সিংড়া জাতীয় উদ্যান
| সিংড়া জাতীয় উদ্যান | |
|---|---|
| অবস্থান | দিনাজপুর, রংপুর বিভাগ, বাংলাদেশ |
| নিকটবর্তী শহর | বীরগঞ্জ |
| স্থানাঙ্ক | ২৫°৫৩′২৪″ উত্তর ৮৮°৩৩′৪৭″ পূর্ব / ২৫.৮৯০১১৫° উত্তর ৮৮.৫৬৩০৫২° পূর্ব |
| আয়তন | ৩০৫.৬৯ হেক্টর |
| স্থাপিত | ২০১১ |
সিংড়া জাতীয় উদ্যান উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।[১] স্থানীয়ভাবে এটি সিংড়া শালবন নামে পরিচিত। দিনাজপুর জেলা শহর থেকে সড়ক পথে ৪০ কি.মি. উত্তরে এবং বীরগঞ্জ উপজেলা থেকে ১৫ কি.মি. দূরে ভোগনগর ইউনিয়নে এর অবস্থান॥ এই বনভূমির মোট আয়তন ৩৫৫ হেক্টর এবং এর মধ্যে জাতীয় উদ্যানের পরিমাণ (সংরক্ষণ) ৩০৫.৬৯ হেক্টর। ডালাগ্রাম, চাউলিয়া, সিংড়া ও নর্তনদী এ ৪টি মৌজায় সিংড়া জাতীয় উদ্যান বিস্তৃত। প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়ন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এবং পর্যটন সুবিধার উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১০ সালের ১০ অক্টোবর বনবিভাগ এটিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে।[২][৩][৪]
সিংড়া জাতীয় উদ্যানের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে নর্ত নদী। পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে একটি ছোট পরিসরের রেস্ট হাউজ ও দুটি পিকনিক স্পট রয়েছে। শীত মৌসুমে এই বনে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। সিংড়া শালবনের জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে আরডিআরএস বাংলাদেশ এর সহযোগীতায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি কাজ করছে।[৫] [৬] [৭] [৮] [৯] [১০]
ইতিহাস
[সম্পাদনা]সিংড়া বনকে ১৮৮৫ সালে অধিভুক্ত করা হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে বনবিভাগের অধীনে নিয়ে গেজেট প্রকাশ হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ১০ ই অক্টোবর উত্তরাঞ্চলে অন্য তিনটি বনাঞ্চল এর সাথে এটিকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। সিংড়া মৌজার নামানুসারে এই সংরক্ষিত বনের নামকরণ করা হয় সিংড়া জাতীয় উদ্যান। এটি সিংড়া শালবন নামেও স্থানীয়ভাবে পরিচিত।[১১]
জীব ও উদ্ভিদ বৈচিত্র্য
[সম্পাদনা]উদ্ভিদ
[সম্পাদনা]সিংড়া জাতীয় উদ্যানে মূলত পত্রঝরা শালবৃক্ষের প্রাধান্য দেখা যায়। তবে শাল ছাড়াও এখানে জারুল, তরুল, শিরিষ, শিমুল, মিনজিরি, সেগুন, গামারি, আকাশমনি, ঘোড়ানিম, সোনালু, গোলাপজাম, হরিতকী, বহেড়া, আমলকি এবং বিভিন্ন ধরনের নাম না জানা উদ্ভিদ ও লতাগুল্ম রয়েছে।[১২][১৩]
স্তন্যপায়ী
[সম্পাদনা]এক সময়ে এই বনে বাঘ, নীলগাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য জীবজন্তুর আবাস ছিল। তবে বনভূমি ধ্বংস ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে এ বনভূমি থেকে জীবজন্তু হারিয়ে যেতে থাকে। বর্তমানে এই বনে খরগোশ, শিয়াল, সাপ, বেজি সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ও পতঙ্গের দেখা পাওয়া যায়।[১৪]
পাখি
[সম্পাদনা]শকুন, দেশি শুমচা, খয়েরি হাঁড়িচাচা, ব্রোঞ্জ ফিঙ্গে, বড় বসন্ত বৌরি, বড় তিত, খুঁড়ুলে পেঁচা, মেঘহও মাছরাঙা, ইউরেশীও-কণ্ঠী ঘুঘু, তিলা ঘুঘু, বাংলা কাঠঠোকরা, কালাঘাড় বেনেবউ, বুলবুলি, টুনটুনি, দিনকানা ইত্যাদি বর্তমানে দেখা যায়।[১৫][১৬][১৭]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Hossain, Syed Zakir। "A walk in the Singra National Park"। The Business Standard। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।
{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: ইউআরএল-অবস্থা (লিঙ্ক) - ↑ দৈনিক যুগের কথায় প্রকাশিত প্রতিবেদন।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৮-১৯" (পিডিএফ)। বন অধিদপ্তর। ২০ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
- ↑ "বার্ষিক প্রতিবেদন ২০১৭-১৮" (পিডিএফ)। বন অধিদপ্তর। ১৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে মূল থেকে (পিডিএফ) আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১।
- ↑ "Protected Areas of Bangladesh: National Parks"। Bangladesh Forest Department (ইংরেজি ভাষায়)। Government of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ "List of National Parks in Bangladesh"। Bangladesh Forest Department। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Kazi Abdul Baset (২০১৫)। সিংড়া জাতীয় উদ্যান [Singra National Park]। Asiatic Society of Bangladesh। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।
{{বই উদ্ধৃতি}}: অজানা প্যারামিটার|encyclopedia=উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] - ↑ Staff Correspondent (১৬ জুলাই ২০১৯)। "নাটোরের সিংড়া জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও সংকট [Biodiversity and Crisis of Singra National Park, Natore]"। Jugantor। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|author=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Forest Department (২০২৩)। "বঙ্গবন্ধু প্রাকৃতিক উদ্যান ও জাতীয় উদ্যানসমূহে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ [Biodiversity Conservation in Bangabandhu Natural Park and National Parks]"। Bangladesh Forest Department। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ IUCN Bangladesh (২০১৫)। Protected Areas of Bangladesh: A Guide to Wildlife Sanctuaries and National Parks (পিডিএফ) (ইংরেজি ভাষায়)। IUCN, International Union for Conservation of Nature। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।
- ↑ "List of National Parks, Wildlife Sanctuaries, and Eco-Parks"। Ministry of Environment, Forest and Climate Change। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Local Correspondent (১৯ জুলাই ২০১৭)। "নাটোরে সিংড়া জাতীয় উদ্যান: বৃক্ষের ছায়ায় প্রকৃতির সংসার [Singra National Park, Natore: Nature's Abode under the Trees]"। Kaler Kantho। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|author=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Md. Anowar Hossain; এবং অন্যান্য (২০১৪)। "Assessment of Floristic Diversity in Singra National Park, Bangladesh"। Bangladesh Journal of Plant Taxonomy (ইংরেজি ভাষায়)। ২১ (1): ৬১–৭০। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।
{{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}:|author=-এ "et al." এর সুস্পষ্ট ব্যবহার (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ] - ↑ http://uttorbangla.com/?p=3425
- ↑ """সিংড়া জাতীয় উদ্যান"-এক বর্নময় সবুজের হাতছানি"। বীরগঞ্জ উপজেলা তথ্য বাতায়ন। ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।
- ↑ Special Correspondent (৩ এপ্রিল ২০১৯)। "Singra National Park: Wildlife Habitat in Natore Faces Threat"। The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।
{{সংবাদ উদ্ধৃতি}}:|author=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য) - ↑ Md. Shafiqul Islam (২৯ নভেম্বর ২০২২)। "নাটোরে সিংড়া জাতীয় উদ্যান : বনভ্রমণে প্রকৃতির ডাকে [Singra National Park in Natore: Nature Calls for Forest Visit]"। Prothom Alo। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুলাই ২০২৫।[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]