সৈয়দ ফয়জুল করিম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সৈয়দ ফয়জুল করিম
Faizul Karim (2020).jpg
সিনিয়র নায়েবে আমীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম (1973-01-10) ১০ জানুয়ারি ১৯৭৩ (বয়স ৪৯)
চর মোনাই, বরিশাল
জাতীয়তাবাংলাদেশি
রাজনৈতিক দলইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
ব্যক্তিগত
পিতামাতা
আখ্যাসুন্নি
ব্যবহারশাস্ত্রহানাফি
আন্দোলনদেওবন্দি
প্রধান আগ্রহ
অন্য নামশায়খে চরমোনাই
আত্মীয়
ঊর্ধ্বতন পদ
এর শিষ্যশাহ আহমদ শফী

সৈয়দ ফয়জুল করিম (জন্ম: ১০ জানুয়ারি ১৯৭৩) একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ। সমর্থকদের নিকট তিনি শায়েখে চরমোনাই নামে পরিচিত। বর্তমানে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি ও বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের সহ-সভাপতি এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২০ সালে বাংলাদেশের ভাস্কর্য বিতর্কে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত হন।

জীবনী[সম্পাদনা]

ফয়জুল করিম ১৯৭৩ সালের ১০ জানুয়ারি বরিশাল জেলার চর মোনাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সৈয়দ ফজলুল করিম ও দাদা সৈয়দ মুহাম্মদ ইসহাক। তার মোট ৬ ভাই ও ১ বোন। তিনি চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়া থেকে শিক্ষাজীবনের সূচনা করেন। ১৯৯৫ সালে এর আলিয়া শাখা থেকে কামিল পাশ করেন। পাশাপাশি এর কওমি শাখায়ও ক্লাসে অংশগ্রহণ করতেন। এরপর বরিশালের সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ফিকহ ও হাদিসে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তিনি জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন। শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি চরমোনাই জামিয়া রশিদিয়া ইসলামিয়ার আলিয়া শাখার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে দীর্ঘদিন আলিয়া ও কওমি উভয় শাখার সহকারী অধ্যক্ষ ছিলেন। ২০০৬ সালের ২৫ নভেম্বর তার পিতার মৃত্যুর পর তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।[১]

বিতর্ক[সম্পাদনা]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়[সম্পাদনা]

২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার দেওয়া একটি বক্তব্য নিয়ে প্রচুর বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যেখানে তিনি দাবি করেন, হিন্দুদের বিরোধিতায় ১৯১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যায় নি। ১৯২১ সালে একজন মুসলিম ব্যক্তি খাজা সলিমুল্লাহর প্রস্তাবে ঢাবির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। তাই এটি মুসলমানদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেখানে কোনো নাস্তিক থাকতে পারবে না৷ পাঠ্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, "যেই সিলেবাসের মধ্যে নবী (সা.) এর জীবনী থাকবে না, ওমরের জীবনী থাকবে না, যেখানে এমন মহৎ লোকদের জীবনী থাকবে না – এরকম সিলেবাসের বই বাংলাদেশে পড়ানো হবে না, এমনকি পড়তে দেয়া হবে না৷"[২]

ভাস্কর্য[সম্পাদনা]

২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি যাত্রাবাড়ীস্থ গেন্ডারিয়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্যের বিরোধিতা করে একটি বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে যা নিয়ে একটি জাতীয় বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। বক্তৃতায় তিনি বলেন, "আন্দোলন করব, সংগ্রাম করব, জিহাদ করব। রক্ত দিতে চাইনা, দিলে বন্ধ হবে না। রাশিয়ার জনগণ লেলিনের ৭২ ফুট মূর্তি যদি ক্রেন দিয়ে তুলে সাগরে নিক্ষেপ করতে পারে তাহলে শেখ সাহেবের মূর্তি আজকে হোক কালকে হোক তুলে বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবেন।" নানা প্রতিক্রিয়ার পর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করা হয় এবং পিবিআই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।[৩][৪]

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. শ্বেতপত্র: বাংলাদেশে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ২০০০ দিন। মহাখালী, ঢাকা-১২১২: মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন। ফেব্রুয়ারি ২০২২। পৃষ্ঠা ৮০০–৮০১। 
  2. "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে চরমোনাই পীরের ভাইয়ের বিতর্কিত মন্তব্য"ডয়েচে ভেলে। ১৩ জানুয়ারি ২০১৭। 
  3. "বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা : মামুনুল-বাবু নগরীর মামলায় প্রতিবেদন ৩ মার্চ"দৈনিক আমাদের সময়। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১। 
  4. "ইসলামে ভাস্কর্য ও মূর্তি উভয়ই নিষিদ্ধ: মুফতি ফয়জুল করীম"দৈনিক যুগান্তর। ২৮ নভেম্বর ২০২০। 

আরও পড়ুন[সম্পাদনা]