বিষয়বস্তুতে চলুন

সিনবিউম প্যাগোডা

সিনবিউম প্যাগোডা
Hsinbyume Myatheindan Pagoda
ဆင်ဖြူမယ် မြသိန်းတန် စေတီ
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিথেরবাদ বৌদ্ধধর্ম
অবস্থান
অবস্থানমিনগুন, সাগাইং অঞ্চল
দেশ মিয়ানমার
সিনবিউম প্যাগোডা মিয়ানমার-এ অবস্থিত
সিনবিউম প্যাগোডা
মিয়ানমারে অবস্থান
স্থানাঙ্ক২২°০৩′২০″ উত্তর ৯৬°০০′৫৯″ পূর্ব / ২২.০৫৫৫৬° উত্তর ৯৬.০১৬৩৯° পূর্ব / 22.05556; 96.01639
স্থাপত্য
প্রতিষ্ঠাতাKing Bagyidaw
সম্পূর্ণ হয়১৮১৬; ২১০ বছর আগে (1816)

সিনবিউম প্যাগোডা (বর্মী: ဆင်ဖြူမယ်စေတီ [sʰɪ̀ɰ̃ pʰjù mɛ̀ zèdì]), যা মিয়ানমারে মায়াথেইন্ডাও প্যাগোডা (မြသိန်းတန်စေတီ [mja̰ θéɪɰ̃ dàɰ̃ zèdì]) নামে পরিচিত একটি অত্যাশ্চর্য সাদা বৌদ্ধ মন্দির তথা বৃহৎ প্যাগোডা, যা পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়। প্যগোডাটি মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের মিনগুনের উত্তরে, ইরাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। এটি মান্দালয় হতে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে এবং মিনগুনের এক অসম্পূর্ণ স্তূপের কাছে অবস্থিত। প্যাগোডাটি বৌদ্ধ সৃষ্টিতত্ত্বের পবিত্র মেরু পর্বতের উপর বৌদ্ধিক স্থাপত্যে নির্মিত এবং সাদা রঙে উৎকীর্ণ।

নির্মাণ

[সম্পাদনা]
সিনবিউম প্যাগোডা, মিংগুন

প্যাগোডাটি ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে বার্মার রাজা বাগিদাও তার খুড়তুতো ভাই এবং প্রথমা স্ত্রী সিনবিউম (ဆင်ဖြူမယ်, lit. রাজকুমারী শ্বেত হস্তী, ১৭৮৯–১৮১২) -এর স্মৃতিতে সিংহাসনে আরোহনের তিন বৎসর আগে নির্মাণ করেন। সিনবিউম সন্তান প্রসবের সময় প্যাগোডার অবস্থানের নিকচবর্তী এক স্থানে মারা যান। [][]

স্থাপত্য

[সম্পাদনা]

প্যাগোডার নকশা বার্মিজ প্যাগোডার নকশা হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। এটি মেরু পর্বতে পৌরাণিক সুলামণি প্যাগোডার বর্ণনার উপর ভিত্তি করে তৈরি। প্যাগোডার নিচের অংশটি পর্বতকে প্রতিনিধিত্ব করে। তরঙ্গ দিয়ে সজ্জিত সাতটি সোপান যা সাত সমুদ্র কে প্রতিনিধিত্ব করে, বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুসারে মেরু পর্বতকে ঘিরে অবস্থান করে।[] সাতটি সোপান বা সিঁড়ি মিলিত হয় উপরে মালভূমি আকারের কেন্দ্রীয় স্তূপে, যেটি আকাশ দেবতা ইন্দ্রের আসন সুলামনি প্রাসাদের প্রতিনিধিত্ব করে। আর সেই স্থান হতে একটি খাড়া সিঁড়ি এক গ্যালারিতে শেষ হয় যেখানে একটি কক্ষে বুদ্ধমূর্তি শোভিত আছে। সোপান আরোহনের সময় সাতটি এবং কক্ষে আরোহনের সময় আরও পাঁচটি মোট বারোটি স্তম্ভ যুক্ত দরজা এবং সুসজ্জিত পেডিমেন্ট অতিক্রম করতে হয়।

ভূমিকম্প এবং পুনরুদ্ধার

[সম্পাদনা]

১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দের আভা ভূমিকম্পে প্যাগোডাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৮৭৪ খ্রিস্টাব্দে রাজা মিন্ডন মেরামত করেন।[]

পুনরায় ২০২৫ খ্রিস্টাব্দের মিয়ানমার ভূমিকম্পটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এর কারণে প্যাগোডার বেশিরভাগ কাঠামোই ভেঙ্গে পড়েছে।[]

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে

[সম্পাদনা]

অনন্য স্থাপত্যের অধিকারী মিয়ানমারের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক সুন্দর 'সিনবিউম প্যাগোডা ২০২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৮ মার্চ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কলকাতার দুর্গাপূজায় মহানগরের উপকণ্ঠে কল্যাণী শহরের আইটিআই মোড়ে এক পূজার আয়োজক সংস্থা দৃষ্টি আকর্ষণে সিনবিউম প্যাগোডা-র আদলেই এক ১৭০ ফুট উচ্চতার পূজা মণ্ডপ তৈরি করে। মণ্ডপ তৈরিতে সাদা ধবধবে প্লাই ও ফাইবার ব্যবহৃত হয়। মণ্ডপটি দেশবিদেশের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।[]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Colonel Sladen's Account of Senbyoo Pagoda at Mengoon, 1868" (পিডিএফ)SOAS। সংগ্রহের তারিখ ১৫ মার্চ ২০০৭[অকার্যকর সংযোগ]
  2. "- The beautiful white Hsinbyume or Myatheindan Pagoda - Myanmar"। ১৪ জুলাই ২০১১। ১৪ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩০ মার্চ ২০২৫
  3. Rita Dumais। "PhotoPlus - Myanmar Mingun Myatheindan Pagoda"। photoplus.ws। ২১ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০১১
  4. "Hsinbyume or Myatheindan Pagoda"। myanmar-image.com। ২০ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০১১
  5. "မင်းကွန်းမြို့တွင် ငလျင်ဒဏ်ကြောင့် ထိခိုက်သေဆုံးသူများထဲတွင် စစ်ကောင်စီ တပ်သားများလည်းပါဝင်ပြီး ကယ်ဆယ်ရေးများ ဆက်လက် လုပ်ဆောင်နေဆဲဟု ဒေသခံများ ပြောဆို"Khit Thit Media। ২৯ মার্চ ২০২৫। সংগ্রহের তারিখ ২৯ মার্চ ২০২৫
  6. "লুইস ক্লাবের মায়ানমারের সিনবিউম প্যাগোডা প্রস্তুত"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০২৫