সৈয়দ ফয়জুল করিম
মাওলানা মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম | |
|---|---|
| সিনিয়র নায়েবে আমীর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | |
| পূর্বসূরী | সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম |
| ব্যক্তিগত বিবরণ | |
| জন্ম | ১০ জানুয়ারি ১৯৭৩ চর মোনাই, বরিশাল |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| রাজনৈতিক দল | ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ |
| প্রাক্তন শিক্ষার্থী | |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| পিতামাতা |
|
| আখ্যা | সুন্নি |
| ব্যবহারশাস্ত্র | হানাফি |
| আন্দোলন | দেওবন্দি |
| প্রধান আগ্রহ | |
| আত্মীয় |
|
| ঊর্ধ্বতন পদ | |
| এর শিষ্য | শাহ আহমদ শফী[১] |
| দেওবন্দি আন্দোলন |
|---|
| সিরিজের অংশ |
সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম (জন্ম: ১০ জানুয়ারি ১৯৭৩) একজন বাংলাদেশী ইসলামী পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। বর্তমানে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমীর ও বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্যের (১৯৯৩-৯৪) দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২০ সালে বাংলাদেশের ভাস্কর্য বিতর্কে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত হন।[২]
জন্ম ও বংশ
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]ফয়জুল করিম ১৯৭৩ সালের ১০ জানুয়ারি বরিশাল জেলার চরমোনাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ ফজলুল করিম ও দাদা সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক। তার মোট ৭ ভাই ও ১ বোন।[৩] তার পরদাদা সৈয়দ আমজাদ আলী ছিলেন সৈয়দ ওমর আলীর ছেলে।[৪] তার পূর্বপুরুষ (পরদাদার দাদা) সৈয়দ আলী আকবর বাগদাদ শহর হতে বাংলায় হিজরত করেছিলেন,[৫] অবশেষে পশুরীকাঠি গাঁয়ে বসবাস স্থাপন করে। আলী আকবরের ছোট ভাই, যিনি সৈয়দ আলী আসগর নামে পরিচিত, কীর্তনখোলা নদীর পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত লাকটিয়া গ্রামের সৈয়দ খান্দানের পূর্বপুরুষ।[৬]
শিক্ষাজীবন
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]তিনি চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়া থেকে শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। ১৯৯৫ সালে এর আলিয়া শাখা থেকে কামিল পাশ করেন। পাশাপাশি এর কওমি শাখায়ও ক্লাসে অংশগ্রহণ করতেন। এরপর বরিশালের সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ফিকহ ও হাদিসে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন।[৩]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়ার আলিয়া শাখার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে দীর্ঘদিন আলিয়া ও কওমি উভয় শাখার সহকারী অধ্যক্ষ ছিলেন। ২০০৬ সালের ২৫ নভেম্বর তার পিতার মৃত্যুর পর তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যের (১৯৯৩-৯৪) দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[৩]
রাজনৈতিক জীবন
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]তিনি বরিশাল ৫ আসন থেকে ২০০১ ও ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন এবং পরাজিত হন। ২০০১ সালে তিনি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীকে এবং ২০০৮ সালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল ৫ আসন থেকে নির্বাচন করেন এবং পূর্বের ন্যায় পরাজিত হন ।
বিতর্ক
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে প্রচুর বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যেখানে তিনি দাবি করেন, হিন্দুদের বিরোধিতায় ১৯১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যায় নি। ১৯২১ সালে একজন মুসলিম ব্যক্তি খাজা সলিমুল্লাহর প্রস্তাবে ঢাবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তাই এটি মুসলমানদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেখানে কোনো নাস্তিক থাকতে পারবে না। পাঠ্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, "যেই সিলেবাসের মধ্যে নবী (সা.) এর জীবনী থাকবে না, ওমরের জীবনী থাকবে না, যেখানে এমন মহৎ লোকদের জীবনী থাকবে না – এরকম সিলেবাসের বই বাংলাদেশে পড়ানো হবে না, এমনকি পড়তে দেয়া হবে না৷"[৭]
ভাস্কর্য
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি যাত্রাবাড়ীস্থ গেন্ডারিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে একটি বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে যা নিয়ে একটি জাতীয় বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। বক্তৃতায় তিনি বলেন, আন্দোলন করব, সংগ্রাম করব, জিহাদ করব। রক্ত দিতে চাইনা, দিলে বন্ধ হবে না। রাশিয়ার জনগণ লেলিনের ৭২ ফুট মূর্তি যদি ক্রেন দিয়ে তুলে সাগরে নিক্ষেপ করতে পারে তাহলে শেখ সাহেবের মূর্তি আজকে হোক কালকে হোক তুলে বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবেন। নানা প্রতিক্রিয়ার পর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করা হয় এবং পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।[৮][২]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- ↑ আনহার, হাসান (২০২১)। "শায়খুল ইসলাম সংখ্যা"। মাসিক নেয়ামত। ৮৬ (০৩)। গেন্ডারিয়া, ঢাকা-১২০৪: জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ: ৪৩।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থান (লিঙ্ক) - 1 2 "ইসলামে ভাস্কর্য ও মূর্তি উভয়ই নিষিদ্ধ: মুফতি ফয়জুল করীম"। দৈনিক যুগান্তর। ২৮ নভেম্বর ২০২০।
- 1 2 3 শ্বেতপত্র: বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন। মহাখালী, ঢাকা-১২১২: মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন। ফেব্রুয়ারি ২০২২। পৃ. ৮০০–৮০১।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থান (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বছর (লিঙ্ক) - ↑ হাফেজ মাওলানা হাবীবুর রহমান, 'আমরা যাদের উত্তরসূরী (তাযকেরায়ে মাশায়েখে দেওবন্দ)', আল-কাওসার প্রকাশনী, ঢাকা, বাংলাদেশ (সংশোধিত সংস্করণ: ২০০৬ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ২৩৪.
- ↑ al-Kumillai, Muhammad Hifzur Rahman (২০১৮)। "الشيخ الفاضل العالم الرباني السيّد فضل الكريم بن السيّد محمد إسحاق بن السيّد أمجد علي البريسالي"। كتاب البدور المضية في تراجم الحنفية (আরবি ভাষায়)। Cairo, Egypt: Dar al-Salih।
- ↑ Jakaria, Muhammad (২০২১)। বাংলাদেশে ইসলামের প্রচার-প্রসার ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় পীর-মাশায়িখের অবদান: একটি পর্যালোচনা (পিডিএফ) (অভিসন্দর্ভ)। University of Dhaka। পৃ. ৩৩৬–৩৪৩। ১৮ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৯ জানুয়ারি ২০২৩।
- ↑ "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চরমোনাই পীরের ভাইয়ের বিতর্কিত মন্তব্য"। ডয়েচে ভেলে। ১৩ জানুয়ারি ২০১৭।
- ↑ "বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা : মামুনুল-বাবু নগরীর মামলায় প্রতিবেদন ৩ মার্চ"। দৈনিক আমাদের সময়। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা | উৎস সম্পাদনা]- জীবিত ব্যক্তি
- ১৯৭৩-এ জন্ম
- দেওবন্দি ব্যক্তি
- মাতুরিদি ব্যক্তি
- হানাফী ব্যক্তি
- বাংলাদেশী মুসলিম
- সুন্নি ইসলামের পণ্ডিত
- হানাফি ফিকহ পণ্ডিত
- ২০শ শতাব্দীর ইসলামের মুসলিম পণ্ডিত
- বরিশাল জেলার রাজনীতিবিদ
- জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ার প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ
- চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়ার প্রাক্তন শিক্ষার্থী
- বরিশাল বিভাগের ওলামা
- ২০শ শতাব্দীর বাংলাদেশী ব্যক্তি
- ২১শ শতাব্দীর বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ
- বাংলাদেশী সুন্নি মুসলিম
- বাংলাদেশী ইসলাম ধর্মীয় নেতা
- চরমোনাইয়ের ব্যক্তি
- বাংলাদেশী সুন্নি মুসলিম পণ্ডিত
- আরব বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী ব্যক্তি