বিষয়বস্তুতে চলুন

স্রেব্রেনিৎসা হত্যাকাণ্ড

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্রেব্রেনিৎসা হত্যাকাণ্ড
স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা
বসনিয়ার যুদ্ধ এবং বসনীয় গণহত্যার অংশ
১৯৯৫ সালের গণহত্যার শিকার প্রায় ৭,০০০ শনাক্তকৃত ব্যক্তির সমাধিস্থল স্রেব্রেনিৎসা-পোতোচারি স্মারক ও সমাধিক্ষেত্রে থাকা কিছু সমাধিফলক।[]
স্রেব্রেনিৎসা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-এ অবস্থিত
স্রেব্রেনিৎসা
স্রেব্রেনিৎসা
স্রেব্রেনিৎসা (বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা)
স্থানস্রেব্রেনিৎসা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
স্থানাংক৪৪°০৬′ উত্তর ১৯°১৮′ পূর্ব / ৪৪.১০০° উত্তর ১৯.৩০০° পূর্ব / 44.100; 19.300
তারিখ১১ জুলাই ১৯৯৫ (1995-07-11) – ৩১ জুলাই ১৯৯৫; ৩০ বছর আগে (1995-07-31)
লক্ষ্যবসনিয়াক পুরুষ ও বালক
হামলার ধরনজাতিনিধন, জাতিশোধন, গণহত্যা, পুরুষহত্যা, গণহত্যায় গণধর্ষণ
নিহত৮,৩৭২[]
হামলাকারী দল
কারণবসনিয়াক-বিরোধী মনোভাব
সার্বীয় আধিপত্যবাদ
ইসলামোফোবিয়া
সার্বীয়করণ
২০০৫ সালে শনাক্তকৃত ৬১০ জন বসনিয়াকের দাফন
২০০৭ সালে শনাক্তকৃত ৪৬৫ জন বসনিয়াকের দাফন
২০১০ সালে শনাক্তকৃত ৭৭৫ জন বসনিয়াকের দাফন
স্রেব্রেনিৎসা-পোতোচারি স্মারক এবং গণহত্যার শিকারদের সমাধিস্থল

স্রেব্রেনিৎসা হত্যাকাণ্ড[], যা স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা[] নামেও পরিচিত,[] হলো ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে বসনীয় যুদ্ধের সময় স্রেব্রেনিৎসা শহর এবং এর আশেপাশে ৮,০০০-এর বেশি[] বসনীয় মুসলিম পুরুষ ও বালককে গণহত্যাজনিত হত্যাকাণ্ড।[১০][১১] এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি মূলত বসনীয় সার্বদের সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন রাতকো ম্লাদিচ। তবে এই ঘটনায় সার্বীয় আধাসামরিক ইউনিট স্করপিয়নসও অংশ নেয়।[][১২] দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ইউরোপের মাটিতে আইনগতভাবে স্বীকৃত প্রথম গণহত্যা।[১৩]

হত্যাকাণ্ডের আগে জাতিসংঘ অবরুদ্ধ স্রেব্রেনিৎসা অঞ্চলটিকে তার সুরক্ষাধীন একটি "নিরাপদ এলাকা" হিসেবে ঘোষণা করেছিল।[১৪] কিন্তু জাতিসংঘের ৩৭০ সদস্যের[১৫]একটি স্বল্প-অস্ত্রসজ্জিত ওলন্দাজ সৈন্যদল শহরটির পতন এবং পরবর্তী হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থ হয়।[১৬][১৭][১৮][১৯] এই ঘটনায় নিখোঁজ বা নিহত হওয়া মানুষের তালিকায় ৮,৩৭২ জনের নাম রয়েছে।[] ২০১২ সালের জুলাই পর্যন্ত, গণকবর থেকে উদ্ধারকৃত দেহাংশের ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ৬,৮৩৮ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।[২০]

২০০৪ সালে, আইসিটিওয়াই-এর আপিল বিভাগ এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।[২১] এই রায়টি ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতও বহাল রাখে।[২২] প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ বসনিয়াক মুসলিম নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জোরপূর্বক স্থানান্তর ও নির্যাতন, পুরুষদের হত্যাকাণ্ডের সাথে মিলিয়ে গণহত্যা হিসেবেই গণ্য করা হয়েছে।[২৩][২৪]

এই ঘটনায় নিজেদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ২০০২ সালে নেদারল্যান্ডসের সরকার পদত্যাগ করে।[২৫][২৬][২৭][২৮] ২০১৩ সালে সার্বিয়ার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি তমিস্লাভ নিকোলিচ স্রেব্রেনিৎসায় সংঘটিত "অপরাধের" জন্য ক্ষমা চাইলেও, এটিকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেন।[২৯]

২০০৫ সালে, জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান এই হত্যাকাণ্ডকে "একটি ভয়াবহ অপরাধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় ভূখণ্ডে সংঘটিত সবচেয়ে জঘন্য ঘটনা" হিসেবে বর্ণনা করেন।[৩০] অবশেষে, ২০২৪ সালের মে মাসে জাতিসংঘ একটি প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে প্রতি বছর ১১ জুলাইকে ১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্মরণ ও স্মরণানুষ্ঠান দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।[৩১][৩২]

হত্যাকাণ্ড

[সম্পাদনা]

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার শীর্ষস্থানীয় দুই সার্ব নেতা, রাদোয়ান কারাজিচ এবং মমচিলো ক্রাইশ্নিককে, গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। বসনীয় সার্ব সেনাবাহিনীর প্রধান রাতকো ম্লাদিচ (যিনি নিজেও ২০১৭ সালে গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন) তাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, গণহত্যা না ঘটিয়ে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ম্লাদিচ ১৯৯২ সালের ১২ই মে একটি সংসদীয় অধিবেশনে স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন:

মানুষ তো আর পকেটের চাবি বা নুড়িপাথর নয় যে চাইলেই তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া যাবে। ...কাজেই, এমন কোনো নিখুঁত ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়, যেখানে দেশের একটি অংশে শুধু সার্বরা থাকবে আর বাকিদের কোনো রকম কষ্ট ছাড়াই সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি জানি না, মি. ক্রাইশ্নিক আর মি. কারাজিচ বিশ্বের কাছে এর কী জবাব দেবেন। এটা তো সরাসরি গণহত্যা।[৩৩]

পোতোচারিতে শরণার্থীদের ভিড়

[সম্পাদনা]
পোতোচারিতে জাতিসংঘ বাহিনীর অধীনে থাকা সৈন্যদের সদর দপ্তর। হত্যাকাণ্ডের সময় স্রেব্রেনিৎসায় "ওলন্দাজব্যাট" নামে পরিচিত এই ওলন্দাজ সৈন্যদলে ৩৭০ জন[৩৪] সদস্য ছিল। এটি একটি পরিত্যক্ত ব্যাটারি কারখানার ভবন ছিল।

১১ জুলাই সন্ধ্যার মধ্যেই স্রেব্রেনিৎসা থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বসনিয়াক শরণার্থী পোতোচারিতে জাতিসংঘের ওলন্দাজব্যাট সদর দপ্তরে আশ্রয়ের জন্য জড়ো হয়। কয়েক হাজার শরণার্থী কোনোমতে কম্পাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল, আর বাকিরা আশ্রয় নিয়েছিল আশেপাশের কারখানা ও খোলা মাঠে। যদিও শরণার্থীদের বেশিরভাগই ছিলেন নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী, ৬৩ জন প্রত্যক্ষদর্শীর হিসাব অনুযায়ী কম্পাউন্ডের ভেতরে অন্তত ৩০০ এবং বাইরে প্রায় ৬০০ থেকে ৯০০ জন পুরুষও ছিলেন।[৩৫]

তীব্র গরমের মধ্যে সেখানে খাবার ও জলের সংকট দেখা দেয়। একজন ওলন্দাজব্যাট কর্মকর্তা সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:

মানুষজন ছিল আতঙ্কিত ও ভীত-সন্ত্রস্ত। তারা একে অপরকে আমাদের সৈন্যদের, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের, গায়ের ওপর ঠেলে দিচ্ছিল, আর সৈন্যরা তাদের শান্ত করার চেষ্টা করছিল। কেউ পড়ে গেলে ভিড়ের চাপে পদদলিত হচ্ছিল। সব মিলিয়ে এক চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।[৩৫]

১২ই জুলাই, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ১০০৪-এর মাধ্যমে পোতোচারির মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এই প্রস্তাবে বসনীয় সার্ব বাহিনীর আক্রমণকে নিন্দা জানানো হয় এবং তাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার দাবি করা হয়। কিন্তু এর একদিন পরই, ১৩ই জুলাই, ওলন্দাজ বাহিনী কম্পাউন্ডের বাইরে পুরুষদের হত্যা করা হচ্ছে জেনেও পাঁচজন বসনিয়াক শরণার্থীকে সেখান থেকে বের করে দেয়।[৩৬]

পোতোচারিতে সংঘটিত অপরাধ

[সম্পাদনা]

১২ই জুলাই, ঘাঁটিতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা অসহায়ভাবে দেখছিল, কীভাবে ভিআরএস (বসনীয় সার্ব সেনাবাহিনী) সদস্যরা একের পর এক বাড়িঘর আর খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। সেদিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই সার্ব সৈন্যরা সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যেতে শুরু করে এবং পুরুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে।[৩৫]

সেদিন সকালেই একজন সাক্ষী জানান যে, তিনি ট্রান্সপোর্ট বিল্ডিংয়ের পেছনে একটি যন্ত্রের পাশে ২০ থেকে ৩০টি লাশের স্তূপ দেখেছিলেন। আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, তিনি এক সার্ব সৈন্যকে শরণার্থী ভিড়ের মাঝখানেই একটি শিশুকে ছুরি দিয়ে হত্যা করতে দেখেছেন। তিনি আরও বলেন যে, জিঙ্ক ফ্যাক্টরির পেছনে সার্ব সৈন্যরা ১০০ জনেরও বেশি বসনীয় মুসলিম পুরুষকে হত্যা করে এবং তাদের মৃতদেহ একটি ট্রাকে তোলে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা এবং ধরন মামলার রেকর্ডে থাকা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না, কারণ অন্যান্য প্রমাণ অনুযায়ী পোতোচারিতে হত্যাকাণ্ডগুলো ছিল বিক্ষিপ্ত প্রকৃতির। সৈন্যরা ভিড়ের মধ্য থেকে লোকজনকে বেছে বেছে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বর্ণনা দেন, কীভাবে তিন ভাইকে—যাদের একজন ছিল শিশু এবং বাকি দুজন কিশোর—রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের মা যখন ছেলেদের খুঁজতে যান, তখন তিনি তাদের নগ্ন অবস্থায় গলাকাটা মৃতদেহ দেখতে পান।[৩৫][৩৭]সেই রাতে, ওলন্দাজব্যাট বাহিনীর একজন স্বাস্থ্যকর্মী দুই সার্ব সৈন্যকে একজন নারীকে ধর্ষণ করতে দেখেন।[৩৮] বেঁচে যাওয়া একজন নারী, জারফা তুরকোভিচ, সেই ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: "দুইজন [সার্ব সৈন্য] তার পা ধরে উপরে তুলেছিল, আর তৃতীয়জন তাকে ধর্ষণ করতে শুরু করে। চারজন মিলে পালাক্রমে তার ওপর অত্যাচার চালায়। সবাই চুপ ছিল, কেউ নড়াচড়া পর্যন্ত করেনি। সে চিৎকার করছিল, কাঁদছিল আর তাদের থামাতে অনুরোধ করছিল। তারা তার মুখে একটি কাপড়ের টুকরো গুঁজে দেয়, এরপর আমরা শুধু তার চাপা কান্নার শব্দ শুনতে পাই।"[৩৯][৪০]

পোতোচারিতে বসনীয় পুরুষ ও বালকদের হত্যা

[সম্পাদনা]

১২ই জুলাই সকাল থেকে সার্ব বাহিনী পোতোচারিতে থাকা শরণার্থীদের মধ্য থেকে পুরুষ ও বালকদের আলাদা করে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখতে শুরু করে। শরণার্থীরা যখন বসনীয়-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের দিকে যাওয়া বাসে উঠছিল, তখন সার্ব সৈন্যরা সামরিক বয়সের পুরুষদের বাস থেকে নামিয়ে নেয়। মাঝে মাঝে কম বয়সী বালক (এমনকি ১৪ বছর বয়সী) এবং বয়স্ক পুরুষদেরও থামানো হচ্ছিল।[৪১][৪২][৪৩]

এই পুরুষদের "হোয়াইট হাউস" নামে পরিচিত একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। ১২ই জুলাই সন্ধ্যায়, ওলন্দাজব্যাট বাহিনীর মেজর ফ্রাঙ্কেন খবর পান যে, ক্লাইদানে নারী ও শিশুদের সঙ্গে কোনো পুরুষ পৌঁছায়নি।[৩৫]মিশন প্রধান দামাসো ফেসির নির্দেশে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের অপারেশনস ডিরেক্টর পিটার ওয়ালশকে স্রেব্রেনিৎসায় পাঠানো হয়, যাতে সেখানে দ্রুত কী ধরনের জরুরি সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, তা মূল্যায়ন করা যায়। ওয়ালশ ও তার দল বিকেলে স্রেব্রেনিৎসার ঠিক বাইরে গোস্তিল নামক স্থানে পৌঁছান, কিন্তু ভিআরএস (বসনীয় সার্ব সেনাবাহিনী) বাহিনী তাদের ফিরিয়ে দেয়। চলাচলের স্বাধীনতার অধিকার দাবি করা সত্ত্বেও, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের দলকে এগোতে দেওয়া হয়নি এবং তাদের উত্তরে বিয়েলিনার দিকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। এই পুরো সময়জুড়ে ওয়ালশ জাগ্রেবে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন পাঠাতে থাকেন। তিনি মুসলিম পুরুষ ও বালকদের জোরপূর্বক স্থানান্তর, তাদের ওপর নির্যাতন এবং চারপাশে চলতে থাকা হত্যাকাণ্ডের শব্দ শোনার কথাও জানান।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

১৩ই জুলাই, ওলন্দাজব্যাট সৈন্যরা আলাদা করে রাখা বসনিয়াক পুরুষদের হত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ দেখতে পায়। কর্পোরাল ভাসেন দুই সার্ব সৈন্যকে একজন লোককে "হোয়াইট হাউস"-এর পেছনে নিয়ে যেতে দেখেন। এরপর তিনি একটি গুলির শব্দ শুনতে পান এবং দেখেন যে সৈন্য দুজন একাই ফিরে আসছে। আরেকজন ওলন্দাজব্যাট কর্মকর্তা দেখেন, সার্ব সৈন্যরা একজন নিরস্ত্র লোককে মাথায় গুলি করে হত্যা করছে। সেদিন বিকেলজুড়ে তিনি ঘণ্টায় ২০ থেকে ৪০ বার গুলির শব্দ শুনতে পান।

ওলন্দাজব্যাট সৈন্যরা যখন কর্নেল জোসেফ কিংগোরিকে (স্রেব্রেনিৎসা এলাকায় নিযুক্ত একজন জাতিসংঘ সামরিক পর্যবেক্ষক) জানায় যে, পুরুষদের "হোয়াইট হাউস"-এর পেছনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কিন্তু তারা আর ফিরে আসছে না, তখন কিংগোরি বিষয়টি তদন্ত করতে যান। তিনি কাছাকাছি পৌঁছাতেই গুলির শব্দ শুনতে পান, কিন্তু কী ঘটছে তা দেখার আগেই সার্ব সৈন্যরা তাকে থামিয়ে দেয়।[৩৫]

কিছু হত্যাকাণ্ড রাতের বেলায় আর্ক লাইটের আলোয় চালানো হয় এবং পরে বুলডোজার দিয়ে মৃতদেহগুলো গণকবরে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়।[৪৪] ফরাসি পুলিশ কর্মকর্তা জ্যঁ-রেনে রুয়েজ কর্তৃক বসনিয়াকদের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রমাণ অনুযায়ী, অনেককে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। তিনি এমন সাক্ষ্যও শুনেছেন যেখানে বলা হয়েছে, সার্ব বাহিনী শরণার্থীদের হত্যা ও নির্যাতন করছিল, রাস্তাগুলো লাশে ভরা ছিল, নাক, ঠোঁট ও কান কেটে ফেলার ভয়ে অনেকে আত্মহত্যা করছিল এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জোর করে তাদের সন্তানদের হত্যা করা দেখতে বাধ্য করা হচ্ছিল।[৪৪]

বেসামরিক নাগরিকদের ধর্ষণ ও নির্যাতন

[সম্পাদনা]

হাজার হাজার নারী ও কিশোরী ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং অন্যান্য ধরনের অত্যাচারের শিকার হয়েছিল। জুমরা শেহোমেরোভিচের সাক্ষ্য অনুযায়ী:

এক পর্যায়ে সার্বরা শরণার্থী দল থেকে মেয়ে ও যুবতীদের তুলে নিয়ে যেতে শুরু করে। তাদের ধর্ষণ করা হতো। এই ধর্ষণ প্রায়শই অন্যদের চোখের সামনে, এমনকি কখনও কখনও মায়ের সন্তানদের সামনেও ঘটত। একজন ওলন্দাজ সৈন্য পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, যার মাথায় একটি ওয়াকম্যান ছিল; সে শুধু চারদিকে তাকাচ্ছিল। যা ঘটছিল, তাতে সে কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখায়নি। এটা শুধু আমার চোখের সামনেই ঘটেনি, বরং আমাদের সবার চোখের সামনেই ঘটেছিল। ওলন্দাজ সৈন্যরা সর্বত্র ঘোরাফেরা করছিল। এটা অসম্ভব যে তারা এসব দেখেনি।

সেখানে কয়েক মাস বয়সী একটি ছোট শিশুসহ একজন মা ছিলেন। একজন চেটনিক সেই মাকে বলে যে শিশুটিকে কান্না থামাতে হবে। শিশুটি কান্না না থামালে, সে শিশুটিকে কেড়ে নেয় এবং তার গলা কেটে ফেলে। তারপর সে হাসতে থাকে। সেখানে একজন ওলন্দাজ সৈন্য দাঁড়িয়ে দেখছিল। সে কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখায়নি।

আমি আরও ভয়ংকর জিনিস দেখেছি। যেমন, একটি মেয়ে ছিল, যার বয়স হয়তো নয় বছর হবে। এক পর্যায়ে, কিছু চেটনিক তার ভাইকে সেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করতে বলে। সে তা করেনি এবং আমার মনে হয় সে তা করতে পারতও না, কারণ সে নিজেও তখন শিশু ছিল। এরপর তারা সেই ছোট ছেলেটিকে হত্যা করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এসব দেখেছি। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে, এই সবকিছুই ঘাঁটির খুব কাছাকাছি ঘটেছিল। একইভাবে, আমি আরও অনেককে খুন হতে দেখেছি। তাদের কয়েকজনের গলা কেটে ফেলা হয়েছিল, অন্যদের শিরশ্ছেদ করা হয়েছিল।[৪৫]

রামিজা গুরদিচের সাক্ষ্য:

আমি দেখেছিলাম, কীভাবে ওলন্দাজ ইউনিফর্ম পরা সার্বরা প্রায় দশ বছর বয়সী একটি ছোট ছেলেকে হত্যা করে। এটা আমার চোখের সামনেই ঘটেছিল। মা মাটিতে বসেছিলেন আর তার ছোট ছেলেটি পাশে বসেছিল। ছেলেটিকে তার মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়। তারপর তাকে হত্যা করা হয়। তার মাথা কেটে ফেলা হয়েছিল। দেহটি মায়ের কোলেই পড়ে রইল। সার্ব সৈন্যটি ছেলেটির মাথা তার ছুরির ডগায় তুলে সবাইকে দেখাচ্ছিল। ... আমি একজন গর্ভবতী মহিলাকেও খুন হতে দেখেছি। কিছু সার্ব সৈন্য তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে, পেট চিরে ফেলে এবং তার পেট থেকে দুটি ছোট শিশুকে বের করে এনে মাটিতে আছড়ে মেরে ফেলে। আমি এসব নিজের চোখে দেখেছি।[৪৫]

কাদা হোতিচের সাক্ষ্য:

বাসের দিকে যাওয়ার পথে একটি ছোট শিশুসহ একজন যুবতী ছিলেন। শিশুটি কাঁদছিল এবং একজন সার্ব সৈন্য তাকে বলে যে শিশুটিকে অবশ্যই শান্ত করতে হবে। এরপর সৈন্যটি মায়ের কাছ থেকে শিশুটিকে কেড়ে নেয় এবং তার গলা কেটে ফেলে। ওলন্দাজব্যাট সৈন্যরা তা দেখেছিল কি না, তা আমি জানি না। ... পোতোচারির রাস্তার বাম দিকে এক ধরনের বেড়া ছিল। আমি তখন খুব কাছ থেকে (৪-৫ মিটার দূর থেকে) একজন যুবতীর চিৎকার শুনতে পাই। এরপর আমি আরেকজন মহিলাকে মিনতি করতে শুনি: "ওকে ছেড়ে দাও, ওর বয়স মাত্র নয় বছর।" হঠাৎ করেই চিৎকার থেমে যায়। আমি এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে, নড়াচড়া করার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলাম। ... পরে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, নয় বছর বয়সী একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে।[৪৫]

সেই রাতে, ওলন্দাজব্যাট বাহিনীর একজন স্বাস্থ্যকর্মী দুই সার্ব সৈন্যকে একজন যুবতীকে ধর্ষণ করতে দেখেন:

আমরা দুজন সার্ব সৈন্যকে দেখেছিলাম, তাদের একজন পাহারা দিচ্ছিল এবং অন্যজন মেয়েটির ওপর শুয়ে ছিল, তার প্যান্ট নামানো ছিল। আর আমরা দেখেছিলাম, মেয়েটি এক ধরনের তোশকের ওপর মাটিতে পড়ে আছে। তোশকটিতে রক্ত লেগে ছিল, এমনকি মেয়েটির সারা গায়েও রক্ত ছিল। তার পায়ে কালশিটে দাগ ছিল। তার পা বেয়ে রক্ত ঝরছিল। সে সম্পূর্ণ হতবাক হয়ে গিয়েছিল। সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল।

কাছাকাছি থাকা বসনিয়াক মুসলিম শরণার্থীরা ধর্ষণটি দেখতে পেলেও, পাশে সার্ব সৈন্যদের উপস্থিতির কারণে কিছুই করতে পারছিল না। অন্যরা নারীদের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিল, অথবা দেখছিল নারীদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বেশ কয়েকজন এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল যে, তারা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে। সারারাত এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের খবর ভিড়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিবিরের আতঙ্ক চরমে পৌঁছায়।

সারারাত চিৎকার, গুলির শব্দ এবং অন্যান্য ভয়ংকর আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল, ফলে কেউ ঘুমাতে পারছিল না। সৈন্যরা ভিড়ের মধ্য থেকে লোকজনকে বেছে বেছে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল: কেউ কেউ ফিরে আসছিল; অন্যরা আর ফেরেনি।[৪৬]

নারীদের নির্বাসন

[সম্পাদনা]

সার্ব সৈন্যদের সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘ আলোচনার ফলস্বরূপ, প্রায় ২৫,০০০ স্রেব্রেনিৎসার নারীকে জোরপূর্বক বসনিয়াক-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়। তবে, কিছু বাস দৃশ্যত কখনোই নিরাপদ স্থানে পৌঁছায়নি। কাদির হাবিবোভিচ নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী, যিনি পোতোচারি ঘাঁটি থেকে ক্লাদানিতে যাওয়া প্রথম বাসগুলোর একটিতে লুকিয়ে ছিলেন, তার সাক্ষ্য অনুযায়ী তিনি বসনিয়াক নারীদের বহনকারী অন্তত একটি গাড়িকে বসনিয়াক-নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে দূরে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে দেখেছেন।[৪৭]

জাতিসংঘ

[সম্পাদনা]
বহিঃস্থ ভিডিও
video icon Everyday objects, tragic histories জিয়াহ গাফিচ, টেড টকস, মার্চ ২০১৪, ৪:৩২[৪৮]

১৯৯২ সালের ১৮ই ডিসেম্বর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৭/১২১ নম্বর প্রস্তাবের ভূমিকায় জাতিগত নির্মূলকে গণহত্যার একটি রূপ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়:[৪৯][৫০]

সার্বীয় ও মন্টেনেগ্রিন বাহিনী কর্তৃক বলপ্রয়োগে আরও অঞ্চল দখলের লক্ষ্যে পরিচালিত তীব্র আগ্রাসনের ফলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্রজাতন্ত্রের পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই আগ্রাসনের বৈশিষ্ট্য হলো—ধারাবাহিকভাবে মানবাধিকারের চরম ও পদ্ধতিগত লঙ্ঘন, অসহায় বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ি থেকে গণহারে বিতাড়নের ফলে সৃষ্ট বিশাল শরণার্থী সংকট, এবং সার্বীয় ও মন্টেনেগ্রিন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নির্যাতন কেন্দ্র ও কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের উপস্থিতি। এই সবকিছুই "জাতিগত নির্মূল" নামক ঘৃণ্য নীতির অংশ, যা প্রকারান্তরে গণহত্যারই সামিল...

২০০৭ সালের ১২ই জুলাই, জর্গিচ বনাম জার্মানি মামলার রায়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে:[৫১]

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICTY) তার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা—প্রসিকিউটর বনাম ক্রিস্টিচ এবং প্রসিকিউটর বনাম কুপ্রেচকিচ-এর রায়ে একটি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং জার্মান আদালতগুলো গণহত্যার সংজ্ঞায় 'ধ্বংস করার উদ্দেশ্য' (intent to destroy) কথাটির একটি ব্যাপক ব্যাখ্যা দিয়েছিল। কিন্তু ICTY সেই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। নালাম ক্রিমেন সিনে লেগে (আইন ছাড়া অপরাধ হয় না) নীতির ওপর জোর দিয়ে ICTY বলেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গণহত্যা বলতে শুধুমাত্র কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে শারীরিকভাবে নির্মূল করা বা জৈবিকভাবে ধ্বংস করার লক্ষ্যেই পরিচালিত কর্মকাণ্ডকে বোঝাবে।

যুদ্ধ-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ

[সম্পাদনা]

১৯৯৫–২০০০: অভিযোগপত্র এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদন

[সম্পাদনা]

১৯৯৫ সালের নভেম্বরে, কারাজিচ এবং ম্লাদিচকে স্রেব্রেনিৎসার বসনিয়াক মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের জন্য সরাসরি দায়ী করে ICTY কর্তৃক অভিযুক্ত করা হয়।[৫২] ১৯৯৯ সালে, জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান স্রেব্রেনিৎসার পতন নিয়ে তার প্রতিবেদন জমা দেন। তিনি স্বীকার করেন যে, এই ঘটনার দায়ভার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও নিতে হবে। নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক "নিরাপদ এলাকা" হিসেবে ঘোষিত একটি শহরে জাতিগত নির্মূল অভিযানের চূড়ান্ত পরিণতিতে ৭,০০০ নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার দায়ভার তাদেরই গ্রহণ করা উচিত।[৫২][৫৩]

২০০২: ওলন্দাজ সরকারের প্রতিবেদন

[সম্পাদনা]

ওলন্দাজব্যাট কর্তৃক ছিটমহলটিকে রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা নেদারল্যান্ডসে একটি জাতীয় ট্রমা বা মানসিক আঘাতে পরিণত হয় এবং এটি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার জন্ম দেয়।[৫৪]

১৯৯৬ সালে, ওলন্দাজ সরকার এনআইওডি ইনস্টিটিউটকে এই ঘটনাগুলো নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। ২০০২ সালে স্রেব্রেনিৎসা: একটি 'নিরাপদ' এলাকা (Srebrenica: a 'safe' area) শিরোনামে সেই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।[৫৫] প্রতিবেদনে বলা হয়, ওলন্দাজব্যাট মিশনটি সুচিন্তিত ছিল না এবং এটি বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

যদিও প্রতিবেদনটি ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হয়, ইনস্টিটিউট ফর ওয়ার অ্যান্ড পিস রিপোর্টিং এটিকে "বিতর্কিত" বলে মনে করে। তাদের ভাষ্যমতে, "এতে এত বেশি তথ্য রয়েছে যে, যে কেউ নিজের যুক্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইচ্ছামতো তথ্য বেছে নিতে পারে।" একজন লেখক এমনকি দাবি করেন, কিছু উৎস "অনির্ভরযোগ্য" ছিল এবং কেবল অন্য লেখকের মতকে সমর্থন করতেই সেগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।[৫৬]

এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায়, ওলন্দাজ সরকার হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তৈরির জন্য নিজেদের আংশিক রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে নেয়[৫৭] এবং এর জেরে দ্বিতীয় কোক মন্ত্রিসভা পদত্যাগ করে।[৫৮][৫৯]

২০০২: রিপাবলিকা স্রপস্কার প্রথম প্রতিবেদন

[সম্পাদনা]

২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে, রিপাবলিকা স্রপস্কারের আইসিটিওয়াই-এর সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক কার্যালয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে। দারকো ত্রিফুনোভিচের লেখা এই দলিলটিকে বসনীয় সার্বদের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা সমর্থন জানিয়েছিলেন। এই প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয় যে, যুদ্ধের সময় ১,৮০০ বসনিয় মুসলিম সৈন্য নিহত হয়েছিল এবং আরও ১০০ জন ক্লান্তির কারণে মারা যায়। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, "ব্যক্তিগত প্রতিশোধ অথবা আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বসনিয় সার্বদের হাতে নিহত মুসলিম সৈন্যের সংখ্যা সম্ভবত ১০০ জন... অপরাধীদের নাম প্রকাশ করা জরুরি, যাতে নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন ছিল কি না।" প্রতিবেদনে গণকবরগুলোকে স্বাস্থ্যগত কারণে তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয় এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা ও একজন মূল সাক্ষীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।[৬০] আন্তর্জাতিক সংকট গ্রুপ এবং জাতিসংঘ এই প্রতিবেদনকে তাদের বক্তব্যের বিকৃতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানায়।[৬১]

২০০৩: স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা স্মারক

[সম্পাদনা]
স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা স্মারকের নামফলক

২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটন গণহত্যার শিকারদের স্মরণে আনুষ্ঠানিকভাবে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা স্মারক উদ্বোধন করেন। এটি নির্মাণে মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ক্লিনটন তার ভাষণে বলেন, "আমাদের অবশ্যই সেই নিরীহ জীবনগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে, যাদের মধ্যে অনেকেই ছিল শিশু। গণহত্যার এক উন্মত্ততায় তাদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।"[৬২][৬৩]

২০০৪: রিপাবলিকা স্রপস্কার দ্বিতীয় প্রতিবেদন ও ক্ষমা প্রার্থনা

[সম্পাদনা]

২০০৩ সালের মার্চ মাসে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মানবাধিকার চেম্বার একটি সিদ্ধান্ত জারি করে, যেখানে রিপাবলিকা স্রপস্কাকে, স্রেব্রেনিৎসার ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।[৬৪] এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য চেম্বারের কোনো জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা ছিল না, বিশেষ করে ২০০৩ সালের শেষের দিকে এটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায়।[৬৫] এরপর রিপাবলিকা স্রপস্কা ২০০৩ সালের সেপ্টেম্বরে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা মানবাধিকার চেম্বারের মতে তাদের দায়বদ্ধতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল।[৬৫]

২০০৩ সালের অক্টোবরে, উচ্চ প্রতিনিধি প্যাডি অ্যাশডাউন আক্ষেপ করে বলেন, "[বসনীয় সার্ব] সরকারের কাছ থেকে সত্য বের করা পচা দাঁত তোলার মতো।" তবে, তিনি স্রেব্রেনিৎসা মামলা তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠন এবং ছয় মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুপারিশকে স্বাগত জানান।[৬৬]

স্রেব্রেনিৎসা কমিশন, যার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল কমিশন ফর ইনভেস্টিগেশন অফ দ্য ইভেন্টস ইন অ্যান্ড অ্যারাউন্ড স্রেব্রেনিৎসা বিটুইন ১০ অ্যান্ড ১৯ জুলাই ১৯৯৫, ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ২০০৪ সালের ৪ জুন তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন[৬৭] এবং পরে বিলম্বিত তথ্য পাওয়ার পর ২০০৪ সালের অক্টোবরে একটি সংযোজনী[৬৮] জমা দেয়।[৬৫][৬৯] এই প্রতিবেদনে স্বীকার করা হয় যে, বসনীয় সার্বদের হাতে পুরুষ ও বালকদের হত্যা করা হয়েছিল এবং একটি প্রাথমিক পরিসংখ্যান হিসেবে ৭,৮০০ জনের কথা উল্লেখ করা হয়।[৭০] "সীমিত সময়" এবং "সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের" জন্য, কমিশনটি প্রসিকিউটর বনাম রাদিস্লাভ ক্রিস্টিচ মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের রায়ে বর্ণিত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং তথ্যগুলো গ্রহণ করে নেয়, যেখানে ICTY তাকে স্রেব্রেনিৎসায় 'গণহত্যায় সহায়তা ও সমর্থন' করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছিল।[৬৭]

এই প্রতিবেদনের ফলাফল সার্ব জাতীয়তাবাদীরা এখনও বিতর্কিত বলে মনে করে। তারা দাবি করে, উচ্চ প্রতিনিধি চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, কারণ এর আগে রিপাবলিকা স্রপস্কা সরকারের যে প্রতিবেদনে সার্বদের নির্দোষ বলা হয়েছিল, তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, রিপাবলিকা স্রপস্কার রাষ্ট্রপতি দ্রাগান চাভিচ এক টেলিভিশন ভাষণে স্বীকার করেন যে, সার্ব বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছিল এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, স্রেব্রেনিৎসা সার্বদের ইতিহাসে একটি অন্ধকার অধ্যায়।[৭১]

২০০৪ সালের ১০ই নভেম্বর, রিপাবলিকা স্রপস্কা সরকার একটি আনুষ্ঠানিক ক্ষমাপত্র জারি করে। প্রতিবেদনটি সরকারিভাবে পর্যালোচনা করার পরেই এই বিবৃতিটি আসে। বসনীয় সার্ব সরকার জানায়, "প্রতিবেদনটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ১৯৯৫ সালের জুলাই মাসে স্রেব্রেনিৎসা এলাকায় ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। বসনীয় সার্ব সরকার স্রেব্রেনিৎসার পরিবারের যন্ত্রণার অংশীদার এবং এই ট্র্যাজেডির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।"[৭২]

রিপাবলিকা স্রপস্কা স্রেব্রেনিৎসা ওয়ার্কিং গ্রুপ

[সম্পাদনা]

অ্যাশডাউনের অনুরোধের পর, রিপাবলিকা স্রপস্কা (RS) স্রেব্রেনিৎসা কমিশনের প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে। এই গ্রুপের কাজ ছিল প্রতিবেদনের গোপনীয় সংযোজনীর নথিগুলো বিশ্লেষণ করা এবং রিপাবলিকা স্রপস্কার প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত সকল সম্ভাব্য অপরাধীকে শনাক্ত করা।[৭৩] ২০০৫ সালের ১লা এপ্রিলের একটি প্রতিবেদনে এমন ৮৯২ জনকে শনাক্ত করা হয়, যারা তখনও রিপাবলিকা স্রপস্কার বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিল। এই তথ্য বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটরকে দেওয়া হয়, এই শর্তে যে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত নামগুলো প্রকাশ করা হবে না।[৭৩] ২০০৫ সালের ৪ অক্টোবর, ওয়ার্কিং গ্রুপ জানায় যে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ২৫,০৮৩ জনকে শনাক্ত করেছে, যার মধ্যে ১৯,৪৭৩ জন বসনীয় সার্ব সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছিল, যারা সক্রিয়ভাবে আদেশ দিয়েছিল বা সরাসরি অংশ নিয়েছিল।[৭৪]

২০০৫: স্করপিয়নস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও প্রকাশ

[সম্পাদনা]

২০০৫ সালের ১লা জুন, স্লোবোদান মিলোশেভিচের বিচার চলাকালে একটি ভিডিও প্রকাশ পায়, যা এই হত্যাকাণ্ডে সার্বিয়ার পুলিশের জড়িত থাকার প্রমাণ দেয়।[৭৫] এই ভিডিওটি ছিল ২০টি কপির মধ্যে একমাত্র অক্ষত কপি। এটি সার্বিয়ার শিদ্‌ শহরে ভাড়ায় পাওয়া যেত। বেলগ্রেড-ভিত্তিক মানবাধিকার আইন কেন্দ্রের পরিচালক নাতাশা কান্দিচ এই ভিডিওটি সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক আদালতে (ICTY) জমা দেন।[৭৬]

ভিডিওতে দেখা যায়, একজন অর্থোডক্স যাজক "স্করপিয়নস" নামে পরিচিত একটি সার্বীয় আধাসামরিক ইউনিটকে আশীর্বাদ করছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই, সেই সৈন্যদের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করতে দেখা যায়। নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে চারজন ছিল ১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর এবং দুজন ছিল বিশের কোঠার যুবক। ভিডিওতে চারজন বেসামরিক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করার দৃশ্য এবং তাদের মৃতদেহ মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ক্যামেরাম্যানকে এ সময় হতাশ হয়ে বলতে শোনা যায় যে, ক্যামেরার ব্যাটারির চার্জ প্রায় শেষ।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এরপর, সৈন্যরা বাকি দুই বন্দিকে আদেশ দেয় মৃতদেহগুলো পাশের একটি শস্যাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেই কাজ শেষ হলে তাদেরও সেখানে হত্যা করা হয়।[৭৫][৭৬]

এই ভিডিওটি সার্বিয়ায় প্রচণ্ড ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়। ভিডিওটি প্রচারিত হওয়ার পর, সার্বীয় সরকার এতে শনাক্ত হওয়া কয়েকজন প্রাক্তন সৈন্যকে গ্রেপ্তার করে। দানাস পত্রিকা এবং রেডিও ও টেলিভিশন স্টেশন বি৯২ এই ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচার করে। এই ভিডিওর মাধ্যমেই নুরা আলিসপাহিচ নামে এক মা টেলিভিশনের পর্দায় তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে আজমির আলিসপাহিচের হত্যাকাণ্ড দেখতে পান।[৭৭] তিনি জানান, তিনি ছেলের মৃত্যুর খবর আগেই পেয়েছিলেন এবং তাকে বলা হয়েছিল যে, হত্যার পর তার দেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ২০০৩ সালে পোতোচারিতে যে দেহাবশেষগুলো সমাহিত করা হয়, তার মধ্যে আজমিরের দেহও ছিল।[৭৮][৭৯] এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটেছিল ১৬ বা ১৭ই জুলাই, ত্রনোভো নামক স্থানে, যা সারায়েভোর কাছে স্করপিয়নসের ঘাঁটি থেকে প্রায় ৩০ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত।[৭৬]

২০০৭ সালের ১০ই এপ্রিল, বেলগ্রেডের একটি বিশেষ যুদ্ধাপরাধ আদালত স্করপিয়নস ইউনিটের চার প্রাক্তন সদস্যকে যুদ্ধাপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। তবে, আদালত এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার অংশ হিসেবে না দেখে একটি বিচ্ছিন্ন যুদ্ধাপরাধ হিসেবে রায় দেয়। আদালত এই অভিযোগটিও উপেক্ষা করে যে, স্করপিয়নস সার্বীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MUP) অধীনে কাজ করছিল।[৮০]

২০০৫: দশম বার্ষিকী

[সম্পাদনা]

২০০৫ সালের জুন মাসে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস দশম বার্ষিকী স্মরণে একটি প্রস্তাব পাস করে, যেখানে ভোটের ফলাফল ছিল ৩৭০-১ (রন পল বিপক্ষে ভোট দেন)।[৮১] প্রস্তাবে বলা হয়, "স্রেব্রেনিৎসায় নিহত নিরীহ মানুষদের... গম্ভীরভাবে স্মরণ করা ও সম্মান জানানো উচিত; সার্ব বাহিনী কর্তৃক বাস্তবায়িত নীতিগুলো... গণহত্যার প্রতিরোধ ও শাস্তি সংক্রান্ত কনভেনশনের... শর্তাবলীর সাথে মিলে যায়।"[৮২] মিসৌরি গণহত্যাকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করে[৮৩] এবং সেন্ট লুইস ১১ই জুলাইকে স্রেব্রেনিৎসা স্মরণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে একটি ঘোষণাপত্র জারি করে।[৮৪]

স্মরণানুষ্ঠানে পাঠানো এক বার্তায়, জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান এই হত্যাকাণ্ডকে "একটি ভয়ংকর অপরাধ—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় মাটিতে সবচেয়ে জঘন্য" বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই দিনটি "মানুষের প্রতি মানুষের অমানবিকতার এক করুণ স্মারক।" তিনি আরও বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রথম দায়িত্ব ছিল যা ঘটেছিল তার সম্পূর্ণ সত্য উন্মোচন করা এবং তার মুখোমুখি হওয়া। এটি জাতিসংঘের জন্য একটি কঠিন সত্য, কারণ বৃহৎ শক্তিগুলো সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্যর্থ হয়েছিল। সেখানে আরও শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং তা ব্যবহারের দৃঢ় ইচ্ছা থাকা উচিত ছিল।"[৮৫] আনান আরও যোগ করেন যে, জাতিসংঘও তার দায়ভার বহন করে। তাদের বিচার-বিবেচনায় গুরুতর ভুল ছিল, যা "নিরপেক্ষতা ও অহিংসার দর্শনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল; এই দর্শন প্রশংসনীয় হলেও বসনিয়ার সংঘাতের জন্য উপযুক্ত ছিল না। একারণে, স্রেব্রেনিৎসার ট্র্যাজেডি জাতিসংঘের ইতিহাসে চিরকাল একটি দুঃস্বপ্নের মতো থেকে যাবে।"[৮৫]

অনুষ্ঠানের ঠিক কয়েকদিন আগে, বসনীয় সার্ব পুলিশ স্মারকস্থলে বোমা খুঁজে পায়। এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদসহ ৫০,০০০-এরও বেশি মানুষের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। বোমাগুলো বিস্ফোরিত হলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটত।[৮৬][৮৭]

২০০৬: আরও গণকবর ও জড়িতদের তালিকা

[সম্পাদনা]
২০০৬ সালে গণহত্যার ভুক্তভোগীদের শেষকৃত্যে একটি কবরের পাশে এক বালক
উত্তোলিত গণকবর, ২০০৭

২০০৬ সাল নাগাদ, ৪২টি গণকবর আবিষ্কৃত হয়। সে সময় পর্যন্ত ২,০৭০ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, এবং আরও ৭,০০০ ব্যাগে থাকা দেহাংশ শনাক্তকরণের অপেক্ষায় ছিল।[৮৮] ২০০৬ সালের আগস্ট মাসে, কামেনিকা নামক স্থানের একটি গণকবর থেকে ১,০০০-এরও বেশি দেহাংশ উত্তোলন করা হয়।[৮৯]

২০০৬ সালের আগস্টে, সারায়েভোর সংবাদপত্র ওস্লোবোদিইনিয়ে ৮৯২ জন বসনীয় সার্বের একটি তালিকা প্রকাশ করে, যাদের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ছিল এবং ধারণা করা হতো তারা তখনও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিল। রিপাবলিকা স্রপস্কার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ২৮,০০০ বসনীয় সার্ব এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল এবং প্রকাশিত তালিকাটি ছিল তাদেরই একটি অংশ। বসনিয়ার যুদ্ধাপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর মারিঙ্কো ইয়ুরচেভিচ এই তালিকাটি প্রকাশ করতে বাধা দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, "এই তথ্য প্রকাশ করা হলে চলমান তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।"[৯০][৯১]

২০০৬ সালের ডিসেম্বরে, ওলন্দাজ সরকার জাতিসংঘের ওলন্দাজ শান্তিরক্ষীদের একটি বিশেষ সম্মাননা (insignia) দেয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা মনে করে যে শান্তিরক্ষীরা "কঠিন পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকার জন্য স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য" এবং একই সাথে তাদের সীমিত ক্ষমতা ও অপর্যাপ্ত সরঞ্জামের কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা এবং ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা এই সিদ্ধান্তকে "অপমানজনক" বলে আখ্যা দেয় এবং এর প্রতিবাদে হেগ, আসেন ও সারায়েভোতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।[৯২]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "At least 80 more Mass Graves with Remains of Srebrenica Genocide Victims"Sarajevo Times। ৪ জুলাই ২০২৩।
  2. 1 2 "Victims of the Srebrenica Massacre"। The Polynational War Memorial। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  3. UN Press Release SG/SM/9993UN, 11/07/2005 "Secretary-General Kofi Annan's message to the ceremony marking the tenth anniversary of the Srebrenica massacre in Potocari-Srebrenica". Retrieved 9 August 2010.
  4. "Tribunal Update: Briefly Noted"Institute for War & Peace Reporting। ১৮ মার্চ ২০০৫। TU No 398। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০১৭
  5. Sunter, Daniel (৫ আগস্ট ২০০৫)। "Serbia: Mladic "Recruited" Infamous Scorpions"। Institute for War and Peace Reporting। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৭
  6. 1 2 Williams, Daniel। "Srebrenica Video Vindicates Long Pursuit by Serb Activist"The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১১
  7. Totten, Samuel; Bartrop, Paul R. (২০০৮)। Dictionary of Genocideওয়েস্টপোর্ট, কানেকটিকাট: Greenwood Publishing Group। পৃ. ৩৯০। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৩১৩৩৪-৬৪৪-৬
  8. "Bosnia's Srebrenica massacre 25 years on – in pictures"BBC News। ১০ জুলাই ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০২০
  9. "ICTY – Kordic and Cerkez Judgement – 3. After the Conflict" (পিডিএফ)। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০১২
  10. "IMPR Report News"। ৬ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২৪The July 1995 events have become the first legally established case of genocide in Europe since the Second World War.
  11. Nations, United। "International Day of Reflection and Commemoration of the 1995 Genocide in Srebrenica"United Nations (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জানুয়ারি ২০২৫
  12. Schröder, Alwin (১২ জুলাই ২০০৫)। "Dealing With Genocide: A Dutch Peacekeeper Remembers Srebrenica"Der Spiegel (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 2195-1349। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২৫
  13. ICTY, , "Case No. IT-98-33, United Nations" (পিডিএফ)। ২ আগস্ট ২০০১। ৮ জুন ২০০৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ জুন ২০০৬ 685 KB, "Findings of Fact", paragraphs 18 and 26
  14. "UN Srebrenica immunity questioned"। BBC। ১৮ জুন ২০০৮। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০০৮
  15. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "www.vandiepen.com" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  16. "Under The UN Flag; The International Community and the Srebrenica Genocide" by Hasan Nuhanović, pub. DES Sarajevo, 2007, আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৮-৭২৮-৮৭-৭ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৪ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে
  17. "Over 7,000 Srebrenica Victims have now been recovered"ICMP। ১১ জুলাই ২০১২। ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০১২
  18. "Prosecutor vs Krstic, Appeals Chamber Judgement" (পিডিএফ)। ICTY। ১৯ এপ্রিল ২০০৪। para. 37। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৭
  19. ICJ (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭)। "Application of the Convention on the Prevention and Punishment of the Crime of Genocide (Bosnia and Herzegovina v. Serbia and Montenegro), Judgment" (পিডিএফ)। পৃ. ১৬৬ § ২৯৭। General List No. 91। ১ মার্চ ২০১১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৭The Court concludes that the acts committed at Srebrenica falling within Article II (a) and (b) of the Convention were committed with the specific intent to destroy in part the group of the Muslims of Bosnia and Herzegovina as such; and accordingly that these were acts of genocide, committed by members of the VRS in and around Srebrenica from about 13 July 1995. {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |page= এর 6 নং অবস্থানে no-break space character রয়েছে (সাহায্য)
  20. "Prosecutor vs Radislav Krstic, ICTY Appeals Chamber Judgement" (পিডিএফ), International Tribunal for the Prosecution of Persons Responsible for Serious Violations of International Humanitarian Law Committed in the Territory of the Former Yugoslavia since 1991, Para. 33, ১৯ এপ্রিল ২০০৪, সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০১১
  21. "Prosecutor v. Zdravko Tolimir, ICTY Appeals Chamber Judgement" (পিডিএফ), International Tribunal for the Prosecution of Persons Responsible for Serious Violations of International Humanitarian Law Committed in the Territory of the Former Yugoslavia since 1991, ৮ এপ্রিল ২০১৫
  22. "Judgement of the Supreme Court of the Netherlands, First Chamber, 12/03324 LZ/TT (English translation)" (পিডিএফ)। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ জুলাই ২০১৫
  23. "Netherlands Supreme Court hands down historic judgment over Srebrenica genocide"। Amnesty Int.। ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জুলাই ২০১৫
  24. Comiteau, Lauren। "Court Says the Dutch Are to Blame for Srebrenica Deaths"Time। The Hague। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুলাই ২০১৫
  25. "Netherlands '10% liable' for 350 Srebrenica deaths"BBC News। ১৯ জুলাই ২০১৯।
  26. "Serbian president apologises for Srebrenica 'crime'"BBC News। ২৫ এপ্রিল ২০১৩।
  27. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "UN10th" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  28. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "UNChiefwelcomes" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  29. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "UNapproves" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  30. Becirevic, Edina (৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৬)। "Bosnia's 'Accidental' Genocide"Bosnian Institute। United Kingdom। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৭
  31. "Dealing With Genocide: A Dutch Peacekeeper Remembers Srebrenica"Spiegel Online। ১২ জুলাই ২০০৫।
  32. 1 2 3 4 5 6 "Prosecutor vs. Kristic, Judgement" (পিডিএফ)
  33. Simons, Marlise (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩)। "Dutch Peacekeepers Are Found Responsible for Deaths"The New York Times (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0362-4331। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২৫
  34. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Krstic 2001 takeover" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  35. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Krstic 2001 takeover2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  36. Vukic, Snjezana (১৭ জুলাই ১৯৯৫)। "Srebrenicans Detail Serb Gang Rape, Other Atrocities"Associated Press
  37. Danner, Mark (২০ নভেম্বর ১৯৯৭)। "The US and the Yugoslav Catastrophe"The New York Review of Books। ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ জুন ২০০৯
  38. "Separation of boys, Krstic ICTY Potocari"। International Criminal Tribunal for the former Yugoslavia। ২৬ জুলাই ২০০০। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১১
  39. "Separation, Popovic ICTY"। International Criminal Tribunal for the former Yugoslavia। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১১
  40. "Separation, Krstic ICTY"। International Criminal Tribunal for the former Yugoslavia। ১১ জুলাই ১৯৯৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১১
  41. 1 2 Graham Jones. "Srebrenica: A Triumph of Evil". CNN, 3 May 2006
  42. "Radislav Krstic Trial Chambers Judgement"। International Criminal Tribunal for the former Yugoslavia। ৫ মার্চ ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১১
  43. Rohde, David (২ অক্টোবর ১৯৯৫), Account of Women Taken, Columbia University, সংগ্রহের তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০১৮
  44. "Everyday objects, tragic histories"টেড টকস। মার্চ ২০১৪। ২৮ আগস্ট ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০১৪, Ziyah Gafić, 4:32
  45. ECHR 12 July 2007, পৃ. 10-12।
  46. টেমপ্লেট:UN doc
  47. ECHR 12 July 2007, পৃ. 29-30।
  48. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "UN report" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  49. "Secretary-General's message to ceremony marking the 10th anniversary of the Srebrenica massacre (delivered by Mark Malloch Brown, Chef de Cabinet)"। United Nations। ১১ জুলাই ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ২৬ এপ্রিল ২০১৭
  50. van de Bildt, Joyce (মার্চ ২০১৫)। "Srebrenica: A Dutch national trauma" (পিডিএফ)Journal of Peace, Conflict & Development (21)। আইএসএসএন 1742-0601। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭
  51. J. C. H. Blom et al. (2002) Prologue NIOD Report: Srebrenica. Reconstruction, background, consequences and analyses of the fall of a Safe Area
  52. Karen Meirik (৯ নভেম্বর ২০০৫)। "Controversial Srebrenica Report Back on Table"Institute for War & Peace Reporting। UK। ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ নভেম্বর ২০১৩
  53. "Dutch government resigns over Srebrenica report criticizing role in massacre"The Sentinel-Review। Oxford County, Ontario। ১৭ এপ্রিল ২০০২। পৃ. ১৬। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ Google News এর মাধ্যমে।
  54. "Parlementaire enquête Srebrenica (2002-2003)"www.parlement.com (ওলন্দাজ ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২৫
  55. "Parlementaire enquête Srebrenica (2002-2003)"www.parlement.com (ওলন্দাজ ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০২৫
  56. "Report about Case Srebrenica – Banja Luka, 2002" (পিডিএফ)
  57. "Imaginary Massacres?"Time। ১১ মে ২০০৮। ১১ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০২১
  58. "Clinton unveils Bosnia memorial"BBC News। ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১০
  59. Wilkinson, Tracy (২১ সেপ্টেম্বর ২০০৩)। "Clinton Helps Bosnians Mourn Their Men"Los Angeles Times
  60. "Decision on Admissibility and Merits – The Srebrenica Cases (49 applications) against The Republika Srpska" (পিডিএফ)Human Rights Chamber for Bosnia and Herzegovina। ৭ মার্চ ২০০৩। পৃ. ৫০। ১২ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৭
  61. 1 2 3 Picard, Michèle; Zinbo, Asta (২০১২), "The Long Road to Admission: The Report of the Government of the Republika Srpska", Delpla, Isabelle; Bougarel, Xavier; Fournel, Jean-Louis (সম্পাদকগণ), Investigating Srebrenica: Institutions, Facts, Responsibilities, New York: Berghahn Books, পৃ. ১৩৭–১৪০, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৫৭৪৫-৪৭২-০
  62. Alic, Anes (২০ অক্টোবর ২০০৩)। "Pulling Rotten Teeth"Transitions Online। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৭
  63. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "trial-ch.org" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  64. "Addendum to the Report of 11 June 2004 on the Events in and around Srebrenica between 10 and 19 July 1995" (পিডিএফ)। ১৫ অক্টোবর ২০০৪। ২৯ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত (পিডিএফ)
  65. "Srebrenica Commission Report to be assessed by judges before public comments"। Office of the High Representative in Bosnia and Herzegovina। ১৮ অক্টোবর ২০০৪। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০১৭
  66. Kerr, Rachel (২০০৭)। Peace and Justice। Polity। পৃ. ১৯২। আইএসবিএন ৯৭৮০৭৪৫৬৩৪২২৭। সংগ্রহের তারিখ ৫ আগস্ট ২০১৩
  67. Tanja Topić (১ জুলাই ২০০৪)। "Otvaranje najmračnije stranice" (সার্বীয় ভাষায়)। Vreme
  68. "Bosnian Serbs issue apology for massacre"। Bosnia and Herzegovina UK Network। Associated Press। ১১ নভেম্বর ২০০৪। ৭ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১১
  69. 1 2 Picard, Michèle; Zinbo, Asta (২০১২), "The Long Road to Admission: The Report of the Government of the Republika Srpska", Delpla, Isabelle; Bougarel, Xavier; Fournel, Jean-Louis (সম্পাদকগণ), Investigating Srebrenica: Institutions, Facts, Responsibilities, New York: Berghahn Books, পৃ. ১৪১, আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৫৭৪৫-৪৭২-০
  70. Alic, Anes (৫ অক্টোবর ২০০৫)। "25,000 participated in Srebrenica massacre"ISN Security Watch। ১৫ মে ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  71. 1 2 "Milošević Case – Transcript"International Criminal Tribunal for the former Yugoslavia। ১ জুন ২০০৫। পৃ. ৪০২৭৫ff। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০১৭
  72. 1 2 3 Alic, Anes; Jovanovic, Igor (৩০ এপ্রিল ২০০৭)। "Serb paramilitaries found guilty in war crimes trial"War Crimes Prosecution Watch। খণ্ড ২ নং 18। Public International Law & Policy Group। ২৭ এপ্রিল ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ এপ্রিল ২০১৭
  73. Janine di Giovanni (জুন ২০০৫)। "Srebrenica – The Living Dead"International Herald Tribune। ২১ আগস্ট ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  74. Krilic, Samir (৪ জুন ২০০৫)। "Heartbroken mom sees son shot on TV"Cape Argus। Associated Press। সংগ্রহের তারিখ ২৫ এপ্রিল ২০১৭
  75. "Belgrade District Court War Crimes Chamber, amended indictment against Aleksandar Medic in Case K.V. 6/2005" (পিডিএফ)। ১ অক্টোবর ২০০৮। ৬ অক্টোবর ২০১১ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০১০
  76. Dworkin, Anthony। "Serbian Court Convicts Four over Killings in Scorpions Tape"Crimes of War Project। ২৬ মে ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  77. "Votes Database: Bill: H RES 199". The Washington Post (27 June 2005)
  78. "Read The Bill: H. Res. 199 109th"। GovTrack.us। সংগ্রহের তারিখ ৩ জুন ২০১১
  79. "Rezolucija Missouri Kongresa"। ২৯ মার্চ ২০১০। ২৯ মার্চ ২০১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১০ জুন ২০২৪
  80. Association of the Srebrenica Genocide Survivors in St. Louis, City of St. Louis Proclamation
  81. 1 2 Staff (১১ জুলাই ২০০৫)। "UN officials commemorate 10th anniversary of Srebrenica massacre"UN News (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২ জুলাই ২০২১
  82. "Bombs found at memorial for Srebrenica genocide"The Independent। UK। ৬ জুলাই ২০০৫। ১১ নভেম্বর ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১১
  83. Wood, Nicholas (৬ জুলাই ২০০৫)। "2 bombs found near Srebrenica"The New York Times। সংগ্রহের তারিখ ২৬ মে ২০১১
  84. Weinberg, Bill (11 July 2006). "Srebrenica: 11 years later, still no justice". ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ জুলাই ২০০৬ তারিখে. World War 4 Report. Retrieved 1 August 2008.
  85. "Mass Grave Yields over 1,000 Body Parts"b92। Reuters। ১১ আগস্ট ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৭
  86. Avdić, Avdo (24 August 2006). টেমপ্লেট:"'Oslobođenje' objavljuje spisak za Srebrenicu". ওস্লোবোদিইনিয়ে. Retrieved August 2008.
  87. IWPR (২৬ আগস্ট ২০০৬)। "Srebrenica Suspects Revealed"Institute for War & Peace Reporting। TU No 465। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৭
  88. "Anger over Dutch Srebrenica medal"BBC News। ৪ ডিসেম্বর ২০০৬। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০০৭
  1. টেমপ্লেট:Lang-sh-Latn-Cyrl
  2. টেমপ্লেট:Lang-sh-Latn-Cyrl
উদ্ধৃতি ত্রুটি: "lower-alpha" নামক গ্রুপের জন্য <ref> ট্যাগ রয়েছে, কিন্তু এর জন্য কোন সঙ্গতিপূর্ণ <references group="lower-alpha"/> ট্যাগ পাওয়া যায়নি