সেপ ব্ল্যাটার

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সেপ ব্ল্যাটার
Sepp Blatter (2009).jpg
২০০৯ সালে সেপ ব্ল্যাটার
৮ম ফিফা সভাপতি
অফিসে
৮ জুন, ১৯৯৮ – ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
পূর্বসূরী জোয়াও হ্যাভেল্যাঞ্জ
উত্তরসূরী জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম জোসেফ ব্ল্যাটার[১]
(১৯৩৬-০৩-১০) ১০ মার্চ ১৯৩৬ (বয়স ৮০)
ভিস্প, ভ্যালেইজ, সুইজারল্যান্ড
জাতীয়তা সুইস
দাম্পত্য সঙ্গী লিলিয়ান বিনার
বারবারা কাসের (বি. ১৯৮১৯১)
গ্রাজাইলা বিয়াঙ্কা (বি. ২০০২০৪)
ঘরোয়া সঙ্গী ইলোনা বোগাস্কা (১৯৯৫-২০০২)
লিন্ডা বারাস (২০১৪-বর্তমান)
বাসস্থান জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
প্রাক্তন ছাত্র ইউনিভার্সিটি অব লাউজ্যান

জোসেফ এস. ব্ল্যাটার (ইংরেজি: Sepp Blatter; জন্ম: ১০ মার্চ, ১৯৩৬) সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী ফুটবল প্রশাসক হিসেবে পরিচিত। তবে বিশ্ব ফুটবল জগতে তিনি সেপ (গিউসেপ) ব্ল্যাটার নামেই অধিক পরিচিত হয়ে আছেন।[২] বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফা'র সাবেক সভাপতি তিনি।

ফিফা সভাপতি[সম্পাদনা]

১৯৭৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ফিফায় কর্মরত ছিলেন। প্রথমতঃ ব্ল্যাটার ১৯৭৫-১৯৮১ সাল পর্যন্ত টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, ১৯৮১-১৯৯৮ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সেপ ব্ল্যাটার ফিফা'র ৮ম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৮ জুন, ১৯৯৮ সালে তিনি ফিফা'র সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন ও জোয়াও হ্যাভেল্যাঞ্জের স্থলাভিষিক্ত হন। পরবর্তীতে ২০০২ পুণরায় নির্বাচিত হন তিনি। পুণরায় চার বছর মেয়াদে ৩১ মে, ২০০৭ সালে ফিফা সদস্যভূ্ক্ত ২০৭ দেশের মধ্যে মাত্র ৬৬ সদস্য তাঁকে মনোনীত করে।[৩] ২০১১ সালে আবারো তিনি সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

কিন্তু, ৮ অক্টোবর, ২০১৫ তারিখে তাঁকে ফিফা থেকে বহিষ্কার করা হয় ও ২১ ডিসেম্বর, ২০১৫ তারিখে ফুটবল-সম্পর্কীয় সকল ধরণের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়।[৪][৫] তাঁর পরিবর্তে ক্যামেরুনের ইসা হায়াতু ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

বিতর্ক[সম্পাদনা]

পরপর চার মেয়াদে ফিফা সভাপতি হলেও ব্ল্যাটার প্রায়শঃই বিতর্কজালে নিজেকে জড়িয়েছেন। তন্মধ্যে - ২০০২ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে আর্থিক তছরূপ, ভোট বাণিজ্যে অর্থ প্রদান, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনসোমালী ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে অর্থগ্রহণ অন্যতম।

২০০৪ সালে ব্ল্যাটার মহিলা ফুটবল নিয়ে বক্তব্য প্রদান করে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হন।[৬] তিনি বলেছিলেন যে,

আরো মহিলা খেলোয়াড় সৃষ্টি করা উচিত। তাদেরকে আরো আটোসাঁটো ও স্বল্প পোশাক পরিধান করা উচিত। এতে করে আরো পুরুষ দর্শক আকৃষ্ট হয়ে মাঠে আসবে ও গণমাধ্যমে আলোচিত হবে।

সম্পৃক্ততা[সম্পাদনা]

ব্ল্যাটার বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন মানবধর্মী প্রকল্পে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ১৯৯৮ সালে প্রথমবারের মতো সভাপতি হিসেবে নির্বাচনে বিজয়ী হবার পর শিশুদের অধিকার শীর্ষক জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। তিনি ফুটবলকে কেন্দ্র করে সামাজিক অবদানের মাধ্যমে বিশ্বে পিছিয়ে পড়া, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি ফুটবলের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষা, চরিত্র গঠন ও বিজয়ের মনোভাব, একে-অপরকে সম্মান করা, নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি বিষয়কে সম্পৃক্ততা করার কথা তুলে করেন।[৭] তাঁর আদর্শ ও নীতিবোধ হচ্ছে -

ফুটবল সকলের জন্য, সকলের জন্য ফুটবল।

সম্মাননা[সম্পাদনা]

সেপ ব্ল্যাটার নিম্নলিখিত পুরস্কার ও সম্মাননা লাভের অধিকারী হয়েছেন -

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Zum 75. Geburtstag von Sepp Blatter: Top Ten und Bilderstrecke – 11 Freunde"11FREUNDE.de 
  2. Lisbach, Bertrand; Meyer, Victoria (৫ জুন ২০১৩)। Linguistic Identity Matching। Springer Science & Business Media। পৃ: ৭৩। আইএসবিএন 9783834820952। সংগৃহীত ১ জুন ২০১৫ 
  3. "Blatter set for third FIFA term"। BBC Online। ২০০৭-০৪-০২। সংগৃহীত ২০০৭-০৪-০৩ 
  4. "Issa Hayatou takes temporary charge of Fifa"BBC Sport। ৮ অক্টোবর ২০১৫। সংগৃহীত ৮ অক্টোবর ২০১৫ 
  5. Sepp Blatter: End of era for Fifa boss
  6. Christenson, Marcus (২০০৪-০১-১৬)। "Soccer chief's plan to boost women's game? Hotpants"। London: the Guardian। সংগৃহীত ২০০৭-০২-০৯ 
  7. About the President fifa.com. Retrieved 25 November 2011
  8. Jennings, Andrew (২০০৭)। Foul! The Secret World of FIFA: Bribes, Vote Rigging and Ticket ScandalsHarperSport। পৃ: 244–245। আইএসবিএন 978-0-00-720869-2 
  9. Jennings, Andrew (২০০৭)। Foul! The Secret World of FIFA: Bribes, Vote Rigging and Ticket ScandalsHarperSport। পৃ: ২০০। আইএসবিএন 978-0-00-720869-2 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

ক্রীড়া অবস্থান
পূর্বসূরী
জোয়াও হ্যাভেল্যাঞ্জ
ফিফা সভাপতি
১৯৯৮-২০১৫
উত্তরসূরী
ইসা হায়াতু