সুইচোরা
| সুইচোরা | |
|---|---|
| সুইচোরা (পরিবার: Meropidae)-এর বিভিন্ন প্রজাতি | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ: | Animalia |
| পর্ব: | Chordata |
| শ্রেণী: | Aves |
| বর্গ: | Coraciiformes |
| পরিবার: | Meropidae Rafinesque, 1815 |
| গণ | |
| সুইচোরাদের আনুমানিক বিস্তৃতি | |
সুইচোরা (Bee-eater) হলো Meropidae পরিবারভুক্ত পাখিদের একটি দল। এই পরিবারে মোট ৩টি গণ (genus) এবং প্রায় ৩১টি প্রজাতি রয়েছে। সুইচোরাদের বেশিরভাগ প্রজাতি আফ্রিকা ও এশিয়ায় পাওয়া যায়। এছাড়া কিছু প্রজাতি দক্ষিণ ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউ গিনিতে বাস করে। এরা উজ্জ্বল রঙের পালক, সরু দেহ এবং অনেক ক্ষেত্রে লম্বা মাঝের লেজের পালকের জন্য পরিচিত। সুইচোরাদের ঠোঁট লম্বা ও সামান্য নিচের দিকে বাঁকানো। ডানা মাঝারি থেকে লম্বা হয় এবং প্রজাতিভেদে সরু বা গোলাকার হতে পারে। সাধারণত পুরুষ ও স্ত্রী সুইচোরার চেহারায় তেমন পার্থক্য থাকে না।
সুইচোরার ইংরেজি নাম Bee-eater, এ থেকেই বোঝা যায়, সুইচোরারা প্রধানত উড়ন্ত পোকামাকড় খায়। বিশেষ করে মৌমাছি ও বোলতা এদের প্রধান খাদ্য। তারা সাধারণত কোনো খোলা জায়গায় বসে থেকে উড়ে গিয়ে আকাশেই শিকার ধরে। হুলযুক্ত পোকা খাওয়ার আগে সুইচোরা পাখি সেটিকে শক্ত কোনো পৃষ্ঠে বারবার আঘাত করে ও ঘষে নেয়। এতে করে পোকাটির হুল খুলে যায় এবং শরীরের ভেতরের বেশিরভাগ বিষ বের হয়ে যায়, ফলে পাখির ক্ষতির ঝুঁকি কমে।
বেশিরভাগ সুইচোরা পাখি দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। তারা সাধারণত উপনিবেশ গড়ে বংশবিস্তার করে এবং খাড়া বালুময় পাড়ে বা নদীর তীরের মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বাসা বানায়। কখনো কখনো সমতল জমিতেও বাসা তৈরি করে। দলবদ্ধভাবে থাকার কারণে এক জায়গায় অনেকগুলো বাসার গর্ত একসঙ্গে দেখা যায়। ডিমের রঙ সাদা হয় এবং সাধারণত একবারে প্রায় পাঁচটি ডিম পাড়া হয়। অধিকাংশ প্রজাতিই একগামী এবং পুরুষ ও স্ত্রী উভয়েই ছানাদের যত্ন নেয়। কিছু প্রজাতিতে একই উপনিবেশের আত্মীয় পাখিরাও ছানাদের লালন পালনে সাহায্য করে।
সুইচোরা পাখি অনেক সময় শিকারি পাখির আক্রমণের শিকার হয়। এদের বাসা ইঁদুর, বেজি, মার্টেন ও সাপ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। এরা বিভিন্ন ধরনের পরজীবীও বহন করে। মানুষের কার্যকলাপ ও বাসস্থান ধ্বংসের কারণে কিছু প্রজাতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমানে কোনো প্রজাতিই আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের বিপন্নতার মানদণ্ড পূরণ করে না। তাই সব সুইচোরা প্রজাতিকেই Least Concern হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এদের উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয় চেহারার কারণে প্রাচীন লেখালেখি এবং বিভিন্ন পুরাণ ও লোককথায় সুইচোরা পাখির উল্লেখ পাওয়া যায়।
শ্রেণিবিন্যাস
[সম্পাদনা]সুইচোরা পাখিদের প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে আলাদা একটি দল হিসেবে নামকরণ করেন ফরাসি পণ্ডিত কনস্টান্টিন স্যামুয়েল রাফিনেস্ক-শ্মাল্ট্জ। তিনি ১৮১৫ সালে এই পাখিদের জন্য Meropia নামে একটি উপপরিবার প্রস্তাব করেন।[১][২] পরবর্তীতে এর আধুনিক নাম হয় Meropidae, যা এসেছে প্রাচীন গ্রিক শব্দ Merops থেকে, যার অর্থ সুইচোরা।[৩] ইংরেজি শব্দ bee-eater প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৫০০ শতকের শেষের দিকে এবং তখন এটি ইউরোপীয় প্রজাতিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছিল।[৪]
একসময় ধারণা করা হতো সুইচোরারা রোলার, হুপু ও কিংফিশার পাখিদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, এই গোষ্ঠীগুলোর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে সুইচোরাদের বিভাজন ঘটে কমপক্ষে ৪ কোটি বছর আগে। ফলে এদের সম্পর্ক খুব ঘনিষ্ঠ নয়। জীবাশ্মের স্বল্পতা এই বিষয়ে গবেষণাকে কঠিন করে তুলেছে। প্লাইস্টোসিন যুগের সুইচোরা জীবাশ্ম অস্ট্রিয়ায় পাওয়া গেছে। এছাড়া হোলোসিন যুগের জীবাশ্ম ইসরায়েল ও রাশিয়ায় পাওয়া গেছে। তবে সব জীবাশ্মই বর্তমান ইউরোপীয় সুইচোরা প্রজাতির।[৫]
সুইচোরাদের নিকটতম আত্মীয় নিয়ে বিজ্ঞানীদের মত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০০১ সালে ফ্রাই মনে করেন কিংফিশাররা এদের সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।[৬] কিন্তু ২০০৮ সালের একটি বড় জিনগত গবেষণা দেখায় যে সুইচোরারা Coraciiformes বর্গের অন্য সব পাখির সহোদর গোষ্ঠী।[৭] ২০০৯ সালের একটি বই ফ্রাইয়ের মতকে সমর্থন করলেও,[৮] ২০১৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী সুইচোরারা সম্ভবত রোলারদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।[৯] ২০০৮ ও ২০১৫ সালের উভয় গবেষণাতেই দেখা যায় যে কিংফিশাররা নিউ ওয়ার্ল্ড মোটমটদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।[৭][৯]
সাম্প্রতিক আণবিক বংশগত গবেষণা নিশ্চিত করেছে যে সুইচোরারা টোডি, মোটমট ও কিংফিশারের তুলনায় রোলার ও গ্রাউন্ড রোলারদের সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এই পারিবারিক সম্পর্ক নিচের ক্ল্যাডোগ্রামে দেখানো হয়েছে।[১০] প্রতিটি পরিবারের প্রজাতির সংখ্যা নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক পক্ষিবিজ্ঞান কমিটির তালিকা থেকে, যা ফ্র্যাঙ্ক গিল, পামেলা সি. রাসমুসেন ও ডেভিড ডনস্কার সংরক্ষণ করেন।[১১]
আরও পড়ুন
[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Rafinesque, C. S.; Rafinesque, C. S. (১৮১৫)। Analyse de la nature : or, Tableau de l'univers et des corps organisés। খণ্ড ১৮১৫। Palerme: Aux dépens de l'auteur।
- ↑ Bock, Walter J. (1994). History and Nomenclature of Avian Family-Group Names. Bulletin of the American Museum of Natural History. Vol. 222. New York: American Museum of Natural History. pp. 190, 252.।
- ↑ Jobling, James A. (২০১০)। The Helm dictionary of scientific bird names [electronic resource] : from aalge to zusii। London : Christopher Helm। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪০৮১-৩৩২৬-২।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: প্রকাশকের অবস্থান (লিঙ্ক) - ↑ "bee-eater"।
- ↑ Fry, C. Hilary (2010) [1984]. The Bee-Eaters. Poyser Monograph. London: Poyser. p. 195.।
- ↑ Handbook of the birds of the world। Internet Archive। Barcelona : Lynx Edicions। ১৯৯২। আইএসবিএন ৯৭৮-৮৪-৮৭৩৩৪-১০-৮।
{{বই উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অন্যান্য (লিঙ্ক) উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: প্রকাশকের অবস্থান (লিঙ্ক) - 1 2 Hackett, Shannon J.; Kimball, Rebecca T.; Reddy, Sushma; Bowie, Rauri C. K.; Braun, Edward L.; Braun, Michael J.; Chojnowski, Jena L.; Cox, W. Andrew; Han, Kin-Lan; Harshman, John; Huddleston, Christopher; Marks, Ben D; Miglia, Kathleen J.; Moore, William S.; Sheldon, Frederick H; Steadman, David W; Witt, Christopher C.; Yuri, Tamaki (2008). "A phylogenomic study of birds reveals their evolutionary history". Science. 320 (5884): 1763–1768.।
- ↑ Mayr, Gerald (2009). Paleogene Fossil Birds. Heidelberg: Springer. p. 14. ISBN 978-3-540-89627-2.।
- 1 2 Prum, Richard O.; Berv, Jacob S.; Dornburg, Alex; Field, Daniel J.; Townsend, Jeffrey P.; Lemmon, Emily Moriarty; Lemmon, Alan R. (2015). "A comprehensive phylogeny of birds (Aves) using targeted next-generation DNA sequencing". Nature. 526 (7574): 563–573. Bibcode:2015Natur.526..569P. doi:10.1038/nature15697. PMID 26444237. S2CID 205246158.।
- ↑ Stiller, J.; et al. (2024). "Complexity of avian evolution revealed by family-level genomes". Nature. 629 (8013): 851–860. Bibcode:2024Natur.629..851S. doi:10.1038/s41586-024-07323-1. PMC 11111414. PMID 38560995.।
- ↑ Gill, Frank; Donsker, David; Rasmussen, Pamela, eds. (December 2023). "IOC World Bird List Version 14.1". International Ornithologists' Union. Retrieved 17 June 2024.।