বিষয়বস্তুতে চলুন

সালিহা বানু বেগম

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সালিহা বানু বেগম
সম্রাজ্ঞী, মুঘল সাম্রাজ্য
সালিহা বানু বেগম এবং জাহাঙ্গীর, আনু. ১৬২০
পাদশাহ বেগম
মেয়াদকাল১৬০৮ – ১০ জুন ১৬২০
পূর্বসূরিহামিদা বানু বেগম
উত্তরসূরিনূর জাহান
মৃত্যু১০ জুন ১৬২০
আগ্রা, মুঘল সাম্রাজ্য
দাম্পত্য সঙ্গীজাহাঙ্গীর (বি. ১৬০৮)
রাজবংশতৈমুরি (বিবাহসূত্রে)
পিতাকায়েম খান
ধর্মইসলাম

সালিহা বানু বেগম (ফার্সি: صالحہ بانو بیگم; মৃত্যু ১০ জুন ১৬২০) ছিলেন সম্রাট জাহাঙ্গীরের প্রধান স্ত্রী।[] তিনি তার সম্রাট স্বামীর রাজত্বের অধিকাংশ সময় ধরে ১৬২০ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত পাদশাহ বেগম হিসেবে আসীন ছিলেন।[]

পরিবার

[সম্পাদনা]

সালিহা বানু বেগম ছিলেন কায়েম খানের কন্যা,[] এবং মুকিম খানের নাতনি। মুকিম খান ছিলেন আকবরের সময়ের সুজাত খানের পুত্র।[]

বিবাহ

[সম্পাদনা]

জাহাঙ্গীর তার রাজত্বের তৃতীয় বছরে ১৬০৮ সালে তাকে বিবাহ করেন। ফলস্বরূপ, তার ভাই আব্দুর রহিমের অবস্থানের ব্যাপক উন্নতি ঘটে। তাকে 'তরবিয়ত খান' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তার মিয়ান জোহ নামে এক পুত্র ছিল, যাকে সালিহা নিজের পুত্রের মতো বড় করেছিলেন। মিয়ান জোহ ঝিলাম নদীর তীরে মহবত খানের হাতে নিহত হন, যখন মহবত খান জাহাঙ্গীরের প্রতি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছিলেন।[]

জাহাঙ্গীরের এক স্ত্রীর চিত্রায়ন, সম্ভবত সালিহা

তিনি 'পাদশাহ মহল' ("প্রাসাদের সার্বভৌম") এবং 'পাদশাহ বানু' ("সার্বভৌম নারী") উপাধি ধারণ করেছিলেন।[][] কথিত আছে যে, জাহাঙ্গীরের অনুরাগের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন নূর জাহানের একমাত্র শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে নূর জাহান ছিলেন একজন দুর্ধর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি কেবল জাহাঙ্গীরকেই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় বিষয়গুলোকেও নিয়ন্ত্রণ করতেন।[] ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি উইলিয়াম হকিন্স তাকে জাহাঙ্গীরের প্রধান স্ত্রীদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন। তিনি নিম্নলিখিত মন্তব্যটি করেছিলেন:

তার (জাহাঙ্গীরের) .... তিনশ জন স্ত্রী আছে যাদের মধ্যে চার জন রানী প্রধান; যথা— প্রথম জন কায়েম খানের কন্যা পাদশাহ বানু; দ্বিতীয় জন হলেন নূরে মহল, যিনি গিয়াস বেগের কন্যা; তৃতীয় জন হলেন জাইন খানের (জৈন খান কোকা) কন্যা; চতুর্থ জন হলেন হাকিম হুমায়ুনের (মির্জা মুহাম্মদ হাকিম) কন্যা, যিনি জাহাঙ্গীরের পিতা আকবর পাদশাহের (আকবর) ভাই ছিলেন।[]

সালিহা বানু বেগম হিন্দি কবিতায় পারদর্শী ছিলেন বলে জানা যায়।[]

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

সালিহা বানু বেগম ১৬২০ সালের ১০ জুন মারা যান।[১০] জাহাঙ্গীর উল্লেখ করেছেন যে জ্যোতিষী জোতিক রাই তার মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছিলেন; তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত হলেও জাহাঙ্গীর সেই ভবিষ্যদ্বাণীর নির্ভুলতা দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন, যা তার নিজের জন্মকুণ্ডলী থেকে নেওয়া হয়েছিল।[১১]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Findly, Ellison Banks (১৯৯৩)। Nur Jahan, empress of Mughal India। New York: Oxford University Press। পৃ. ১২৫আইএসবিএন ৯৭৮০১৯৫৩৬০৬০৮
  2. The Journal of the Numismatic Society of India, Volumes 20-21 (ইংরেজি ভাষায়)। Numismatic Society of India। ১৯৫৮। পৃ. ১৯৬।
  3. Lal, K.S. (১৯৮৮)। The Mughal harem। New Delhi: Aditya Prakashan। পৃ. ২৭আইএসবিএন ৯৭৮৮১৮৫১৭৯০৩২
  4. Awrangābādī, Prasad এবং Shāhnavāz 1979, পৃ. 925।
  5. Awrangābādī, Prasad এবং Shāhnavāz 1979, পৃ. 926।
  6. Abdul Kader, M. (১৯৮৮)। Historical Fallacies Unveiled। İslamic Foundation Bangladesh। পৃ. ১০৫।
  7. 1 2 Sharma, Sudha (২১ মার্চ ২০১৬)। The Status of Muslim Women in Medieval India। SAGE Publications India। পৃ. ১৪৪, ২০৯। আইএসবিএন ৯৭৮-৯-৩৫১-৫০৫৬৭-৯
  8. Asiatic Society (Calcutta, India) (১ জানুয়ারি ১৯৩২)। Journal and Proceedings of the Asiatic Society of Bengal (ইংরেজি ভাষায়)। খণ্ড ২৫। Asiatic Society.। পৃ. ৬২।
  9. Foster, Sir William (১৯৭৫)। Early travels in India, 1583-1619। AMS Press। পৃ. ১০০–১০১। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৪০৪-৫৪৮২৫-৪
  10. Jahangir, Emperor; Thackston, Wheeler McIntosh (১৯৯৯)। The Jahangirnama : memoirs of Jahangir, Emperor of India। Freer Gallery of Art and Arthur M. Sackler Gallery, Smithsonian Institution; New York: Oxford University Press। পৃ. ৩৪০আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫১২৭১৮-৮
  11. Findly, E.B. (১৯৯৩)। Nur Jahan, Empress of Mughal India। OUP E-Books। Oxford University Press। পৃ. ১২৫আইএসবিএন ৯৭৮-০-১৯-৫০৭৪৮৮-৮

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Awrangābādī, Shāhnavāz Khān; Prasad, Bani; Shāhnavāz, 'Abd al-Hayy ibn (১৯৭৯)। The Maāthir-ul-umarā: being biographies of the Muḥammadan and Hindu officers of the Timurid sovereigns of India from 1500 to about 1780 A.D.। Janaki Prakashan।