সিমাব আকবরাবাদী

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সিমাব আকবরাবাদী
জন্ম নামআশিখ হুসেন সিদ্দিকি
জন্ম(১৮৮২-০৬-০৫)৫ জুন ১৮৮২
আগ্রা, ব্রিটিশ ভারত
মৃত্যু৩১ জানুয়ারি ১৯৫১(1951-01-31) (বয়স ৬৮)
করাচী, সিন্ধু, পাকিস্তান অধিরাজ্য
পেশাকবি, লেখক, প্রকাশক

সিমাব আকবরাবাদী (উর্দু: سیماب اکبرآبادی‎‎) প্রখ্যাত উর্দু কবি ছিলেন। ৫ জুন ১৮৮২ সালে তিনি আগ্রা সহরে জন্মগ্রহণ করেন। ওনার প্রকৃত নাম আশিক হোসেন সিদ্দিকি (উর্দু: عاشق حسین صدیقی‎‎) ।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন[সম্পাদনা]

সিমাব আকবরাবাদীর জন্ম হয় আগ্রা সহরের, নই মন্ডি এলাকার কাকু গলির ইমলিওয়ালি মকান-এ। ওঁনার পিতা মহম্মদ হুসেন সিদ্দিকি অজমের সহরে টাইমস ওফ ইন্ডিয়া প্রেসে কাজ করতেন। তিনি হাকিম আমিরুদ্দিন আতার আকবরাবাদীর শিষ্য ছিলেন ও উর্দু ভাষায় কবিতা লিখতেন। বেশ কয়েকটি বইও লিখেছিলেন। সিমাব আকবরাবাদীর,[১] আদিপুরুষ ছিলেন ইসলামের প্রথম খালিফা আবু বকর অস-সিদ্দিক (রাঃ)[২]। যদিও সিমাব নিজে বলেছিলেন যে তার পূর্বপুরষ মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর সময়কালে বুখারা থেকে আগ্রায় এসেছিলেন, কিন্তু মোহন লাল[৩] পরে জানিয়েছিলেন যে তিনি আওরঙ্গজেবের সময়কালে আগ্রায় এসেছিলেন। তাদের পরিবার আগ্রা সহরে প্রায় ৩০০ বৎসর ধরে বসবাস করে। জামালিদ্দুন সারহাদি ও মৌলবি রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহির অধীন সিমাব ফার্সি, আরবিযুক্তি শিক্ষা লাভ করেন।১৮৯৭ সালে সিমাবের পিতার মৃত্যু হয় ও তিনি নিজের শিক্ষা বন্ধ করে জীবিকা অর্জনে নিযুক্ত হন। আগ্রা ও কানপুরের পরে তিনি আজমের-এ গিয়ে রেলওয়েতে যোগ দেন। ১৯২২ সালে তিনি কাজে ইস্তফা দিয়ে আগ্রায় ফেরৎ আসেন। ১৯২৩ সালে তিনি কসর-উল-আদব নামক প্রকাশনা আরম্ভ করেন।সিমাব আকবরাবাদী চার পুত্র ও দুই কন্যার পিতা। তার কনিষ্ঠ পুত্র মঝার সিদ্দিকি পরবর্তীকালে করাচী সহরে নিজের পিতার কাজ চালিয়ে যান ও তার বেশ অনেকগুলি পাণ্ডুলিপী প্রকাশিত করেন।

সাহীত্য জীবন[সম্পাদনা]

১৮৯২ সালে সিমাব গজল লেখা আরম্ভ করেন ও ১৮৯৮ সালে তিনি নবাব মির্জা খান দাঘ দেলওয়াহির শিষ্য হন।[৪] ১৯২৩ সালে সাঘার নিজামির সম্পাদনায় কসর-উল-আদব আরম্ভ করার পরে তিনি পেয়মানা নামক মাসিক পত্রিকার প্রকাশনাও শুরু করেন। ১৯২৯ সালে সাপ্তাহিক পত্রিকা তাজ ও ১৯৩০ সালে শায়ের নামক মাসিক পত্রিকা প্রকাশনাও চালু হয়। ১৯৩২ সালে, সাঘার নিজামি মিরাট শহরে চলে যান যার ফলে পেয়মানা পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।শায়ের পত্রিকাটি সিমাবের পুত্র ঐজাজ সিদ্দিকির পরিচালনায় অনেকদিন পর্যন্ত প্রকাশিত হতে থাকে।

সিমাব আকবরাবাদী বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় সম্বন্ধে লিখেছেন। ১৯৪৮ সালে তিনি, পদ্য রূপে রচীত কুরাণের অনুবাদ, ওয়াহি-এ-মনজুম শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশনার উদ্দেশ্যে প্রথমে লাহোর ও পরে করাচী যাত্রা করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি পক্ষাঘাতের শিকার হন ও ১৯৫১ সালে করাচীতে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর ৩০ বৎসর পরে ওয়াহি-এ-মনজুম প্রকাশিত হয়।

রচনা[সম্পাদনা]

১৯২৩ সালে নাইস্তান শিরোনামে তার প্রথ কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে তিনি ৭৫টি বই প্রকাশ করেন যার মধ্যে ২২-টি কবিতার বই। সিমাব অকবরাবাদীর মৃত্যুর পরে তার তিনটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়: লোহ-এ-মেহফুজ (১৯৭৯), ওয়াহি-এ-মনজুম (১৯৮১) ও সাজ-এ-হিজাজ (১৯৮২)। তার লেখা গজল অতিপ্রসিদ্ধ, বিশেষত যেগুলি কুন্দনলাল সায়গালের কন্ঠে শোণা যায়।[৫] তার রচনার মধ্যে রয়েছে ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, ও সমালোচনা।

সাদাত হাসান মান্টোর জীবন অবলম্বনে, ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হিন্দি ছায়াছবিতে অকবরাবাদীর রচীত গান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আংশিক গ্রন্থসুচী[সম্পাদনা]

সিমাব আকবরাবাদী প্রায় ২০০টি গদ্য ও পদ্যের বই লিখেছেন।[৬] এর মধ্যে রয়েছে:

  • নাইস্তান (১৯২৩)
  • ইলহাম-এ-মানজুম (১৯২৮)
  • কার-এ-ইমরোজ (১৯৩৪)
  • কলীম-এ-আজম (১৯৩৬)
  • দস্তুর-উল-ইসলাহ (১৯৪০)
  • সাজ-ও-আহাং (১৯৪১)
  • কৃষ্ণ গীতা (১৯৪২)
  • আলম আসুল (১৯৪৩)
  • সদরাহ আলমনতাহা (১৯৪৬)
  • শের-এ-ইনকলাব ( ১৯৪৭)
  • লোহ-এ-মেহফুজ (১৯৭৯)
  • ওয়াহি-এ-মনজুম (১৯৮১)

তথ্যসুত্র[সম্পাদনা]

  1. Urdu Authors:Date list as on May 31, 2006। National Council for Promotion of Urdu, Govt. of India, Ministry of Human Resource Development। ১ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। 
  2. Encyclopedic Dictionary of Urdu literature by Abida Samiuddin 2008 p.26
  3. Mohan Lal 2006 The Encyclopaedia of Indian Literature Vol.5 p.3900 [১]
  4. Zikr - e - Seemab। Bazm-e-Seemab। ১৯৮৪। [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. Satish Chopra said that "Saigal by singing the ghazals of Seemab Akbarabadi, made the poet immortal." http://www.apnaorg.com/research-papers/satish-1
  6. R.G., "SEEMAB, ASHIQ HUSSAIN AKBARABADI (Urdu; b.1880, d.1951)", Mohan Lal (ed.), Encyclopaedia of Indian Literature: Sasay to Zorgot, Sahitya Akademi (1992), p. 3900