সুরজগড়ের যুদ্ধ
| সুরজগড়ের যুদ্ধ | |||
|---|---|---|---|
| |||
১৫৩৪ সালে বিহারের লোহানী নসবীয় পাঠান সরদাররা এবং বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শার সম্মিলিত ফওজ এবং শের খাঁ সূরীর মধ্যে বিহারে সূরজগঢ়ের জঙ্গ সংঘটিত হয়। [১][২]
পটভূমি
[সম্পাদনা]মখদূম আলম বাংলার আজাদ সুলতান দ্বিতীয় আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহকে কতলের আরজ জানিয়ে গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহকে বাংলার সুলতান হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। মখদূম আলম সলতনতের বিহার বিভাগের উপশাসক শের খাঁ সূরীর সাথে একটি মৈত্রী গঠন করেন। এবং পরে সে এঙ্কেলাবী নখরা দেখায়। সেই ওক্তে শের খাঁ সূরী ছিলেন বিহারের শাসক কারণ তিনি জলাল খাঁ লোহানীর ভারপ্রাপ্ত অভিভাবক ছিলেন। শের খাঁ সূরীর ক্রমবর্ধমান তাকৎ বিহারে দুটি গোষ্ঠীর সৃষ্টি করে, একটির নেতৃত্বে ছিলেন শের খাঁ সূরী এবং অন্যটির নেতৃত্বে ছিলেন জলাল খাঁ লোহানী। জলাল খাঁ লোহানী শের খাঁ সূরীর বিরুদ্ধে বাংলার সুলতান মাহমূদ শার সাহায্য চান এবং বাংলা আক্রমণের অজুহাত দেখিয়ে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেন এবং মাহমূদ শার আনুগত্য স্বীকার করে নিজেকে মাহমূদ শার পানায় আত্মসমর্পণ করেন। বাংলার সুলতানের দরবারে জলাল খাঁ লোহানীর পানা মাহমূদ শাহকে শের খাঁ সূরীকে দমন করার একচেটিয়া হক দেয়। ১৫৩৪ সালে মাহমূদ শাহ বিহার পুনঃজয়ের জন্য ইব্রাহীম খাঁর নেতৃত্বে কামান, ঘোড়সওয়ার এবং পদাতিক ফওজের একটি ফওজ প্রেরণ করেন। এই অভিযানে জলাল খাঁ লোহানীও ইব্রাহিম খাঁর সাথে ছিলেন। [৩]
জঙ্গ
[সম্পাদনা]১৫৩৪ সালের মার্চ মাসে শের খাঁ সূরী বিহারের লোহানী সরদার এবং বাংলার মাহমূদ শাহের সম্মিলিত ফওজকে আকস্মিকভাবে আক্রমণ করেন এবং সুরজগড়ে তাদের পরাজিত করেন। এই যুদ্ধে সিপাহসালার ইব্রাহীম খাঁ পরাজিত ও নিহত হন এবং জলাল খাঁ লোহানী তার পৃষ্ঠপোষক মাহমূদ শাহের কাছে ফিরে যেতে বাধ্য হন। [৪] শেরশাহ বিজয়ের সাথে সাথে সমগ্র বিহার আক্রমণ করেন। [৫]
পরিণতি
[সম্পাদনা]সুরজগড়ের যুদ্ধ বাংলার সামরিক মর্যাদা ধ্বংস করে দেয়। এরপর লোহানীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গিয়াসউদ্দিন মাহমূদ শাহ এবং শের খাঁ সূরী উভয়ই শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। ইতিমধ্যে, বঙ্গোপসাগর পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের আগমন এবং তাদের কার্যকলাপ মাহমূদকে আরও সমস্যায় ফেলে দেয়। [৬] ১৫৩৪ সালে, পর্তুগিজরা বাংলায় বাণিজ্য শুরু করার জন্য চাটগাঁ বন্দরে আসে। কিন্তু তারা চাটগাঁর মুসলিম গভর্নর এবং ব্যবসায়ীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছিল। [৭] ফলস্বরূপ, গিয়াসউদ্দিন মাহমূদ শাহের নসীহতে তাদের বন্দী করা হয় এবং বন্দী হিসেবে রাজধানী গৌড়ে পাঠানো হয়। কিন্তু শের খাঁ সূরীর আক্রমণাত্মক কার্যকলাপের কারণে, যা সুরজগড় বিজয়ের ফলে তীব্রতর হয়েছিল, মাহমূদ তার রাহা বদলাতে বাধ্য হন।শের খাঁ সূরীর সাথে মোকাবিলা করার জন্য মাহমূদ শাহ পর্তুগিজদের সাথে দোস্তী কায়েমের দরকার উপলব্ধি করেছিলেন। এই উপলব্ধি নিয়ে বন্দীদের আজাদী দেওয়া হয়েছিল; বাদে তিনি ডি মেলো জুসার্তেকে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেন। পর্তুগিজদের চাটগাঁ এবং সাতগাঁ ( হুগলি ) তে কারখানা নির্মাণের এজাজৎ দেওয়া হয়েছিল। [৮]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]- সুর সাম্রাজ্য
- সুর (পশতুন উপজাতি)
- দিল্লি সালতানাত
- গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Sarkar, J.M. Belal Hossain (২০১২)। History of the Indian Subcontinent। Hasan Book House। পৃ. ১৭।
- ↑ Anwar, Shakeel (১৩ ডিসেম্বর ২০১৭)। "The Sur Empire"। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২১।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Ahmed, ABM Shamsuddin। "Ghiyasuddin Mahmud Shah"। Banglapedia। Asiatic Society of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "Afghan Emperor Sher Shah Suri defeats Mughal Emperor Humayun, forcing him to live in exile"। ১৭ মে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২১।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ "Sher Shah Suri Biography"। MapsofIndia.com। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২১।
- ↑ "Portuguese, The - Banglapedia"। en.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০২৩।
- ↑ "The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204–1760"। publishing.cdlib.org। সংগ্রহের তারিখ ২৮ অক্টোবর ২০২৩।
- ↑ Sonali (২৯ নভেম্বর ২০১৪)। "The Early Carrier & Military Achievements of Sher Shah Suri"। History Discussion। সংগ্রহের তারিখ ৯ আগস্ট ২০২১।