সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ
সুলতানুল মাশায়েখ সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী | |
|---|---|
সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ | |
১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে চন্দ্রপুরী হুজুর | |
| ব্যক্তিগত তথ্য | |
| জন্ম | ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯০৯ |
| মৃত্যু | ২৮ মার্চ ১৯৮৪ (বয়স ৭৫) |
| সমাধিস্থল | চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ, সদরপুর উপজেলা, ফরিদপুর জেলা ২৩°২৮′৪″ উত্তর ৯০°৪′১১″ পূর্ব / ২৩.৪৬৭৭৮° উত্তর ৯০.০৬৯৭২° পূর্ব |
| ধর্ম | সুন্নি ইসলাম |
| জাতীয়তা |
|
| দাম্পত্য সঙ্গী |
|
| সন্তান | ১১ জন |
| পিতামাতা | সৈয়দ মুহাম্মদ কোরবান আলী খান এবং বেগম খাদিজা খাতুন |
| যুগ | ২০শ শতাব্দী |
| আখ্যা | সুফি |
| ব্যবহারশাস্ত্র | হানাফি |
| প্রধান আগ্রহ | সুফিবাদ |
| উল্লেখযোগ্য কাজ | নুরুল আসরার (১ম ও ২য় খণ্ড) |
| তরিকা | নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া সুলতানিয়া-মুজাদ্দেদিয়া |
| এর প্রতিষ্ঠাতা | চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ |
| দর্শন | সুফিবাদ |
| ঊর্ধ্বতন পদ | |
| পূর্বসূরী | খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী |
| উত্তরসূরী | [সৈয়দ কামরুজ্জামান চন্দ্রপুরী নকশবন্দি মুজাদ্দেদি আল-ওয়াইসি (সৈয়দ জ্বি)] |
| আরবি নাম | |
| ব্যক্তিগত (ইসম) | সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ سيد أبو الفضل سلطان أحمد |
| পৈত্রিক (নাসাব) | সৈয়দ মুহাম্মদ কোরবান আলী খান سيد محمد قربان علي خان |
| উপাধি (লাক্বাব) | সুলতানুল মাশায়েখ سلطان المشائخ |
| স্থানীয় (নিসবা) | আল-চন্দ্রপুরী الشاندرابور |
| ইসলাম সম্পর্কিত একটি ধারাবাহিকের অংশ সুফিবাদ |
|---|
|
|
সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ (১৯০৯–১৯৮৪), যিনি তার জন্মস্থানের নামানুসারে চন্দ্রপুরী বা চন্দ্রপুরী হুজুর নামে সমধিক পরিচিত, ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি সুফি সাধক,[১] আধ্যাত্মিক নেতা এবং ইসলামি পণ্ডিত। তিনি ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায় অবস্থিত বিখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র 'চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ'-এর প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া তিনি দেওয়ানবাগ শরীফের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগীর আধ্যাত্মিক গুরু বা মুর্শিদ ছিলেন। বিংশ শতাব্দীতে বাংলায় সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিক চেতনার প্রসারে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।
উপাধি ও পরিচিতি
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ তার অনুসারীদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে 'সুলতানুল আউলিয়া' এবং 'সুলতানিয়া-মুজাদ্দেদিয়া' তরীকার ইমাম হিসেবে অভিহিত হন।[২] তার নামের শেষে যুক্ত 'চন্দ্রপুরী' নিসবাহটি তার জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার ধাওখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামকে নির্দেশ করে। আধ্যাত্মিক জগতে তার উচ্চ মাকাম বা অবস্থানের কারণে তাকে 'সুলতানুল মাশায়েখ' উপাধিতেও ভূষিত করা হয়েছে।
প্রারম্ভিক জীবন ও বংশ পরিচয়
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ ১৯০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের ফরিদপুর জেলার চন্দ্রপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।[৩] তার পিতা ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ কোরবান আলী খান এবং মাতা বেগম খাদিজা খাতুন। তার মাতামহ মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন মুন্সী ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি।
পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, তার পূর্বপুরুষগণ সুদূর আরব উপদ্বীপ থেকে আনাতোলিয়া (বর্তমান তুরস্ক) হয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগমন করেন। পরবর্তীতে তারা ফরিদপুর জেলার কিষ্টপুর ও দশহাজার গ্রামে বসবাস শুরু করেন এবং সবশেষে চন্দ্রপাড়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং আধ্যাত্মিক চিন্তায় মগ্ন থাকতেন।
শিক্ষা জীবন
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় স্থানীয় পরিবেশে। তিনি ফরিদপুরের রাজাচর মাদরাসায় দীর্ঘ ৬ বছর অধ্যয়ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি চাঁদপুরের ওসমানিয়া মাদরাসা এবং মতলব উত্তরের কামরাঙ্গা মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। তার শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটে ঢাকার বিখ্যাত হাম্মাদিয়া মাদরাসায়।[৪] মাদরাসা শিক্ষায় তিনি কুরআন, হাদিস, ফিকহ এবং ইসলামি দর্শনে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
আধ্যাত্মিক সাধনা ও শিক্ষা
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ আধ্যাত্মিক ধারায় নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া সিলসিলার অনুসারী ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের প্রখ্যাত সুফি সাধক খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরীর নিকট বায়াত গ্রহণ করেন এবং তার সান্নিধ্যে থেকে দীর্ঘকাল কঠোর রিয়াজত ও সাধনা করেন। আধ্যাত্মিক পূর্ণতা অর্জনের পর তিনি তার পীরের নিকট থেকে খেলাফত লাভ করেন।[৫]
পরবর্তীতে তিনি 'সুলতানিয়া-মুজাদ্দেদিয়া' নামক একটি বিশেষ আধ্যাত্মিক ধারা প্রবর্তন করেন, যা মূলত নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া তরীকারই একটি শাখা।[৬] তার শিক্ষার মূল ভিত্তি ছিল 'তাজকিয়া-এ-নফস' (আত্মশুদ্ধি), 'জিকির-এ-কালবি' (হৃদয়ের জিকির) এবং শরিয়তের কঠোর অনুসরণের সাথে মারিফতের সমন্বয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, অন্তরের পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য লাভ সম্ভব নয়।
কর্মজীবন ও চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ
[সম্পাদনা]তিনি ফরিদপুর জেলার সদরপুরে 'চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ' প্রতিষ্ঠা করেন। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও সাধনা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই দরবার শরীফ থেকে তিনি হাজার হাজার মানুষকে ইসলামের সঠিক পথ এবং আধ্যাত্মিকতার শিক্ষা প্রদান করেছেন। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে এখানে বার্ষিক 'ওরস' অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও আশেকান সমবেত হন।[৭]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদের প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল ছমিরুন্নেসা খানম।[৮] তাদের সংসারে পাঁচজন কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন।[৯] তাদের চতুর্থ কন্যা সৈয়দা হামিদা বেগম মাহবুব মিয়া (যিনি পরবর্তীতে দেওয়ানবাগী পীর হিসেবে পরিচিত হন) এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
তার দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ছিল খোদেজা বেগম।[১০] এই সংসারে তার পাঁচজন কন্যা এবং একজন পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। তার একমাত্র পুত্র সৈয়দ কামরুজ্জামান চন্দ্রপুরী নকশবন্দি মুজাদ্দেদি আল-ওয়াইসি (যিনি ভক্তদের কাছে 'সৈয়দ জ্বি' নামে পরিচিত) বর্তমানে চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফের পীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মৃত্যু ও সমাধি
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ ১৯৮৪ সালের ২৮ মার্চ (১৪ই চৈত্র ১৩৯০ বঙ্গাব্দ) পরলোকগমন করেন।[২][১১] তার প্রতিষ্ঠিত চন্দ্রপাড়া পাক দরবার শরীফ প্রাঙ্গণেই তাকে সমাহিত করা হয়। তার মাজার শরীফ বর্তমানে একটি পবিত্র জিয়ারতগাহ হিসেবে পরিচিত।[১২]
সাহিত্যকর্ম ও প্রকাশনা
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ সুফিবাদ ও আধ্যাত্মিকতা বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হলো:
- নুরুল আসরার (১ম ও ২য় খণ্ড) - এটি তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ যেখানে আধ্যাত্মিকতার গূঢ় রহস্য আলোচনা করা হয়েছে।
- হাক্কুল ইয়াকিন
- সুলতানিয়া খাবনামা
উত্তরাধিকার ও প্রভাব
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদকে বাংলাদেশের সুফি ঐতিহ্যের একজন "যুগ সংস্কারক" হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া তরীকার শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজবোধ্য করে তুলেছিলেন। তার প্রধান খলিফা ও উত্তরাধিকারী সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী তার স্মরণে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ৮টি বিশ্ব সুফি সম্মেলন এবং ১৯৯৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২০টি বিশ্ব আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলনের আয়োজন করেন।[১৩][১৪]
নকশবন্দিয়া সুফি সিলসিলা
[সম্পাদনা]নকশবন্দিয়া সুফিদের দাবি অনুযায়ী, সুলতান আহমদ একটি দীর্ঘ আধ্যাত্মিক পরম্পরার উত্তরাধিকারী, যা সরাসরি ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.) পর্যন্ত বিস্তৃত:[১৫][১৬]
- হযরত মুহাম্মাদ (সা.), ওফাত ১১ হিজরি, মদিনা, সৌদি আরব।
- হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), ওফাত ১৩ হিজরি, মদিনা, সৌদি আরব।
- হযরত সালমান ফারসি (রা.), ওফাত ৩৫ হিজরি, মাদায়েন, ইরাক।
- হযরত কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর (র.), ওফাত ১০৭ হিজরি, মদিনা।
- হযরত জাফর সাদিক (র.), ওফাত ১৪৮ হিজরি, মদিনা।
- হযরত বায়াজিদ বোস্তামি (র.), ওফাত ২৬১ হিজরি, বোস্তাম, ইরান।
- হযরত আবুল হাসান আল-খারকানি (র.), ওফাত ৪২৫ হিজরি, ইরান।
- হযরত আবু আলী ফারমাদি (র.), ওফাত ৪৭৭ হিজরি, তুস, ইরান।
- হযরত ইউসুফ হামদানি (র.), ওফাত ৫৩৫ হিজরি, মারু, খোরাসান।
- হযরত আবদুল খালিক গাজদুওয়ানি (র.), ওফাত ৫৭৫ হিজরি, বুখারা, উজবেকিস্তান।
- খাজা মুহাম্মদ আরিফ রিওয়গারি (র.), ওফাত ৬১৬ হিজরি, বুখারা।
- খাজা মাহমুদ আনজির-ফাগনাভি (র.), ওফাত ৭১৫ হিজরি, উজবেকিস্তান।
- হযরত আলী রামিতানি (র.), ওফাত ৭১৫ হিজরি, বুখারা।
- হযরত মুহাম্মদ বাবা আস-সামাসি (র.), ওফাত ৭৫৫ হিজরি, বুখারা।
- সৈয়দ শামসুদ্দিন আমির কুলাল (র.), ওফাত ৭৭২ হিজরি, বুখারা।
- ইমাম বাহাউদ্দিন নকশবন্দ বুখারি (র.), ওফাত ৭৯১ হিজরি, বুখারা।
- সৈয়দ আলাউদ্দিন আত্তার (র.), বুখারা।
- হযরত ইয়াকুব আল-চারখি (র.), ওফাত ৮৫১ হিজরি, তাজিকিস্তান।
- হযরত খাজা উবায়দুল্লাহ আহরার (র.), ওফাত ৮৯৫ হিজরি, সমরকন্দ।
- হযরত মুহাম্মদ জাহিদ ওয়াখশি (র.), ওফাত ৯৩৬ হিজরি, তাজিকিস্তান।
- খাজা দরবেশ মুহাম্মদ (র.), ওফাত ৯৭০ হিজরি, সমরকন্দ।
- খাজা মুহাম্মদ আমকানাগি (র.), ওফাত ১০০৮ হিজরি, বুখারা।
- খাজা মুহাম্মদ বাকি বিল্লাহ (র.), ওফাত ১০১২ হিজরি, দিল্লি, ভারত।
- ইমাম রব্বানী মুজাদ্দেদ আলফে সানি (র.), ওফাত ১০৩৪ হিজরি, সিরহিন্দ, ভারত।
- হযরত সৈয়দ আদম বানুরি (র.), ওফাত ১০৫৩ হিজরি, মদিনা।
- সৈয়দ আবদুল্লাহ আকবরাবাদী (র.), আগ্রা, ভারত।
- হযরত শাহ আবদুর রহিম দেহলভি (র.), ওফাত ১১৩১ হিজরি, দিল্লি।
- হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (র.), ওফাত ১১৭৬ হিজরি, দিল্লি।
- হযরত শাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিসে দেহলভি (র.), ওফাত ১২৩৯ হিজরি, দিল্লি।
- হযরত সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরলভি (র.), ওফাত ১২৪৬ হিজরি, বালাকোট, পাকিস্তান।
- হযরত নূর মুহাম্মদ নিজামপুরী (র.), ওফাত ১২৭৫ হিজরি, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
- সৈয়দ ফতেহ আলী ওয়াইসি (র.), ওফাত ১৩০৩ হিজরি, কলকাতা, ভারত।
- সৈয়দ ওয়াজেদ আলী মেহদিবাগী (র.), ওফাত ১৩৩৮ হিজরি, কলকাতা।
- খাজা ইউনুস আলী এনায়েতপুরী (র.), ওফাত ১৩৭১ হিজরি, সিরাজগঞ্জ, বাংলাদেশ।
- ইমাম সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (র.), ওফাত ১৪০৪ হিজরি, ফরিদপুর, বাংলাদেশ।
বিতর্ক
[সম্পাদনা]সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদের কিছু শিক্ষা ও তার অনুসারীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হয়েছে। কিছু ইসলামি চিন্তাবিদ ও সমালোচক তার অনুসারীদের প্রচারিত কিছু বক্তব্যকে মূলধারার সুন্নি আকিদার সাথে অসংগতিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন। বিশেষ করে আধ্যাত্মিক স্তরবিন্যাস এবং ফেরেশতাদের প্রকৃতি সংক্রান্ত কিছু ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার সমর্থক ও ভক্তরা এই সমালোচনাগুলো প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে নকশবন্দিয়া-মুজাদ্দেদিয়া ঐতিহ্যের একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে দাবি করেন।[১৭][১৮]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Sufism in Bangladesh – MUSE – Mouthpiece of ULAB Students of English" (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- 1 2 Sharif, Dewanbag (২০ মার্চ ২০২২)। "Founder of Dewanbag Sharif"। dewanbagsharif.org (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Birth card of Imam Syed Abul Fazal Sultan Ahmad Chandrapuri (Birth Card)। Arsafm Qudrat E Khoda। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Rahman, Saidur (২০০৪)। শান্তির দূত সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (দ্বিতীয় খণ্ড) (3rd সংস্করণ)। আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা, বাংলাদেশ: Sufi Foundation Bangladesh (২২ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে প্রকাশিত)। পৃ. ৪৯।
- ↑ Waisi, Fateh Ali (৩০ এপ্রিল ২০০৭)। Diwan-i-Waisi [Shan-E Waisi] (ইংরেজি ভাষায়)। Surya Sen Street, Kolkata, India: Dr. Sk Ahmad Ali, Waisi Darbar Sharif। পৃ. ৯২–৯৩।
- ↑ Rahman, Saidur (২০০৪)। শান্তির দূত সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (তৃতীয় খণ্ড)। আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা, বাংলাদেশ: Sufi Foundation Bangladesh (জুলাই ২০০৪ তারিখে প্রকাশিত)। পৃ. ১৮৫–১৮৭।
- ↑ "Annual orosh of Chandrapara Darbar Sharif of Faridpur in January"। bangladeshpost.net (ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Rahman, Saidur (২০০৪)। শান্তির দূত সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (দ্বিতীয় খণ্ড) (3rd সংস্করণ)। আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা, বাংলাদেশ: Sufi Foundation Bangladesh (২২ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে প্রকাশিত)। পৃ. ৪৬–৫০।
- ↑ Rahman, Saidur (২০০৪)। শান্তির দূত সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (তৃতীয় খণ্ড)। আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা, বাংলাদেশ: Sufi Foundation Bangladesh (জুলাই ২০০৪ তারিখে প্রকাশিত)। পৃ. ১৮১।
- ↑ Rahman, Saidur (২০০৪)। শান্তির দূত সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (তৃতীয় খণ্ড)। আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা, বাংলাদেশ: Sufi Foundation Bangladesh (জুলাই ২০০৪ তারিখে প্রকাশিত)। পৃ. ২০১।
- ↑ ইত্তেফাক, দৈনিক (১৫ জানুয়ারি ২০২৫)। "মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় শেষ হলো চন্দ্রপাড়া ওরস"। The Daily Ittefaq। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Post, Bangladesh (৩ জানুয়ারি ২০২৪)। "Annual Urs of Chandrapara Darbar Sharif held"। bangladeshpost.net (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Pratidin, Bangladesh (১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮)। "বিশ্ব আশেকে রাসুল সম্মেলন কাল | বাংলাদেশ প্রতিদিন"। bd-pratidin.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ "Ashek-e-Rasul Confce held | The Asian Age Online, Bangladesh"। The Asian Age (ইংরেজি ভাষায়)। ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Rahman, Saidur (২০০৪)। শান্তির দূত সূফী সম্রাট হযরত দেওয়ানবাগী (দ্বিতীয় খণ্ড) (ইংরেজি ভাষায়) (3rd সংস্করণ)। আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা, বাংলাদেশ: Sufi Foundation Bangladesh (২২ এপ্রিল ২০০৪ তারিখে প্রকাশিত)। পৃ. ৬৪–৬৬।
- ↑ Sufism (৮ মার্চ ২০২৫)। "Shajra-e-Mubarak of Naqshbandiyya Mujaddidiyya Tariqa"। Sufism (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ Organization, MuslimPoint (৬ জুন ২০২১)। "চন্দ্রপুরী পীর এর ভুল ভ্রান্তি বা মিথ্যাচার , ব্যাখ্যা ও দলিল বা রেফারেন্স সহ"। muslimpoint.org (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
- ↑ যিন্দেগী, ইসলামী। "বাংলাদেশে পরিচিত ভণ্ডপীরদের ভ্রান্ত আক্বীদা-বিশ্বাস ও তার খণ্ডন"। Islami Jindegi। সংগ্রহের তারিখ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫।