সুরেহ হেরা
সুরেহ হেরা (জন্ম ১৯৭৩)[১] একজন ইরানি শিল্পী এবং আলোকচিত্রী। এটি তাঁর নিজের জন্য বেছে নেওয়া একটি ছদ্মনাম।[২] তাঁর কাজে প্রায়শই ইসলামী নবী মুহাম্মদের চিত্রকর্ম থাকে। কিছু লোকের কাছে সেটি বাক স্বাধীনতার প্রকাশ এবং অন্যদের কাছে সেটি আপত্তিকর ইসলামবিদ্বেষ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।[২] তিনি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসে অবস্থান করছেন।[৩]
জীবনী
[সম্পাদনা]হেরা তেহরানে জন্মগ্রহণ করেন।[৩] তিনি হেগ স্কুল অফ ফাইন আর্ট থেকে স্নাতক হয়েছেন।[৪]
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি "একটি বিবৃতি জারি করে যাতে বাহিনী গঠনের আহ্বান জানানো হয়।"[৫] এছাড়াও, তাঁকে "ইসলামের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা" সহ "শয়তান শিল্পী" বলা হয়।[৫] এর ফলে হেরার বিরুদ্ধে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়। এই কারণে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।[৫] তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফতোয়াও জারি করা হয়েছে।[২]
কাজ
[সম্পাদনা]হেরা তাঁর কাজকে ইসলামের বিভিন্ন শিক্ষা, যেমন সমকামিতার মতো বিষয়গুলিতে বিদ্যমান দ্বিমুখী নীতি উন্মোচন করা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।[২] তিনি মনে করেন যে ধর্মের সমালোচনা করার জন্য যৌনতা সম্পর্কে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।[৩] হেরা বলেন যে "ইরান বা সৌদি আরবের মতো দেশে বিবাহিত পুরুষদের অন্য পুরুষদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা সাধারণ।"[৬] তিনি বলেন যে "আমি আশা করছি আমার কাজ আলোচনার জন্ম দেবে।"[২] সেন্সর করা তাঁর একটি কাজ, "আদম এবং ইওয়াল্ড", ছিল মুখোশ পরা সমকামী পুরুষদের একটি ছবি, সেখানে মুহাম্মদ এবং তাঁর জামাতা আলিকে চিত্রিত করা হয়েছে।[৭] "আদম এবং ইওয়াল্ড" হল আদম অ্যাণ্ড ইওয়াল্ড, ডি জেভেণ্ডেডাগসগেলিফডেন ( আদম এবং ইওয়াল্ড, সেভেন্থ-ডে লাভার্স ) নামক একটি সিরিজের অংশ।[৮] সিরিজের শিরোনামটিতে আদম এবং ইভের গল্পের উল্লেখ আছে। এখানে একজন রক্ষণশীল খ্রিস্টান ডাচ রাজনীতিকের একটি বক্তৃতারও উল্লেখ রয়েছে।[৯]
যারা হেরার কাজকে আপত্তিকর বলে মনে করে, তারা হেরার কাজ দেখানোর চেষ্টা হলে হুমকি দেয়, কিছু জাদুঘর এই হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।[৫] ২০০৭ সালের নভেম্বরে, হেগ জেমিনটেমিউসিয়াম মুসলিম সম্প্রদায়কে বিরক্ত না করার জন্য হেরার তৈরি কিছু কাজ সরিয়ে ফেলে।[৫] হেরার শিল্পের ওপর এই সেন্সরশিপ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি ছিল "প্রথম কোনো ঘটনা যেখানে কোনো সরকারি সংস্থার পরিবর্তে একটি ডাচ জাদুঘর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাদের নিজেদের দেয়াল থেকে কোনো শিল্পকর্ম সরিয়ে দিয়েছে"।[৫] জাদুঘরের পরিচালক অভিযোগ করেছেন যে, হেরা প্রেসের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানিমূলক কাজ তৈরি করেছেন।[১০] তা সত্ত্বেও, জাদুঘরটি এখনও তাঁর সম্পূর্ণ সিরিজ কেনার কথা বিবেচনা করে।[১১] হেরা সিদ্ধান্ত নেন যদি তাঁর কোনো কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তবে তিনি সেই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবেন না।[১২] নেদারল্যান্ডসের শিল্পীরা হেরাকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ডাচ সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন, যেটি এনআরসি হ্যাণ্ডেলসব্লাড পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।[১৩] হেরাকে তাঁর কাজ গৌড়ার পৌর জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যদিও গৌড়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের হুমকির কারণে প্রদর্শনীটি স্থগিত করা হয়েছিল।[১৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]উদ্ধৃতি
[সম্পাদনা]- ↑ Kuiper, Annelies (১ ডিসেম্বর ২০০৭)। "Respectloos!"। Cultureel Supplement (ওলন্দাজ ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬।
- 1 2 3 4 5 Winter, Jana (৩ মে ২০০৮)। "Iranian Artist Fights to Have Muhammad Art Displayed in Dutch Museums"। Fox News। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬।
- 1 2 3 "Soore"। Soore (ওলন্দাজ ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬।
- ↑ Golding 2014, পৃ. 18।
- 1 2 3 4 5 6 Esman, Abigail (১৮ ডিসেম্বর ২০০৭)। "No Gay Gods?"। ArtNet। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬।
- ↑ Campbell, Matthew (৬ জানুয়ারি ২০০৮)। "Woman Artist Gets Death Threats Over Gay Muslim Photos"। Sunday Times। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬ – EBSCO এর মাধ্যমে।
- ↑ Esman 2010, পৃ. 190।
- ↑ Meijer-van Mensch 2013, পৃ. 48।
- ↑ Meijer-van Mensch 2013, পৃ. 48-49।
- ↑ Schweighofer, Kerstin (১২ ডিসেম্বর ২০০৭)। "Streit um Homo-Mohammed"। Art Das Kunstmagazin (জার্মান ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬।
- ↑ "Hague Museum Pulls Offensive Muslim Art"। The Age। ৩ ডিসেম্বর ২০০৭। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৬।
- ↑ Esman 2010, পৃ. 236।
- 1 2 Meijer-van Mensch 2013, পৃ. 50।
সূত্র
[সম্পাদনা]- Esman, Abigail R. (২০১০)। Radical State: How Jihad is Winning Over Democracy in the West। Praeger। আইএসবিএন ৯৭৮০৩১৩৩৪৮৪৭১।
- Golding, Viv (২০১৪)। "Museums and Truths: The Elephant in the Room"। Museums and Truths। Cambridge Scholars Publishing। আইএসবিএন ৯৭৮১৪৪৩৮৫৪৪৯৮।
- Meijer-van Mensch, Leontine (২০১৩)। "New Challenges, New Priorities: Analyzing Ethical Dilemmas From a Stakeholder's Perspective in the Netherlands"। New Directions in Museum Ethics। Routledge। আইএসবিএন ৯৭৮০৪১৫৫২২৮৭৮।