সুধা প্যাটেল
সুধা প্যাটেল (জন্ম ১৯৭৬) ভারতের সর্বকনিষ্ঠ নির্বাচিত অন্ধ মহিলা সরপঞ্চ বা পঞ্চায়েত-প্রধান।[১] তিনি ১৯৯৫ সালের জুন মাসে[২] গুজরাতের আনন্দ জেলার চাঙ্গা গ্রামের[৩] সরপঞ্চ হিসাবে নির্বাচিত হন।[৪] সুধা মর্যাদাপূর্ণ 'টেন আউটস্ট্যান্ডিং ইয়ং পারসনস অফ ওয়ার্ল্ড (১৯৯৭) পুরস্কার, অসামান্য মহিলা পঞ্চায়েত লিডার অফ ইন্ডিয়া পুরস্কার,[৫] এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জগদীশ কে প্যাটেল পুরস্কার লাভ করেন।[১]
প্রাথমিক জীবন
[সম্পাদনা]সুধা প্যাটেল গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে আনন্দ জেলার পেটলাদ তালুকের চাঙ্গা গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।[৫] তার বাবা ছিলেন গ্রামের সরপঞ্চ। সুধা এবং তার বোন উভয়েই জন্মের পর থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।[৬] তিনি এক সাক্ষাতকারে বলেন যে তাকে যে জন্মান্ধ হওয়া সত্ত্বেও জন্মের সাথে সাথেই মেরে ফেলা হয়নি কারণ তার জন্মের বছর গ্রামে খুব ভাল ফসল হওয়াতে গ্রামবাসীরা তাকে সম্পদের দেবী লক্ষ্মী হিসাবে ভাগ্যবান বলে মনে করেছিল।[৭]
সুধা ভারতের গুজরাতের আনন্দের সরদার প্যাটেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম অন্ধ মহিলা যিনি আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। তার লিঙ্গ এবং তার অক্ষমতার কারণে, যখন তিনি সরপঞ্চ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তখন অনেকেই অবাক হয়ে তাকিয়েছিল, কিন্তু সমস্ত বাধা জয় করে তিনি গ্রামের প্রথম মহিলা সরপঞ্চ হওয়ার জন্য নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।[৮]
কর্মজীবন
[সম্পাদনা]সরপঞ্চ হিসেবে, সুধা পরিকাঠামোগত উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছেন, জলের অভাব মোকাবেলায় বোরওয়েল এবং পানির পাম্প নির্মাণ করিয়েছেন[৬], এবং পাবলিক হাসপাতাল কনফারেন্স হল ইত্যাদি নির্মাণে জোর দিয়েছেন। শিক্ষা সুধার আরেকটি অগ্রাধিকারের জায়গা; তিনি সরপঞ্চ থাকাকালীন শ্রমিকদের বাচ্চাদের জন্য বেশ কয়েকটি কম্পিউটার-সহ আধুনিক স্কুল নির্মাণ করিয়েছেন। তিনি পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিও শুরু করেন এবং তার পরিচালিত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভারতীয় মুদ্রায় ১০ মিলিয়ন টাকা জোগাড় করেন। প্যাটেল প্রতিবন্ধীদের জন্যও অনেক কর্মসূচি পরিচালনা করেন।[৯] তিনি পেটলাদ তালুকের প্রায় ৮৫টি গ্রামে পুনর্বাসন প্রকল্প পরিচালনা করেছেন এবং প্রায় ৮০০ জন প্রতিবন্ধীকে পুনর্বাসিত করেছেন।[২] অন্ধ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য তার পুনর্বাসন প্রকল্প দিব্যাঙ্গ শিশুদের বাবা-মা, দিব্যাঙ্গ শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষামূলক ও পুনর্বাসনমূলক প্রশিক্ষণ দিয়েছে।[২] তিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা কর্মসূচীর অধীনে প্রতিবন্ধী ছাত্রদেরও পড়িয়েছেন[৫][১০] এবং স্কুলে ৮০ জনেরও বেশি অন্ধ শিশুদের ভর্তি করেছেন।[১১] বার্ষিক মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সাহায্য করার জন্য সহকারী লেখকদের ব্যবস্থা করার জন্য সুধা প্যাটেলের কাজ ব্যাপকভাবে প্রশংসিত।[১২]
সুধা, যিনি গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যকে ব্যক্তিগত লক্ষ্য রূপে গ্রহণ করেছেন, তার পঞ্চায়েতের অধীনস্থ লোকদের যোগব্যায়াম প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছেন।
স্বীকৃতি
[সম্পাদনা]সুধা প্যাটেল তার কাজের জন্য বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। ১৯৯৭ সালের ১৮ই নভেম্বর, তিনি ইয়ং পারসন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড জয়ী সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হন। সে বছর তিনি জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক প্রদত্ত আউটস্ট্যান্ডিং ইয়ং পারসন অব দ্য নেশন অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন, যা ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট তার হাতে তুলে দেন।[১৩] তিনি ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস, নয়াদিল্লি থেকে অসামান্য মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান পুরস্কার এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য ব্লাইন্ডের নীলম রঙ্গা জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন।[১৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 Aug 6, TNN |; 2018। "Gujarat guv felicitates four blind achievers | Ahmedabad News - Times of India"। The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০২০।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|শেষাংশ2=-এ সাংখ্যিক নাম রয়েছে (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - 1 2 3 "Hamaara Bharat Mahaan"। mahaanbharat.tripod.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০২০।
- ↑ "The Tribune, Chandigarh, India - HER WORLD"। www.tribuneindia.com। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০২০।
- ↑ Bandyopadhyay, Debabrata; Mukherjee, Amitava (২০০৬)। Empowering Women Panchayat Members: Handbook for Master Trainers Using Participatory Approach (ইংরেজি ভাষায়)। Concept Publishing Company। আইএসবিএন ৯৭৮-৮১-৮০৬৯-৩০৩-৮।
- 1 2 3 Soni, Nikunj (৯ মার্চ ২০১০)। "Blind, but with the vision of a yogi"। DNA India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০২০।
- 1 2 "Read how this blind woman sarpanch from Gujarat is challenging notions about disability & gender"। Newz Hook - Changing Attitudes towards Disability (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৪ মে ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০২০।
- ↑ Garg, Shweta Rao; Gupta, Deepti (১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। The English Paradigm in India: Essays in Language, Literature and Culture (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৮১-১০-৫৩৩২-০।
- ↑ Rana, Niyati (৭ মার্চ ২০০৭)। "The visionary who changed her village"। DNA India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০২০।
- ↑ Ravi, S (৯ জানুয়ারি ২০১৫)। "Unleashing power"। The Hindu।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ Mar 5, Prashant Rupera | TNN |; 2010। "This visually disabled ensures board students get a helping hand | Vadodara News - Times of India"। The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৮ মে ২০২০।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|শেষাংশ2=-এ সাংখ্যিক নাম রয়েছে (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ "Rediff On The NeT: Indian society is blind to a fault"। www.rediff.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০২০।
- ↑ Mar 5, Prashant Rupera | TNN |; 2010। "This visually disabled ensures board students get a helping hand | Vadodara News - Times of India"। The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০২০।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}:|শেষাংশ2=-এ সাংখ্যিক নাম রয়েছে (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: সাংখ্যিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - 1 2 "Women Leaders in Panchayats" (পিডিএফ)।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক)