সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম | |
|---|---|
২০২৩ সালে মুহাম্মদ ইবরাহিম | |
| কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য | |
| কাজের মেয়াদ ১১ জানুয়ারি ২০২৪ – ৬ আগস্ট ২০২৪ | |
| পূর্বসূরী | জাফর আলম |
| উত্তরসূরী | সালাহউদ্দিন আহমদ |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ৪ অক্টোবর ১৯৪৯ উত্তর বুড়িশ্চর, চট্টগ্রাম, পূর্ব পাকিস্তান |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| রাজনৈতিক দল | বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি |
| দাম্পত্য সঙ্গী | ফোরকান ইবরাহিম |
| সন্তান | ১ পুত্র, ১ কন্যা |
| পিতামাতা |
|
| বাসস্থান | ডিওএইচএস মহাখালী, ঢাকা, বাংলাদেশ |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | রাজনীতিবিদ |
| জীবিকা | সামরিক কর্মকর্তা |
| সামরিক পরিষেবা | |
| আনুগত্য | |
| শাখা | |
| পদ | |
| ইউনিট | ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট |
| যুদ্ধ | বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ |
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (জন্ম: ৪ অক্টোবর, ১৯৪৯) বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। তিনি কক্সবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[১][২] ২০২৪ সালে অসহযোগ আন্দোলনের পর রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।[৩] তিনি বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
[সম্পাদনা]সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর গ্রামে। তার বাবার নাম এস এম হাফেজ আহমেদ এবং মায়ের নাম মা শামসুন নাহার। তার স্ত্রীর নাম ফোরকান ইবরাহিম। তাদের এক মেয়ে, এক ছেলে।
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]১৯৭১ সালে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম কর্মরত ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে চাকরিরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন।
১৬ ডিসেম্বর ২০১৫-তে, বিশেষ সুরক্ষা বাহিনী তাকে বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবেশ করতে বাধা দেয় কারণ তার নামটি একটি বর্জন তালিকায় ছিল। ১৯৮০ সালের পর এই প্রথম তাকে রাষ্ট্রপতির বাস ভবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইব্রাহিম একজন লেখক এবং বক্তা। তিনি ঢাকার সংবাদপত্র এবং প্রোব নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাটির জন্য অনিয়মিত কলাম লেখেন।
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা]সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম অবসরের পর মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন নামের একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হন। ২০০৬-০৮ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সঙ্কটের সময় তিনি ডিসেম্বর ২০০৭ সালে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ৫ ডিসেম্বর ২০১৫ এ পুনরায় দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সদস্য। ২০১৮ সালে তার দলটি কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
[সম্পাদনা]২২ নভেম্বর ২০২৩ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করা রাজনৈতিক জোট 'যুক্তফ্রন্ট' থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন এবং নিজেই এই ফ্রন্টের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন।[৪] মুহাম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫ আসনে মনোনয়ন নিলেও পরবর্তীতে তিনি ঐ আসন হতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।[৫] অতঃপর তিনি কক্সবাজার-১ আসন হতে প্রার্থীতা ঘোষণা করেন এবং তার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।[৬][৭]
৭ জানুয়ারি ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুহাম্মদ ইবরাহিম ঐ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাফর আলমকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন।[৮] ১০ জানুয়ারি মুহাম্মদ ইবরাহিম সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।[৯][১০]
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারান।[৩][১১][১২][১৩]
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা
[সম্পাদনা]১৯৭১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্তর্গত আখাউড়া ছিলো ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে। এর পাশেই ছিলো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলা। সেখানে ১ ডিসেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর ভোরে আখাউড়া মুক্ত হয়। ‘সি’ কোম্পানির দলনেতা ইবরাহিমও সহযোদ্ধাদের নিয়ে সেই যুদ্ধে অংশ নেন। সেদিন যুদ্ধের রাতে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন দলনেতা তৈরী হন মুখোমুখি যুদ্ধের জন্য। লক্ষ্য আক্রমণ করবেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে। ভয়াবহ এ সম্মুখ যুদ্ধে বেশ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বিচলিত হননি। নির্ধারিত সময়ে আগেই ভারত থেকে শুরু হয় দূরপাল্লার গোলাবর্ষণ। একনাগাড়ে অনেকক্ষণ ধরে চলে তা। গোলাবর্ষণ শেষ হওয়া মাত্র ইবরাহিম সহযোদ্ধাদের নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওপর আর শুরু হয় মেশিনগান, রাইফেলসহ অন্যান্য অস্ত্রের অবিরাম গোলাগুলি। দুই পক্ষে সমানতালে যুদ্ধ চলে। যুদ্ধের একপর্যায়ে পাকিস্তানিদের পাল্টা আক্রমণের তীব্রতা বেড়ে যায় তবে সে সময়েও মুহাম্মদ ইবরাহিম দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং সহযোদ্ধাদের মধ্যে সাহস যোগান। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেও নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে যান তিনি এবং সহযোদ্ধারা যাতে ছত্রভঙ্গ না হয়ে যাওয়া যায় সেদিকেও নজর রাখেন। তার প্রচেষ্টায় সহযোদ্ধারা অনুপ্রাণিত হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ চালান। তাদের সাহসিকতায় থেমে যায় বেপরোয়া পাকিস্তানি সেনাদের অগ্রযাত্রা।[১৪]
পুরস্কার ও সম্মাননা
[সম্পাদনা]বিতর্ক
[সম্পাদনা]২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তাকে বেঈমান ও বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দেয় তার নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোট।[১৫][১৬]
পাদটীকা
[সম্পাদনা]- এই নিবন্ধে দৈনিক প্রথম আলোতে ১৩-০২-২০১২ তারিখে প্রকাশিত “তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না” নামক ধারাবাহিক প্রতিবেদন থেকে লেখা অনুলিপি করা হয়েছে, যা দৈনিক প্রথম আলো ক্রিয়েটিভ কমন্স অ্যাট্রিবিউশন-শেয়ার-এলাইক ৩.০ আন্তর্জাতিক লাইসেন্সে উইকিপিডিয়ায় অবমুক্ত করেছে (অনুমতিপত্র)। প্রতিবেদনগুলি দৈনিক প্রথম আলোর মুক্তিযুদ্ধ ট্রাস্টের পক্ষে গ্রন্থনা করেছেন রাশেদুর রহমান (যিনি তারা রহমান নামেও পরিচিত)।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "দৈনিক প্রথম আলো, "তোমাদের এ ঋণ শোধ হবে না"| তারিখ: ২৪-১০-২০১২"। ১৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ জানুয়ারি ২০১৪।
- ↑ একাত্তরের বীরযোদ্ধাদের অবিস্মরণীয় জীবনগাঁথা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা স্মারকগ্রহন্থ। জনতা ব্যাংক লিমিটেড। জুন ২০১২। পৃ. ১৪০। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৩৩৫১৪৪৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতিতে খালি অজানা প্যারামিটার রয়েছে:|coauthors=(সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক) - 1 2 "জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা"। দৈনিক জনকণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ "মুহাম্মদ ইবরাহিমের কল্যাণ পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেবে যুক্তফ্রন্ট"। ডেইলি স্টার বাংলা। ২২ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ "প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন দিলীপ বড়ুয়া ও সৈয়দ ইবরাহিম"। আরটিভি। ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩।
- ↑ "এবার কক্সবাজার থেকে মনোনয়নপত্র নিলেন ইবরাহিম"। আরটিভি। ২৯ নভেম্বর ২০২৩।
- ↑ "আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল, বৈধ কল্যাণ পার্টির ইবরাহিমের"। প্রথম আলো। ৩ ডিসেম্বর ২০২৩।
- ↑ "কক্সবাজার-১ আসনে কল্যাণপার্টির ইবরাহিম জয়ী"। দৈনিক ইনকিলাব। ৮ জানুয়ারি ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ঠিকানা সম্বলিত গেজেট বিজ্ঞপ্তি"। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ১০ জানুয়ারি ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "শপথ নিয়ে এমপি হওয়ার যে অনুভূতি জানালেন ইবরাহিম"। যুগান্তর। ১০ জানুয়ারি ২০২৪। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২৪।
- ↑ "সংসদ ভেঙে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ "যা আছে সংসদ ভেঙে দেওয়ার সারসংক্ষেপে"। বাংলা ট্রিবিউন। ৬ আগস্ট ২০২৪। ১৭ আগস্ট ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ "জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত"। দ্য ডেইলি স্টার। সংগ্রহের তারিখ ৬ আগস্ট ২০২৪।
- ↑ মতিউর রহমান (২০১৫)। সম্মুখযুদ্ধ ১৯৭১: মুক্তিযোদ্ধাদের কলমে। ঢাকা, বাংলাদেশ: প্রথমা প্রকাশন। পৃ. ২০৭। আইএসবিএন ৯৭৮৯৮৪৯১২০২১৬।
- ↑ প্রতিবেদক, নিজস্ব (২২ নভেম্বর ২০২৩)। "বিশ্বাসঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম: ১২–দলীয় জোট"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "বিপুল ভোটে জয়ী কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম"। RTV Online। সংগ্রহের তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ১৯৪৯-এ জন্ম
- জীবিত ব্যক্তি
- চট্টগ্রাম জেলার মুক্তিযোদ্ধা
- বীর প্রতীক
- বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ
- বাংলাদেশী পুরুষ লেখক
- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাজনীতিবিদ
- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জেনারেল
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জড়িত ব্যক্তি
- ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- মুক্তিবাহিনীর কর্মকর্তা
- আরব বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী ব্যক্তি
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ সদস্য
- বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা
- হাটহাজারী উপজেলার ব্যক্তি