বিষয়বস্তুতে চলুন

সীতা দেবী (চিত্রশিল্পী)

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সীতা দেবী
জন্ম১৯১৪
সহর্সার কাছাকাছি, বিহার, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমান ভারত)
মৃত্যু২০০৫ (বয়স ৯০৯১)
পেশাচিত্রশিল্পী, সামাজিক কর্মী
আন্দোলনমধুবনী চিত্রকলা
পুরস্কারপদ্মশ্রী (১৯৮১)

সীতা দেবী (১৯১৪-২০০৫) ছিলেন একজন ভারতীয় শিল্পী, যিনি মধুবনী ঐতিহ্যের চিত্রকলায় বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তিনি ভারতের সবচেয়ে পরিচিত মধুবনী শিল্পীদের একজন, এবং শিল্পকলার জন্য জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়া প্রথম ব্যক্তিদের একজন। তিনি তাঁর কাজের জন্য ১৯৮১ সালে পদ্মশ্রী (ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাগুলির মধ্যে একটি) এবং ১৯৮৪ সালে বিহার রত্ন সম্মান সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছিলেন। তিনি বিহার রাজ্যের জিতওয়ারপুর গ্রামে স্থানীয় উন্নয়নের জন্য সক্রিয়তার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ছিলেন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে তাঁর কর্মজীবনে স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে মহিলাদের মধুবনী শিল্প শেখাতেন। তাঁর চিত্রকর্মগুলি তাদের স্বতন্ত্র শৈলীর জন্য, বিশেষ করে রঙের ব্যবহারের জন্য প্রশংসিত হয়েছে, ব্যাপকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং ভারতের পাশাপাশি ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং জাপানের জাদুঘরে সংরক্ষণাগারভুক্ত হয়েছে।

জীবনী

[সম্পাদনা]

সীতা দেবী ১৯১৪ সালে বিহার রাজ্যের সহর্সার কাছে একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং বিয়ের পর জিতওয়ারপুর গ্রামে চলে আসেন।[] তিনি মহাপাত্র ব্রাহ্মণ পরিবারের সদস্য ছিলেন।[] তিনি নিরক্ষর ছিলেন, কিন্তু ছোটবেলায় স্থানীয় কুমোরদের কাছ থেকে অবশিষ্টাংশ রঙ ব্যবহার করে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী মধুবনী শৈলীতে তাঁর বাড়ির দেওয়ালে ছবি আঁকতে শিখেছিলেন।[] তিনি ২০০৫ সালে মধুবনীতে মারা যান।[]

কর্মজীবন

[সম্পাদনা]

শিল্প

[সম্পাদনা]

সীতা দেবী ঐতিহ্যবাহী মধুবনী লোকশিল্প শৈলীতে ছবি আঁকা শিখেছিলেন এবং তিনিই প্রথম শিল্পীদের একজন যিনি দেওয়ালে ম্যুরাল আঁকার সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে শুরু করে পরে কাগজের ওপর আঁকা শুরু করেছিলেন। এর ফলে তিনি মধুবনী চিত্রকর্ম বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।[] সরকারি কর্মকর্তাদের উৎসাহে এই কাজটি করা গিয়েছিল, কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে বিহারের স্থানীয় বাসিন্দাদের রাজ্যব্যাপী খরার আর্থিক প্রভাব মোকাবিলায় তাদের চিত্রকর্ম বিক্রি করতে উৎসাহিত করেছিলেন।[] তিনি নিজের রাজ্য বিহারে উদ্ভূত মধুবনী শিল্পকলাকে ভারতে জাতীয় মনোযোগে আনার ক্ষেত্রে অগ্রদূত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে, বিহার সরকার তাঁকে শিল্পকলায় অবদানের জন্য একটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত করে এবং তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী সহ আরও বেশ কয়েকটি পুরস্কার জিতেছিলেন।[]

১৯৬০ এবং ৭০ এর দশকে, সহশিল্পী গঙ্গা দেবী এবং বাউয়া দেবীর সাথে সীতা দেবী ভারতের মধুবনী শিল্প শৈলীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রদূত এবং উদ্ভাবক ছিলেন।[][] উল্লেখযোগ্যভাবে, রেখা শিল্পের উপর রঙ এবং ছায়া প্রয়োগ করে তিনি মধুবনী শিল্পের ভর্ণি (পূর্ণ) রূপকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।[] তাঁর চিত্রকর্ম ঐতিহ্যবাহী মিথিলা / মধুবনী মোটিফ থেকে নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে পৌরাণিক কাহিনী এবং প্রাকৃতিক জগতের চিত্রগুলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু পরে তিনি যে স্থানগুলিতে ভ্রমণ করেছিলেন, যেমন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, আর্লিংটন জাতীয় কবরস্থান এবং নিউ ইয়র্ক সিটির স্কাইলাইন, সেগুলি থেকেও চিত্র অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।[] ১৯৮১ সালে, টোকামাচিতে মিথিলা জাদুঘর স্থাপনের উদ্দেশ্যে জাপানি কিউরেটর টোকিও হাসেগাওয়া বেশ কয়েকজন মধুবনী শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, সীতা দেবী তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন এবং ছবি আঁকার জন্য জাপান সফর করেছিলেন। এই সফরের সময় তিনি জাপানি ভূদৃশ্যকে তাঁর শিল্পে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।[][][]

তিনি দিল্লিতে অবস্থিত ভারতের জাতীয় হস্তশিল্প ও তাঁত জাদুঘরের একজন শিল্পী ছিলেন, যেখানে তাঁর কাজ রাজনৈতিক মহলে, বিশেষ করে ইন্দিরা গান্ধী এবং লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মতো প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল।[] ১৯৭৮ সালে, তাঁকে নতুন দিল্লির আকবর হোটেলে দেয়ালচিত্র তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এই কাজে তাঁর এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছিল।[]

তাঁর জীবদ্দশায়, তাঁর কাজ ভারতে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপকভাবে প্রদর্শিত হয়েছিল। তাঁর চিত্রকলা লন্ডনের ভিক্টোরিয়া ও অ্যালবার্ট জাদুঘর,[] লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মিউজিয়াম অফ আর্ট, ফিলাডেলফিয়া মিউজিয়াম অফ আর্ট, প্যারিসের মুসি ডু কোয়াই ব্রানলি এবং জাপানের মিথিলা জাদুঘরের স্থায়ী সংগ্রহের অংশ।[] সরকারি ও বেসরকারি সংগ্রহশালায় এর বাণিজ্যিক চাহিদা এখনও রয়েছে।[]

সক্রিয়তা

[সম্পাদনা]

সীতা দেবী বিহারের স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, বিশেষ করে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্প শিক্ষার ক্ষেত্রে। একজন শিল্পী হিসেবে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি নিজের গ্রাম জিতওয়ারপুরের উন্নয়নের জন্য আন্দোলন করেছিলেন, রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং স্কুল নির্মাণ তাঁর আন্দোলনের চাহিদার মধ্যে ছিল।[১০] এছাড়াও, তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে তরুণীদের, মধুবনী শিল্প শেখাতেন এবং চিত্রকলা শেখানোর জন্য সরকারি অনুদান পেতে তদবির করতেন।[]

সম্মাননা এবং পুরস্কার

[সম্পাদনা]
  • ১৯৬৯: মধুবনী শিল্পের জন্য বিহার রাজ্য সরকার পুরস্কার[][]
  • ১৯৭৬: ভারতের রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের কাছ থেকে "মাস্টার ক্রাফটসম্যান" পুরস্কার[]
  • ১৯৮১: শিল্পকলার জন্য ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী[১১]
  • ১৯৮৪: বিহার রত্ন সম্মান[][]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 3 "In village where Madhubani paints, art and Nitish Kumar smile at each other"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ২৩ অক্টোবর ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  2. 1 2 3 4 Dutta, Ambarish (১৪ ডিসেম্বর ২০০৫)। "Madhubani art legend dead"The Tribune, Chandigarh, India - Nation। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  3. 1 2 Tripathi, Shailaja (২২ নভেম্বর ২০১৩)। "Madhubani beyond the living rooms"The Hindu (ভারতীয় ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  4. 1 2 3 Nirala, Narendra Narayan Sinha (২০১০)। "Madhubani: A Contemporary History (1971-2011)": ১২৪৩–১২৫০। আইএসএসএন 2249-1937জেস্টোর 44147593 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  5. 1 2 3 4 Chavda, Jagdish J. (১৯৯০)। "The Narrative Paintings of India's Jitwarpuri Women": ২৬–২৮। ডিওআই:10.2307/1358383আইএসএসএন 0270-7993জেস্টোর 1358383 {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  6. 1 2 3 4 5 6 "Sita Devi: A Legendary Mithila Artist"State of the Art (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  7. "Mithila's pride"Frontline (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  8. Museum, Victoria and Albert (১৯৭৩)। "Painting | Devi, Sita | V&A Explore The Collections"Victoria and Albert Museum: Explore the Collections (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  9. Iyengar, Radhika (৬ এপ্রিল ২০১৮)। "Saffronart's forthcoming auctions feature rare finds"mint (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  10. Srivastava, Radhika (৯ নভেম্বর ২০০৫)। "This Sita is the true 'Devi' of Jitwarpur"The Times of India (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২
  11. "Padma Awards | Interactive Dashboard"www.dashboard-padmaawards.gov.in (ইংরেজি ভাষায়)। ১৫ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১ মার্চ ২০২২