুরুষ দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত।[][১২] ১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে ম্যানহাটনের এক পুরুষ মনোচিকিৎসক নারীমুক্তি আন্দোলনের ভাষা ধার করে মন্তব্য করেছিলেন যে, হটপ্যান্টের জনপ্রিয়তার কারণ হলো এটি "নারীর নতুন স্বাধীনতা" প্রকাশ করে।[১২] তবে তিনি আরো বলেছিলেন যে, হটপ্যান্ট পরিধানকারীরা "যৌন উদ্দীপক" পোশাকের মাধ্যমে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে "প্রকৃত সম্পর্কের সূচনা" ঘটাতে চান।[] ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে অত্যন্ত ছোট এই শর্টস পতিতাবৃত্তি, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক পতিতাবৃত্তির সমার্থক হয়ে ওঠে। এর উদাহরণ পাওয়া যায় ১৯৭৬ সালের ট্যাক্সি ড্রাইভার চলচ্চিত্রে যেখানে জোডি ফস্টারের অভিনীত শিশু যৌনকর্মীর চরিত্রটিকে হটপ্যান্ট পরানো হয়েছিল।[১২] এই ধরনের নেতিবাচক ধারণার কারণে নারীদের দৈনন্দিন পোশাক হিসেবে হটপ্যান্ট আকর্ষণ হারায়, যদিও বিনোদন জগত, পার্টি এবং বিশেষ কিছু সান্ধ্য অনুষ্ঠানে এর জনপ্রিয়তা টিকে ছিল।[১২] হটপ্যান্ট নিয়ে এই বিতর্ক ১৯৯৯ সালেও দেখা যায়, যখন ব্রিটনি স্পিয়ার্স গোলাপি হটপ্যান্ট পরে রোলিং স্টোন ম্যাগাজিনের ফটোশূটে অংশ নেন।[১২] ডেভিড লাচ্যাপেলের তোলা সেই ছবিগুলোতে ব্রিটনিকে পুতুল ও ট্রাইসাইকেল পরিবেষ্টিত অবস্থায় উগ্র ভঙ্গি ও হটপ্যান্টের পেছনে "বেবি" শব্দটি খচিত অবস্থায় দেখানো হয়েছিল। এটি গণমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয় যে, কমবয়সী মেয়েদের আদর্শ হিসেবে নিজেকে এমন "যৌন আবেদনময়ী" রূপে উপস্থাপন করা কতটা যৌক্তিক।[১৯]

২০০০ সালে কাইলি মিনোগ তাঁর "স্পিনিং অ্যারাউন্ড" মিউজিক ভিডিওতে সোনালি রঙের ল্যামে হটপ্যান্ট পরেছিলেন, যা গণমাধ্যমে এই পোশাক এবং গায়িকার দৈহিক গঠন নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় তোলে।[২০][২১] পরবর্তীতে মিনোগ সেই হটপ্যান্টটি মেলবোর্নের আর্টস সেন্টারের পারফর্মিং আর্টস কালেকশন জাদুঘরে দান করেন, যেখানে সেটিকে "সমসাময়িক পপ সংস্কৃতির অন্যতম চিহ্ন" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[২২] একই বছর, আইডা পিয়ার্স তাঁর প্রথম হিউমার এস... লস কমেডিয়ান্টস স্কেচ "এল গানাডেরো"তে কালো হটপ্যান্ট পরেন, যেখানে তাঁর সাথে ছিলেন কৌতুকাভিনেতা কার্লোস এস্পেজেল এবং তেও গঞ্জালেজ

২০১০-এর দশকেও হটপ্যান্ট বা 'বুটি শর্টস' বেশ জনপ্রিয় ছিল। বিশেষ করে মিয়ামির সাউথ বিচ এবং ভেনিস বিচ বা লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো জায়গায়, যেখানে সমুদ্রসৈকত থেকে সরাসরি বারে যাওয়ার পরিবেশ রয়েছে, সেখানে এই পোশাক প্রায়ই দেখা যায়।[]

ইউনিফর্মে

[সম্পাদনা]
১৯৭৫ সালে ফিলাডেলফিয়া ফিলিস হট প্যান্টস প্যাট্রোলের ইউনিফর্ম
২০১১ সালে ইউনিফর্ম হটপ্যান্ট পরিহিত একজন ডালাস কাউবয়েজ চিয়ারলিডার

চিয়ারলিডার (ডালাস কাউবয়েজ চিয়ারলিডারদের মাধ্যমে যা জনপ্রিয় হয়েছে) এবং পারফর্মারদের ইউনিফর্মের অংশ হিসেবেও হটপ্যান্ট ব্যবহৃত হতে পারে। আবার নির্দিষ্ট কিছু সেবা খাতে (যেমন হুটার্স রেস্তোরাঁ চেইন) এটি বাধ্যতামূলক পোশাক হিসেবেও দেখা যায়।[১২]

১৯৭১ সালে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস তাদের বিমানবালাদের (যাদের ডাকনাম ছিল "লাভ বার্ডস") জন্য হটপ্যান্ট ইউনিফর্ম চালু করে বেশ আলোচিত-সমালোচিত হয়েছিল। এটি একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণার অংশ ছিল, যার স্লোগান ছিল "সামওয়ান এলস আপ দেয়ার হু লাভস ইউ" (উপরে অন্য কেউ আছেন যিনি আপনাকে ভালোবাসেন)।[২৩] কমলা রঙের এই ইউনিফর্মগুলো (যা সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের প্রেসিডেন্ট এম. লামার মিউজের স্ত্রী জুয়ানিচ গান মিউজ ডিজাইন করেছিলেন) পরতেন সেইসব তরুণী, যাদের সৌন্দর্য এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের ভিত্তিতে বাছাই করা হতো।[২৪] লামার মিউজ দম্ভ করে বলেছিলেন যে, হটপ্যান্ট পরা সুন্দরী বিমানবালারা থাকলে পুরুষ যাত্রীরা জানালার পাশে বসার চেয়ে করিডরের পাশের সিটে বসার জন্য কাড়াকাড়ি করবে।[২৩] তবে, স্টুয়ার্ডেস ফর উইমেনস রাইটসের মতো নারীবাদী সংগঠনগুলো এই ইউনিফর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং লবিং করেছিল।[২৫]

১৯৭১ সালেই ফিলাডেলফিয়া ফিলিস বেসবল দলের জন্য নারী আশারদের একটি বিশেষ দল হিসেবে হট প্যান্টস প্যাট্রোল চালু করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল খেলার মাঠে দর্শক সংখ্যা বাড়ানো।[২৬] যদিও অধিকাংশ "ফিলিস" বা নারী সদস্য ইউনিফর্ম হিসেবে সাদা মিনিস্কার্ট পরতেন, কিন্তু হট প্যান্টস প্যাট্রোলের ৩৬ জন সদস্য সাদা ভিনাইল গো-গো বুটের সাথে লাল রঙের হটপ্যান্ট জাম্পসুট পরতেন।[২৬] নারীবাদী সংগঠনগুলোর চাপে ১৯৮২ সালে ফিলিস কর্তৃপক্ষ হট প্যান্টস প্যাট্রোল বন্ধ করে দেয়।[২৭]

ডলফিন শর্টস নামে পরিচিত এক ধরনের হটপ্যান্ট পরিহিত একজন হুটার্স ওয়েট্রেস মেলিসা পো।

চিয়ারলিডার এবং নৃত্যশিল্পী, বিশেষ করে হিপ হপ পারফর্মারদের পোশাক হিসেবে হটপ্যান্ট বা বুটি শর্টস এখনও জনপ্রিয় এবং ব্যাকআপ ড্যান্সাররা প্রায়শই এটি পরে থাকেন।[][১২] ডালাস কাউবয়েজ চিয়ারলিডারদের ইউনিফর্ম হটপ্যান্ট এবং মিডরিফ টপস নিয়ে গঠিত।[১২] একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও নির্দিষ্ট কিছু সেবা শিল্পের ইউনিফর্মে হটপ্যান্টের ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে যেখানে ক্রেতাদের বড় অংশই পুরুষ। এর একটি উদাহরণ হলো হুটার্স, যেখানে পরিবেশনকারীরা (বা "হুটার্স গার্লস") আঁটসাঁট ট্যাঙ্ক টপ, প্যান্টিহোজ এবং ব্রায়ের সাথে কমলা রঙের ডলফিন শর্টস পরেন।[১২]

অত্যন্ত ছোট শর্টস সেনাবাহিনীর মধ্যেও ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে, রোডেশিয়ান এবং দক্ষিণ আফ্রিকান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সেখানকার গরম আবহাওয়ায় যুদ্ধ করার কারণে অত্যন্ত ছোট শর্টস পরতেন। এছাড়াও অস্ট্রিয়ান সেনাবাহিনী পিটি (শারীরিক কসরত) করার পোশাক হিসেবে ছোট শর্টস ব্যবহার করত।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 Russell, I. Willis; Porter, Mary Gray (১৯৯৩)। "Among The New Words"। Algeo, John; Algeo, Adele S. (সম্পাদকগণ)। Fifty Years Among the New Words: A Dictionary of Neologisms 1941–1991Cambridge University Press। পৃ. ১৬৭–১৬৮। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২১৪৪৯৭১৭
  2. "To the Tune of Millions," Newsweek, March 31, 1958
  3. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 Moore, Jennifer Grayer (১৪ ডিসেম্বর ২০১৫)। Fashion Fads Through American History: Fitting Clothes into Context। ABC-CLIO। পৃ. ৬৮–৭১। আইএসবিএন ৯৭৮১৬১০৬৯৯০২০
  4. Cumming, Valerie; Cunnington, C.W.; Cunnington, P.E. (২০১০)। The dictionary of fashion history। Oxford: Berg। আইএসবিএন ৯৭৮১৮৪৭৮৮৭৩৮২
  5. 1 2 Steele, Valerie (২০০০)। Fifty years of fashion: new look to now (English সংস্করণ)। New Haven, CT: Yale University Press। পৃ. ৮৭। আইএসবিএন ৯৭৮০৩০০০৮৭৩৮৩
  6. 1 2 3 4 Klemesrud, Judy (৩১ জানুয়ারি ১৯৭১)। "Is That a Way to Save Face? Sell Hot Pants."। Haberman, Clyde (সম্পাদক)। New York Times: The Times of the Seventies: The Culture, Politics, and Personalities that Shaped the Decade। Hachette Books। আইএসবিএন ৯৭৮১৬০৩৭৬৩৩৩২
  7. 1 2 Lambert, Eleanor (১৯৭৬)। World of fashion: people, places, resources। New York: R. R. Bowker Co। পৃ. ৫৩, ১৩২। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৩৫২০৬২৭৩
  8. 1 2 3 Smaltz, Audrey (২৫ মার্চ ১৯৭১)। "HotPants, Or 'Knockout-Shorts', Worn By Sexy, Proud Women!"Jet। Johnson Publishing Company: ৪২–৪৩।
  9. "Catherine Bach Defends the Dukes"Beaver County Times। Beaver, PA। UPI। ১১ অক্টোবর ১৯৮১। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৫
  10. Sieczkowski, Cavan (১৯ মে ২০১৪)। "Jennifer Lopez Wears Leather Hotpants Like No Other"Huffington Post India (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  11. 1 2 Singh, Anita (১৬ জুন ২০০৯)। "Rio Ferdinand emulates Ronaldo in hotpants"The Telegraph। সংগ্রহের তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮
  12. 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 Peril, Lynn (২০০৮)। "Hot Pants"। Mitchell, Claudia; Reid-Walsh, Jacqueline (সম্পাদকগণ)। Girl Culture: Studying girl culture : a readers' guide। ABC-CLIO। পৃ. ৩৬২–৩। আইএসবিএন ৯৭৮০৩১৩৩৩৯০৯৭
  13. Historical Dictionary of the Fashion Industry। Scarecrow Press। ১৯ নভেম্বর ২০০৭। আইএসবিএন ৯৭৮০৮১০৮৬৪১৯১। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০১৭
  14. Werlin, Katy (২০১৫)। "Hot Pants"। Blanco F., José; Hunt-Hurst, Patricia Kay; Lee, Heather Vaughan; এবং অন্যান্য (সম্পাদকগণ)। Clothing and Fashion: American Fashion from Head to Toe। ABC-CLIO। পৃ. ১৬০। আইএসবিএন ৯৭৮১৬১০৬৯৩১০৩
  15. Hamer, Louise; Blum, Stella (১ জানুয়ারি ১৯৮১)। Clark, Rowena (সম্পাদক)। Fabulous Fashion 1907–67: Exhibition from the Costume Institute, the Metropolitan Museum of Art, New York। International Cultural Corporation of Australia। পৃ. ৯৪।
  16. Milford-Cottam, Daniel (২০২০)। Fashion in the 1960s। Shire Publications। পৃ. ১৬–১৭। আইএসবিএন ৯৭৮১৭৮৪৪২৪০৮৪
  17. Stewart, Gail (১৯৯৯)। The 1970s। Lucent Books। পৃ. ৬৬আইএসবিএন ৯৭৮১৫৬০০৬৫৫৭৯By 1972, there were even a few adventurous men wearing hot pants, including singers David Bowie, Sammy Davis Jr., and Liberace, who wore a red-white-and-blue pair
  18. Wesley, Fred (২৫ সেপ্টেম্বর ২০০২)। Hit Me, Fred: Recollections of a SidemanDuke University Press। পৃ. ১৩৮আইএসবিএন ০৮২২৩৮৬৯৫X
  19. Duke, Andrea; Cornish, Lindsay (৩০ ডিসেম্বর ২০০৭)। "Britney Spears"। Mitchell, Claudia; Reid-Walsh, Jacqueline (সম্পাদকগণ)। Girl Culture: Studying girl culture: a readers' guide। ABC-CLIO। পৃ. ৫৪৭–৫৫০। আইএসবিএন ৯৭৮০৩১৩৩৩৯০৯৭
  20. Halligan, Benjamin; Edgar, Robert; Fairclough-Isaacs, Kirsty (২৬ জুন ২০১৩)। The Music Documentary: Acid Rock to Electropop। London: Routledge। পৃ. ২২৮। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪১৫-৫২৮০২-৩। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩
  21. Ricketson, Matthew (২৭ জুলাই ২০০২)। "Kylie's seat of power"The Sydney Morning HeraldFairfax Media। সংগ্রহের তারিখ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৩
  22. "Kylie Minogue – Kylie Minogue Donates Famous Hot Pants To Australian Museum"Contactmusic.com। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  23. 1 2 Whitelegg, Drew (১ জুন ২০০৭)। Working the Skies: The Fast-paced, Disorienting World of the Flight Attendant। NYU Press। পৃ. ৪৮–৪৯। আইএসবিএন ৯৭৮০৮১৪৭৯৪০৭৪
  24. Wald, Matthew L. (৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। "M. Lamar Muse, 86, Dies; Led Southwest Airlines"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৭
  25. Tiemeyer, Phil (২০১৩)। Plane Queer: Labor, Sexuality, and AIDS in the History of Male Flight Attendants। University of California Press। পৃ. ১১০–১১১। আইএসবিএন ৯৭৮০৫২০২৭৪৭৭৮
  26. 1 2 "City of Brotherly Love gets Hot Pants Patrol"The Montreal Gazette। Associated Press। ২ এপ্রিল ১৯৭১।
  27. "The Phillies "Hot Pants Patrol" Was Indeed A Thing, Once Upon A Time"PHILEBRITY। সংগ্রহের তারিখ ২১ এপ্রিল ২০১৭