স্টার্লিং হেইডেন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরাসরি যাও: পরিভ্রমণ, অনুসন্ধান
স্টার্লিং হেইডেন
Hayden-Asphalt.jpg
এসফল্ট জাঙ্গল চলচ্চিত্রে (১৯৫০)
জন্ম স্টার্লিং রেলিয়ে ওয়ালটার
(১৯১৬-০৩-২৬)মার্চ ২৬, ১৯১৬
আপার মন্টক্লেয়ার নিউ জার্সি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
মৃত্যু মে ২৩, ১৯৮৬(১৯৮৬-০৫-২৩) (৭০ বছর)
সসালিটো, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
অন্য নাম স্টার্লিং ওয়ালটার হেইডেন
জন হ্যামিল্টন
পেশা অভিনেতা, লেখক, নাবিক, মডেল, ইউনাইটেড স্টেইটস মেরিন কোর, অফিস অফ স্ট্র্যাটেজিক সার্ভিসেস এজেন্ট
কার্যকাল ১৯৪১-৮২
উচ্চতা ৬ ফিট ৫ ইঞ্চি (১.৯৬ মি)
দাম্পত্য সঙ্গী ম্যাডেলিন ক্যারল
(১৯৪২-৪৬)
বেটি এন ডে নুন
(১৯৪৭-৫৮)
ক্যাথেরিন ডিভাইন ম্যাক কনেল
(১৯৬০–৮৬)
সন্তান

ডে নুন-এর সাথে: ক্রিশ্চিয়ান, ডেইনা এবং ম্যাথিউ এবং গ্রেচেন রাকার্ট

ম্যাক কনেলের সাথেঃ এন্ড্রু, ডেভিড

স্টার্লিং ওয়াল্টার হেইডেন (জন্ম স্টার্লিং রেলিয়ে ওয়াল্টার; মার্চ ২৬, ১৯১৬ – মে ২৩, ১৯৮৬) একজন মার্কিন অভিনেতা এবং লেখক। তাঁর অভিনয় জীবনের বেশীরভাগ চরিত্র তিনি ওয়েস্টার্ন এবং নোয়া চলচ্চিত্রে মূখ্য অভিনেতার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় ছবিগুলো হলো জনি গিটার, দি অ্যাসফল্ট জাংগল, এবং দ্য কিলিং। পরবরতিতে তিনি জনপ্রিয় হয়েছিলেন পার্শ্ব-চরিত্র জেনারেল জ্যাক ডি রিপারের চরিত্রে ১৯৬৪ সালের “ডক্টর স্ট্রেঞ্জলাভ অরঃ হাউ আই লার্ন্ড টু স্টপ ওয়ারিইং এন্ড লাভ দ্য বম্ব” ছবিতে অভিনয়ের জন্য। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হল ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা’র দ্য গডফাদার (১৯৭২) চলচ্চিত্রে আইরিশ পুলিশ অফিসার ক্যাপ্টেন ম্যাকক্লাস্কি এবং দ্য লং গুডবায় (১৯৭৩) চলচ্চিত্রে ঔপন্যাসিক রজার ওয়েইড’এর চরিত্র। তিনি বার্নার্ডো বার্টোলুচির ১৯০০ ইন ১৯৭৬ এ মূখ্য চরিত্র লিও দালকো’র চরিত্রে অভিনয় করেন। ৬ফিট ৫ ইঞ্চি উচ্চতায় হেইডেন বেশীরভাগ অভিনেতাকেই ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন।  

জীবনী[সম্পাদনা]

তারুণ্য এবং শিক্ষা[সম্পাদনা]

হেইডেন ২৬ শে মার্চ ১৯১৬ খৃষ্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের আপার মন্টক্লেয়ার-এ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামাতা জর্জ ও ফ্রান্সেস ওয়াল্টার তাঁর নাম রেখেছিলেন স্টার্লিং রেলিয়ে ওয়াল্টার। তার পিতার মৃত্যুর পর  ৯ বছর বয়সে তাকে দত্তক নেন জেমস হেইডেন নামে এক ব্যক্তি এবং তার নাম দেন স্টার্লিং ওয়াল্টার হেইডেন। বাল্যকালে তার বসবাস ছিল যুক্তরাজ্যের নিউ ইংল্যান্ড এলাকা এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাসাচুসেটস, পেন্সিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন ডি সি এবং মেইন অঙ্গরাজ্যে।  

হেইডেন ১৬ বছর বয়সে স্কুলের লেখাপড়া ছেড়ে দেন এবং পালতোলা জাহাজের সহকারী হিসেবে কাজ নেন। তাঁর প্রথম সমুদ্রযাত্রা ছিল কানেটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ লন্ডন থেকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরজ্যের নিউপোর্ট বীচ। পরবর্তীতে তিনি কাজ করেন ক্যানাডার নিউ ফিনল্যান্ড দ্বীপে জেলে, চার্টার ইয়াট চালনা, এবং জেলে হিসেবে ১১ বার স্টীমার চড়ে কিউবা যান। কাপ্তান হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার পর তিনি ১৯৩৭ সালে বিশ্ব ভ্রমণকারী জাহাজ ইয়াঙ্কি’র সহকারী হিসেবে কাজ করেন। বেশ কয়েকবার জলপথে পৃথিবী ভ্রমণের পর ২২ বছর বয়সে তাঁকে কাপ্তানের দায়েত্ব দেয়া হয়, এবং তিনি ফ্লোরেন্স সি রবিনসন নামে একটি জলতরীতে ১৯৩৮ সালে ম্যাসাচুসেটস থেকে ৭,৭০০ মেইল পাড়ি দিয়ে তাহিতি পৌঁছেন।

প্রারম্ভিক হলিউড জীবন[সম্পাদনা]

প্রথমদিকে হেইডেন সাময়িকীর মডেল হিসেবে কাজ করতেন পরে তিনি প্যারামাউন্ট পিকচার্সের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। প্যারামাউন্ট পিকচার্স এই ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা অভিনেতাকে “চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ” এবং “সুদর্শন সোনালী কেশের ভাইকিং দেবতা” হিসেবে আখ্যায়িত করে। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ছিল এডওয়ার্ড এইচ গ্রিফিথ পরিচালিত ভার্জিনিয়া (১৯৪১)। তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেন অভিনেত্রী মেডেলিন ক্যারল, যার সাথে তিনি পরবর্তিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। হেইডেন, গ্রিফিথ এবং ক্যারল আবার একত্রিত হন বাহামা প্যাসেজ (১৯৪১) চলচ্চিত্রে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবদান[সম্পাদনা]

শুধু দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি হলিউড ছেড়ে ইউনাইটেড স্টেটস মেরিন কোর-এ যোগ দেন প্রাইভেট হিসেবে। তিনি সেখানে জন হ্যামিল্টন ছদ্মনাম ব্যবহার করেন। প্যারিস আইল্যান্ডে অবস্থানের সময় তাঁকে অফিসার ক্যান্ডিডেট স্কুলে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়।

পাশ করার পর তিনি সেকন্ড লুটেনেন্ট হিসেবে কমিশন পান। তিনি একজন গুপ্তচর হিসেবে কাজ করেন অফিস অফ স্ট্র্যাটিজিক সার্ভিসেস (OSS)-এ।

একজন ও এস এস প্রতিনিধি হিসেবে যে কাজগুলো করেন সেগুলো হল মালামাল নিয়ে সমুদ্রপথে ইতালি থেকে যুগোস্লাভিয়া যাওয়া এবং প্যারাশুট দিয়ে বিমান থেকে ফ্যাসিবাদ ক্রোয়েশিয়ায় অবতরণ করা। তিনি নেপলস-ফোজিয়া যুদ্ধে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর ১৩, ১৯৪৪ তারীখে ফার্স্ট লুটেনেন্ট এবং ফেব্রুয়ারী ১৪, ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান। তিনি বাল্কান এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় সর্বোচ্চ সামরিক মর্যাদা সিল্ভার স্টার পদক জয়ী হন। এছাড়া তিনি শত্রু অঞ্চলে প্যারাশুট নিয়ে অবতরণের জন্য ব্রঞ্জ এরোহেড এবং যুগোস্লাভিয়ার নেতা মার্শাল টিটো’র প্রশংসা অর্জন করেন। তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন ডিসেম্বর ২৪, ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে।

হলিউডে প্রত্যাবর্তন এবং সাম্যবাদ ভীতি[সম্পাদনা]

হেইডেন হলিউডে ফিরে আসেন ব্লেইয অফ নুন (১৯৪৭) ছবিতে অভিনয় করতে।

সাম্যবাদীদে গোষ্ঠির প্রতি প্রচুর শ্রদ্ধাবোধের কারণে তিনি কিছুকাল কমুনিস্ট পার্টির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি চলচ্চিত্র জগতে কমুনিস্ট পার্টির প্রভাব খাটানোর কাজে সক্রিয় ছিলেন। যখন কমুনিস্ট ভীতি প্রবল আকার ধারণ করে, তখন তিনি “হাউয আন-আমেরিকান এক্টিভিটিয কমিটিকে সহায়তা করেন এবং হলিউডের কিছু সাম্যবাদী ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেন। এব্যপারে পরে তিনি তাঁর আত্মজীবনীতে বলেনঃ “আপনাদের সামান্যতম ধারণা নেই আমার নিজের প্রতি কতটুকু অশ্রদ্ধা জেগেছিল এই কাজটি করার পর থেকে।“ হাউয আন-আমেরিকান এক্টিভিটিয কমিটি ছিল মার্কিন সরকারের একটি তদন্ত সংস্থা যা ১৯৩৮ সালে গঠিত হয়েছিল এবং ১৯৭৫ সালে বিলোপ করা হয়। সংস্থাটি সাম্যবাদের প্রতি সাধারণ জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের সমর্থন ও দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যকলাপ তদন্ত করত।

হেইডেন পাইন থমাস প্রডাকশন্সের জন্য দু’টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন – এল পাসো (১৯৪৯) এবং ম্যানহ্যান্ডল্ড (১৯৪৯)।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]