সুজা খন্দকার
সুজা খন্দকার | |
|---|---|
| জন্ম | সুজা খন্দকার ২৮ জানুয়ারি ১৯৪১ |
| মৃত্যু | ২ মার্চ ১৯৯৭ (বয়স ৫৬) ঢাকা, বাংলাদেশ |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| নাগরিকত্ব |
|
| মাতৃশিক্ষায়তন | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
| পেশা | |
| প্রতিষ্ঠান | বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স |
| টীকা | |
বিমানের প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইটের এটেন্ডেন্ট | |
সুজা খন্দকার (২৮ জানুয়ারি ১৯৪১ – ২ মার্চ ১৯৯৭), ছিলেন একজন বাংলাদেশী অভিনেতা ও বিমান কর্মকর্তা। জীবদ্দশায় তিনি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি একাধারে মঞ্চ, বেতার ও টেলিভিশনে নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেন।মঞ্চনাটক মুন্তাসিরের ফ্যান্টাসি, টেলিভিশনে প্রচারিত ধারাবাহিক সংশপ্তক, এইসব দিনরাত্রি, আজ রবিবার তার উল্লেখযোগ্য নাট্যকর্ম। চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন দিয়ে।[১] মজার চরিত্রে সাবলিল অভিনয়ের জন্য দর্শকপ্রিয় ছিলেন।[২] বাংলাদেশের আকাশ পরিবহন সেবার সাথে তার নাম জড়িত। তিনি ও মিনা চৌধুরী, ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি এবং জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ পরিচালনা সংস্থা বাংলাদেশ বিমানের প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রার 'ফ্লাইট এটেন্ডেন্ট' ছিলেন।[৩]
অভিনয় জীবন
[সম্পাদনা]সুজা খন্দকার একাধারে মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন।[২] তিনি ঢাকা থিয়েটারের সাথে যুক্ত ছিলেন। দলটির প্রযোজিত মুনতাসির ফ্যান্টাসি নাটকে মুন্তাসিরের চরিত্রে কাজ করেছিলেন।[৪] টেলিভিশনের বিভিন্ন নাটকে মজার চরিত্রে সাবলিল অভিনয়ের জন্য দর্শকপ্রিয় ছিলেন। 'সাদেক আলী' তার অভিনীত একটি প্রখ্যাত নাট্যচরিত্র।[২] সংশপ্তক, এইসব দিনরাত্রি, ‘দূরে কোথাও, মোহর আলী, টেনশন, রূপনগর ও আজ রবিবার তার জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকের অন্যতম।[৫][৬][৭] তিনি নাটক, চলচ্চিত্র ছাড়াও বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন।[১] ইলিশ ধরা নিয়ে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপনের সংলাপ "ঝাঁকে ঝাঁকে জাটকা/কারেন্ট জালে আটকা" তার অন্যতম জনপ্রিয় সংলাপের একটি।[২][৮]
১৯৭২ সালে ওরা ১১ জন-এ একজন পাকসেনার চরিত্র রূপায়নের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন।[৫] পায়ে চলার পথ, দেনা-পাওনা, সাধু শয়তান, সুজন সখি, সারেং বউ, তাসের ঘর, সখি তুমি কার, সুখের সংসার, এখনই সময়, পেনশন, তিনকন্যা, সাহেব, লালু সর্দার, বিক্ষোভ, তোমাকে চাই, দেনমোহর, মায়ের অধিকার, প্রিয় তুমি, শেষ সংগ্রাম তার করা উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র।[১][২]
নাটক চলচ্চিত্র ছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির বিভিন্ন নাট্যাংশের নিয়মিত অভিনেতা ছিলেন।[৯]
ব্যক্তিগত জীবন
[সম্পাদনা]সুজা খন্দকার ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত পাবনা জেলায় ১৯৪১ সালের ২৮ জানুয়ারি একটি বাঙালি মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর অর্জন করেন। তার মৃত্যু হয় ঢাকায়, ১৯৯৭ সালের ২ মার্চ।[২]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 "সুজা খন্দকারের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ"। এনটিভি। ২ মার্চ ২০২০। ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৫।
- 1 2 3 4 5 6 "অভিনয়ের মজার মানুষ সুজা খন্দকারকে মনে পড়ে?"। জাগো নিউজ। ২ মার্চ ২০২০। ৩ মার্চ ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৫।
- ↑ জোহা খান, কমল (৮ জানুয়ারি ২০২০)। "এক ডাকোটা থেকে ১৮ ড্যাশ-বোয়িং, রুট-লাভ দুটোই নিম্নমুখী"। প্রথম আলো। ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫।
- ↑ সাগর, ফরিদুর রেজা (৩০ জুলাই ২০২১)। "অভিনন্দন ঢাকা থিয়েটার"। দৈনিক ইত্তেফাক। ১৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫।
- 1 2 মতি, রহমান (২ মার্চ ২০২২)। "হৃদয়ে আছেন সুজা খন্দকার"। বাংলা মুভি ডেটাবেজ। ২২ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৫।
- ↑ "'আজ রবিবার' পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে কেঁদেছিলেন জীবন"। চ্যানেল আই অনলাইন। ২৭ জুন ২০২৪। ২৮ জুন ২০২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৫।
- ↑ সোহাগ, রকিবুল ইসলাম (২ মার্চ ২০২১)। "অভিনেতা সুজা খন্দকার-এর ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ"। নিরাপদ নিউজ। ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ জুন ২০২৫।
- ↑ হক, এনামুল (৮ নভেম্বর ২০১৪)। "সাদেক আলী ভাই, আমরা এখন টাটকা ইলিশ খাই…"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ "ইত্যাদির নিত্যজন"। কালের কণ্ঠ। ৩০ অক্টোবর ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০২৫।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- বাংলা মুভি ডেটাবেজে সুজা খন্দকার
- ইন্টারনেট মুভি ডেটাবেজে সুজা খন্দকার (ইংরেজি)