সিরিয়ায় নারী
১৯২৬ সালে এলিস দ্বীপ এ সিরিয়ার মহিলা। লুইস উইকস হাইন এর তোলা ছবি। | |
| লিঙ্গ বৈষম্য সূচক[১] | |
|---|---|
| মান | 0.৪৭৭ (২০২১) |
| অবস্থান | ১৯১ এর মধ্যে ১১৯তম |
| মাতৃত্বকালীন মৃত্যু (প্রতি এক লক্ষে) | ৩১ (২০১৯)[২] |
| সংসদে নারী | ১৩ শতাংশ (২০১৫)[৩] |
| মাধ্যমিক শিক্ষাসহ ২৫ উর্ধ্ব নারী | ৪০ শতাংশ (২০১৯) |
| শ্রম ক্ষেত্রে নারী | ১৮.৯ শতাংশ (২০২১)[৪] |
| বৈশ্বিক জেন্ডার গ্যাপ সূচক[৫] | |
| মান | ০.৫৬৮ (২০২১) |
| অবস্থান | ১৪৪-এর মধ্যে ১৫৬ এর মধ্যে ১৫২ তম। |
| সমাজে নারী |
|---|
|
|
সিরিয়ার সমাজে সিরিয়ার নারীরা সামাজিকতায়, অর্থনীতিতে ও রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সিরিয়ার জনসংখ্যার ৪৯.৯ শতাংশ নারী। ২০২১ এর বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সিরিয়া তে নারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ। যাইহোক, বিশেষতঃ ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সিরিয়ার নারী ও মেয়েরা এখনও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে।
তাঁরা বৈষম্যের শিকার। তাঁদের উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের অভাব। তাঁরা যুদ্ধকালীন সহিংসতার কারণে উদ্ভূত প্রতিবন্ধকতার শিকার।
ইতিহাস
[সম্পাদনা]প্রাচীন সিরিয়া
[সম্পাদনা]উত্তর সিরিয়ার অঞ্চলে আক্কিড সাম্রাজ্যের অভ্যুত্থানের আগে এবং মেসোপটেমিয়ার পূর্ববর্তী যুগে নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বেশি ছিল।[৬] এই বিষয়ে পণ্ডিতেরা সকলেই একমত। পুরুষ প্রতিপক্ষের তুলনায় নারীর মর্যাদা এর পরবর্তী বছরগুলিতেই আরও অধস্তন শ্রেণীতে পরিণত হয়।
অটোমান সাম্রাজ্য
[সম্পাদনা]বিংশ শতাব্দীতে, সিরিয়ার বেশিরভাগ উচ্চবিত্ত, শিক্ষিত নারীরা নারী অধিকারের জন্য একটি আন্দোলন গড়ে তোলেন।[৭] ১৯১৯ সালে, নাজিক আল-আবিদ নূর আল-ফায়হা (দামাস্কাসের আলো) নামে শহরের প্রথম মহিলা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। একই নামের একটি অনুমোদিত প্রকাশনাও আছে। মায়সালুনের যুদ্ধে লড়াই করার পর তাকে সিরিয়ান সেনাবাহিনীর সম্মানসূচক জেনারেল করা হয় এবং ১৯২২ সালে তিনি সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।[৮]
সিরিয়া ও লেবাননের জন্য আদেশপত্র
[সম্পাদনা]সিরিয়া ও লেবাননের ম্যান্ডেটের সময় (১৯২৩-১৯৪৬)। সিরিয়ান-লেবানিজ মহিলা ইউনিয়ন, লেবানন এবং সিরিয়া উভয় ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্যের প্রাচীনতম নারী আন্দোলনগুলিকে একটির মধ্যে একত্রিত করে। নারীবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে লেবানিজ-সিরীয় নারীবাদী নাজিরা জয়ন আল-দীন ছিলেন কুরআনের সমালোচনামূলক পুনর্ব্যাখ্যাকারী প্রথম ব্যক্তিদের মধ্যে একজন। তিনি ১৯২৮ সালে পর্দা বা হিজাবের প্রথার নিন্দা করে একটি বই প্রকাশ করেন। যুক্তি দেন যে ইসলাম-এ নারীদের ও পুরুষদের সমান চোখে দেখতে হবে।[৯] ১৯৩০ সালে দামেস্কে সিরিয়ান-লেবানিজ মহিলা ইউনিয়ন প্রথম পূর্ব মহিলা কংগ্রেসের আয়োজন করে।
বাথি যুগ
[সম্পাদনা]১৯৬৩ সালে বাথ পার্টি সিরিয়ায় ক্ষমতা দখল করে। নারী ও পুরুষের মধ্যে সমানাধিকারের অঙ্গীকার করে। এবং নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে পূর্ণ অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়।[১০]
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সূচনা হয় ২০১১ সালে। সেই সময় অনেক অসামরিক মানুষ আক্রান্ত হন। অনেক হাসপাতাল, বিদ্যালয় এবং পরিকাঠামোও আক্রমণের শিকার হয়। জাবহাত আল-নুসরা এবং আইএসআইএস এর মতো চরমপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি তাদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে নারীদের স্বাধীনতা সীমিত করে কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ করেছেন।[১১]
নারীবাদী এবং নারী অধিকার আন্দোলন
[সম্পাদনা]মূলত ১৮০০ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার নারীবাদী আন্দোলন শুরু হয়েছিল। সেই সময়ে আধুনিক লেবানন এবং সিরিয়া অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে ছিল। এই আন্দোলনে কিছু মহিলা তাদের অধিকার এবং স্বাধীনতার স্বার্থে আন্দোলনের পথিকৃৎ হতে শুরু করেছিলেন।[১২] এটি ছিল আরবি নাহবা বা জাগরণের সময়কালীন। অষ্টাদশ শতাব্দীর সত্তর (১৮৭০)এর দশকে মারিয়ানা মারাশের মতো মহিলারা সংবাদপত্রের মতো সর্বসাধারণ মঞ্চে নারী-মুক্তির জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন সাময়িক পত্রিকাতে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রবন্ধ এবং কবিতা প্রকাশ করেছিলেন।
এই নারীবাদী আন্দোলন ১৯৬৩ সালে সিরিয়ার অভ্যুত্থান পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আসাদ, জাদিদ এবং বাশারের মতো শাসনব্যবস্থা নারীবাদী আন্দোলনগুলিকে নিষিদ্ধ বা দমন করার চেষ্টা করেছিল। ফলতঃ সিরিয়ার অভ্যুত্থানের অগ্রগতি স্থিমিত হয়ে গিয়েছিল।[১২]
১৯৬৭ সালে, সিরিয়ার নারীরা জেনারেল ইউনিয়ন অফ সিরিয়ান উইমেন (জি ইউ এস ডব্লিউ) নামে একটি আধা-সরকারি সংস্থা গঠন করে। এই সংস্থাটি নারী কল্যাণ সমিতি, শিক্ষামূলক সমিতি এবং স্বেচ্ছাসেবী পরিষদের একটি জোট। এদের মূল লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার নারীদের জন্য সমানাধিকার, সমান সুযোগ অর্জন করা।[১০]
গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, কিছু সিরিয়ান মহিলা সম্পূর্ণ মহিলা ব্রিগেড ইউনিটে যোগদান করেছেন, যেমন সিরিয়ান আরব সেনাবাহিনীতে,[১৩] ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টিতে,[১৪] এবং ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্টে[১৫]। তাঁরা স্নাইপার অর্থাৎ একজন সামরিক বা আধাসামরিক নিপুন লক্ষ্যবিদ হিসাবে , ফ্রন্টলাইন ইউনিট বা পুলিশের মতো ভূমিকা পালন করেছেন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ "Human Development Report 2021/2022" (পিডিএফ)। HUMAN DEVELOPMENT REPORTS। সংগ্রহের তারিখ ২২ ডিসেম্বর ২০২২।
- ↑ "Syrian Arab Republic - World Bank Gender Data Portal"।
- ↑ "Women in Parliaments: World Classification"। archive.ipu.org।
- ↑ "World Bank Open Data"। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫।
- ↑ "Global Gender Gap Report 2021" (পিডিএফ)। World Economic Forum। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুলাই ২০২২।
- ↑ Mark, Joshua J.। "Women in Ancient Mesopotamia"। World History Encyclopedia (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২৪।
- ↑ Women's history in global perspective। University of Illinois Press। ২০০৫। পৃ. ১০০। আইএসবিএন ৯৭৮০২৫২০২৯৯০৫।
- ↑ "Syrian Women Making Change"। PBS। ১৯ জুলাই ২০১২। ২৬ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০১৩।
- ↑ Keddie, Nikki R. (২০০৭)। Women in the Middle East: past and present। Princeton University Press। পৃ. ৯৬। আইএসবিএন ৯৭৮০৬৯১১২৮৬৩৪।
- 1 2 Tohidi, ed. by Herbert L. Bodman, Nayereh (১৯৯৮)। Women in muslim societies: diversity within unity। L. Rienner। পৃ. ১০৩। আইএসবিএন ৯৭৮১৫৫৫৮৭৫৭৮৭।
{{বই উদ্ধৃতি}}:|প্রথমাংশ=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: একাধিক নাম: লেখকগণের তালিকা (লিঙ্ক) - ↑ "Syria: Extremists Restricting Women's Rights"। Human Rights Watch। ১৩ জানুয়ারি ২০১৪।
- 1 2 "A look at Syria's long history of feminist movements"। Global Voices (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২৪।
- ↑ "Women in the Arab Armed Forces | The Arab Institute for Women | LAU"। The Arab Institute for Women (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ মে ২০২৩।
- ↑ "Women. Life. Freedom. Female fighters of Kurdistan - CNN"। www.cnn.com। ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৫ জানুয়ারি ২০২২।
- ↑ "Female ISIS morality police units terrified and terrorized Mosul"। NBC News। ২০ নভেম্বর ২০১৬।
বহিঃসংযোগ
[সম্পাদনা]- জরিপ: সিরিয়ার সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য (I/II)। ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ জুন ২০১৮ তারিখে নারী অধিকার ও স্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতনতা, দি ডে আফ্টার এসোসিয়েসন , আগস্ট ২০১৭ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৮-০৬-০২ তারিখে
- জরিপ: সিরিয়ান সমাজে নারীর প্রতি বৈষম্য (II/II): পারিবারিক সহিংসতার ধারণা, ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৫ মে ২০১৮ তারিখে দি ডে আফ্টার এসোসিয়েসন , আগস্ট ২০১৭ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৮-০৫-০৫ তারিখে ।