সালিম বিন থুওয়াইনি
| সালিম বিন থুওয়াইনি | |
|---|---|
| ওমানের সুলতান | |
| রাজত্ব | ১৮৬৬–১৮৬৮ |
| পূর্বসূরি | থুওয়াইনি বিন সাইদ |
| উত্তরসূরি | আজ্জান বিন কাইস |
| জন্ম | ১৮৩৯ মাস্কাট |
| মৃত্যু | ৭ ডিসেম্বর ১৮৭৬ (বয়স ৩৬–৩৭) হায়দ্রাবাদ, সিন্ধু (বর্তমান পাকিস্তান) |
| দাম্পত্য সঙ্গী | কাইস বিন আজজান আল-বুসাঈদীর এক কন্যা |
| রাজবংশ | আল বু সাইদ |
| পিতা | থুওয়াইনি বিন সাইদ |
| মাতা | ঘালিয়া বিনতে সালিম আল-বুসাইদীয়া |
সুলতান সালিম বিন থুওয়াইনি আল বুসাইদি [১][২] (আরবি: سَالِم بِن ثُوَيْنِي آل سَعِيْد) ১১ ফেব্রুয়ারি ১৮৬৬ থেকে অক্টোবর ১৮৬৮ পর্যন্ত মাস্কাট ও ওমানের সুলতান ছিলেন। তিনি সুলতান থুওয়াইনি বিন সাইদ এবং তার স্ত্রী সাইয়িদা ঘালিয়া বিনতে সালিম আল-বুসাইদীয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন এবং তার বাবার উত্তরাধিকারী হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন। ওয়াহাবিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের আশায় লুইস পেলি এবং হেনরি বার্টেল ফ্রেয়ার সুলতান থুওয়াইনি বিন সাইদের মৃত্যুতে গভীর হতাশ হয়েছিলেন। তারা সালিমের বিরোধী মতাদর্শ এবং আসন্ন যুদ্ধে যোগ দিতে তার অস্বীকৃতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তাই বুশেহরে উপসাগরীয় অঞ্চলের ব্রিটিশ পলিটিক্যাল রেসিডেন্ট জেনারেল কর্নেল লুইস পেলি সালিমকে স্বীকৃতি দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি ভয় পাচ্ছিলেন যে সালিম বিদেশী হস্তক্ষেপ বন্ধ করবেন এবং ওয়াহাবিদের সাথে একটি শান্তি চুক্তি করবেন।
সালিম তখন ব্রিটিশ শাসনাধীন বোম্বেতে দুজন দূত পাঠান। তারা ব্রিটিশ এবং মাস্কাট সরকারের মধ্যে সম্পর্ক নবায়নের জন্য একটি চিঠি নিয়ে যান এবং তার বাবার মৃত্যু সংক্রান্ত দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। সালিমের দাবি ছিল যে তার বাবা তিন দিন অসুস্থ থাকার পর মারা গেছেন এবং ইসলামী রীতি অনুযায়ী তাকে দ্রুত সমাহিত করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮৬৬ সালের মে মাসে ভারত সরকার তাকে সুলতান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। পেলি হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেন এবং আকার-ইঙ্গিতে তাকে পিতৃহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করেন কিন্তু ব্রিটিশ ভাইসরয় জন লরেন্স, ১ম ব্যারন লরেন্স পেলিকে বাধা দেন এবং সালিমকে তার সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেন।
১৮৬৮ সালের সেপ্টেম্বরে সালিমের ভগ্নিপতি এবং দূর সম্পর্কের আত্মীয় আজ্জান বিন কাইস অসন্তুষ্ট উপজাতিদের দ্বারা ইমাম নির্বাচিত হন। এই উপজাতিরা দেশটিকে প্রাচীন ইবাদি ইসলামী রাষ্ট্রের নীতিতে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল। আজজান তার অনুসারীদের নিয়ে বারকাহ মুতরাহ এবং মাস্কাট দুর্গগুলোতে একের পর এক দ্রুত অভিযান চালান। কোনো সমর্থন না পেয়ে সালিম কেন্দ্র ধরে রাখতে পারেননি এবং বন্দরের একটি দুর্গে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। তড়িঘড়ি করে পালানোর সময় তিনি তার মূল্যবান জিনিসপত্র এবং রাজবংশের অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন ফেলে যান যার সবই আক্রমণকারীরা লুটপাট বা ধ্বংস করে ফেলে। ১১ অক্টোবর ১৮৬৮ সালে সালিম তার জাহাজ 'দ্যা প্রিন্স অফ ওয়েলস' এ চড়ে বন্দর আব্বাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখান থেকে তিনি ১৮৬৮ সালের অক্টোবর এবং ১৮৬৯ সালের মার্চের মধ্যে তার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের জন্য বেশ কয়েকটি ব্যর্থ চেষ্টা করেন। ১৮৭৫ সালে তিনি সিংহাসনের জন্য শেষ চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু ততদিনে ব্রিটিশরা আনুষ্ঠানিকভাবে তার চাচা তুর্কি বিন সাইদকে নতুন সুলতান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সালিম ধরা পড়েন এবং এইচ.এম.এস. ড্যাফনি জাহাজে করে তাকে নির্বাসিত করা হয়। ১৮৭৬ সালের ৭ ডিসেম্বর গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সিন্ধুর হায়দ্রাবাদের একটি দুর্গে বন্দী ছিলেন।
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Salil ibn Raziq; George P. Badger (Translator) (১৮৭১), History of the Imams and Sayyids of Oman, London
{{citation}}:|author2=প্যারামিটারে সাধারণ নাম রয়েছে (সাহায্য)উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক) - ↑ Emily Ruete (১৯৯২), Ulrich Haarmann; E. Van Donzel (সম্পাদকগণ), An Arabian Princess Between Two Worlds: Memoirs, Letters Home, Sequels to the Memoirs, Syrian Customs and Usages, লাইডেন নেদারল্যান্ডস, আইএসবিএন ৯০-০৪-০৯৬১৫-৯
{{citation}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অবস্থানে প্রকাশক অনুপস্থিত (লিঙ্ক)
- ব্রিটিশ আর্কাইভস।
- আর্কাইভস অফ দ্য ব্রিটিশ ইন্ডিয়া কোম্পানি।
| রাজত্বকাল শিরোনাম | ||
|---|---|---|
| পূর্বসূরী থুওয়াইনি বিন সাঈদ |
ওমানের সুলতান ১৮৬৬–১৮৬৮ |
উত্তরসূরী Azzan bin Qais |