বিষয়বস্তুতে চলুন

সুলাইমান ইবনে আবি জাফর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সুলাইমান ইবনে আবি জাফর
سليمان بن عبد الله المنصور
দামেস্কের গভর্নর
কাজের মেয়াদ
৮০৪  ৮০৫
সার্বভৌম শাসকহারুনুর রশিদ
পূর্বসূরীইবরাহীম ইবনে মুহাম্মাদ
উত্তরসূরীইয়াহিয়া ইবনে মিয়াজ
কাজের মেয়াদ
৮০৮/১০  ৮১৩
সার্বভৌম শাসকআল-আমিন
পূর্বসূরীআহমদ ইবনে সাঈদ আল-হারাশি
উত্তরসূরীমুহাম্মাদ ইবনে সালিহ
আমির আল-হাজ্জ
কাজের মেয়াদ
৭৮৫
সার্বভৌম শাসকআল-হাদি
ব্যক্তিগত বিবরণ
জন্ম৭৬৬/৬৭
মৃত্যু৮১৩/৮১৫
দাম্পত্য সঙ্গীআজিজা
সন্তানআব্বাসা

সুলায়মান ইবনুল মানসুর ( আরবি: سليمان بن المنصور) বা সুলায়মান ইবনে আবি জাফর ( আরবি: سليمان بن أبي جعفر) ছিলেন একজন আব্বাসীয় রাজকুমার। তিনি ভাগ্নে খলিফা হারুনুর রশিদের ( শা. ৭৮৬–৮০৯) আমলে বসরা, জাজিরা ও সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হারুনের পুত্র ও উত্তরসূরী আল-আমিনের অধীনেও সিরিয়ায় দায়িত্ব পালন করেন।

জীবনী

[সম্পাদনা]

সুলায়মান ছিলেন আল-মানসুরের (শাসনকাল ৭৫৪–৭৭৫) পুত্র। আল-মনসুর ছিলেন আব্বাসীয় খেলাফতের দ্বিতীয় খলিফা এবং তাঁর উপনাম ছিল ‘আবু জাফর’। সুলায়মানের মা ছিলেন ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ আল-তাইমি। তিনি ঈসা ইবন তালহা আল-তাইমির নাতনি ছিলেন এবং ঈসা ছিলেন সাহাবি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর পুত্র, যিনি নবির বিশিষ্ট সাহাবিদের একজন ছিলেন।[][]

সুলায়মানের কন্যা আব্বাসা পরে খলিফা হারুনুর রশিদের (শাসনকাল ৭৮৬–৮০৯) স্ত্রী হন। হারুন ছিলেন সুলায়মানের ভাই খলিফা আল-মাহদির (শাসনকাল ৭৭৫–৭৮৫) পুত্র। আল-মাহদির আরেক পুত্র ও তাঁর উত্তরসূরি খলিফা আল-হাদির (শাসনকাল ৭৮৫–৭৮৬) আমলে সুলায়মান মক্কায় হজ যাত্রার নেতৃত্ব দেন। পরে হারুনুর রশিদের শাসনামলে তিনি আবার ৭৯৩ সালে হজের নেতৃত্ব দেন এবং একই সময়ে বসরা, জাজিরা ও সিরিয়ার গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[][]

খলিফা হারুনুর রশিদের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ও উত্তরসূরি আল-আমিন সুলায়মানকে বিশেষ একটি দায়িত্ব দেন। তিনি সুলায়মানকে নির্দেশ দেন যে, যেন তিনি খেলাফতের প্রতি আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক প্রভাবশালী অভিজাতদের কাছ থেকে সেই শপথ আদায় করেন। আল-আমিন নিজেও মাতৃসূত্রে সুলায়মানের আত্মীয় ছিলেন।[] এরপর দামেস্কে অস্থিরতা দেখা দিলে তিনি প্রায় ৮০৯–৮১০ সালের দিকে সুলায়মানকে সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে পুনরায় নিয়োগ দেন।[] এই অস্থিরতার প্রধান কারণ ছিল দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ থেকে একটি মূল্যবান স্ফটিকের পাত্র চুরির ঘটনা। শহরবাসীরা অভিযোগ করে যে, তৎকালীন গভর্নর (সুলায়মানের ভাতিজা) মনসুর ইবনুল মাহদি সেটি চুরি করেছেন। এতে শহরের সবাই অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং আব্বাসীয় নেতৃত্বের অধীনে নামাজ পড়তে অস্বীকৃতি জানায়। ইতিহাসবিদ উইলফার্ড মাডেলুঙের মতে, সিরিয়ার গভর্নর হিসেবে সুলায়মান “আব্বাসীয় শাসনব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ছিলেন”।[]

৮১১ সালে আল-আমিন ও তাঁর ভাই আল-মামুনের মধ্যে খিলাফতের উত্তরাধিকার নিয়ে যখন চতুর্থ ফিতনা শুরু হয়, তখন সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল ও শহরে স্থানীয় গোত্র ও প্রভাবশালী নেতারা আব্বাসীয় প্রতিনিধিদের বিতাড়িত করতে শুরু করে। দামেস্কে তখন উমাইয়া বংশের অবশিষ্ট সদস্যরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে বিদ্রোহ শুরু করে। এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন আবু আল-উমাইতির আল-সুফিয়ানি। তারা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের প্রাসাদে অবস্থিত সুলাইমান ইবনে আবি জাফরের বাসভবনে আক্রমণ চালায়।[]

বিদ্রোহের আগে সুলায়মান এই প্রাসাদে একজন আব্বাসীয় অনুগত ব্যক্তিকে বন্দি করে রাখেন। তিনি ছিলেন বিশিষ্ট কায়সি নেতা ইবন বায়হাস আল-কিলাবি। ইবনে বায়হাস উমাইয়াদের প্রধান সমর্থক ইয়েমেনি গোত্রগুলোর বিরোধী ছিলেন। কারণ কায়স ও ইয়েমেনিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ ছিল। তখন উমাইয়াদের আক্রমণের সময় সুলায়মান ইবন বায়হাসকে মুক্ত করে দেন। এরপর ইবনে বায়হাস তাঁকে পালাতে সাহায্য করেন। এই কায়সি নেতা তাঁকে হাওরান অঞ্চল পার করে সানিয়্যাত আল-উকাব পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দেন। সেখান থেকে সুলায়মান ইরাকের কুফায় চলে যান। তবে সিরিয়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার পথে আব্বাসীয় সৈন্যরা দামেস্কের জনতার হামলা ও লুটপাটের শিকার হয়।[]

ইরাকে ফিরে এসে সুলায়মান আল-আমিনের প্রধান সমর্থক হিসেবেই থেকে যান। তিনি বাগদাদের “শান্তির শহর পিস” নামে পরিচিত দুর্গপ্রাচীরবেষ্টিত নগরে আল-আমিন ও তাঁর অনুগত আল-আবনা সৈন্যদের সঙ্গে অবস্থান নেন, যখন আল-মামুনের সেনাপতি তাহির ইবনুল হুসাইন ধীরে ধীরে শহরটিকে অবরোধ করে ফেলেন। ইতিহাসবিদ তাবারির (মৃত্যু ৯৩৭) ইতিহাসগ্রন্থে বর্ণিত একটি বর্ণনা অনুযায়ী, তাহির ইবনুল হুসাইন সুলায়মানসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের দায়িত্ব দেন যে, যেন তারা খলিফা আল-আমিনকে বুঝিয়ে আত্মসমর্পণ করে আল-মামুনের কর্তৃত্ব মেনে নিতে রাজি করাতে পারেন। []

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Madelung 2000, পৃ. 328।
  2. Kennedy 1990, পৃ. 94, 148–149।
  3. Bosworth 1989, পৃ. 23।
  4. Bosworth 1989, পৃ. 138।
  5. Fishbein 1992, পৃ. 3।
  6. Fishbein 1992, পৃ. 239, note 805।
  7. Madelung 2000, পৃ. 330, 333–334।
  8. Madelung 2000, পৃ. 331।
  9. Fishbein 1992, পৃ. 181–183।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Bosworth, C.E., সম্পাদক (১৯৮৯)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXX: The ʿAbbāsid Caliphate in Equilibrium: The Caliphates of Mūsā al-Hādī and Hārūn al-Rashīd, A.D. 785–809/A.H. 169–192। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৮৭০৬-৫৬৪-৪
  • Kennedy, Hugh, সম্পাদক (১৯৯০)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXIX: Al-Mansūr and al-Mahdī, A.D. 763–786/A.H. 146–169। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-০১৪২-২
  • Fishbein, Michael, সম্পাদক (১৯৯২)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXXI: The War Between Brothers: The Caliphate of Muḥammad al-Amīn, A.D. 809–813/A.H. 193–198। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-১০৮৫-১
  • Madelung, Wilferd (২০০০)। "Abūʾl ʿAmayṭar the Sufyānī"Jerusalem Studies in Arabic and Islam২৪: ৩২৭–৩৪৩।
  • Cobb, Paul M. (২০০১)। White Banners: Contention in 'Abbasid Syria, 750–880। SUNY Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৭৯১৪-৪৮৮০-৯