বিষয়বস্তুতে চলুন

সুরমাসুন্দরী ঘোষ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সুরমাসুন্দরী ঘোষ
স্থানীয় নাম
সুরমাসুন্দরী বসু
জন্ম(১৮৭৪-০৮-১৯)১৯ আগস্ট ১৮৭৪
মালখানগর ব্রিটিশ ভারত ( বর্তমানে বাংলাদেশ)
মৃত্যু১৯৪৩
কলকাতা ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ)
ভাষাবাংলা
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয়
উল্লেখযোগ্য পুরস্কারকুন্তলীন পুরস্কার
দাম্পত্যসঙ্গীনিশিকান্ত ঘোষ

সুরমাসুন্দরী ঘোষ (বিবাহের পূর্বে সুরমাসুন্দরী বসু) ( ১৯ আগস্ট ১৮৭৪ - ১৯৪৩) [১] ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের একজন মহিলা কবি, যিনি ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে কুন্তলীন পুরস্কারে সম্মানিত হন।[২]

জীবনী

[সম্পাদনা]

সুরমাসুন্দরী বসুর জন্ম ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দের ১৯ আগস্ট ( ১২৮১ বঙ্গাব্দের ৪ ভাদ্র) ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন ঢাকা জেলার মালখানগর গ্রামের সুপ্রসিদ্ধ কায়স্থ সমাজের শ্রেষ্ঠ কুলীন বসু-ঠাকুর বংশে। পিতা উমেশচন্দ্র বসু ছিলেন একজন আইনজীবী। মালখানগর গ্রামে তাদের বাড়িতে একটি বালিকা বিদ্যালয় ছিল। সেই বিদ্যালয় থেকে তের বৎসর বয়সে তিনি উচ্চ প্রাইমারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং বৃত্তি লাভ করেন। এর পর কিছুদিন তিনি ঢাকার ইডেন বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। [৩]

১২৯৩ বঙ্গাব্দের ১৯ অগ্রহায়ণ বিক্রমপুরের বজ্রযোগিনী গ্রাম নিবাসী ময়মনসিংহের খ্যাতনামা উকিল চন্দ্রকান্ত ঘোষের জ্যেষ্ঠ পুত্র, কলেজ-ছাত্র নিশিকান্ত ঘোষের সাথে তার বিবাহ হয়। পরে নিশিকান্ত আইন পাশের পর পিতার ন্যায় ময়মনসিংহে ওকালতি শুরু করেন। [৩]

শৈশব হতে সুরমাসুন্দরী কবিতা পাঠ করতেন এবং নিজে ছন্দ মেলাতে চেষ্টা করতেন। বিবাহের পর নিশিকান্ত তার সাহিত্য অনুরাগী হওয়ার জন্য বিশেষ উৎসাহ দিতেন, যত্ন ও শ্রমে সচেষ্ট ছিলেন। নিজেও কবিতা লিখতেন। সুষমাসুন্দরীর লেখা কয়েকটি কবিতা নিশিকান্ত তার কাব্যগ্রন্থ অশ্রু তে প্রকাশ করেন। এই সময়ে সুরমাসুন্দরী স্বামীর আগ্রহে কলকাতার পূর্ববঙ্গ স্ত্রী শিক্ষা কমিটি-র আয়োজনে বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ পরীক্ষায় বসেন এবং প্রথম হয়ে 'স্বর্ণপদক' লাভ করেন। [১][৩]

সুরমাসুন্দরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সঙ্গিনী ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। তবে এর আগে তার বহু কবিতা 'প্রদীপ', 'উৎসাহ', 'প্রভাত' ইত্যাদি মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ রঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে। তার কাব্যগ্রন্থ গ্রন্থদুটি কুন্তলীন প্রেসে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয় [১] সুরমাসুন্দরীর কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব পরিস্ফুট এবং তা কেবল ছন্দে বা শব্দে নয়, ভাব এবং বাক্য-বিন্যাসে লক্ষিত হয়।[৩] এবং ওই বছরই তিনি তার নিয়তি" কবিতার জন্য কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন।[২]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, নভেম্বর ২০১৩, পৃষ্ঠা ৮০৯, আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৭৯৫৫-১৩৫-৬
  2. 1 2 "কুন্তলীন পুরস্কারের সূচি"। সংগ্রহের তারিখ ৩০ জুলাই ২০২৫।
  3. 1 2 3 4 যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত। বঙ্গের মহিলা কবি। ঢাকা ও কলকাতা: সুধাংশুশেখর গুপ্ত। পৃ. ২৭৭–২৭৮। সংগ্রহের তারিখ ১৬ জুন ২০২৫।