সুলেমান পাশা (প্রথম ওরহানের ছেলে)
| সুলেমান পাশা | |
|---|---|
| গাজি | |
সুলেমানের সমাধি | |
| জন্ম | ১৩০৬ |
| মৃত্যু | ১৩৫৭ (বয়স ৫০–৫১) বলায়ির |
| সমাধি | সুলেমান পাশার সমাধি, বলায়ির |
| স্ত্রীগণ | সেলচুক খাতুন গুলবাহার খাতুন |
| বংশধর | ইসহাক বে নাসির মালিক বে ইসমাইল বে এফেন্দিজ খাতুন ফুলানে সুলতান খাতুন |
| রাজবংশ | উসমানীয় বংশ |
| পিতা | ওরহান |
| মাতা | এফেন্দিজ খাতুন |
| ধর্ম | সুন্নি ইসলাম |
গাজী সুলেমান পাশা (১৩০৬[১] – ১৩৫৭) ছিলেন একজন উসমানীয় শাহজাদা। তিনি সুলতান প্রথম ওরহানের জ্যেষ্ঠ পুত্র।
১৩৫০-এর দশকে থ্রেস অঞ্চলে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সীমানা বিস্তারে সুলেমান পাশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী ছিলেন।
সুলেমান পাশার মা
[সম্পাদনা]উসমানীয় ঐতিহাসিকদের লেখায় সুলতান মুরাদের মা নিলুফার হাতুনকে সুলেমান পাশার মা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[২] তবে আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে, সুলেমান পাশার মা ছিলেন এফেন্দিজ খাতুন। কারণ সুলেমান পাশার জন্মের প্রায় ২০ বছর পর, ১৩২৫ সালে নীলুফার খাতুন হেরেমে প্রবেশ করেন। এফেন্দিজ খাতুন ওসমান গাজির ভাই গুন্দুজ বে এর কন্যা ছিলেন।
জীবনকাল
[সম্পাদনা]সুলেমান পাশা একজন বীর যোদ্ধা ছিলেন, এজন্য তাকে গাজী উপাধি দেওয়া হয়।[৩][৪]
থ্রেস অভিযানে ওরহানের প্রধান সেনাপতিদের একজন ছিলেন তিনি। রুমেলিয়া বিজয়ের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত।
তিনি ১৩৩১ সালে ইজনিক, ১৩৩৫ সালে কারেসি এবং ১৩৩৭ সালে ইজমিত দখল করেন। তার পিতা ওরহান গাজি তাকে এই অঞ্চলগুলোর শাসক হিসেবে নিযুক্ত করেন। ১৩৪৯ থেকে ১৩৫৪ সালের মধ্যে তিনি গ্যালিপলি দখল করেন। তিনি সোফিয়া অবরোধ করলেও তা জয় করতে ব্যর্থ হন। তবে এ সময় তিনি সোফিয়ার শাসক ইভান আসেনকে হত্যা করেন, যিনি জার ইভান আলেকজান্দারের ছেলে ছিলেন।[৩][৪]
১৩৩৫ সালে তিনি দারদানেলিস অতিক্রম করে রুমেলিয়ার কিছু অঞ্চল জয় করেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেন। এই বসতি উসমানীয়দের পরবর্তী বিজয়যুদ্ধে ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। একই বছর তিনি ইভান আলেকজান্দারের আরেক ছেলে মিকাইল বা মাইকেলকেও হত্যা করেন।[৩][৪]
তার শাসিত অঞ্চলে ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি বুরসা, গোয়নুক, গেভে, আকইয়াযি, ইজনিক, ইজমিত ও গ্যালিপলিতে মসজিদ, মাদ্রাসা, সরাইখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন।
সুলেমান পাশা শিকারে গিয়ে ঘোড়া থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার পিতা ওরহান তাকে বোলায়িরে সমাধিত করেন।
পরিবার
[সম্পাদনা]স্ত্রী
[সম্পাদনা]সুলেমান পাশার দুইজন স্ত্রী ছিলেন:[৫]
- সেলজুক খাতুন; সাইদ হুসেইন চেলেবির কন্যা।
- গুলবাহার খাতুন; কোরতুরুম বায়েজিদের কন্যা।
পুত্র
[সম্পাদনা]সুলেমান পাশার তিনজন পুত্র ছিলেন:[৫]
- ইসহাক বে; রুমেলিয়ার শাসক।
- মালিক নাসির বে (বোলায়িরের কাছে সমুদ্রে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন)।
- ইসমাইল বে; রুমেলিয়ার শাসক।
কন্যা
[সম্পাদনা]সুলেমান পাশার দুইজন কন্যা ছিলেন:[৫]
- এফেন্দিজ খাতুন (১৩৯৭ সালের জুলাই মাসে মৃত্যুবরণ করেন)।
- ফুলানে সুলতান খাতুন (১৩৯৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন)।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Peirce, Leslie P. (১৯৯৩)। The Imperial Harem: Women and Sovereignty in the Ottoman Empire (ইংরেজি ভাষায়)। Oxford University Press। পৃ. ৩৪–৩৫। আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫০৮৬৭৭-৫।
- ↑ Alderson 1956, পৃ. 165।
- 1 2 3 Finkel, Caroline (২০০৭)। Osman's dream: the story of the Ottoman Empire 1300 - 1923। Basic Books। পৃ. ১৬। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৬৫-০২৩৯৬-৭।
- 1 2 3 "Süleyman Ghazi" (পিডিএফ)। ৩ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মে ২০২৪।
- 1 2 3 "Gazi Süleyman Pasha" (পিডিএফ)। ৩ আগস্ট ২০১২ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত।
গ্রন্থপঞ্জি
[সম্পাদনা]- Anthony Dolphin Alderson (অ্যান্থনি ডলফিন অ্যাল্ডারসন) (১৯৫৬)। The Structure of the Ottoman Dynasty (English ভাষায়)। Clarendon Press (ক্লারেন্ডন প্রেস)।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - Caroline Finkel (ক্যারোলাইন ফিঙ্কেল) (২০০৫)। Osman's Dream: The Story of the Ottoman Empire, 1300-1923 (English ভাষায়)। Basic Books (বেসিক বুকস)। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪৬৫-০২৩৯৬-৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - Colin Imber (কলিন ইমবার) (২০০৯)। The Ottoman Empire, 1300-1650: The Structure of Power (English ভাষায়) (2 সংস্করণ)। Palgrave Macmillan (প্যালগ্রেভ ম্যাকমিলান)। আইএসবিএন ৯৭৮-০-২৩০-৫৭৪৫১-৯।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - Cemal Kafadar (জেমাল কাফাদার) (১৯৯৫)। Between Two Worlds: The Construction of the Ottoman State (English ভাষায়)। University of California Press (ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস)। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২০-২০৬০০-৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক) - Heath Lowry (হিথ লোয়ারি) (২০০৩)। The Nature of the Early Ottoman State (English ভাষায়)। SUNY Press (সানিই প্রেস)। আইএসবিএন ০-৭৯১৪-৫৬৩৬-৬।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা (লিঙ্ক)