বিষয়বস্তুতে চলুন

সুশীলা চৈন ত্রেহান

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সুশীলা চৈন ত্রেহান
জন্ম( ১৯২৩-০৭-০১)১ জুলাই ১৯২৩
মৃত্যু২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১(2011-09-28) (বয়স ৮৮)
পরিচিতির কারণস্বাধীনতা সংগ্রাম, সামাজিক সক্রিয়তাকর্ম
পিতা-মাতামথুরাদাস ত্রেহান
টীকা
স্ত্রী সভার প্রতিষ্ঠাতা

সুশীলা চৈন ত্রেহান (১ জুলাই ১৯২৩ - ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১১) ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং নারী সক্রিয়তাকর্মী। তিনি আমৃত্যু পাঞ্জাবের নারীদের শিক্ষালাভ ও মুক্তির জন্য কাজ করেছেন।[][]

প্রাথমিক জীবন

[সম্পাদনা]

ত্রেহান পাঠানকোটে জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা মথুরাদাস ত্রেহান ছিলেন একজন ঠিকাদার এবং তার এলাকার কংগ্রেস পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন এবং আর্য সমাজের একজন নেতৃস্থানীয় সদস্য।[] ত্রেহান পূর্ব পাঞ্জাব স্ত্রী সভারও একজন নেতা ছিলেন।[]

ত্রেহানের পিতার মৃত্যু হয় রহস্যজনকভাবে। পিতার মৃত্যুতে তার পরিবার তাদের আয় ও সম্পদের উৎস হারায়।[]

ত্রেহান কিরি পার্টির জনৈক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চৈন সিং চৈনকে বিয়ে করেন।[]

সক্রিয়তাকর্মী হিসেবে কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

কিশোর বয়সে ত্রেহান আর্য সমাজে যোগ দেন; যখন একটি উদ্বোধনী সভায় উপস্থিতির সময় পুলিশ উপস্থিতদের ঘিরে ফেলে মারধর করে। ওই বয়সেই ত্রেহান অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন।[]

ত্রেহান একজন রাজনৈতিক কর্মী হয়ে ওঠেন এবং ১৯৪১ সালে লাহোরে কমিউনিস্ট পার্টির সদর দপ্তরে চলে আসেন।[] সেই সময় তিনি বিবি রঘবীর কাওরের সাথে কাজ করছিলেন, যিনি পাঞ্জাব রাজ্য আইনসভার কীর্তি-গদর পার্টির সদস্য ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই ত্রেহান বাড়ি ছেড়ে শকুন্তলা আজাদের সাথে মিলে তৎকালীন ভারতীয় সমাজের পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাতারে সামিল হয়েছিলেন।[]

অনেক বিরোধিতার সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও ত্রেহান পরবর্তীতে কীর্তি পার্টিতে যোগ দেন। তৎকালীন ব্রিটিশ রাজের পুলিশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে নির্যাতন ও লাঠিচার্জ সহ্য করে তিনি তার দৃঢ়তা ও সাহসিকতার প্রমাণ দেন।[]

সামাজসেবা

[সম্পাদনা]

ত্রেহান পাঞ্জাবের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে ঘুরে ঘুরে নারীদের রান্না, সেলাই এবং পরিচ্ছন্নতার কাজে উৎসাহিত করেন। নারীদের স্বাধীন হওয়ার জন্য যথেষ্ট সমর্থন না থাকা একটি সমাজে স্বনির্ভর হওয়ার বিশ্বাসকে উৎসাহিত করাই ছিল তার উদ্দেশ্য।[] ভারতের স্বাধীনতার পর ত্রেহান শিশু শিক্ষার প্রচার অব্যাহত রাখেন এবং তিনটি বালিকা বিদ্যালয় এবং একটি সহশিক্ষা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।[]

ত্রেহান ছিলেন তার গ্রাম দাদুওয়ালের পঞ্চায়েত কাউন্সিলের প্রথম নারী পঞ্চ। ২০১১ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন—যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা, জাতিভেদ প্রথা এবং অসবর্ণ বিবাহের বিরুদ্ধে কাজ করে গেছেন।[]

ব্যক্তিগত জীবন

[সম্পাদনা]

চৈন এবং ত্রেহান তাদের বিশ্বাসের লড়াইয়ের জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে বেড়াতেন। এই সংগ্রামের পথে তারা তাদের তিন সন্তানকে হারান এবং তাদের একমাত্র জীবিত মেয়ে সবিতাকে আত্মীয়স্বজনদের কাছে লালন-পালনের জন্য রেখে দিতে হয়।[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 4 5 6 7 8 "Sushila Chain Trehan - Women Freedom Fighter"The Better India। ২৮ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৭
  2. 1 2 3 4 "Sushila - Women Rights leader"। ১১ আগস্ট ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০১৭
  3. 1 2 "A Great Punjabi Woman – Sushila Chayn 1923-2011"। Uddari Weblog (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ৫ অক্টোবর ২০১১। {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: |সংগ্রহের-তারিখ= এর জন্য |ইউআরএল= প্রয়োজন (সাহায্য)