স্যাম কুক

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্যাম কুক
স্যাম কুক.jpg
১৯৬৪ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে স্যাম কুক
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসেসিল কুক
জন্ম(১৯২১-০৮-২৩)২৩ আগস্ট ১৯২১
টেটবারি, গ্লুচেস্টারশায়ার, ইংল্যান্ড
মৃত্যু৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬(1996-09-04) (বয়স ৭৫)
টেটবারি, গ্লুচেস্টারশায়ার, ইংল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাবোলার, আম্পায়ার
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
একমাত্র টেস্ট
(ক্যাপ ৩১৭)
৭ জুন ১৯৪৭ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৪৬ - ১৯৬৪গ্লুচেস্টারশায়ার
আম্পায়ারিং তথ্য
এফসি আম্পায়ার২৯৭ (১৯৬৫–১৯৮৬)
এলএ আম্পায়ার২৫৪ (১৯৬৫–১৯৯০)
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৫০৬
রানের সংখ্যা ১,৯৬৫
ব্যাটিং গড় ২.০০ ৫.৪১
১০০/৫০ ০/০ ০/০
সর্বোচ্চ রান ৩৫*
বল করেছে ১৮০ ১০৬,৩৬৬
উইকেট ১,৭৮২
বোলিং গড় ২০.৫২
ইনিংসে ৫ উইকেট ৯৯
ম্যাচে ১০ উইকেট ১৫
সেরা বোলিং ৯/৪২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ০/– ১৫৩/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২০ অক্টোবর ২০২০

সেসিল স্যাম কুক (ইংরেজি: Sam Cook; জন্ম: ২৩ আগস্ট, ১৯২১ - মৃত্যু: ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬) গ্লুচেস্টারশায়ারের টেটবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও আম্পায়ার ছিলেন।[১] ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়কালে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্লুচেস্টারশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিং করতেন সেসিল কুক নামে পরিচিত স্যাম কুক

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত স্যাম কুকের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। স্যাম নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন। কেবলমাত্র ওল্ড এটোনীয় অধিনায়ক টম পিউ তাকে সেসিল নামে ডাকতেন। মূলতঃ তিনি বোলার ছিলেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ সময়কালে গ্লুচেস্টারশায়ারের পক্ষে খেলে ১,৭৮২ উইকেট লাভ করেছিলেন। অধিকাংশ সময়েই টম গডার্ডের সাথে বোলিং আক্রমণে নামতেন। বলের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতেন ও নিশানা বরাবর বোলিং করতেন। স্পিন ও ফ্লাইট করতে পারলেও সর্বোপরি নিখুঁততা বজায় রাখতে পারতেন।

কুক নামে তিনি কখনো পরিচিত ছিলেন না।[২] ১৯৪৬ সালে তিনি তার প্রথম বছরে শত উইকেটের সন্ধান পেয়েছিলেন। নয় মৌসুমে শত উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে, ১৯৫৬ সালে ১৪.১৬ গড়ে সর্বোচ্চ ১৪৯ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ও চার্লি বার্নেটের আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলায় ব্রিস্টলের ধীরগতির পিচে ৯/৪২ পান।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের প্রথম খেলার প্রথম বলেই তিনি উইকেট পান। প্রথম বলেই অক্সফোর্ডের বিপক্ষে উইকেট পান। ঐ মৌসুমে ১৩৩ উইকেট লাভসহ ক্যাপ লাভ করেন। এ পর্যায়ে তিনি টেস্টের যাচাই-বাছাইয়ের খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। বলে তেমন স্পিন আনতে না পারলেও নিখুঁততা ও শূন্য ভাসাতে পারতেন। বোলার হিসেবে তিন মনোযোগী না হলে খুব কমই বোলিংয়ে কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারতেন।[৩] পরের মৌসুমে ব্রিস্টলের পিচটি ১৯৩৯ সাল পর্যন্ত স্পিনারদের কিংবা ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ব্যাটসম্যানদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। বালুকাময় অবস্থায় পুণরায় তৈরি করা হলে গডার্ডকে নিয়ে কাউন্টি দলের সেরা বোলিং আক্রমণ ভাগ গড়ে তোলেন।[৪]

গ্লুচেস্টারশায়ারের টেটবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী স্যাম কুক ছোটখাটো গড়নের অধিকারী ও গুটিয়ে রাখা স্লো লেফট-আর্ম স্পিনার হিসেবে খেলতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টম গডার্ড তার সাবেক দলীয় সঙ্গী রেগ সিনফিল্ডকে হারালে অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি আবির্ভূত হন। ঐ বসন্তে অনুশীলনীকালে ওয়ালি হ্যামন্ডের চোখে ধরা পড়েন তিনি ও তাৎক্ষণিকভাবে বিরাট আশা নিয়ে তাকে দলে অন্তর্ভূক্ত করান।[২]

স্বর্ণালী সময়[সম্পাদনা]

১৯৫০ সালে তিনি ১৩৯ উইকেট লাভ করেন। তবে, জনি ওয়ারডল, ম্যালকম হিল্টন ও পরবর্তীতে টনি লকের উন্নততর ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ের কারণে টেস্ট ক্রিকেটে তার ফেরার সম্ভাবনা বেশ স্তিমিত করে তোলে।[৫] গডার্ডের চলে যাওয়ার ফলে ১৯৫১ থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত তিনি কিছুটা খেলার সুযোগ পান। তবে, ১৯৫৬ সালের প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক বসন্তে বোম্বার ওয়েলসের সাথে দূর্ধর্ষ জুটি গড়ে কুক তার সেরা মৌসুম অতিবাহিত করেন।[৬] পনেরো রানেরও কম গড়ে ১৪৯ উইকেট দখল করেন তিনি। তন্মধ্যে, ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ৩৫ রান খরচায় দশ উইকেট ও নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ১২১ রান খরচায় তেরো উইকেট লাভ করেছিলেন তিনি। পরের দুই মৌসুমে সাধারণমানের খেলা উপহার দেন। এ পর্যায়ে অবশ্য উদীয়মান জন মর্টিমোরডেভিড অ্যালেনের নতুন স্পিন জুটি নিয়ে ১৯৫৯ সালের গ্রীষ্মে গ্লুচেস্টারশায়ার দল তাদের অবিস্মরণীয় বোলিং আক্রমণে অগ্রসর হয়। পাশাপাশি, স্যাম কুকও তার অভিজ্ঞতার ঝুলির পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন।[৭] এ সময়ে পার্কার, গডার্ড ও সিনফিল্ড - এ তিনজন স্পিনারকে প্রায়শঃই গ্লুচেস্টারশায়ার দলে খেলানো হতো।

১৯৬৪ সালে অবসর গ্রহণকালীন তাকেও তাদের সাথে বোলিং আক্রমণে নামানো হতো। ১৯৬২ সালে কেবলমাত্র একবার প্রথম-শ্রেণীর বোলিং গড়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন। তবে, ব্যাট হাতে তিনি মোটেই সুবিধের ছিলেন না। এ মৌসুমের বেশ কয়েকটি খেলায় তার কারণে দল জয় পায়নি।[৮] সিম বোলিংয়ের বিপক্ষে তিনি আরও নাস্তানুবাদ হয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন স্যাম কুক। ৭ জুন, ১৯৪৭ তারিখে নটিংহামে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এটিই তার একমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল। এরপর আর তাকে কোন টেস্টে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়নি।

সফররত দক্ষিণ আফ্রিকা দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে স্যাম কুককে পুণরায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। ১৯৪৭ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে ব্যাটিংয়ের উপযোগী পিচে মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) পক্ষে খেলেন। মে মাসে অনুষ্ঠিত খেলায় দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ছয় উইকেট পেলেও এ পর্যায়ে তিনি ১২৭ রান খরচ করেও কোন উইকেটের সন্ধান পাননি। ব্যাট হাতে ও ৪ রান তুলেন। এরপর আর তাকে দলে রাখা হয়নি।[১] তার সাথে কেন্টের ফাস্ট বোলার জ্যাক মার্টিন এমসিসি’র খেলায় বেশ ভালো খেলে ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টে অংশ নেন। তিনিও তার ন্যায় নাজেহালের শিকার হন ও তাকেও আর টেস্ট ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়নি।[৯] ১৯৪৮ সালে ব্রিস্টলের পিচের উত্তরণ ঘটানো হলেও অত্যন্ত দক্ষ অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের কোন হুমকি ফেলার মতো খেলেননি এবং ১৯৪৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত তার বোলিংয়ের মান পরিবর্তন ঘটেনি।

ব্যক্তিগত জীবন[সম্পাদনা]

রোডেশিয়ায় সার্ভিসেস দলের পক্ষেও সফলতার সাথে ক্রিকেট খেলেছেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ১,৭৮২ উইকেট লাভ করেন। এরফলে, তিনি সর্বকালের সেরাদের তালিকায় ৫০তম অবস্থানে থাকেন। ব্যাটিংয়ে তেমন সুবিধের না হলেও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে দুই হাজারের কম রান সংগ্রহ করেছেন। কখনো তিনি ৪০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর আম্পায়ারিত্বের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ১৯৭১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। [১]

মদ্যপান ভীষণ পছন্দ করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তিন কন্যা সন্তানের জনক তিনি। ৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ৭৫ বছর বয়সে গ্লুচেস্টারশায়ারের টেটবারি এলাকার হাসপাতালে স্যাম কুকের দেহাবসান ঘটে। টেটবারি পারিশ গীর্জায় তার শবানুষ্ঠানের সাবেক কাউন্টি দলীয় সঙ্গী টম গ্রেভেনি বক্তব্য রাখেন।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 42আইএসবিএন 1-869833-21-X 
  2. Profile on CricInfo
  3. "Obituary of Cecil (Sam) Cook"। Wisden Cricketers' Almanack (1997 সংস্করণ)। Wisden। পৃষ্ঠা 1401 
  4. "Gloucestershire in 1947"। Wisden Cricketers' Almanack (1948 সংস্করণ)। Wisden। ১৯৮৯। পৃষ্ঠা 312 
  5. Selectors’ fancies
  6. "Gloucestershire in 1956"। Wisden Cricketers' Almanack (1957 সংস্করণ)। Wisden। ১৯৮৯। পৃষ্ঠা 364 
  7. "Gloucestershire in 1959"। Wisden Cricketers' Almanack (1960 সংস্করণ)। Wisden। ১৯৮৯। পৃষ্ঠা 394 
  8. "Gloucestershire in 1962"। Wisden Cricketers' Almanack (1963 সংস্করণ)। Wisden। ১৯৮৯। পৃষ্ঠা 428 
  9. Bateman, Colin (১৯৯৩)। If The Cap Fits। Tony Williams Publications। পৃষ্ঠা 117আইএসবিএন 1-869833-21-X 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]