সৈয়দ শাহ জাকির আলী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সৈয়দ শাহ জাকির আলী আল কাদেরী আল বাগদাদী
জন্ম
সৈয়দ শাহ জাকির আলী

আনু. ( ১৬৯৯ -প্রয়োজনীয় প্যারামিটার ১=মাস অনুপস্থিত!-০০) প্রয়োজনীয় প্যারামিটার 1=মাস অনুপস্থিত! ১৬৯৯
বাগদাদ শরীফ, ইরাক
মৃত্যু১৭৭৮(1778-00-00) (বয়স ৭৮–৭৯)
সমাধিমঙ্গলকোট, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
অন্য নামগাউসে সানী
যে জন্য পরিচিতকাদেরিয়া সূফী তরিকা

হযরত গাউসে সানী সৈয়দ শাহ জাকির আলী আল কাদেরী আল বাগদাদী (জন্ম: ১৬৯৯ – ওফাত:১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দ) ইরাকের কাদেরীয়া সূফি ত্বরিকার একজন প্রসিদ্ধ সূফি সাধক। তিনি ইরাকের বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তার বংশানুক্রম হযরত বড়পীর শায়েখ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানীর বংশ হয়ে হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর বংশের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে। তিনি হযরত বড়পীর শায়েখ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানীর ১৭তম বংশধর।

ভারতে আগমন[সম্পাদনা]

ইরাকে বাগদাদ শরীফ হতে হযরত বড়পীর শায়েখ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানীর নির্দেশে তার পূর্বপুরুষ বাংলায় তথা ভারতবর্ষে আগমন করেন । কথিত আছে এক স্বপ্নযোগে হযরত বড়পীর শায়েখ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানী সৈয়দ শাহ জাকির আলীকে বলেন-

প্রিয় জাকের ! হিন্দুস্থানে(ভারতে) অতিসত্বর গমন কর । তথাকার লোক ধর্ম নামে দোহাই পাড়ে না । পাপের স্রোতরাশি সমধিক জমিয়াছে । বিশেষত ইসলামের ধর্ম বল গভীর তলে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে [১]

তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে তার পিতা সৈয়দ শাহআব্দুল কাদেরকে স্বপ্নের কথা খুলে বলেন।সৈয়দ শাহ আব্দুল কাদের একথা শুনে বাগদাদী তার চার পুত্র, এক নাতী (পৌত্র) ও পারিবারিক কিছু মহিলা সদস্য নিয়ে ১১৮০ হিজরির ১৭৬৭/৬৮ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উড়িষ্যার চাঁদবালি বন্দর হয়ে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার শীকারপুর এলাকায় পৌঁছেন তথা বাংলায় আগমন করেন।

আধ্যাত্বিক প্রতিনিধিত্ব ও তরিকত প্রচার[সম্পাদনা]

তার পিতা শীকারপুর গ্রামে দুই বছরের বেশী সময় কাটানোর পর তার বড় দুই ছেলে সৈয়দ শাহ রজব আলী ও সৈয়দ শাহ রজব আলীকে নিয়ে বাগদাদে ফিরে যান এবং অন্য দুই পুত্র সৈয়দ শাহ রওশন আলী ও সৈয়দ শাহ জাকের আলীকে রেখে যান। এরপর হযরত বড়পীর শায়েখ মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের জিলানী আধ্যাত্বিক নির্দেশে সৈয়দ শাহ রওশন আলী বিহারের পুর্ণিয়া জেলায় চলে যান এবং সৈয়দ শাহ জাকের আলী বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে চলে আসেন । পুর্ণিয়া জেলায় যাওয়ার সময় সৈয়দ শাহ রওশন আলী তার পুত্র সৈয়দ শাহ তোফায়েল আলীকে শাহ জাকের আলীর হাতে তুলে দিয়ে যান। হযরত শাহ জাকের আলী সমগ্র পশ্চিম বাংলায় তথা বর্ধমান জেলানে ইসলামে বালী এবং কাদেরীয়াত্বরিকা প্রচার ও প্রসার শুরু করেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি বাংলায় কাদেরিয়া ত্বরিকার প্রচার ও প্রসার করেন।

ওফাত[সম্পাদনা]

তিনি ৫ ই জিলহজ্ব ১১৯২ হিজরীতে ওফাত (ইন্তেকাল) করেন । বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে তার মাজার শরীফ অবস্থিত।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. মেদিনীপুর দরগাহ,পৃষ্টা-২