বিষয়বস্তুতে চলুন

স্যাজিটাল তল

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্যাজিটাল তল
মানবদেহের প্রধাম প্রধান শারীরস্থানিক তলসমূহ হচ্ছেঃ মধ্য-স্যাজিটাল বা মধ্যমা (লাল), প্যারাস্যাজিটাল (হলুদ), সম্মুখ বা করোনাল (নীল) এবং অনুপ্রস্থ বা অক্ষীয় তল(সবুজ)
একটি মানব করোটির মধ্য-স্যাজিটাল ছেদ, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির আঁকা, c. ১৪৮৯ সালে
বিস্তারিত
শনাক্তকারী
লাতিনplana sagittalia
টিএ৯৮A01.2.00.003
টিএ২49
এফএমএFMA:11361
শারীরস্থান পরিভাষা

অ্যানাটমিতে, স্যাজিটাল তল বা Sagittal plane (/ˈsæɪtəl/),বা অনুদৈর্ঘ্য তল, হল একটি শারীরস্থানিক তল যা দেহকে ডান এবং বাম খণ্ডে বিভক্ত করে।[] তলটি দেহের কেন্দ্রে থেকে দুটি সমান খণ্ডে (মধ্য-স্যাজিটাল) অথবা মধ্যরেখা থেকে দূরে সরে গিয়ে দুটি অসমান খণ্ডে (প্যারা-স্যাজিটাল) বিভক্ত করতে পারে। শারীরস্থানিক sagittal শব্দটি ক্রেমোনার জেরার্ড চালু করেছিলেন।[]

পরিভাষার বিভিন্নতা

[সম্পাদনা]

স্যাজিটাল তলের উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • মধ্যমা তল বামধ্য-স্যাজিটাল তল শব্দদুটি মাঝেমাঝে মধ্যরেখা দিয়ে চলমান স্যাজিটাল তলকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। এই তলটি দেহের মধ্যরেখা বরাবর অবস্থিত কাঠামো যেমন- নাভি ও মেরুদণ্ড অতিক্রম করে,[] এবং দেহকে দুটি অর্ধ খণ্ডে (দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসাম্য হিসেবে) বিভক্ত করে। এটি এমন একটি তল যা, আম্বিলিকাল তলের সাথে মিলিত হয়ে মানব পেটের চারটি কুয়াড্রান্টকে সংজ্ঞায়িত করে।[]
  • প্যারাস্যাজিটাল শব্দটি একটি নির্দিষ্ট স্যাজিটাল তলের সমান্তরাল বা সংলগ্ন যেকোন তলকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়।[] সুনির্দিষ্ট নামযুক্ত প্যারাস্যাজিটাল তলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
    • মধ্য-ক্ল্যাভিকুলার রেখা, যা ক্ল্যাভিকলের মধ্য দিয়ে যায়।
    • পার্শ্বীয় স্টার্নাল এবং প্যারাস্টার্নাল তলসমূহ।[]

স্যাজিটাল শব্দটি লাতিন sagitta শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ "তীর"। পরাবৃত্তীয় গতিপথে একটি তীর কোনো দেহকে সামনে থেকে পিছন দিকে এফোঁড়-ওফোঁড় করার চিত্র কল্পনা করলে এই শব্দটির উৎপত্তি সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আরেকটি ব্যাখ্যা হতে পারে যে, স্যাজিটাল সুচার করোটিকার পিছন দিকে ল্যাম্বডোয়েড সুচার দ্বারা খাঁজকাটা হওয়ার ধরন, যা দেখতে অনেকটা তীরের উপরে পালকের মত।

  • স্যাজিটাল অক্ষ বা অগ্র-পশ্চাৎ অক্ষটি করোনাল তলের সাথে উলম্ব অক্ষ, অর্থাৎ স্যাজিটাল এবং অনুপ্রস্থ তলের ছেদ দ্বারা গঠিত অক্ষ।
  • করোনাল অক্ষ, মধ্যমা-পার্শ্বীয় অক্ষ বা সম্মুখ অক্ষটি হল স্যাজিটাল তলের সাথে উলম্ব অক্ষ, অর্থাৎ করোনাল এবং এবং অনুপ্রস্থ তলের ছেদ দ্বারা গঠিত অক্ষ।[]
  • এক্সটেনশন এবংফ্লেক্সন হল স্যাজিটাল তলের মধ্যে অঙ্গচালনা।[]
  • অ্যাবডাকশন এবং অ্যাডাকশন সম্মুখ তলের মধ্যে অঙ্গচালনা।[]

অতিরিক্ত চিত্র

[সম্পাদনা]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Mark Vella (মে ২০০৮)। Anatomy for Strength and Fitness Training। New Holland Publishers। পৃ. ১৬–। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৮৪৭৭৩-১৫৩-১। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০১৩
  2. Arráez-Aybar, Luis-A; Bueno-López, JL (২০১৫)। "Toledo school of translators and their influence on anatomical terminology": ২১–৩৩। ডিওআই:10.1016/j.aanat.2014.12.003 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  3. ডোরল্যান্ডের চিকিৎসাশাস্ত্র অভিধানে "Median plane"
  4. Kapit, Wynn (২০১৪)। The anatomy coloring book। Pearson। আইএসবিএন ৯৭৮০৩২১৮৩২০১৬
  5. "parasagittal"Merriam-Webster dictionary। সংগ্রহের তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
  6. Yokochi, Chihiro; Rohen, Johannes W. (২০০৬)। Color Atlas of Anatomy: A Photographic Study of the Human Body। Lippincott Williams & Wilkins। পৃ. ২০০৬. ২১৭ p.। আইএসবিএন ০-৭৮১৭-৯০১৩-১
  7. http://www.asu.edu/courses/kin335/documents/Movement%20Terminology.pdf
  8. Winslow, Valerie (২৩ ডিসেম্বর ২০০৮)। Classic Human Anatomy: The Artist's Guide to Form, Function, and Movement। Watson-Guptill। পৃ. ৩২–৩৩আইএসবিএন ০৮২৩০২৪১৫৬
  9. Winslow, Valerie (২৩ ডিসেম্বর ২০০৮)। Classic Human Anatomy: The Artist's Guide to Form, Function, and Movement। Watson-Guptill। পৃ. ৩৪–৩৫আইএসবিএন ০৮২৩০২৪১৫৬