সিংহরাজ সংরক্ষিত বন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন

সিংহরাজ সংরক্ষিত বন হলো শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত একটি জাতীয় উদ্যান এবং জীববৈচিত্র্যপূর্ণ স্থান। এই বন আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানরূপে স্বীকৃত।[১]

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) অনুযায়ী, সিংহরাজ দেশের প্রাথমিক গ্রীষ্মকালীন রেইন ফরেস্টের মধ্যে শেষ টেকসই বন। এই বনের, ৬০%-এর বেশি বৃক্ষ সম্পূর্ণ স্থানীয় এবং বেশিরভাগই দুর্লভ বলে বিবেচনা করা হয়।

এই পার্বত্য ও অদূষিত রেইন ফরেস্টটির দুর্লভ জীববৈচিত্র্যকে ব্যবসা-বাণিজ্যের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য, একে ১৯৭৮ সালে বিশ্ব জীবমন্ডল সংরক্ষণ স্বীকৃতি ও ১৯৮৮ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান এর স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সংরক্ষিত বনটির নামের অর্থ লায়ন কিংডম(সিংহের রাজ্য)

বনটি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে মাত্র ২১ কি.মি (১৩‌ মাইল) এবং উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে মাত্র ৭ কি.মি (৪.৩ মাইল) লম্বা। কিন্তু,জায়গাটি স্থানিকতা প্রজাতির উদ্ভিদ, উভচর প্রাণী, কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, পাখি জন্য স্বর্গস্বরূপ।

ঘন সবুজ উদ্ভিদের কারণে, বন্যপ্রাণীকে শুকনো-স্থানের ইয়ালা জাতীয় উদ্যানের মতো এত সহজে দেখা যায় না। এখানে, প্রায় ৩টি হাতি এবং ১৫ বা তার বেশি চিতাবাঘ আছে। এখানকার, সবচেয়ে সাধারণ ও বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী হলো স্থানীয় বেগুণী মুখী বানর।

এখানকার, পাখিরা ভীতিহীন ভীমরাজ ও উচ্চ-শব্দকারী কমলা-ব্যবলার পাখির নেতৃত্বের সাথে মিশ্রিত পাখির ঝাঁকে বসবাস করে। শ্রীলঙ্কার ২৬টি স্থানীয় পাখি প্রজাতির মধ্যে, ২০টি রেইন ফরেস্ট প্রজাতি এখানে বসবাস করে যাদের মধ্যে লালমুখো মালকোহা,সবুজ-কউকাল এবং শ্রীলঙ্কান নীল দোয়েল।

সরীসৃপ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হলো স্থানীয় সবুজ পিট ভাইপার এবং কুঁঁজো-নাকওয়ালা ভাইপার। এছাড়াও, এখানে উভচর প্রাণীর বিশাল বৈচিত্র্য, বিশেষত বৃক্ষের ব্যাঙ আছে। অমেরুদন্ডী প্রাণীর মধ্যে আছে স্থানীয় সোনাল, প্রজাপতি ও জোঁক।

সামাজিক সংহতি[সম্পাদনা]

সংরক্ষিত বনটি সীমান্তবর্তী বারোটির বেশি গ্রামের স্থানীয় লোকজন এর সাথে সুসংহত অবস্থায় আছে। উত্তর দিকে বড় প্রদেশ থাকায়, উত্তর দিকে অপেক্ষা দক্ষিণ দিকে বেশি গ্রাম আছে। স্থানীয়রা এখান থেকে ভেষজ ঔষধ, ভোজ্য ফল, বাদাম, মাশরুম এবং অ-কাষ্ঠল বন্য পণ্য (যেমন-মধু, মিষ্টি রসজাতীয় যা স্থানীয় ক্যারিওটা গণের পাম প্রজাতির বৃক্ষ থেকে সংগ্রহ করা হয়) সংগ্রহ করে। বৃক্ষ রসকে পরবর্তীতে গুড়ে, একধরনের স্থানীয় ভিনেগার, রূপান্তর করে। স্থানীয়রা অবসর সময়ে যখন কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকে না,তখন তারা উপরোক্ত পণ্যগুলো আনার জন্য বনে যায়। পাশাপাশি, বনের চারপাশে বসবাসরত সকল মানুষের পানির উৎস হলো বনের ভেতর অবস্থিত ঝর্নার স্ফটিক বিশুদ্ধ পানি। প্রজন্ম ধরে, স্থানীয় জনগণেরা বনটির উত্তর থেকে দক্ষিণে লম্বা যাত্রার মাধ্যমে আদমের পাহাড়ে বার্ষিক তীর্থযাত্রায় যায়।[২]

ছবির সংগ্রহ[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]