বিষয়বস্তুতে চলুন

স্বামী নিখিলানন্দ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
স্বামী নিখিলানন্দ
ব্যক্তিগত তথ্য
জন্ম
দীনেশচন্দ্র দাশগুপ্ত

১৮৯৫
দুর্গাপুর গ্রাম, সিলেট
মৃত্যু১৯৭৩
ঊর্ধ্বতন পদ
গুরুসারদা দেবী

স্বামী নিখিলানন্দ (১৮৯৫-১৯৭৩) ছিলেন একজন হিন্দু ধর্মগুরু। তিনি ছিলেন সারদা দেবীর সাক্ষাৎ শিষ্য। তার পূর্বাশ্রমের নাম ছিল দীনেশচন্দ্র দাশগুপ্ত[] তিনি নিউ ইয়র্কে রামকৃষ্ণ মিশনের শাখাকেন্দ্র রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৩ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই শাখার অধ্যক্ষ ছিলেন। নিখিলানন্দ ছিলেন একজন বিশিষ্ট লেখক ও দার্শনিক। তার শ্রেষ্ঠ রচনাটি হল বাংলা ভাষায় রচিত শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ দ্য গসপেল অফ শ্রীরামকৃষ্ণ (১৯৪২)।[]

জীবনী

[সম্পাদনা]

১৮৯৫ সালে অধুনা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্গত) বৃহত্তর সিলেটের দুর্গাপুর গ্রামে স্বামী নিখিলানন্দ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সমাপ্ত করে সাংবাদিকতা শুরু করেন। সেই সময় তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনেও যোগদান করেন এবং কিছুদিন ব্রিটিশ জেলে কারারুদ্ধ থাকেন।[]

ছেলেবেলায় তার ধর্মপ্রাণ পিতামাতার প্রভাবে তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসস্বামী বিবেকানন্দের শিক্ষার সংস্পর্শে আসেন। এই শিক্ষা তার শিশু মনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। এর ফলে তিনি রামকৃষ্ণের সাক্ষাৎ শিষ্যদের সংস্পর্শে আসেন। সারদা দেবী তাকে দীক্ষা দেন। তিনি রামকৃষ্ণের অন্যান্য সাক্ষাৎ শিষ্য স্বামী ব্রহ্মানন্দ, স্বামী সারদানন্দ, স্বামী শিবানন্দ, স্বামী তূরীয়ানন্দ, স্বামী প্রেমানন্দ, স্বামী অখণ্ডানন্দ, স্বামী অভেদানন্দ এবং শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত গ্রন্থের রচয়িতা মহেন্দ্রনাথ গুপ্তের সান্নিধ্য লাভ করেন।[]

এঁদের প্রভাবে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে সরে আসেন এবং সংসার ত্যাগ করে রামকৃষ্ণ সংঘে যোগদান করেন। সংঘে ব্রহ্মচারী থাকাকালীন বহু বছর তিনি বিশিষ্ট শিক্ষকদের কাছে শাস্ত্র শিক্ষা করেন এবং আধ্যাত্মিক শৃঙ্খলা অনুশীলন করেন। ১৯৩১ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন ভাবে সংঘের সেবাকর্মে লিপ্ত থাকেন। ১৯৩১ সালে সংঘ তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করে। ১৯৩৩ সালে তিনি নিউ ইয়র্কে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন।[][] নিখিলানন্দ ছিলেন বিখ্যাত বাগ্মী। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়, গির্জা ও সিনাগগে তাকে বক্তৃতা দান এবং আন্তঃধর্ম সম্মেলনে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হত। ১৯৭৩ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ সেন্টার পরিচালনা করেন।[] রামকৃষ্ণ আন্দোলনের সাহিত্যে নিখিলানন্দের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিত্বকে নিজের শিষ্য করেছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য লেখক জে. ডি. সালিঙ্গার[] মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের কন্যা মার্গারেট উড্রো উইলসন, তুলনামূলক পুরাণতাত্ত্বিক অধ্যাপক জোসেফ ক্যাম্পবেল, জেরোগ্রাফি প্রক্রিয়ার আবিষ্কর্তা চেস্টার কার্লসন[] এবং দার্শনিক লেক্স হিক্সন

সাহিত্যকর্ম

[সম্পাদনা]

স্বামী নিখিলানন্দের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপনিষদ্ভগবদ্গীতা গ্রন্থের অনুবাদ, সারদা দেবী ও স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী, বিবেকানন্দ: দ্য যোগাজ অ্যান্ড আদার ওয়ার্কস নামে স্বামী বিবেকানন্দের রচনার সংকলন, হিন্দুইজম, ইটস মিনিং ফর লিবারেশন অফ দ্য স্পিরিট অ্যান্ড ম্যান ইন সার্চ অফ ইমমর্টালিটি এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধগুলি।[] তার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রচনাটি হল শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত গ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ দ্য গসপেল অফ শ্রীরামকৃষ্ণ। স্বামী নিখিলানন্দের একাধিক গ্রন্থ বিভিন্ন ইউরোপীয় ও ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বেদান্তের উপদেশ ব্যাখ্যায় প্রামাণিক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।[]

১৯৪৪ সালে টাইম ম্যাগাজিন-এ স্বামী নিখিলানন্দ কর্তৃক ভগবদ্গীতা গ্রন্থের অনুবাদটিকে বলা হয় "বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় ধ্রুপদি গ্রন্থের প্রথম যথার্থ পাঠযোগ্য পাঠযোগ্য ও প্রামাণ্য ইংরেজি অনুবাদ।"[] দ্য গসপেল অফ শ্রীরামকৃষ্ণ গ্রন্থটিকে বলা হয় “বিশ্বের অন্যতম অসাধারণ ধর্মীয় নথির অনুবাদ।”[][] ফিলিপ জেলস্কিহারপারকলিনস প্রকাশক কর্তৃক সংগঠিত আমেরিকান গবেষকদের সম্মেলনে দ্য গসপেল অফ শ্রীরামকৃষ্ণ গ্রন্থটি ২০শ শতাব্দীর ১০০টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক গ্রন্থে”র স্বীকৃতি অর্জন করে।[][১০]

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]

অনুবাদ

[সম্পাদনা]

মৌলিক রচনা

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Swami Nikhilananda"। Prabuddha Bharata। ১৯৭৩।
  2. 1 2 Oldmeadow, Harry (২০০৪)। Journeys East। পৃ. ৪৫০আইএসবিএন ০-৯৪১৫৩২-৫৭-৭
  3. 1 2 3 4 5 6 Adiswarananda, Swami (১৯৭৪)। "Swami Nikhilananda 1895–1973"। Proceedings and Addresses of the American Philosophical Association৪৭। American Philosophical Association: ২২৫–২২৬। জেস্টোর 3129924
  4. The Slate
  5. Miller, Timothy। America's Alternative Religions। পৃ. ১৭৭। আইএসবিএন ০-৫৮৫-০৪৫৮৪-৪
  6. "The Gita"। TIME Magazine। ৩ জুলাই ১৯৪৪। ১৪ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০০৮
  7. "Prophet of All Gods"। TIME Magazine। ২ নভেম্বর ১৯৪২। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ ডিসেম্বর ২০০৮
  8. "Swami Nikhilananda"। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০০৮
  9. "100 Best Spiritual Books of the Century"। ২৭ আগস্ট ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ আগস্ট ২০০৮
  10. Zaleski, Philip (২০০০)। The Best Spiritual Writing 2000। San Francisco: HarperCollinsআইএসবিএন ৯৭৮-০-০৬-২৫১৬৭০-১

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]