সিনাই আগামা
| সিনাই আগামা | |
|---|---|
| পুরুষ | |
| স্ত্রী | |
| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস | |
| জগৎ/রাজ্য: | অ্যানিম্যালিয়া (Animalia) |
| পর্ব: | কর্ডাটা (Chordata) |
| শ্রেণি: | রেপটিলিয়া (Reptilia) |
| বর্গ: | স্কোয়ামাটা (Squamata) |
| উপবর্গ: | Iguania |
| পরিবার: | Agamidae |
| গণ: | Pseudotrapelus (হেইডেন, ১৮২৭) |
| প্রজাতি: | P. sinaitus |
| দ্বিপদী নাম | |
| Pseudotrapelus sinaitus (হেইডেন, ১৮২৭) | |
| প্রতিশব্দ | |
| |
সিনাই আগামা (Pseudotrapelus sinaitus) হলো একটি আগামিড টিকটিকি যা সিনাই উপদ্বীপ (মিশর),[২] জর্ডান, সিরিয়া-তে দেখা যায়।[৩]
দীর্ঘ সরু লেজসহ এই টিকটিকির দৈর্ঘ্য ১৮ সেমি (৭ ইঞ্চি), যার মধ্যে লেজটি এর মোট দৈর্ঘ্যের দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত হয়। এর হাত-পা এবং লেজ লম্বা ও সরু যা একে ভালোভাবে আরোহণ করতে এবং দৌড়াতে সক্ষম করে তোলে।
Pseudotrapelus sinaitus দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে এবং পোকামাকড়, অন্যান্য সন্ধিপদী ও উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে। প্রজনন ঋতুতে, স্ত্রী সঙ্গীদের আকৃষ্ট করতে পুরুষরা আকর্ষণীয় নীল বর্ণ ধারণ করে। স্ত্রীদের পাশে বাদামী-লাল দাগ থাকে।
বর্ণনা
[সম্পাদনা]সিনাই আগামা একটি ছোট টিকটিকি যার লম্বা পা রয়েছে, যা একে খাড়াভাবে দাঁড়াতে সাহায্য করে। এটি লম্বায় ১৮ সেমি (৭ ইঞ্চি) পর্যন্ত বড় হয় এবং এর একটি লম্বা, সরু লেজ রয়েছে যা শরীরের দৈর্ঘ্যের দেড় গুণ। এর লম্বা মাথার সামনের দিকে চোখ এবং প্রাণীর মুখের লাইনে কিছুটা পেছনে স্বতন্ত্র একজোড়া কানের ছিদ্র থাকে। পাগুলো লম্বা ও সরু এবং লেজটি প্রায়শই মাটি থেকে উঁচিয়ে রাখা হয়। এই টিকটিকি সাধারণত অনুজ্জ্বল বাদামী রঙের হয়, তবে প্রজনন মৌসুমে পুরুষটি উজ্জ্বল নীল রঙের হয়ে যায়, অথবা কখনও কখনও কেবল মাথা এবং গলা নীল হয় এবং অন্যান্য অংশ বাদামী থাকে। স্ত্রী এবং কমবয়সীরা সারা বছর ধূসর-বাদামী থাকে, তবে স্ত্রীদের প্রায়শই সামনের পায়ের ঠিক পেছনে প্রতিটি পাশে একটি করে অর্ধচন্দ্রাকৃতির লাল দাগ থাকে।[৪] পিঠের আঁশগুলো তুলনামূলকভাবে ছোট, সমানভাবে একটার উপর একটা থাকে এবং কিছুটা কিলযুক্ত (keeled)। পিঠের মাঝখানের আঁশগুলো অন্য জায়গার তুলনায় কিছুটা বড় এবং লেজের আঁশগুলো পিঠের আঁশের চেয়ে বড় হয়। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কিত গণ Agama-এর সদস্যদের মতো নয়, এদের চতুর্থটির পরিবর্তে তৃতীয় (মাঝের) পায়ের আঙুলটি সবচেয়ে দীর্ঘ হয়।[৫]
বিস্তৃতি
[সম্পাদনা]সিনাই আগামা উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার শুষ্ক অঞ্চলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে পাওয়া যায়। যে দেশগুলোতে এটি দেখা যায় সেগুলো হলো সিনাই উপদ্বীপ (মিশর),[২] জর্ডান এবং সিরিয়া।[৩]
আচরণ
[সম্পাদনা]সিনাই আগামা পোকামাকড় শিকার করে এবং এর খাদ্যের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে পিঁপড়া। বসন্ত এবং গ্রীষ্মের শুরুতে প্রজনন ঘটে যখন পুরুষ এবং স্ত্রী উভয়ই এলাকা-সচেতন হয়ে ওঠে। তাদের এলাকা বজায় রাখতে, তারা মাথা উঁচু করে এবং মুখ হা করে একটি হুমকিস্বরূপ ভঙ্গি গ্রহণ করে। পুরুষটি একটি উঁচু স্থান খুঁজে নেয় যেখানে সে মাথা দুলিয়ে, চোখের নড়াচড়া ব্যবহার করে এবং সামনের হাত-পা দিয়ে পুশ-আপ (বুকডন) দিয়ে সম্ভাব্য সঙ্গীর সাথে যোগাযোগ করতে পারে। মিলন সম্পন্ন হওয়ার পর, স্ত্রী প্রায় ১.৫ সেমি (০.৬ ইঞ্চি) লম্বা পাঁচ থেকে নয়টি ডিমের একটি গুচ্ছ পাড়ে।[৪]
অন্যান্য টিকটিকির মতো, সিনাই আগামা এক্টোথার্মিক। দিনের বেলায়, তারা রোদ পোহায় এবং তাদের বড় পাথর, পাহাড় বা পাথরের স্তূপে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে, কোনো বিপদসংকেত বা শিকারের চেষ্টা হলে তারা খুব দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। যখন বাইরের তাপমাত্রা কম থাকে, তখন তাদের শরীরের বিপাকীয় ক্রিয়া কমে যায় এবং তারা হঠাৎ দ্রুত দৌড়াতে পারে না। তখন তাদের স্বভাব হলো নিজের অবস্থানে অনড় থাকা এবং আক্রমণকারীকে আক্রমণ করা।[৬]
উপপ্রজাতি
[সম্পাদনা]দুটি উপপ্রজাতি-কে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে মনোনীত উপপ্রজাতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[৭]
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]উপপ্রজাতিগত নাম, werneri, ইসরায়েলি হার্পেটোলজিস্ট ইয়েহুদা এল. ওয়ার্নার-এর সম্মানে রাখা হয়েছে।[৮]
জুনিয়র সিনোনিম, Agama neumanni, জার্মান পক্ষীবিদ অস্কার নিউম্যান-এর সম্মানে নামকরণ করা হয়েছে।[৮]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Els, J.; Al Johany, A.M.H.; Amr, Z.S.S.; Soorae, P.; Joger, U.; Disi, A.M.; Werner, Y.L. (২০২১)। "Pseudotrapelus sinaitus"। বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২১ e.T199676A220535557। আইইউসিএন। ডিওআই:10.2305/IUCN.UK.2021-1.RLTS.T199676A220535557.en। সংগ্রহের তারিখ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|errata=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য) - 1 2 Baha El Din, Sherif [in জার্মান] (২০০৬)। A Guide to the Reptiles and Amphibians of Egypt। Cairo: The American University in Cairo Press। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৭৭-৪২৪-৯৭৯-২।
- 1 2 Tamar, Karin; Scholz, Sebastian; Crochet, Pierre-André; Geniez, Philippe; Meiri, Shai; Schmitz, Andreas; Wilms, Thomas M.; Carranza, Salvador (২০১৬)। "Evolution around the Red Sea: Systematics and biogeography of the agamid genus Pseudotrapelus (Squamata: Agamidae) from North Africa and Arabia"। Molecular Phylogenetics and Evolution। ৯৭ (2)। ডিওআই:10.1016/j.ympev.2015.12.021।
- 1 2 "Sinai agama (Pseudotrapelus sinaitus)"। ARKive। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১৩।
- ↑ von Heyden, CHG (১৮২৭)। "Reptilien"। Rüppell, E (সম্পাদক)। Atlas zu Reise im nördlichen Afrika. l. Zoologie (জার্মান এবং লাতিন ভাষায়)। Frankfurt am Main: H. L. Brönner। পৃ. ১০-১২ + Plate ৩।
- ↑ Hertz, Paul E.; Huey, Raymond B.; Nevo, Eviatar (১৯৮২)। "Fight versus flight: Body temperature influences defensive responses of lizards"। Animal Behaviour। ৩০ (3): ৬৭৬–৬৭৯। বিবকোড:1982AnBeh..30N3677H। ডিওআই:10.1016/S0003-3472(82)80137-1।
- ↑ Uetz, Peter। "Pseudotrapelus sinaitus (Heyden, 1827)"। The Reptile Database। সংগ্রহের তারিখ ৩১ জুলাই ২০১৩।
- 1 2 Beolens, Bo; Watkins, Michael; Grayson, Michael (2011). The Eponym Dictionary of Reptiles. Baltimore: Johns Hopkins University Press. xiii + 296 pp. আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪২১৪-০১৩৫-৫. (Agama neumanni, p. 189; Pseudotrapelus werneri, p. 282).