সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগ
সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগ লোগো.png
দেশভারত ভারত
খেলার ধরনটুয়েন্টি২০ (২০১১-২০১৬) টি১০ (২০১৭, ২০১৯)
প্রথম টুর্নামেন্ট২০১১
শেষ টুর্নামেন্ট২০১৯
পরবর্তী টুর্নামেন্ট২০২০
প্রতিযোগিতার ধরনরাউন্ড-রবিন এবং নক-আউট
দলের সংখ্যা
সর্বাধিক সফলতেলুগু ওয়ারিয়র্স (৩ বার শিরোপা জয়)
সর্বাধিক রানধ্রুব শর্মা (কর্ণাটক) - ১০৩৩
সর্বাধিক উইকেট(তেলুগু) - ২৭
ওয়েবসাইটwww.ccl.in

সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগ (সিসিএল) হলো ভারতের অপেশাদার ছেলেদের ক্রিকেট লিগ। এটিতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের নয়টি প্রধান আঞ্চলিক চলচ্চিত্র শিল্পের চলচ্চিত্র অভিনেতাদের নয়টি দল অংশগ্রহণ করে। লিগটি ২০১১ সালে শুরু হয়।[১][২] সিসিএল দলগুলি তাদের স্বাগতিক খেলার জন্য বিভিন্ন ভেন্যু ব্যবহার করে এবং ভারতীয় প্রচার মাধ্যমে এর সুবিশাল প্রচার রয়েছে।[৩][৪][৫]

প্রতিষ্ঠা[সম্পাদনা]

ভারতের প্রধান শহরগুলির অধিকার সহ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (ভারতের টি -২০ লিগের অফিশিয়াল প্রতিযোগিতা) জনপ্রিয়তা সিসিএল আয়োজনকে অনুপ্রাণিত করে। হায়দরাবাদের উদ্যোক্তা বিষ্ণু বর্ধন ইন্দুরি সিসিএলের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ২০১০ সালে উদ্বোধনী মৌসুমে চার দলের কাছে ফ্র্যাঞ্চাইজি অধিকার বিক্রি করে লীগ শুরু করেছিলেন। দ্বিতীয় মৌসুমে আরও দুটি দল যুক্ত করা হয়।[৬]

ইতিহাস[সম্পাদনা]

প্রথম মৌসুম[সম্পাদনা]

২০১১ সালে উদ্বোধনী মৌসুম অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে চেন্নাই রাইনোস, তেলুগু ওয়ারিয়র্স, মুম্বই হিরোজ এবং কর্ণাটক বুলডোজার্স এই চারটি দল অংশগ্রহণ করে।[৭] সিসিএল এর প্রথম মৌসুম এর আয়োজকরা কপিরাইট লঙ্ঘন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার পরিকল্পনা করে।[৮] চেন্নাই রাইনোস একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে কর্ণাটক বুলডোজার্সকে পরাজিত করে উদ্বোধনী সিসিএল এর চ্যাম্পিয়ন হিসাবে আবির্ভূত হয়।

দ্বিতীয় মৌসুম[সম্পাদনা]

সিসিএল এর দ্বিতীয় মৌসুম ১৩ জানুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। কেরল স্ট্রাইকার্স এবং বেঙ্গল টাইগার নামে দুটি নতুন ক্রিকেট দল সিসিএলে যুক্ত করা হয়। হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পের দল "মুম্বই হিরোজ" শারজাহকে তার স্বাগতিক মাঠ হিসাবে বেছে নেয়।[৯] চেন্নাই রাইনোস কর্ণাটক বুলডোজার্সকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো পরাজিত করে সিসিএল ২ এর চ্যাম্পিয়ন হয়।

তৃতীয় মৌসুম[সম্পাদনা]

শ্রুতি হাসান তেলুগু ওয়ারিয়র্সকে সমর্থন করছেন

তৃতীয় মৌসুমে আরও দুটি নতুন দল নেওয়া হয়, দল দুটি হলো মারাঠি চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী বীর মারাঠি এবং ভোজপুরি চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী ভোজপুরি দাবাং। তৃতীয় মৌসুমটির পর্দা উন্মোচন অনুষ্ঠানটি মুম্বাইয়ে ২০১৩ সালের ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় এবং অনেকে এটিকে একটি দুর্দান্ত অনুষ্ঠান হিসাবে বিবেচনা করে,[১০] অনুষ্ঠানে সালমান খান,[১১] ক্যাটরিনা কাইফ, বিপাশা বসু, প্রভু দেবা সহ আরও অনেক তারকা পরিবেশনা করেন।[১২] উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ২০১৩ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কোচিতে অনুষ্ঠিত হয়, সেখানে কেরল স্ট্রাইকার্স মুম্বাই হিরোজের বিপক্ষে খেলে। জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী বিপাশা বসুকে কাজল আগরওয়ালের সাথে সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগের (সিসিএল) তৃতীয় মৌসুমের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসাবে নিয়োগ করা হয়।[১৩][১৪]

কর্ণাটক বুলডোজার্স তেলুগু ওয়ারিয়র্সকে পরাজিত করে সিসিএল ৩ এর চ্যাম্পিয়ন হয়।

চতুর্থ মৌসুম[সম্পাদনা]

আগের মৌসুমের তুলনায় সিসিএল এর চতুর্থ মৌসুম আরও বেশি প্রসারিত হয় কারণ মুম্বই হিরোস এর খেলার সম্প্রচারের অংশীদার হিসাবে কালার্স টিভি অংশিদার হয় এবং ঋষতি টিভি সকল খেলা প্রচার করে। কর্ণাটক বুলডোজার্স টানা চতুর্থ বছর ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। কেরল স্ট্রাইকার্সকে হারিয়ে তারা কাপ জিতে নেয়।

পঞ্চম মৌসুম[সম্পাদনা]

আয় এবং টেলিভিশন দর্শনের দিক থেকে সিসিএল এর ৫ম আসরটি ছিল সবচেয়ে সফল মৌসুম। টিএএম অনুসারে কালার্স টিভির মাধ্যমে হিন্দি-ভাষীদের কাছে এবং সান নেটওয়ার্ক চ্যানেল এর মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতে সম্প্রচারের কারণে সিসিএল ছিল দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক দেখা ক্রীড়া লিগ। দুই বারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই রাইনোসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ট্রফি জিতে নেয় তেলুগু ওয়ারিয়র্স।

ষষ্ঠ মৌসুম[সম্পাদনা]

বীর মারাঠির জায়গায় নতুন দল পাঞ্জাব চলচ্চিত্র শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী পাঞ্জাব দে শের কে নেওয়া হয়।[১৫] দলের মেহেন্দী ছিলেন দলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর এবং সোনু সুদ ছিলেন অধিনায়ক। দলের মালিক ছিলেন মি. পুনেত এবং নবরাজ হ্যান্স। দলটির জন্য নতুন খেলোয়াড় বেছে নিয়েছিল পাঞ্জাব দে শের। দ্বিতীয় বারের মতো কাপ জিতে নেয় তেলুগু ওয়ারিয়র্স।[১৬]

দলসমূহ এবং পারফরম্যান্স[সম্পাদনা]

২০১২ সালের সিসিএল এর একটি ম্যাচে তারকাগণ

দলসমূহ[সম্পাদনা]

দল চলচ্চিত্র শিল্প রাজ্য অধিনায়ক মালিকানা
কর্ণাটক বুলডোজার্স কন্নড়/চন্দন কর্ণাটক সুদীপ অশোক খেনি
মুম্বই হিরোজ হিন্দি/বলিউড মহারাষ্ট্র ববি দেওল সোহেল খান
বেঙ্গল টাইগার্স বাংলা পশ্চিমবঙ্গ যীশু সেনগুপ্ত বনি কাপুর
তেলুগু ওয়ারিয়র্স তেলুগু/টলিউড অন্ধ্রপ্রদেশ,

তেলেঙ্গানা

আখিল আক্কিনেনি সচিন জোশী
কেরালা স্ট্রাইকার্স মালয়ালম কেরল মোহনলাল রাজকুমার, শ্রীপ্রিয়া
চেন্নাই রাইনোস তামিল তামিলনাড়ু বিশাল কৃষ্ণ কে. গঙ্গা প্রসাদ
ভোজপুরী দাবাং ভোজপুরী উত্তরপ্রদেশ, বিহার মনোজ তিওয়ারি মনোজ তিওয়ারি
পাঞ্জাব দে শের পাঞ্জাবী পাঞ্জাব সোনু সুদ নবরাজ হ্যান্স, পুনিত সিং
বীর মারাঠি (বিলুপ্ত) মারাঠি মহারাষ্ট্র মহেশ মাঞ্জরেকর রিতেশ দেশমুখ

পারফরম্যান্স[সম্পাদনা]

দল ২০১১ ২০১২ ২০১৩ ২০১৪ ২০১৫ ২০১৬ ২০১৭ ২০১৯
কর্ণাটক বুলডোজার্স R R W W SF R GS R
পাঞ্জাব দে শের প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় GS প্রযোজ্য নয় GS
বেঙ্গল টাইগার্স প্রযোজ্য নয় 6th GS GS GS SF GS SF
ভোজপুরী দাবাং প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় GS SF GS SF প্রযোজ্য নয় SF
চেন্নাই রাইনোস W W GS GS R GS GS প্রযোজ্য নয়
কেরালা স্ট্রাইকার্স প্রযোজ্য নয় 5th SF R GS GS R প্রযোজ্য নয়
মুম্বই হিরোজ 4th SF GS SF SF GS GS W
তেলুগু ওয়ারিয়র্স 3rd SF R GS W W W GS
বীর মারাঠি প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় SF GS GS প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয় প্রযোজ্য নয়

টীকা:

  • W = জয়ি; R = রানার আপ; SF = সেমিফাইনালে উন্নীত; GS = গ্রুপ পর্যায়; F = ফাইনালে উন্নীত; প্রযোজ্য নয় = খেলে নাই; TBA = ঘোষণা করা হবে.
  • ২০১৮ সিসিএল টি১০ বাতিল করা হয়
  • ২০১৯ সিসিএল টি১০ সেমি-ফাইনাল এবং ফাইনাল ম্যাচ বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। গ্রুপ পর্বের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মুম্বই দলকে বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করা হয় (তিনটি ম্যাচের সবগুলিতে জয় লাভ করে) এবং কর্ণাটক বুলডোজার্স দলকে রানার আপ হিসাবে ঘোষণা করা হয় (তিন ম্যাচের মধ্যে ২ টিতে জয় লাভ করে)।

ভেন্যু[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Celeb Cricket League is back with a bang"The Times of India। ১২ জানুয়ারি ২০১২। ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  2. Trivedi, Bina (২০ জানুয়ারি ২০১২)। "CCL: Superstar cricketainment"The Times of India। ৩০ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০১২ 
  3. 2013 Inauguration venue = Kochi,Kerala Beauty, brawn ... and then there was cricket, The Hindu, 5 June 2011. Retrieved 2012-01-22.
  4. CCL-II: A starry showdown আর্কাইভইজে আর্কাইভকৃত ২০১২-০৭-২০ তারিখে, The Times of India, 23 January 2012. Retrieved 2012-02-05.
  5. Megha Shenoy A feast for the eyes, Deccan Herald, February 2012. Retrieved 2012-02-05.
  6. Gooptu, Biswarup; Raghavendra, Nandini (১১ ফেব্রুয়ারি ২০১২)। "Celebrity League rivals IPL on TV, in stadia"The Economic Times। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০১২ 
  7. "It's celebrity cricket league next"The Times of India। ২৫ মে ২০১১। ১৭ নভেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১২ 
  8. "About Us - CCL Social Initiative"Celebrity Cricket League। cclt20 Pvt Ltd। ৩১ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১২ 
  9. "CCL is back for season two!"The Times of India। ৯ আগস্ট ২০১১। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৯ মার্চ ২০১২ 
  10. "TruthDive – South Asian News and Opinion. India"। Archived from the original on ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০২-১৭  CCL 3 : Celebrity Cricket League curtain raiser event on 19 Jan in Mumbai
  11. "Salman Khan performs at Celebrity Cricket League curtain raiser - Cricket Country"। ২৫ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০২-১৭  Salman Khan performed at Celebrity Cricket League curtain raiser
  12. "TruthDive – South Asian News and Opinion. India"। Archived from the original on ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০২-১৭  CCL 3 curtain raiser event, a star-studded affair
  13. Celebrity Cricket League: Salman, Bipasha, Kangana add glam
  14. "Archived copy"। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৩-০২-১৭  Bipasha Basu as Brand Ambassador for CCL Season-3
  15. "Punjab De Sher added in 6th Edition of CCL"|আর্কাইভের-ইউআরএল= এর |আর্কাইভের-তারিখ= প্রয়োজন (সাহায্য) তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  16. "Celebrity Cricket League (CCL) 2020 Winners List of All Seasons [1 to 6] | Winners List" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 


বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]