সুইডেনে ইসলামবিদ্বেষ
সুইডেনে ইসলামো বিদ্বেষ বা ইসলাম ভীতি বলতে এমন সব কার্যক্রম, আচরণ ও আলোচনা বোঝায়, যা সুইডেনে ইসলাম ও মুসলমানদেট প্রতি শত্রুতা, উদ্বেগ, ভয় ও এড়িয়ে চলার অনুভূতি প্রকাশ করে। [১][২] ঐতিহাসিকভাবে সুইডেনে মুসলিমদের প্রতি মনোভাব বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৬ শতকের গোড়ার দিকে এই সম্পর্ক বেশ নেতিবাচক ছিল।[৩] তবে ১৮শ শতকে তা কিছুটা উন্নতি লাভ করে।[৪] ২০শ শতকের গোড়ার দিকে সুইডিশ জাতীয়তাবাদের উত্থানের ফলে ইসলাম ও মুসলিমদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পুনরায় বাড়তে থাকে।[৫] সুইডিশ ধর্মতাত্ত্বিক ও ইতিহাসবিদ জোনাস অটারবেকের মতে, ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমানে উন্নত হলেও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও কুসংস্কার এখনো অনেক বেশি। [৬] ইসলামবিদ্বেষ বিভিন্নভাবে প্রকাশ পেতে পারে; যেমন: কর্মস্থলে বৈষম্য,[৭] গণমাধ্যমে পক্ষপাতদুষ্ট উপস্থাপন,[৮] মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ইত্যাদি। [৯] বর্তমান অভিবাসন-বিরোধী [১০][১১] ও ইসলামবিদ্বেষী [১২] সুইডেন ডেমোক্র্যাটস হল সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিকভাবে সুইডেনে মুসলিমদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৬ শতকের শুরুতে ইসলামের প্রতি মনোভাব ছিল বেশ নেতিবাচক। সে সময় ইসলামকে সহিংস, উগ্রবাদী ও একটি নিষ্ঠুর ধর্ম হিসেবে চিত্রিত করা হত। [৩] একটি বিখ্যাত চিত্রকর্মে দেখা যায়, সেন্ট ক্রিস্টোফার শিশুপুত্র যিশুকে রক্ষা করছেন, আর সেখানে নবী মুহাম্মাদ ও পোপ পানিতে ডুবে যাচ্ছেন। এটি মূলত ক্যাথলিকবিরোধী হলেও ইসলামের প্রতিও নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছিল। সেই সময়কার সুইডীয় প্রার্থনার বইতেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাসূচক উক্তি পাওয়া যায় এবং সেখানে মুসলিমদের তুর্ক বা তাতার হিসেবে অভিহিত করে তাদের বিরুদ্ধে যিশুর সাহায্য চাওয়া হতো। ১৭ শতকে সুইডীয় সমাজে ইসলাম চর্চা নিষিদ্ধ করা হয়। দেশটির আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র সুইডীয় চার্চের অনুসারীরাই ধর্মচর্চার অধিকার পেতো। ১৭৩৪ সালে আইন আরো কঠোর করা হয়, যেখানে সুইডেনের নাগরিক হতে হলে লুথেরীয় খ্রিস্টান হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে মুসলিম বা অন্য ধর্মের লোকদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ছিল না। [১৩]
১৮শ শতকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। উসমানীয় সাম্রাজ্যের সঙ্গে সুইডেনের যোগাযোগ বাড়তে থাকায় মুসলমানদের প্রতি মনোভাব কিছুটা ইতিবাচক হয়। ১৭১৮ সালে রাজা দ্বাদশ কার্ল বিশেষ অনুমতি দেন, যার ফলে উসমানীয় মুসলমান ও ইহুদিরা সুইডেনে তাদের ধর্মচর্চার অধিকার ফিরে পায়। তবে এটি ছিল সাময়িক ব্যবস্থা এবং সুইডীয় সমাজে সাধারণভাবে মুসলমানদের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বহাল থাকে। [৪]
২০শ শতকের শুরুতে জাতীয়তাবাদের উত্থানের ফলে মুসলিমদের প্রতি বিরূপ মনোভাব আবারও বৃদ্ধি পায়। সেই সময় প্রাচ্যবিদ্যা খুবই জনপ্রিয় হতে শুরু করে, যা ইসলামের নেতিবাচক উপস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। সুইডেনের অন্যতম প্রাচ্যবিদ্যা গবেষক বিশপ নাথান সডারব্লম ইসলামের প্রতি অত্যন্ত তীব্র সমালোচনামূলক মনোভাব পোষণ করতেন এবং তার মতবাদ সুইডেনের শিক্ষাব্যবস্থা ও গবেষণায় গভীর প্রভাব ফেলে, যার ফলে ইসলামের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আরও সুসংহত হয়। [৫]
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সুইডেনে বহুত্ববাদ জনপ্রিয় হতে থাকে এবং অভিবাসীদের প্রতি নীতি কিছুটা শিথিল হয়। ১৯৮০-এর দশকে সুইডীয় সমাজে মুসলমানদের উপস্থিতি দৃশ্যমান হতে শুরু করে; তবে প্রতিক্রিয়া মিশ্র ছিল। অনেক সুইডীয় নাগরিক মনে করতেন, ইসলামি পোশাক (যেমন—হিজাব) ও ওয়াহাবি মতবাদ পুরো ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে, যা মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ আরো বাড়িয়ে তোলে। ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে কিছু কট্টরপন্থী অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠী মুসলমানদের সমাজের জন্যে হুমকি হিসেবে চিত্রিত করতে শুরু করে এবং বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকে সুইডেনের অর্থনৈতিক মন্দার জন্য মুসলিমদের দায়ী করা হয়। [১৪] [১৫]
বিশিষ্ট সুইডীয় গবেষক হকান হভিটফেল্ট এক জরিপ পরিচালনা করে দেখান, অধিকাংশ সুইডীয় নাগরিক ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তারা ইসলামকে গণতন্ত্রবিরোধী, নারী নির্যাতনকারী ও সম্প্রসারণবাদী ধর্ম বলে মনে করতেন। ২০০০ সালের পর ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি মনোভাব কিছুটা উন্নত হলেও ইসলামবিদ্বেষ এখনো সুইডীয় সমাজে গভীরভাবে প্রোথিত। সুইডীশ ধর্মতাত্ত্বিক জোনাস ওটারব্যাকের মতে ইসলামের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা পরিবর্তিত হলেও মুসলমানদের প্রতি সুইডেনে কুসংস্কার ও বৈষম্য এখনো প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান।.[১৫]
বর্তমানে সুইডেনে ইসলামবিদ্বেষ বিভিন্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। কর্মস্থলে মুসলিমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন; গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চলছে এবং অনেক সময় তারা সহিংস হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। সুইডেনে সুইডেনে ডেমোক্রেটস নামে একটি কট্টরপন্থী দল পার্লামেন্টে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে অবস্থান করছে, যারা অভিবাসনবিরোধী এবং ইসলামবিদ্বেষী নীতিতে বিশ্বাসী। [৬]
কর্মসংস্থানে
[সম্পাদনা]২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ক্যালমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্স আগারস্ট্রম ও ড্যান-ওলোফ রুথ পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, "মনোভাবের দিক থেকে ৪৯% নিয়োগদাতা প্রকাশ্যে বলেছে যে, তারা আরব-মুসলিম পুরুষদের তুলনায় স্থানীয় সুইডীয় পুরুষদের প্রতি অধিক ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। তবে আইএটি পরীক্ষায় দেখা যায়, ৯৪% অংশগ্রহণকারীর মধ্যেই একটি মৃদু পক্ষপাতিত্ব ছিল। উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে ৭৮% সুইডীয় আরব-মুসলিম পুরুষদের কম উৎপাদনশীল বলে মনে করলেও মাত্র ১২% প্রকাশ্যে বলেছেন যে, এই গোষ্ঠীটি স্থানীয় সুইডীয় পুরুষদের তুলনায় কম কার্যকর। নিয়োগের প্রসঙ্গে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা হলে অর্ধেক নিয়োগদাতা বলেছেন, তারা স্থানীয় সুইডীয় পুরুষদেরই অগ্রাধিকার দেন। [১৬][১৭]
২০০৭ সালে স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের মোয়া বুরসেল পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় যে, যেসব চাকরির আবেদনপত্রে সুইডীয় নাম ছিল, সেগুলি বিদেশি নামধারী আবেদনগুলোর তুলনায় দ্বিগুণ বেশি সাক্ষাৎকারের ডাক পেয়েছে; যদিও সবার যোগ্যতা একই ছিল। [১৮]
২০১২ সালের আরো একটি গবেষণায় দেখা যায় যে, যেখানে আরবি নামধারী আবেদনকারীদের আরও বেশি দক্ষ ও আকর্ষণীয় করে উপস্থাপন করা হয়, সেখানেও সুইডীয় নামধারী আবেদনকারীরাই বেশি ডাক পেয়েছে। ২০১৩ সালে সুইডিশ মুসলিম ইন কোঅপারেশন নেটওয়ার্কের একটি রিপোর্টে বলা হয়, শ্রমবাজারে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যের পরিমাণ খুবই উদ্বেগজনক। [১৯]
শিক্ষাক্ষেত্রে
[সম্পাদনা]২০১৫ সালে সুইডীয় এনজিও এক্সেপো জানায়, স্কুল স্টাফ ও পাঠ্যবইগুলিতে বৈষম্য ও বিদ্বেষ দূর করার যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। [২০]
জোনাস ওটারবেকের একটি গবেষণায়ও দেখা যায়, পাঠ্যবইগুলোতে ইসলামের বিরুদ্ধে বহু নেতিবাচক বর্ণনা রয়েছে। [২১]
১৯৯৩ সালে কজেল হ্যারেনস্টামের গবেষণায় বলা হয়, পাঠ্যবইগুলো প্রায়ই ইসলামকে "সামরিকমুখী" হিসেবে উপস্থাপন করে। [২২]
২০০৬ সালে লেনা সয়্যার ও মাসউদ কামালির যৌথ গবেষণায় দেখা যায়, স্কুল পাঠ্যপুস্তকে প্রায়ই সভ্যতার সংঘর্ষের ধারণা তুলে ধরা হয়, যেখানে সুইডীয় সমাজ ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বিরোধের চিত্র আঁকা হয়। [২৩]
জাহরা বায়াতির গবেষণায় বলা হয় যে, "সমাজের জাতিগত বিভাজন শিক্ষায়ও প্রতিফলিত হয়; যেমন যৌথ অনুশলীন কিংবা কাজের জায়গার বরাদ্দে।" [২৪]
গণমাধ্যমে
[সম্পাদনা]ইলভা ব্রুন (২০০৬) ও মুহাম্মদ ফাযল হাশেমি (২০০৭) দেখিয়েছেন যে, মুসলিম ও অভিবাসীদের প্রায় ‘ভিন্ন’ হিসেবে চিত্রিত করা হয় এবং তাদের সঙ্গে সহিংসতার 'রূঢ় ধারণা' জুড়ে দেওয়া হয়। [২৫][২৬]
তবে ২০১৫ সালে সুইডীয় সরকারি সংস্থা ইকুয়ালিটি ওম্বুড্সম্যান জানায়, রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত মিডিয়ায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা অপেক্ষাকৃত কম। [২৭]
বিচারব্যবস্থায়
[সম্পাদনা]সুইডেনে মুসলিমদের জন্য সরাসরি কোনো সরকারি আইন নেই। তবে ২০০৩ সালের সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের সমালোচকরা বলেন, এই আইনের সংজ্ঞা এতটাই বিস্তৃত যে, অনেক নির্দোষ মুসলিমকে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ২৬ জন গ্রেপ্তার ও ১৫ জন আটক হয়েছে, যাদের সবাই মুসলিম। লেখক ও সাংবাদিক ইয়ান গুইলু এই আইনকে আচরণে একটি "জাতিগত আইন" বলে আখ্যা দেন। ২০০৮ সালে সুইডীয় জাতীয় অপরাধ প্রতিরোধ পরিষদের একটি রিপোর্টে বলা হয়, মুসলমানদের বিচারব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা কম এবং তাদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়; বিশেষত পুরুষদের। এই প্রবণতা বিচারব্যবস্থার সব স্তরেই বিদ্যমান। [২৮]
রাজনীতিতে
[সম্পাদনা]সুইডীয় লেখক জে লেস্টার ফেডারের মতে, সুইডেনের অভিবাসনবিরোধী মনোভাব প্রায়ই ‘বিপরীত-জিহাদ’ ধারণার সঙ্গে যুক্ত, যেখানে আশঙ্কা করা হয়, মুসলিম অভিবাসনের চাপে দেশটি ভেঙে পড়বে। [২৯]
২০১৯ সালে সুইডীয় একাডেমি পিটার হ্যান্ডকেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেয়, যিনি বসনীয় গণহত্যা অস্বীকারকারী হিসেবে পরিচিত। [৩০][৩১]
সুইডীয় সমাজসেবাকে মুসলিম শিশুদের অপহরণের অভিযোগ আনা হয়, যদিও সুইডীয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে "ভুয়া তথ্য" বলে অভিহিত করেছে। [৩২]
ঘৃণামূলক অপরাধ
[সম্পাদনা]কিছু মুসলিম শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সহিংসতার শিকার হয়েছে। [৩৩] ১৯৯৩ সালে দুই তরুণ সোমালি অভিবাসীকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং স্থানীয় একটি মসজিদ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় পুলিশ বলেছে, হামলাকারীরা বর্ণবৈষম্যমূলক উদ্দেশ্যেই আক্রমণ করেছিল। [৩৪][৩৫]
২০১৭ সালের মে মাসে জারফেল্লায় ইমাম আলি ইসলামি কেন্দ্র (সুইডেনে সবচেয়ে বড় শিয়া মসজিদ) আগুনে পুড়ে যায়, যাকে পুলিশ ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগ বলে ধারণা করেছিল। [৩৬]
২০২৩ ও ২০১৪ সালে মসজিদে অগ্নি সংযোগ
[সম্পাদনা]২০০৩ সালে মালমো মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার ফলে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইসলামি সেন্টারের অন্যান্য ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। একই ধরনের আরেকটি হামলা ২০০৫ সালের অক্টোবরে সংঘটিত হয়। [৩৭]
২০১৪ সালের শেষ সপ্তাহে সুইডেনে তিনটি মসজিদে পরপর অগ্নিসংযোগ হয়। মসজিদগুলোতে মলটভ ককটেইল ছোঁড়া হয় এবং কিছু মসজিদে বর্ণবাদী গ্রাফিতিও আঁকা হয়। [৩৮][৩৯]
২০২২ সুইডেনে দাঙ্গা
[সম্পাদনা]২০২২ সালের এপ্রিলে ডাচ উগ্র-ডানপন্থী দল স্ট্রাম কুরস কুরআন পোড়ানোর পরিকল্পনা করে। দলের নেতা রাসমুস পালুদান দাবি করেন, তিনি অতীতেও কুরআন পোড়িয়েছে এবং তা পুনরায় করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে ব্যাপক সহিংসতার কারণে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। বহু শহরে প্রতিবাদকারীরা পুলিশের ওপর পাথর ছুঁড়ে এবং গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। ৪০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয় এবং অনেক পুলিশ সদস্য ও প্রতিবাদকারী আহত হয়। সৌদি আরব এই ঘটনাকে সুইডেনে কিছু চরমপন্থী দ্বারা কুরআনের ইচ্ছাকৃত অবমাননা ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে উসকানি বলে নিন্দা জানায়। [৪০][৪১][৪২][৪৩]
সংগঠন
[সম্পাদনা]প্রেস স্বাধীনতা সমিতি (Tryckfrihetssällskapet) হল একটি মুসলিমবিরোধী লবিং গ্রুপ। এটি ২০১২ সালে পরিচিতি পায়, যখন তাদের একজন সদস্য মালমোতে এক হাসপাতালের বাইরে দুই মুসলিম মহিলার ওপর হামলা করে এবং মুসলিম-বিরোধী গালিগালাজ করে। [৪৪]
প্রতিরোধ
[সম্পাদনা]২০১৪ সালের শেষের দিকে মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর অনেক সুইডীয় নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদে কাগজের কাটা হৃদয় ঝুলিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। [৪৫]
আরো দেখুন
[সম্পাদনা]সূত্র
[সম্পাদনা]- Otterbeck, Jonas (বসন্ত ২০০২)। "The Depiction of Islam in Sweden: An Historical Overview" (পিডিএফ)। Muslim World। ৯২ (1/2): ১৪৩–১৫৬। ডিওআই:10.1111/j.1478-1913.2002.tb03737.x। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৭।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Richardson, Robin (২০১২), Islamophobia or anti-Muslim racism – or what? – concepts and terms revisited (পিডিএফ), পৃ. ৭, সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৬
- ↑ Hogan, Linda; Lehrke, Dylan (২০০৯)। Religion and politics of Peace and Conflict। Wipf and Stock Publishers। পৃ. ২০৫। আইএসবিএন ৯৭৮১৫৫৬৩৫০৬৭২।
- 1 2 Otterbeck 2002, পৃ. 143।
- 1 2 Otterbeck 2002, পৃ. 145।
- 1 2 Otterbeck 2002, পৃ. 146।
- 1 2 Otterbeck 2002, পৃ. 149।
- ↑ Bursell, Moa (২০০৭)। "What's in a name? A field experiment test for the existence of ethnic discrimination in the hiring process" (পিডিএফ)। আইএসএসএন 1654-1189।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য|journal=প্রয়োজন (সাহায্য) - ↑ Diskrimineringsombudsmannen (২০১৫), Representationer, Stereotype och Nyhetsvärdering: Rapport från Medieanalys om Representationer av Muslimer i Svenska Nyheter (পিডিএফ) (সুইডিশ ভাষায়), Ödeshög: DanagårdLiTHO
{{citation}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: প্রকাশকের অবস্থান (লিঙ্ক) - ↑ Gee, Oliver (২ জানুয়ারি ২০১৫)। "Sweden's Islamophobia is getting stronger"। The Local। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭।
- ↑ Rydgren, Jens (২০০৬)। From Tax Populism to Ethnic Nationalism: Radical Right-wing Populism in Sweden। Berghahn Books। পৃ. ১০৮–১১৩। আইএসবিএন ১-৮৪৫৪৫-২১৮-৬।
- ↑ Ben Kelly (৩১ আগস্ট ২০১৮)। "Sweden Democrats: How a nationalist, anti-immigrant party took root in a liberal Nordic haven"। The Independent। London।
- ↑ Maza, Cristina (১৭ আগস্ট ২০১৮)। "Who are the Sweden Democrats? Far-right anti-Islam party could win a majority in upcoming elections"। www.newsweek.com। Newsweek।
...they rail against a Muslim invasion of Sweden
- ↑ Otterbeck 2002, পৃ. 144।
- ↑ Otterbeck 2002, পৃ. 147।
- 1 2 Otterbeck 2002, পৃ. 148।
- ↑ Agerström, Jens; Rooth, Dan-Olof (ডিসেম্বর ২০০৮)। Implicit Prejudice and Ethnic Minorities: Arab-Muslims in Sweden (পিডিএফ)। Institute for the Study of Labor। পৃ. ১০। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭।
- ↑ Bursell, Moa (২০০৭)। "What's in a name? A field experiment test for the existence of ethnic discrimination in the hiring process" (পিডিএফ)। Working Paper 2007:7। আইএসএসএন 1654-1189।
- ↑ Agerström, Jens; Björklund, Fredrik; Carlsson, Rickard; Rooth, Dan-Olof (১ জুলাই ২০১২)। "Warm and Competent Hassan = Cold and Incompetent Eric: A Harsh Equation of Real-Life Hiring Discrimination"। Basic and Applied Social Psychology। ৩৪ (4): ৩৫৯–৩৬৬। ডিওআই:10.1080/01973533.2012.693438। আইএসএসএন 0197-3533। এস২সিআইডি 14688693।
- ↑ Benaouda, Helena; Doubakil, Fatima; Gigovic, Elvir; Mustafa, Omar; Siraj, Ahmed (ফেব্রুয়ারি ২০১৩)। Swedish Muslims in Cooperation Network Alternative Report (পিডিএফ)। Swedish Muslims in Cooperation Network। পৃ. ২৯। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭।
- ↑ Abrashi, Aroma (২০১৬)। "Islamophobia in Sweden National Report 2015" (পিডিএফ)। European Islamophobia Report। Istanbul, Turkey: Foundation for Political, Economic and Social Research। পৃ. ৫০৩। সংগ্রহের তারিখ ২০ এপ্রিল ২০১৭।
- ↑ Otterbeck, Jonas; Bevelander, Pieter (২০০৬)। Islamofobi – En Studie av Begreppet, Ungdomars Attityder och Unga Muslimers Utsatthet (সুইডিশ ভাষায়)। Forum för Levande Historia। আইএসবিএন ৯৭৮-৯১৯৭৬০৭৩৬০।
- ↑ Härenstam, Kjell (১৯৯৩)। Skolboks-islam: analys av bilden av islam i läroböcker i religionskunskap (সুইডিশ ভাষায়)। Acta Universitatis Gothoburgensis। আইএসবিএন ৯৭৮-৯১৭৩৪৬২৬৭৯। ওসিএলসি 906641431।
- ↑ Kamali, Masoud (২০০৬), "Den segregerande integrationen: Om social sammanhållning och dess hinder", The Long-Term Survey of the Swedish Economy. Main Report, English Translation (সুইডিশ ভাষায়), Statens offentliga utredningar, আইএসবিএন ৯৭৮-৯১-৩৮-২২৬১৫-৫, আইএসএসএন 0375-250X, সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭
- ↑ Bayati, Zahra (২০১৪)। 'Den Andre' i Lärarutbildningen: En Studie om den Rasifierade Svenska Studentens Villkor i globaliseringens tid (পিডিএফ) (সুইডিশ ভাষায়)। Gothenburg Studies in Educational Sciences। পৃ. ০ (Abstract)। আইএসবিএন ৯৭৮-৯১-৭৩৪৬-৭৮৮-৯। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭।
- ↑ Brune, Ylva (২০০৬)। "Den Dagliga Dosen. Diskriminering i Nyheterna och Bladet" (পিডিএফ)। Mediernas Vi och Dom: Mediernas Betydelse för den Strukturella Diskrimineringen (সুইডিশ ভাষায়): ৮৯–১২২। আইএসএসএন 0375-250X। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৪ মে ২০১৭।
- ↑ Fazlhashemi, Mohammad (২০০৭)। "Nidteckningar, Antisemitism och Islamofobi" (পিডিএফ)। Integrationsverket: Rasism och Främlings Entlighet I Sverige: Antisemitism, Antiziganism och Islamofobi (সুইডিশ ভাষায়)। ৩০। Integrationsverkets Rapportserie।
- ↑ Diskrimineringsombudsmannen (২০১৫), Representationer, Stereotype och Nyhetsvärdering: Rapport från Medieanalys om Representationer av Muslimer i Svenska Nyheter (পিডিএফ) (সুইডিশ ভাষায়), Ödeshög: DanagårdLiTHO
{{citation}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: প্রকাশকের অবস্থান (লিঙ্ক) - ↑ Martens, Peter; Shannon, David; Törnqvist, Nina (২০০৮)। "Diskriminering i Rättsprocessen: Om Missgynnande av Personer med Utländsk Bakgrund" (পিডিএফ) (সুইডিশ ভাষায়)। Brottsförebyggande rådet। ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭।
- ↑ Feder, J. Lester; Mannheimer, Edgar (৩ মে ২০১৭)। "How Sweden Became "The Most Alt-Right" Country In Europe"। BuzzFeed News। Stockholm, Sweden। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৭।
- ↑ "Stockholm Syndrome: The Nobel Prize Organization is Now Fully Engaged in the Business of Genocide Denial"। ২০ নভেম্বর ২০১৯।
- ↑ "Swedish social system mistreats Muslim children: Experts, families"। Daily Sabah। ৫ মে ২০২২।
- ↑ "Why do Sweden's authorities stand accused of kidnapping Muslim children?"।
- ↑ Gee, Oliver (২ জানুয়ারি ২০১৫)। "Sweden's Islamophobia is getting stronger"। The Local। সংগ্রহের তারিখ ২১ মে ২০১৭।
- ↑ Barber, Nicola (২০০৭)। Focus on Sweden। Gareth Stevens। পৃ. ২০। আইএসবিএন ৯৭৮০৮৩৬৮৬৭৩৯৮। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৭।
- ↑ Rossi, Melissa (৪ আগস্ট ২০০৫)। The Armchair Diplomat on Europe: The Ultimate Slackers' Guide to Our Continental Cousins। Penguin UK। পৃ. ৫৫৭। আইএসবিএন ৯৭৮০১৪১৯৫৪২২৬।
- ↑ "Sweden Muslims express 'shock' over mosque fire"। Al Jazeera English। ১ মে ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৭।
- ↑ "Arson attack on Malmö mosque"। The Local। ২২ অক্টোবর ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ১৪ নভেম্বর ২০১৩।
- ↑ Milne, Richard (জানুয়ারি ২০১৫)। "Sweden hit by third assault on mosque"। Financial Times।
- ↑ "Sweden hit by third mosque arson attack in a week"। The Straits Times। straitstimes.com। জানুয়ারি ২০১৫।
- ↑ "Riots in Sweden Against Far-Right Group Leave 3 Injured"। Time। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২২।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "Three injured in unrest over far-right demonstrations in Sweden"। The Washington Post। সংগ্রহের তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২২।
- ↑ "Dozens arrested at Sweden riots sparked by planned Quran burnings"। BBC News। ১৮ এপ্রিল ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৮ এপ্রিল ২০২২।
- ↑ "Sweden: three police hurt in riot before demo where Qur'an was to be burned"। The Guardian। ১৪ এপ্রিল ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১৪ এপ্রিল ২০২২।
- ↑ Pratt, Douglas; Woodlock, Rachel (২৬ মে ২০১৬)। Fear of Muslims?: International Perspectives on Islamophobia। Springer। পৃ. ১৬১। আইএসবিএন ৯৭৮৩৩১৯২৯৬৯৮২। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৭।
- ↑ Eddy, Melissa (১ জানুয়ারি ২০১৭)। "In Sweden, the Land of the Open Door, Anti-Muslim Sentiment Finds a Foothold"। The New York Times। Eskilstuna, Sweden। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০১৭।