বিষয়বস্তুতে চলুন

সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
প্লাস্টিক কীভাবে মহাসাগরে প্রবেশ করে, তার পথচিত্র

সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ হল সামুদ্রিক দূষণের একটি ধরন, যা প্লাস্টিক থেকে সৃষ্টি হয়। এই দূষণ বড় আকারের বোতল বা ব্যাগের মতো বস্তু থেকে শুরু করে, প্লাস্টিক ভেঙে গঠিত মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যন্ত বিস্তৃত। প্লাস্টিক সহজে পুনঃব্যবহারযোগ্য নয়। সামুদ্রিক আবর্জনা বলতে বোঝায় সমুদ্রে ভেসে থাকা বা জলে ঝুলন্ত মানুষের ফেলে দেওয়া বর্জ্য। এর ৮০ শতাংশই প্লাস্টিক[][]

মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি হয় প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষয় বা আলোকবিকর্ষণের মাধ্যমে, যা নদী, জলাশয় কিংবা সমুদ্রের জলে ঘটে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর প্রায় ৩,০০০ টন ন্যানোপ্লাস্টিক সুইজারল্যান্ডে তুষারপাতের মাধ্যমে জমে।[]

২০১৩ সালের শেষ নাগাদ অনুমান করা হয় যে সমুদ্রে প্রায় ৮৬ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক জমা হয়েছে, যা ১৯৫০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে উৎপাদিত বৈশ্বিক প্লাস্টিকের প্রায় ১.৪ শতাংশ।[]

২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে আনুমানিক ৮ মিলিয়ন টন সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে ম্যাক্রোপ্লাস্টিক হিসেবে।[][]

প্রায় ১.৫ মিলিয়ন টন প্রাথমিক মাইক্রোপ্লাস্টিক সমুদ্রে মিশে যায়। এর ৯৮ শতাংশ ভূমি থেকে এবং বাকি ২ শতাংশ সমুদ্রভিত্তিক কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্টি হয়।[][][]

প্রতি বছর আনুমানিক ১৯–২৩ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক জলজ পরিবেশে প্রবেশ করে।[] ২০১৭ সালের জাতিসংঘ মহাসাগর সম্মেলনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে, ২০৫০ সালের মধ্যে মহাসাগরে মাছের চেয়ে বেশি ওজনের প্লাস্টিক থাকতে পারে।[১০]

সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ সামুদ্রিক জীবের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এটি ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, এবং সহজে অপসারণযোগ্য নয়। [১১] বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য যেমন: প্লাস্টিক ব্যাগ, ছয়-প্যাক রিং, ফিল্টারসহ সিগারেট এবং বোতলের ঢাকনা প্রভৃতি জলজ প্রাণীদের শ্বাসতন্ত্র ও পাচনতন্ত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে।[১২][১৩][১৪]

ভুতুড়ে জালগুলো মাছ, ডলফিন, সামুদ্রিক কচ্ছপ, হাঙর, ডুগং, কুমির, সমুদ্র পাখি এবং কাঁকড়াসহ নানা প্রাণীকে আটকে ফেলে, যার ফলে তারা চলাচল করতে পারে না, আহত হয়, সংক্রমণ ঘটে এবং এমনকি শ্বাসরোধে মারা যায়।[১৫][১৬]

বিশ্বে প্লাস্টিক দূষণের জন্য শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিশর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া এবং বাংলাদেশ[১৭] এই দেশগুলোর নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে ইয়াংসিকিয়াং, সিন্ধু, হুয়াংহো, হাই, নাইল, গঙ্গা, পার্ল, আমুর, নাইজারমেকং[১৮][১৯]

প্লাস্টিক জৈবভাবে অবক্ষয় না হয়ে সূর্যের আলোতে আলোকবিকর্ষণে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তবে এটি শুকনো পরিবেশে ভালোভাবে হয়, জলে এই প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়।[২০]

ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা জুপ্ল্যাঙ্কটন আকার ধারণ করলে জেলিফিশ সেগুলো খাওয়ার চেষ্টা করে এবং এর মাধ্যমে প্লাস্টিক সমুদ্রের খাদ্য চক্রে প্রবেশ করে।[২১][২২]

এই দূষণের সমাধান নির্ভর করছে উৎপাদনপ্যাকেজিং ব্যবস্থার পরিবর্তনের উপর, বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোয়। নদীর মোহনা থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ এবং সাগর ঘূর্ণিবলে জমে থাকা প্লাস্টিক পরিস্কার করার নানা পরিকল্পনা প্রস্তাবিত হয়েছে।[]

সমস্যার ব্যাপ্তি

[সম্পাদনা]
ঘানার একটি সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সময় একজন নারী ও এক শিশু প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করছে।
মোট মেরিন ল্যাবরেটরিতে একটি প্রদর্শনী, যেখানে প্লাস্টিক ব্যাগকে জেলিফিশের মতো দেখানো হয়েছে
টেনেরিফের একটি সৈকতে আটলান্টিক মহাসাগরের প্লাস্টিক বর্জ্য

প্লাস্টিক দ্বারা সৃষ্ট সামুদ্রিক দূষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের দূষণ সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়।[২৩] মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বেশিরভাগ প্লাস্টিক পুনঃব্যবহার হয় না। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক সমুদ্রে প্রতিবছর যে ৮ মিলিয়ন টন বর্জ্য জমা হয়, তার বড় অংশের জন্য দায়ী।[] এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রে মাছের চেয়ে ওজনে বেশি প্লাস্টিক থাকবে।[২৪]

২০০০ সালের আগ পর্যন্ত যত প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি প্লাস্টিক ২১শ শতকের প্রথম দশকেই তৈরি হয়েছে এবং এর বেশিরভাগই পুনঃচক্রায়ন হয়নি। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত বিশ্বে ৮,৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়েছে, যার মধ্যে ৭৯% জমেছে ল্যান্ডফিলে বা প্রাকৃতিক পরিবেশে।[২৫] IUCN-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পরিমাণ বেড়ে ১৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে।[]

বিশ্বের সমস্ত মহাসাগরে আনুমানিক ১৫ থেকে ৫১ ট্রিলিয়ন প্লাস্টিক কণা ছড়িয়ে আছে, উপরের স্তর থেকে শুরু করে সমুদ্রের তলদেশ পর্যন্ত।[২৬] সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় গভতা প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং মহাসাগরই মূলত স্থলভাগ থেকে উপকরণ প্রবাহিত হয়ে জমার চূড়ান্ত গন্তব্য।[২৭]

প্লাস্টিক দূষণ এখন এমন স্তরে পৌঁছেছে যে এটি গভীর খাদ, সামুদ্রিক পলিমাটি, সমুদ্রপৃষ্ঠ, মধ্যমহাসাগরীয় পর্বতমালা এবং এমনকি দূরবর্তী দ্বীপেও ছড়িয়ে পড়েছে। সাগর ঘূর্ণিবলে (gyres) প্লাস্টিক সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত হয়, যেখানে মহাসাগরের স্রোত বর্জ্য একত্র করে।

প্লাস্টিকের নমনীয়তা, টেকসইতা এবং সহজে আকার পরিবর্তনের ক্ষমতার কারণে এর ব্যবহার ব্যাপক হয়েছে। এটি প্রাকৃতিক ক্ষয়প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অত্যন্ত প্রতিরোধী। সমুদ্রের ঢেউ, ঝড়, স্রোত এবং সূর্যের আলো প্লাস্টিককে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে কিন্তু এটি জৈবভাবে ক্ষয় হয় না। পাঁচটি প্রধান মহাসাগরীয় ঘূর্ণিবলে আনুমানিক ৫.২৫ ট্রিলিয়ন প্লাস্টিক কণা রয়েছে, যার মোট ওজন প্রায় ৩ লাখ টন।[২৮]

এই প্লাস্টিক কণা এক সময় সমুদ্রতল-এর পলিমাটিতে জমা হয়। অনুমান করা হয়, পৃষ্ঠজলের তুলনায় চার গুণ বেশি প্লাস্টিক সমুদ্রের তলদেশে জমা হয়।[২৯] আজ প্লাস্টিক জীব-রাসায়নিক চক্রের অংশ হয়ে গেছে। সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী, পাখি, মাছ এবং ব্যাকটেরিয়াও এটি খাচ্ছে।[৩০]

বিশ্বে প্রতিবছর ৩০০ মিলিয়নের বেশি টন প্লাস্টিক উৎপাদিত হয়, যার অর্ধেকই একবার ব্যবহারযোগ্য। অনুমান করা হয়, প্রতি বছর ১৯–২৩ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক জলজ পরিবেশে প্রবেশ করে।[] বর্তমানে আমাদের মহাসাগরে আনুমানিক ১৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক রয়েছে। এটি সমুদ্রে ভাসমান বর্জ্যের ৮০% অংশ গঠন করে।[]

প্লাস্টিক শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি গভীর সমুদ্র, নদী, মোহনা, প্রবাল প্রাচীর এমনকি মহাসাগরের বাইরেও পাওয়া যায়। সাবমেরিন ক্যানিয়নগুলোও এই বর্জ্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে।[৩১]

সবচেয়ে দৃশ্যমান দূষণ দেখা যায় বর্জ্য দ্বীপে, যা সাগরের ঘূর্ণিবলে জমা হয়। পৃথিবীতে পাঁচটি প্রধান মহাসাগরীয় ঘূর্ণিবল রয়েছে: উত্তর ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, উত্তর ও দক্ষিণ আটলান্টিক এবং ভারত মহাসাগরের উপক্রান্তীয় ঘূর্ণিবল। প্রতিটি ঘূর্ণিবলে বড় ধরনের বর্জ্য প্যাচ বিদ্যমান।[৩২][৩৩]

বড় প্লাস্টিক (ম্যাক্রোপ্লাস্টিক) সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে ফেলে, ফলে তারা পেট ভরা মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে পুষ্টি গ্রহণ করে না। এভাবে সামুদ্রিক পাখি, তিমি, মাছ এবং কচ্ছপ না খেয়ে মৃত্যুবরণ করে। অনেক প্রাণী প্লাস্টিক বর্জ্যে জড়িয়ে পড়ে বা দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।[]

এই ম্যাক্রোপ্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়, যার আকার ৫ মিমি-র কম। সূর্যালোক, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, ঢেউ এবং বাতাস প্লাস্টিককে ভেঙে দেয়। কিছু ক্ষুদ্র প্রাণী প্লাস্টিক খেয়ে তা টুকরো টুকরো করে ফেললেও, এটি জীবাণুর মাধ্যমে ক্ষয় হয় না। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, Orchestia gammarellus প্রজাতির অ্যামফিপড একটি প্লাস্টিক ব্যাগকে ১৭.৫ লাখ কণায় ভেঙে ফেলতে পারে।[৩৪]

এছাড়া, মাইক্রোবিডনারডল হলো প্রাথমিক মাইক্রোপ্লাস্টিকের উৎস, যা প্রায়ই প্ল্যাঙ্কটন বা মাছের লার্ভার মতো খাদ্যচক্রের প্রাথমিক স্তরের প্রাণীদের দ্বারা খাওয়া হয় এবং খাদ্যচক্রে ওপরে উঠে যায়।[৩৫]

উৎসের ধরন ও পরিমাণ

[সম্পাদনা]
সাধারণ সামুদ্রিক বর্জ্যের গড় ক্ষয় সময়। নীল রঙে প্লাস্টিক বর্জ্য দেখানো হয়েছে।

প্রতি বছর সমুদ্রে প্রবেশকারী প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে এবং এর একটি বড় অংশই ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট কণার আকারে থাকে।[৩৭] ২০১৬-এর হিসাব অনুযায়ী সালে অনুমান করা হয় যে বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক দূষণ ছিল, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ২৫০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে।[৩৮] অন্য একটি গবেষণায় বলা হয় যে ২০১২ সালে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন টন।[৩৯] ২০২০ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে, আটলান্টিক মহাসাগরে পূর্বের অনুমানের চেয়ে দশ গুণ বেশি প্লাস্টিক রয়েছে।[৪০] মহাসাগরে বিদ্যমান সবচেয়ে বড় একক প্লাস্টিক দূষণ (~১০%) এবং অধিকাংশ বড় প্লাস্টিক বর্জ্য হলো ফিশিং ইন্ডাস্ট্রি থেকে ফেলা বা হারিয়ে যাওয়া জাল।[৪১]

Ocean Conservancy-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাম একত্রে অন্যান্য সব দেশের চেয়ে বেশি প্লাস্টিক সমুদ্রে ফেলে।[৪২]

এক গবেষণায় অনুমান করা হয় যে বর্তমানে সমুদ্রে ৫ ট্রিলিয়নের বেশি প্লাস্টিক কণা ভাসছে। এগুলোকে ছোট মাইক্রোপ্লাস্টিক, বড় মাইক্রোপ্লাস্টিক, মেসো এবং ম্যাক্রোপ্লাস্টিক—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।[৪৩] ২০২০ সালের পরিমাপে দেখা যায়, আটলান্টিক মহাসাগরে পূর্বে ধারণার চেয়ে ১০ গুণ বেশি প্লাস্টিক রয়েছে।[৪৪][৪৫]

২০১৯ সালের অক্টোবরে একটি গবেষণায় প্রকাশ পায় যে একটি বড় অংশের সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ চীনা কার্গো জাহাজ থেকে আসে।[৪৬] এই সময় “Ocean Cleanup” সংগঠনের একজন মুখপাত্র বলেন, “সমুদ্র রক্ষার কথা উঠলে সবাই প্লাস্টিক ব্যাগ, স্ট্র এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং বন্ধের কথা বলে। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমরা যখন সমুদ্রে যাই, তখন সাধারণত সেগুলোই পাই না।”[৪৭]

প্রায় ২০% সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ সমুদ্রে থাকা উৎস থেকে আসে, যা প্রায় ৫.৬ মিলিয়ন টনের সমান। MARPOL নামক আন্তর্জাতিক চুক্তি সমুদ্রে প্লাস্টিক ফেলার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।[৪৮][৪৯] বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য, মলমূত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য বর্জ্য ফেলা হয় যেগুলো প্লাস্টিকযুক্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৮৭ সালের Marine Plastic Pollution Research and Control Act অনুযায়ী সমুদ্রে প্লাস্টিক ফেলা নিষিদ্ধ, এমনকি নৌবাহিনীর জাহাজের ক্ষেত্রেও।[৫০][৫১] বিনোদনমূলক নৌযান থেকেও জাল ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে দেওয়া হয়, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলায়। কিছু এলাকায় সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণের উৎস হচ্ছে পরিত্যক্ত মাছ ধরার যন্ত্রপাতি, যা ৯০% পর্যন্ত হতে পারে।[৫২]

মহাদেশীয় প্লাস্টিক বর্জ্য প্রধানত ঝড়ের পানির সঙ্গে ধুয়ে নদ-নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় চলে আসে।[৫৩] প্লাস্টিক সামুদ্রিক স্রোতের সঙ্গে ভেসে “Great Garbage Patches” নামে পরিচিত বিশাল বর্জ্যের ক্ষেত্র তৈরি করে।[৫৪]

প্রতি ব্যাক্তির উৎপাদিত প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে নির্গত বর্জ্যের চেয়ে বেশি।

সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণের প্রধান উৎস হচ্ছে দূষিত নদ-নদী। যদিও প্লাস্টিক সরাসরি সমুদ্রে ফেলা হয়, তবে নদীগুলোও বড় ভূমিকা পালন করে। নদী কখনও উৎস আবার কখনও বর্জ্য গ্রহীতা হিসেবে কাজ করতে পারে।[৫৫] তবে উপকূলবর্তী জনসংখ্যার সরাসরি অবদান হয়ত আরও বেশি।[৫৬][৫৭]

সমুদ্রে থাকা প্লাস্টিকের রেকর্ডকৃত পরিমাণ, সমুদ্রে প্রবেশ করা প্লাস্টিকের প্রকৃত পরিমাণের তুলনায় অনেক কম। যুক্তরাজ্যে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভোক্তা-সম্পর্কিত দশটি প্রধান ম্যাক্রোপ্লাস্টিক বর্জ্যের ধরন রয়েছে।[৫৮] ১,৯২,২১৩টি আবর্জনার নমুনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, গড় ৭১% প্লাস্টিক এবং এর মধ্যে ৫৯% ছিল ভোক্তা-সম্পর্কিত।[৫৮] যদিও মিঠা পানির দূষণই সামুদ্রিক দূষণের মূল উৎস, কিন্তু এ বিষয়ে গবেষণা এবং তথ্যসংগ্রহ খুবই সীমিত। তাই প্লাস্টিক উৎপাদন, ব্যবহার, নিষ্পত্তি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নীতিমালায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।[৫৯]

১৯৯৪ সালে স্পেন, ফ্রান্স ও ইতালির উপকূলবর্তী উত্তর-পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের তলদেশে ট্রল জালে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড় ১,৯৩৫টি আবর্জনা পাওয়া গেছে। এর ৭৭% ছিল প্লাস্টিক এবং এর মধ্যে ৯৩% ছিল প্লাস্টিক ব্যাগ।[১৩]

ভাসমানতা

[সম্পাদনা]

মহাসাগরে ফেলা প্লাস্টিকের প্রায় অর্ধেকই ভাসমান প্রকৃতির, তবে জীবের সংক্রমণে অনেক সময় তা পানির তলায় ডুবে যায় এবং তলদেশীয় জীবের বাসস্থান বা গ্যাস বিনিময় প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভাসমানতা নির্ভর করে এর ঘনত্ব, আকার ও আকৃতির ওপর।[৬০] মাইক্রোপ্লাস্টিকসমূহ সমুদ্রের পৃষ্ঠে একটি জৈবিক স্তরও তৈরি করতে পারে।[৬১] উদ্ভিদ জাতীয় জীবের (autotrophs) ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণে তাদের ভাসমানতা কমে যেতে পারে, কারণ এটি তাদের প্রকাশন (photosynthesis) এবং গ্যাস উৎপাদনে প্রভাব ফেলে।[৬২] তবে এই সমস্যা বড় প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্লাস্টিকের ঘনত্বের তুলনা[৬৩]
প্লাস্টিক প্রকার সংক্ষিপ্ত রূপ ঘনত্ব (গ্রাম/সেঃমিঃ³)
পলিস্টাইরিন PS ১.০৪–১.০৮
বিস্তৃত পলিস্টাইরিন EPS ০.০১–০.০৪
লো-ডেনসিটি পলিথিন LDPE ০.৮৯–০.৯৩
হাই-ডেনসিটি পলিথিন HDPE ০.৯৪–০.৯৮
পলিআমাইড PA ১.১৩–১.১৬
পলিপ্রোপিলিন PP ০.৮৫–০.৯২
অ্যাক্রিলোনাইট্রাইল-বুটাডিন-স্টাইরিন ABS ১.০৪–১.০৬
পলিটেট্রাফ্লুরোইথিলিন PTFE ২.১০–২.৩০
সেলুলোজ অ্যাসিটেট CA ১.৩০
পলিকার্বোনেট PC ১.২০–১.২২
পলিমিথাইল মেথাক্রিলেট PMMA ১.১৬–১.২০
পলিভিনাইল ক্লোরাইড PVC ১.৩৮–১.৪১
পলিথিলিন টেরেফথালেট PET ১.৩৮–১.৪১

স্থলভিত্তিক সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণের উৎস

[সম্পাদনা]
আলোকপ্রভাবিত ক্ষয়প্রাপ্ত প্লাস্টিক স্ট্র—হালকা চাপেই এটি মাইক্রোপ্লাস্টিকে ভেঙে পড়ে

স্থলভিত্তিক প্লাস্টিক দূষণের অবদান সম্পর্কিত অনুমানগুলো ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। একটি গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে যে সমুদ্রের প্লাস্টিক বর্জ্যের অল্প কিছু বেশি অর্থাৎ প্রায় ৮০% স্থলভিত্তিক উৎস থেকে আসে, যা বছরে প্রায় ৮ লক্ষ টনের (৭.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন) সমান।[৫২] ২০১৫ সালে একটি হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালে ১৯২টি উপকূলবর্তী দেশে মোট ২৭৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছিল। এর মধ্যে অনুমান করা হয় যে ৪.৮ থেকে ১২.৭ মিলিয়ন টন সমুদ্রে প্রবেশ করেছিল—যা সর্বোচ্চ ৫% এর মতো।[১৭]

স্থলভিত্তিক প্লাস্টিক দূষণের বড় অংশ দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়া থেকে সমুদ্রে প্রবেশ করে। এর মধ্যে চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন এবং ভারত প্রধান দূষণকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত।[১৭][৫৬]

একটি উদ্বেগজনক উৎস হচ্ছে ল্যান্ডফিল বা আবর্জনার ভাগাড়। এসব ভাগাড়ে থাকা বেশিরভাগ প্লাস্টিক বর্জ্য হলো একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী, যেমন প্যাকেজিং। এভাবে ফেলে দেওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে জমা হয়ে যায়।[৬৪] যদিও প্লাস্টিক বর্জ্য ভাগাড়ে ফেলা হলে দহন প্রক্রিয়ার তুলনায় কম পরিমাণ গ্যাস নির্গত হয়, তবে ভাগাড় ব্যবহারের স্থানসীমা রয়েছে। আরও একটি বড় উদ্বেগ হলো ভাগাড়ে ব্যবহৃত প্রতিরোধী আবরণ (লাইনার) ভেঙে গিয়ে বিষাক্ত পদার্থ মাটি ও আশপাশের পানিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।[৬৫]

সমুদ্রের নিকটে অবস্থিত ভাগাড়সমূহ প্রায়ই সামুদ্রিক বর্জ্যের উৎস হয়ে ওঠে, কারণ এখানকার সামগ্রী সহজেই বাতাসে উড়ে কিংবা নদী ও খালবিলের মাধ্যমে সাগরে পৌঁছে যায়। সামুদ্রিক বর্জ্য আরও তৈরি হয় অপর্যাপ্তভাবে পরিশোধিত পয়ঃনিষ্কাশন থেকে, যা নদীপথে শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। এছাড়াও, যেসব প্লাস্টিক সঠিকভাবে ফেলা হয়নি, সেগুলো ঝড়ের পানির সঙ্গে ধুয়ে সমুদ্রে চলে যেতে পারে।[৫২]

মাইক্রোপ্লাস্টিক

[সম্পাদনা]
১৯৫০–২০০০ সালের সমুদ্র পৃষ্ঠে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ এবং ভবিষ্যৎ অনুমান (মিলিয়ন মেট্রিক টনে)

মেরিন পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণ সংক্রান্ত একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ হলো মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার। মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো এমন প্লাস্টিক কণা যেগুলোর প্রস্থ ৫ মিলিমিটারের কম।[৬৬] এগুলো সাধারণত হ্যান্ড সাবান, মুখ ধোয়ার ক্লিনজার এবং স্ক্রাবিং পণ্যগুলিতে পাওয়া যায়। এসব পণ্য ব্যবহারের পর মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলি পানির মাধ্যমে চলে যায় এবং পানিশোধন কেন্দ্রে পৌঁছালেও এগুলোর ছোট আকারের কারণে সেগুলি ফিল্টার থেকে রক্ষা পায় না এবং সাগরে চলে যায়।[৬৭]

এই ক্ষুদ্র কণাগুলো সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে ফিল্টার ফিডারদের জন্য, যাদের খাদ্য গ্রহণ ব্যবস্থায় এটি সহজে প্রবেশ করে অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে। এই কণাগুলো এত ছোট যে এগুলোকে পরিস্কার করা কঠিন, তাই পরিবেশবান্ধব স্ক্রাবিং উপাদানসমূহ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়।

বিশ্বজুড়ে প্লাস্টিকের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সমুদ্রের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মাইক্রোপ্লাস্টিক পেট্রোপলিশ বা বালুকাময় সমুদ্রতট,[৬৮] সমুদ্র পৃষ্ঠের পানি,[৬৯] পানির স্তম্ভ এবং গভীর সমুদ্রের তলদেশেও পাওয়া গেছে। মৃত জৈব উপাদান ও ধুলাবালির সঙ্গে এরা মিশে থাকে। জনসংখ্যার ঘনত্ব ও নগরকেন্দ্রের কাছাকাছি থাকাটাই মূলত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব নির্ধারণে প্রভাব ফেলে।

বৃষ্টিপাতের সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব আরও বেড়ে যায়। বৃষ্টির পরে ভূমি থেকে প্লাস্টিক কণাগুলো নদী ও খাল হয়ে সাগরে চলে আসে। বৃষ্টিপাত যত বেশি হয়, মাটি ক্ষয়ের মাধ্যমে প্লাস্টিকের পরিবহন তত বেশি হয়।[৭০]

মাইক্রোপ্লাস্টিক পানিতে আসতে পারে আরও বিভিন্ন উপায়ে, যেমন রাস্তার রঙ ক্ষয়, টায়ারের ঘর্ষণ, শহরের ধুলাবালি, জাহাজ থেকে পড়া প্লাস্টিক প্যালেট, ফেলে দেওয়া ghost net এবং সিন্থেটিক কাপড়, প্রসাধনী ও ডিটারজেন্ট থেকে।[৩৭]

এই ছোট কণাগুলোর কম ঘনত্ব ও আকারের কারণে বাতাস ও সমুদ্র স্রোতের মাধ্যমে দূরদূরান্তে চলে যায়। পরিবেশগত পরিবর্তন যেমন স্রোতের গতি, পানি প্রবাহের প্রকৃতি ও ঋতুভেদ এর গতিপথ নির্ধারণ করে।[৭০] বর্তমানে সংখ্যাতাত্ত্বিক মডেলের মাধ্যমে এই ভাসমান মাইক্রোপ্লাস্টিকের গতিপথ চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।[৭১]

২০২০ সালে University of Strathclyde-এর গবেষকরা জানান, কিছু মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাসেও ফিরে যায়।[৭২] একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্র পৃষ্ঠের প্লাস্টিক বর্জ্যের ৯২%-ই মাইক্রোপ্লাস্টিক।[৭৩] আবার কিছু মাইক্রোপ্লাস্টিক সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার CSIRO ২০২০ সালে হিসাব করে যে সমুদ্রতলে প্রায় ১.৪ কোটি মেট্রিক টন মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা আছে।[৭৪]

২০১৫ সালে অনুমান করা হয়েছিল মহাসাগরে ভাসমান মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ ছিল ৯৩ থেকে ২,৩৬ হাজার মেট্রিক টন।[৭৫] ২০১৮ সালে অনুমান করা হয় এটি বেড়ে ২.৭ লাখ টন হয়েছে।[৭৬]

Great Pacific Garbage Patch-এ ১৯৭২ থেকে ২০১২ সালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্লাস্টিক কণার ঘনত্ব ১০ গুণ বেড়ে গেছে (১৮,১৬০ থেকে ১,৮৯,৮০০ কণা)।[৭৭]

Arctic Ocean-এ পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রধান উৎস হলো আটলান্টিক অঞ্চলের দেশসমূহ, বিশেষ করে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা।[৭৮]

আশ্চর্যজনকভাবে, গ্লেসিয়ার ও তুষার অঞ্চলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঘনত্ব শহরাঞ্চলের পানির চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।[৭৯] ২০২১ সালে ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া থেকে সমুদ্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবাহের পরিমাণ ছিল বিশ্বব্যাপী মোট প্রবাহের প্রায় ১৬%।[]

মাইক্রোপ্লাস্টিক সাগরের ঢেউয়ের সাদা ফেনায় জমা হতে পারে এবং ভাঙা ঢেউয়ের স্থায়িত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সমুদ্রের প্রতিফলন ক্ষমতা বা বায়ুমণ্ডল-সমুদ্র গ্যাস বিনিময়কে প্রভাবিত করতে পারে।[৮০]

এগুলো সামুদ্রিক প্রাণীর ফুলকা ও অন্ত্রে জমা হয়ে খাদ্যাভ্যাসে ব্যাঘাত ঘটায় এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।[৮১] প্লাস্টিকের আকার, গঠন এবং প্রাণীর শারীরবৃত্তীয় গঠন এই ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।[৭০]

মেরিন খাদ্যজালে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব

Bioaccumulation বা দেহে জমে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যজালকে প্রভাবিত করে এবং জৈববৈচিত্র্যের হ্রাস ঘটায়।[৮১] প্রাণীর দেহে এটি জমা হলে তা বা তো দেহত্যাগ হয় বা শোষিত হয়। যেসব প্রাণী এসব প্লাস্টিকযুক্ত প্রাণী খায়, তারাও পরোক্ষভাবে প্লাস্টিক গ্রহণ করে। এই প্রক্রিয়াকে "trophic transfer" বলা হয়।

এই মাইক্রোপ্লাস্টিক ১০,৮৯০ মিটার গভীর Mariana Trench-এ পাওয়া অ্যাম্ফিপডের পেটেও পাওয়া গেছে।[৮২]

এক গবেষণায় দেখা যায়, বছরে সামুদ্রিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে একজন মানুষ প্রায় ১১,০০০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা খাচ্ছে। এমনকি মানুষের রক্তে পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।[][৮৩][৮৪]

গবেষণা

[সম্পাদনা]

গভীর সমুদ্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা জীব ও তলদেশীয় স্যাম্পল বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন।[৮৫][৮৬][৮৭]

২০১৩ সালের এক গবেষণায় ১১০০ থেকে ৫০০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত চারটি স্থানে খনন করে দেখা হয়। তিনটি স্থানে শীর্ষ ১ সেন্টিমিটার স্তরে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।[৮৮]

২০১৬ সালে ROV ব্যবহার করে ৯টি গভীর সমুদ্রের প্রাণী ও তলদেশের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ৯টির মধ্যে ৬টি প্রাণীর অন্ত্রে মাইক্রোফাইবার পাওয়া যায়।[৮৯]

MBARI-এর ২২ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গভীর সমুদ্রের ২০০০ মিটার নিচে পাওয়া বর্জ্যের এক-তৃতীয়াংশই ছিল প্লাস্টিক ব্যাগ।[৯০]

পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের Abyssopelagic Zone-এ সংগৃহীত নমুনায় সর্বাধিক পাওয়া পলিমার ছিল poly(propylene-ethylene) copolymer (৪০%) এবং polyethylene terephthalate (২৭.৫%)।[৮৫]

২০১১–২০১২ সালে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগর ও উত্তর-পূর্ব আটলান্টিক মহাসাগর থেকে সংগৃহীত ১২টি প্রবাল ও তলদেশের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়।[২৯]

একটি গবেষণায় দেখা যায়, Rockall Trough অঞ্চলে প্রতি ঘনমিটারে ৭০.৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। ৬৬টি জীবের মধ্যে ৪৮%-এ মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।[৮৬]

এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগর এবং উত্তর-পূর্ব ভারত মহাসাগরে সংগৃহীত প্রাণীগুলো প্লাস্টিক গ্রহণে সর্বাধিক এগিয়ে। মাইক্রোফাইবার, বিশেষ করে স্বচ্ছ রঙের ফাইবারই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।[৮৭]

২০২০ সালের এক গবেষণায় অস্ট্রেলিয়ার উপকূল থেকে ৩০০ কিমি দূরে ৩ কিমি গভীর ৬টি অঞ্চলে স্যাম্পল নিয়ে হিসাব করা হয় যে পৃথিবীর সমুদ্র তলদেশে প্রায় ১.৪ কোটি টন মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে—যা আগের অনুমানের দ্বিগুণ।[৯১][৯২][৯৩]

বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও নিষ্পত্তির সঠিক ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। উন্নত পানিশোধন এবং ঝড়ের পানি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করলে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক সমুদ্রে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।[৯৪][৯৫][৯৬][৯৭]

বিষাক্ত রাসায়নিক

[সম্পাদনা]

প্লাস্টিক তৈরির সময় ব্যবহৃত বিষাক্ত উপাদানসমূহ পানির সংস্পর্শে এলে আশেপাশের পরিবেশে লিক হয়ে যেতে পারে।[৯৮] বিশ্বব্যাপী প্রায় ৮,০০০ থেকে ১৯,০০০ টন বিষাক্ত উপাদান ভাসমান প্লাস্টিকের মাধ্যমে পরিবাহিত হয় এবং এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আর্কটিক অঞ্চলেও পৌঁছে যায়।[৯৯]

পানিতে উপস্থিত hydrophobic (জল অপছন্দকারী) দূষণকারী পদার্থগুলো প্লাস্টিকের কণার পৃষ্ঠে জমা হয়ে থাকে এবং সেগুলোর বিষক্রিয়া বাড়িয়ে তোলে।[১০০] এই কারণে মহাসাগরে থাকা প্লাস্টিকের দূষণ স্থলভাগের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকর। এসব দূষণকারী পদার্থ সামুদ্রিক প্রাণীর চর্বিযুক্ত টিস্যুতে জমা হয়ে জমে যায় এবং খাদ্যজালের উপরের স্তরের প্রাণী ও মানুষদের জন্য আরও বড় হুমকি তৈরি করে।[১০১]

কিছু প্লাস্টিক উপাদান হরমোনীয় কার্যপ্রণালিতে বিঘ্ন ঘটায়, আবার কিছু রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় কিংবা প্রজনন হার হ্রাস করে।[১০২]

ভাসমান প্লাস্টিক বর্জ্য যেমন PCB, DDT এবং PAH-এর মতো স্থায়ী জৈব দূষক শোষণ করতে পারে।[১০৩] এ ধরনের রাসায়নিকসমূহ প্লাস্টিকের সঙ্গে প্রবেশ করে যেকোনো প্রাণীর শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।[১০৪]

কিছু বিষাক্ত উপাদান প্রাণীর মস্তিষ্কের কোষে estradiol-এর মতো প্রভাব ফেলে, যা তাদের হরমোনীয় ভারসাম্য নষ্ট করে।[১০৫] এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্লাস্টিক ক্ষয়প্রাপ্ত হলে তা Bisphenol A (BPA) ও PS অলিগোমারের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত করে।[১০৬] BPA হল একধরনের প্লাস্টিসাইজার যা খাবার প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত হয় এবং খাদ্যে মিশে মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। এটি ইস্ট্রোজেন এবং গ্লুকোকর্টিকয়েড রিসেপ্টরগুলোর সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে হরমোনীয় ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায়।[১০৭]

গবেষকরা বিশ্বজুড়ে সাগরের পানি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেখেছেন, সব নমুনাতেই polystyrene-এর উপাদান রয়েছে। পলিস্টাইরিন স্টাইরোফোম ও গৃহস্থালি সামগ্রীতে ব্যবহৃত হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠে পলিস্টাইরিনের ক্ষয় থেকে BPA, styrene monomer (একটি সম্ভাব্য কার্সিনোজেন) এবং styrene trimer (উৎপাদনের উপজাত) নির্গত হয়।[১০৮]

মাইক্রোপ্লাস্টিকে থাকা প্লাস্টিসাইজার প্রাণীর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং প্রজননে সমস্যা তৈরি করে, কারণ এগুলো হরমোন বিভ্রাটকারী হিসেবে কাজ করে। মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্ত্রে জ্বালা, অন্ত্র জীবাণুজগতে পরিবর্তন, শক্তি ও চর্বি বিপাক ব্যাহত করা এবং oxidative stress সৃষ্টি করতে পারে।[৮১]

এছাড়াও, কীটনাশকের মতো জৈব দূষক এবং সিসাক্যাডমিয়াম-এর মতো ভারী ধাতুও মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণীর দেহে প্রবেশ করতে পারে।[৮১]

জমার স্থান

[সম্পাদনা]
হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপের একটি কালো বালুর সৈকতে প্রশান্ত মহাসাগরের প্লাস্টিক বর্জ্য
উত্তর প্রশান্ত সাবট্রপিক্যাল কনভারজেন্স অঞ্চল

প্লাস্টিক বর্জ্য সাধারণত সমুদ্রের ঘূর্ণিবৃত্ত (ocean gyre)-এর কেন্দ্রে জমা হতে থাকে। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের ঘূর্ণিতে এই ধরনের একটি বিশাল বর্জ্যের অঞ্চল গঠিত হয়েছে, যা পরিচিত গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচ নামে। এই অঞ্চলটির আয়তন বর্তমানে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক থেকে বিশ গুণ পর্যন্ত হতে পারে (প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ১,৫০,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার)। এমনও আশঙ্কা করা হয়, ভবিষ্যতে সমুদ্রে মাছের সমপরিমাণ প্লাস্টিক থাকতে পারে।[১০৯]

এই অঞ্চলের ওপরের স্তরে অসংখ্য প্লাস্টিক কণা ভেসে থাকে। ১৯৯৯ সালে উত্তর প্রশান্ত ঘূর্ণি থেকে সংগৃহীত নমুনায় দেখা যায়, পানিতে থাকা প্লাস্টিকের ভরের পরিমাণ সেখানে উপস্থিত জুপ্ল্যাঙ্কটনের তুলনায় ছয় গুণ বেশি।[][১০২]

মিডওয়ে অ্যাটল এবং অন্যান্য হাওয়াই দ্বীপসমূহ এই বর্জ্য ঘূর্ণি থেকে বিপুল পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্য গ্রহণ করে। এই বর্জ্যের প্রায় ৯০% প্লাস্টিক, যা মিডওয়ের সৈকতে জমা হয় এবং দ্বীপের পাখি প্রজাতির জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।[১১০][১১১]

পরিবেশগত প্রভাব

[সম্পাদনা]
সমুদ্রপৃষ্ঠে প্লাস্টিক কণার ঘনত্বের মডেল (লাল = বেশি ঘনত্ব, সবুজ = কম)[৪৩]

সমুদ্রে পৌঁছানো প্লাস্টিক বর্জ্য সামুদ্রিক প্রাণী ও মানুষের জন্য বিষাক্ত। প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত বিষাক্ত উপাদান যেমন ডাই-ইথাইলহেক্সাইল ফথালেট (একটি বিষাক্ত কার্সিনোজেন), সিসা, ক্যাডমিয়াম, এবং পারদ মানবদেহ ও প্রাণীর মধ্যে প্রবেশ করে।

এইসব বিষাক্ত উপাদান প্ল্যাঙ্কটন, মাছ এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের শরীরে খাদ্যশৃঙ্খল (food chain)-এর মাধ্যমে পৌঁছে যায়। এসব দূষকযুক্ত মাছ খাওয়ার ফলে ক্যানসার, রোগপ্রতিরোধে সমস্যা এবং জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে।[১১২] এসব বিষাক্ত পদার্থ শুধুমাত্র মাছেই নয়, খাদ্যদ্রব্য, পানীয় জল, টেবিল লবণ, টুথপেস্ট ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারেও পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইন্দোনেশিয়ায়, যেটি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্লাস্টিক দূষণকারী দেশ, জেলেদের মল পরীক্ষা করে দেখা যায়, ৫০% মানুষের মলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। প্রতি গ্রামের মলে ৩.৩৩ থেকে ১৩.৯৯ μg মাইক্রোপ্লাস্টিক পরিমাণ ধরা পড়ে।[১১৩]

সমুদ্রের অধিকাংশ বর্জ্যই প্লাস্টিক এবং এটি একটি স্থায়ী ও ব্যাপক সামুদ্রিক দূষণের উৎস।[১১৪] অনেক দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অপ্রতুল হওয়ায় প্লাস্টিক সহজেই পানিতে পৌঁছে যায়। ২০১৬ সালে সমুদ্রে ৫.২৫ ট্রিলিয়ন প্লাস্টিক কণার ওজন ছিল প্রায় ২৭০,০০০ টন। ২০২১ সালে এটি বেড়ে ১৫ থেকে ৫১ ট্রিলিয়ন কণায় পৌঁছেছে।[১১৫]

এই প্লাস্টিকসমূহ সাগরের স্রোতের মাধ্যমে ঘূর্ণিবৃত্তে জমা হয়। এসব অঞ্চল প্লাস্টিক বর্জ্যে পরিণত হয়।

২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৯৩টি দেশের গবেষণায় দেখা গেছে, ভাসমান প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক গবেষণা সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া বিষয় ছিল। ২০১১ সালে যেখানে ৪৬টি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছিল, ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫৩-এ।[১১৬]

সামুদ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা

[সম্পাদনা]

২০০০-এর দশক থেকে বিজ্ঞানীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, কিছু জীব ভাসমান প্লাস্টিকে অভ্যস্ত হয়ে সাগরের স্রোতের মাধ্যমে ছড়িয়ে অনুপ্রবেশকারী প্রজাতিতে পরিণত হতে পারে।[১১৭][১১৮]

প্লাস্টিক খেয়ে অথবা তাতে জড়িয়ে অনেক সামুদ্রিক প্রাণী অভ্যন্তরীণ ক্ষত, সংক্রমণ, অপুষ্টি, চলাচলের সমস্যা এবং মৃত্যুর মুখে পড়ে।[১১৯] এছাড়া, ভাসমান প্লাস্টিক আক্রমণাত্মক সামুদ্রিক প্রাণী ছড়িয়ে দিয়ে জৈববৈচিত্র্যখাদ্যজাল বিপন্ন করে।[১২০]

২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার জলসীমায় গবেষণায় দেখা যায়, ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার ওপর বিভিন্ন অণুজীব ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী বসবাস করে এবং প্লাস্টিকে গর্ত তৈরি করে খাওয়ার প্রমাণও মেলে।[১২১] এই গবেষণা প্লাস্টিকের জৈব অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়।

প্লাস্টিকের হাইড্রোফোবিক গঠন biofilm গঠনে সহায়তা করে,[১২১] যা অণুজীবের কার্যক্রমে সহায়ক এবং অন্যান্য প্রাণীর আগমনের পথ উন্মুক্ত করে।[১২২]

প্লাস্টিকের আলোক-অবক্ষয়

[সম্পাদনা]
সিঙ্গাপুরের একটি সৈকতে ভেসে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য

বর্জ্যের ঘূর্ণি অঞ্চলগুলোতে বিজ্ঞানীরা পানির উর্ধ্ব স্তরে (neustonic layer) প্লাস্টিকের আলোক-অবক্ষয় এবং এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন।[১২৩]

জৈব বর্জ্য যেখানে সহজে জৈবভাবে অবক্ষয় হয়, সেখানে প্লাস্টিকের অবক্ষয়ে তা ছোট ছোট কণায় বিভক্ত হলেও রাসায়নিকভাবে একই রয়ে যায়। কিছু প্লাস্টিক মাত্র এক বছরের মধ্যেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে Bisphenol A, PCBs এবং polystyrene-এর ডেরিভেটিভ নির্গত করে।[১২৪]

প্লাস্টিক যত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, ততই তা ছোট কণায় রূপান্তরিত হয় এবং জলজ প্রাণীর দ্বারা গ্রহণযোগ্য হয়। এর ফলে neuston স্তরে জমা হয়ে খাদ্যজালে প্রবেশ করে। প্লাস্টিকের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় তা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করে পরিবেশের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে।[১২৫]

এই কণাগুলো এত ছোট হয়ে যায় যে, অণুজীব পর্যন্ত এগুলোকে শোষণ করে carbon dioxide-এ রূপান্তর করতে পারে। কখনও কখনও এগুলো অণুজীবের বায়োমলিকিউলে মিশে যায়।[১২৬]

জলবায়ু পরিবর্তন ও বায়ুদূষণ

[সম্পাদনা]

প্লাস্টিক দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন একে অপরের সঙ্গে জড়িত এবং একে অপরকে আরও ত্বরান্বিত করে।[১২৭]

প্লাস্টিক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পরিবেশে যে বিষাক্ত পদার্থ ছাড়ে, তা জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ প্লাস্টিক উৎপাদনে জ্বালানী ব্যবহৃত হয়, যা থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়।[১২৮] সমুদ্র একদিকে যেমন কোটি কোটি টন প্লাস্টিক ধারণ করে, তেমনি গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণও করে। কিন্তু প্লাস্টিক ভেঙে যাওয়ার সময় সমুদ্রের জলেও এই গ্যাস ছড়ায়।[১২৯]

এছাড়া, প্লাস্টিক পোড়ালে যে কালো কার্বন নির্গত হয়, তা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের গতিকে বাড়িয়ে তোলে।[১৩০][১৩১] এই সমস্ত কারণে প্লাস্টিক দূষণ শুধু জলে নয়, বাতাস ও জলবায়ুতেও গভীর প্রভাব ফেলছে।

প্রাণীদের উপর প্রভাব

[সম্পাদনা]
সমুদ্রকচ্ছপ কৃত্রিম সামুদ্রিক বর্জ্যের প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা তাদের খাদ্যাভ্যাস দ্বারা প্রভাবিত হয় (ভিডিও)

প্লাস্টিক বর্জ্য এখন বিশ্বের প্রতিটি মহাসাগরে পৌঁছে গেছে। এই প্লাস্টিক দূষণে প্রতি বছর আনুমানিক ১,০০,০০০ সমুদ্রকচ্ছপ ও সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী এবং ১০,০০,০০০ সামুদ্রিক প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[১৩২]

বড় আকারের প্লাস্টিক (যেমন শপিং ব্যাগ) বৃহৎ প্রাণীদের পরিপাকতন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, খাদ্য চলাচলে বাধা দেয় এবং তাদেরকে ভুয়ো তৃপ্তির অনুভূতি দিয়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাখে।[১৩] অন্যদিকে, মাইক্রোপ্লাস্টিক ক্ষুদ্র প্রাণীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, মহাসাগরের ঘূর্ণিতে থাকা পিলেজিক প্লাস্টিক টুকরো জীবন্ত প্ল্যাঙ্কটনের তুলনায় অনেক বেশি এবং এগুলো খাদ্য শৃঙ্খলে ওপরে ওঠে।[১৩৩]

সমুদ্রকচ্ছপ একটি ভূত জালে জড়িয়ে গেছে

প্লাস্টিক বর্জ্যে জড়িয়ে পড়ে অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে, যেমন মাছ, সিল, কচ্ছপ, ও পাখি। তারা জড়িয়ে পড়ে শ্বাসরোধ, ডুবে মৃত্যু বা শিকারিদের থেকে পালাতে না পারায় মারা যায়।[৫২] এছাড়াও, ত্বকে গুরুতর ক্ষত ও ঘা হয়। ২৬৭টি প্রজাতির প্রাণী এই ধরনের জড়িয়ে পড়া ও প্লাস্টিক খাওয়ার কারণে ভুগেছে বলে অনুমান করা হয়।[১৩৪]

Laysan albatross-এর মৃত বাচ্চা, যার পেট ভরা প্লাস্টিক টুকরো

অনেক সামুদ্রিক প্রাণী ভুল করে প্লাস্টিক খায়, কারণ এটি তাদের স্বাভাবিক খাদ্যের মতো দেখায়।[১৩৫] কচ্ছপেরা জেলিফিশের মতো দেখতে প্লাস্টিক ব্যাগ গিলে ফেলে, কারণ তাদের গলায় খাবার আটকানোর একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া থাকে।[১৩৬] ফলে খাদ্য চলাচল ব্যাহত হয়ে সংক্রমণ বা অপুষ্টিতে মৃত্যু ঘটে।[১৩৭]

স্তন্যপায়ী ও মাছ

[সম্পাদনা]

২০২১ সালের এক গবেষণায় ১২৮৮টি সামুদ্রিক প্রজাতিকে প্লাস্টিক খাওয়ার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই মাছ।[১৩৮]

সমুদ্রকচ্ছপ জেলিফিশের সঙ্গে প্লাস্টিক ব্যাগ গুলিয়ে ফেলে। ফলে গলা বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে।[১৩৯] শৈশবে এদের ঝুঁকি আরও বেশি।[১৪০]

তিমি, যেমন sperm whale, baleen whale, pilot whale-এর পেটে প্লাস্টিক পাওয়া গেছে। অনেক সময় খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিক গিলে ফেলে বা শিকার ইতিমধ্যে প্লাস্টিক খেয়ে থাকলে সেটি তিমির শরীরে চলে আসে।[১৪১] যেমন, ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডে একটি মৃত তিমির পেটে ৮০টির বেশি প্লাস্টিক ব্যাগ পাওয়া যায়।[১৪২]

Northern gannet পাখি পুরনো জাল ও প্লাস্টিক বর্জ্যে তৈরি বাসায় জড়িয়ে আছে

২০০৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, নর্থ সি-এর গাল পাখিদের পেটে গড়ে ৩০টি প্লাস্টিক টুকরো থাকে।[১৪৩] প্লাস্টিক খেলে তাদের হজমপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়, অপুষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে।

২০২৩ সালে একটি পাখির দেহে প্লাস্টিকের কারণে সৃষ্ট একটি নতুন রোগ শনাক্ত হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছে প্লাস্টিকোসিস।[১৪৪]

প্রবাল

[সম্পাদনা]

গ্রেট প্যাসিফিক গারবেজ প্যাচ-এর ৪৬% হল হারিয়ে যাওয়া জাল। এসব ghost net-এ প্রবাল আটকে যায়, ফলে তারা টিস্যু হারায়, চাপের মধ্যে পড়ে, ভেঙে যায় ও মারা যায়।[১৪৫]

২০১৯–২০ সালে অস্ট্রেলিয়ার জর্জেস নদীতে গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক সায়ানোব্যাকটেরিয়াসহ বিভিন্ন ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন প্রজাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এদের খেয়ে নেওয়া প্রাণীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[১৪৬]

মেডিটেরিয়ান সাগরে ফিন তিমি পৃষ্ঠদেশে খাবার খোঁজে। কিন্তু প্লাস্টিক থাকা জায়গায় তারা অনেক সময় ভুল করে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে। এতে ক্ষতিকর রাসায়নিক তাদের দেহে জমে থাকে।[১৪৭]

অন্যান্য

[সম্পাদনা]

Great Pacific Garbage Patch অঞ্চলে প্লাস্টিক জড়ো হওয়ায় তা কিছু সামুদ্রিক প্রাণীর আচরণ ও বিস্তারে প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন, fish aggregating device (FAD)-এর মতো কাজ করে, যার ফলে প্রাণী সেখানে খাবার খুঁজে বেড়ায় এবং প্লাস্টিক খাওয়ার বা জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।[১৪১]

মানুষের উপর প্রভাব

[সম্পাদনা]

ন্যানোপ্লাস্টিক সামুদ্রিক প্রাণীর অন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে[১৪৮], এবং তা শ্বাসপ্রশ্বাস বা খাদ্যগ্রহণের মাধ্যমে মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে, বিশেষত শামুকচিংড়িজাত প্রাণীর মাধ্যমে।[১৪৯]

প্লাস্টিক খাওয়ার সঙ্গে বিভিন্ন প্রজননজনিত, ক্যান্সারসৃষ্টিকারীজিনগত পরিবর্তন ঘটানোর প্রভাবের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।[১৫০] প্লাস্টিকে ব্যবহৃত সবচেয়ে পরিচিত জৈব যৌগ বিসফেনল এ (BPA), যা অটোইমিউন রোগহরমোন বিঘ্নকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি পুরুষদের প্রজননক্ষমতা কমাতে পারে এবং স্তন ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত।[১৫১]

ফ্যাথালেট এস্টার নামক রাসায়নিকগুলি খাদ্য প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলিও প্রজননতন্ত্রে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডায়েথাইলহেক্সিল ফ্যাথালেট থাইরয়েডের কার্যক্রম বিঘ্নিত করতে পারে, যদিও গবেষণা এখনও চূড়ান্ত নয়।[১৫২]

মানবদেহে প্লাস্টিক জমা হলে বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়, ফলে তা তীব্র বিষক্রিয়া ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।[১৬] এটি মস্তিষ্ক, প্রজননতন্ত্র ইত্যাদিতে প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও তা সাধারণত উচ্চ মাত্রার এক্সপোজার ও শোষণের ক্ষেত্রে ঘটে।

ইন ভিট্রো গবেষণায় দেখা গেছে, মানব কোষে পলিস্টাইরিন ন্যানোপার্টিকল প্রবেশ করতে পারে এবং তা অক্সিডেটিভ চাপপ্রদাহ সৃষ্টি করে।[১৪৮]

হ্রাস প্রচেষ্টা

[সম্পাদনা]

সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণসহ পরিবেশজুড়ে প্লাস্টিক দূষণের সমাধান উৎপাদন ও প্যাকেজিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত। সমাধানের মধ্যে রয়েছে নদীমুখে প্লাস্টিক আটকে দেওয়া, সাগরের গিয়ারে জমা হওয়া প্লাস্টিক পরিষ্কার করা ইত্যাদি।[]

সাগরে সংগ্রহ

[সম্পাদনা]
২০১৪ সালে NOAA কর্তৃক সামুদ্রিক আবর্জনা অপসারণ

সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণ সম্ভবত অপরিবর্তনীয়।[৯৮][১৫৩] একবার ক্ষুদ্র প্লাস্টিক সামুদ্রিক পরিবেশে প্রবেশ করলে তা অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল।[]

The Ocean Cleanup নামক সংস্থা জাল ব্যবহার করে সাগর থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তবে এর ফলে neuston জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।[১৫৪]

২০১২ সালে TEDxDelft-এ Boyan Slat "The Ocean Cleanup" প্রকল্প উপস্থাপন করেন, যা ভাসমান বুম ব্যবহার করে সাগরের স্রোতের মাধ্যমে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে। তিনি দাবি করেন, পাঁচ বছরের মধ্যে গিয়ারগুলো পরিষ্কার করা সম্ভব এবং এটি লাভজনকও হতে পারে।[১৫৫][১৫৬] এই প্রকল্প ২০১৫ সালে Design Museum's "Designs of the Year" পুরস্কার অর্জন করে।[১৫৭]

"everwave" নামে একটি সংস্থা নদী ও মোহনায় বিশেষ বর্জ্য সংগ্রহকারী নৌকা ব্যবহার করে প্লাস্টিক সাগরে যাওয়ার আগে আটকায়।[১৫৮]

Ocean Plastic Utilisation Ships System R&D (OPUSS) প্রকল্প বাণিজ্যিকভাবে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব সমুদ্র পরিষ্কারের পরিকল্পনা করছে। এটি সাগরে প্লাস্টিক সংগ্রহের জন্য একটি নতুন সার্কুলার লজিস্টিক ব্যবস্থা তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছে।[১৫৯]

প্লাস্টিক থেকে জ্বালানিতে রূপান্তর কৌশল

[সম্পাদনা]

The Clean Oceans Project (TCOP) নামক সংগঠন প্লাস্টিক বর্জ্যকে তরল জ্বালানিতে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনঃব্যবহার করার পদ্ধতি প্রচার করে। এটি জ্বালানির মধ্যে গ্যাসোলিন, ডিজেল, ও কেরোসিন অন্তর্ভুক্ত করে।[১৬০][১৬১] এই প্রকল্প স্থানীয় জনগণকে সচেতন করে অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে পুনঃব্যবহারকে উৎসাহিত করে।

২০১৯ সালে Washington State University-এর এক গবেষণায় প্লাস্টিক থেকে জেট জ্বালানি উৎপাদনের উপায় আবিষ্কৃত হয়।[১৬২]

"Recycling Technologies" নামক একটি কোম্পানি একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে যা প্লাস্টিক বর্জ্যকে Plaxx নামক এক ধরনের তেলে রূপান্তর করতে পারে।[১৬৩]

অন্য প্রতিষ্ঠান যেমন GRT Group ও OMV-ও প্লাস্টিককে জ্বালানিতে রূপান্তরের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে।[১৬৪]

নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন

[সম্পাদনা]

আন্তর্জাতিক নীতির সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে: সমুদ্রভিত্তিক দূষণে অধিক মনোযোগ, soft law বা নমনীয় আইন, ও বিধিবিধানের ভাঙা কাঠামো।[১৬৫] এই সমস্যার সমাধানে চারটি দিক গুরুত্বপূর্ণ: আন্তর্জাতিক আইনের সামঞ্জস্য, জাতীয় নীতির মিল, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয় (যেমন UNEP), ও বিজ্ঞান-নীতি সংযোগ।[১৬৫]

এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তি প্রস্তাবিত হয়েছে, যা ২০২৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।[১৬৬]

EU-এর এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রসাধনী, ডিটারজেন্ট, রঙ, পালিশ ইত্যাদিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক যোগ নিষিদ্ধ করলে ২০ বছরে ৪ লক্ষ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক নির্গমন কমানো সম্ভব।[১৬৭]

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শিল্পোন্নত দেশ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য রপ্তানিই সামুদ্রিক আবর্জনার প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই কারণে জাতিসংঘ প্লাস্টিক বর্জ্যের বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।[১৬৮]

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]

প্লাস্টিক দূষণ প্রথম আবিষ্কৃত হয় মহাসাগরের কেন্দ্রস্থ ঘূর্ণিবর্তী স্রোতে (জাইর), যার মধ্যে সারগাসো সাগর থেকে সংগৃহীত তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৭২ সালে Journal Science-এ এই পর্যবেক্ষণ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৬ সালে একদল স্নাতক শিক্ষার্থী আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় জাহাজ থেকে দেখা প্লাস্টিকের পরিমাণ নথিভুক্ত করেন। তাঁদের এই গবেষণা আটলান্টিক মহাসাগরে দীর্ঘমেয়াদি প্লাস্টিক উপস্থিতির উপর তথ্য সংগ্রহে সহায়তা করে এবং চার্লস মুরের দ্বারা গ্রেট প্যাসিফিক গার্বেজ প্যাচের আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করে। এই গবেষণার মাধ্যমেই "মাইক্রোপ্লাস্টিক" শব্দটির ধারণার উদ্ভব ঘটে।[১৬৯]

পরিভাষা

[সম্পাদনা]

মাইক্রোপ্লাস্টিক

"মাইক্রোপ্লাস্টিক" শব্দটি প্রথম ২০০৪ সালে রিচার্ড থম্পসন ব্যবহার করেন, যিনি এটিকে ৫ মিলিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ছোট ছোট প্লাস্টিক কণারূপে সংজ্ঞায়িত করেন, যা সাগর ও অন্যান্য জলাধারে পাওয়া যায়। থম্পসনের এই পরিভাষার পর অনেক বিজ্ঞানী মাইক্রোপ্লাস্টিকের সামুদ্রিক প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।[১৬৯]

প্লাস্টিক স্যুপ

[সম্পাদনা]

"Plastic soup" শব্দটি ১৯৯৭ সালে Charles J. Moore প্রবর্তন করেন, যখন তিনি North Pacific Gyre-এ plastic pollution-এর প্যাচ আবিষ্কার করেন, যা Hawaii এবং California-এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে ছিল।[১৭০] এই Great Pacific Garbage Patch-এর অস্তিত্ব ১৯৮৮ সালেই বিজ্ঞানীরা শনাক্ত করেন এবং একে "neuston plastic" নামে আখ্যা দেন—যা ছিল ভাসমান প্ল্যাঙ্কটন ধরার জন্য ব্যবহৃত জালে ধরা পড়া প্লাস্টিকের কণা। তারা উল্লেখ করেন, ১৯৭০-এর দশকের গবেষণায় দেখা গিয়েছিল এই ধরনের প্লাস্টিক কণা বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে আছে এবং তা স্রোত ও বাতাস দ্বারা ছড়িয়ে পড়ে।[১৭১]

২০০৬ সালে Los Angeles Times-এ কেন ওয়েইস একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন যা জনসাধারণের দৃষ্টিতে এই গার্বেজ প্যাচের প্রভাব আনে। ২০০৯ সালে একদল গবেষক এই প্যাচ বাস্তব কি না তা যাচাই করতে প্রশান্ত মহাসাগরে যান এবং দেখতে পান এটি বড় প্লাস্টিকের টুকরোর চেয়ে অনেক বেশি একটি মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্যুপের মতো।[১৬৯]

এই শব্দটি কখনও কখনও শুধুমাত্র মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়, যেমন: কৃত্রিম কাপড় ধোয়ার সময় ছুটে যাওয়া ফাইবার। ব্রিটেনের National Federation of Women's Institutes ২০১৭ সালে "End Plastic Soup" শিরোনামে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে, যা এই ক্ষুদ্র দূষণ উপাদানকেই কেন্দ্র করে গঠিত।[১৭২]

আমস্টারডাম-ভিত্তিক Plastic Soup Foundation একটি সচেতনতামূলক সংগঠন যা এই সমস্যা নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে, মানুষকে শিক্ষা দেয় এবং সমাধান উদ্ভাবনের প্রচেষ্টা চালায়।[১৭৩]

জানুয়ারি ২০১৯-এর হিসাব অনুযায়ী, Oxford English Dictionary "plastic soup", "neuston plastic" বা "neustonic plastic" শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত করেনি, তবে microplastic শব্দটি এতে সংজ্ঞায়িত রয়েছে—"অত্যন্ত ছোট প্লাস্টিক কণা, যা প্রাথমিকভাবে নূডল বা মাইক্রোবিড আকারে তৈরি, অথবা প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহারের ফলে গঠিত হয়" এবং যার প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি মূলত সামুদ্রিক দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর প্রাচীনতম উল্লেখ ১৯৯০ সালের South African Journal of Science-এ দেখা যায়: "১৯৮৪ সালে প্রতি মিটার বিচে ৪৯১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গিয়েছিল, যা ১৯৮৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭৮-এ।"[১৭৪]

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

 এই নিবন্ধটি একটি মুক্ত উপাদান থেকে পাঠ্য অন্তর্ভুক্ত করে। লাইসেন্সকৃত Cc BY-SA 3.0 IGO (লাইসেন্স বিবৃতি/অনুমতি)। পাঠ্য নেওয়া হয়েছে Drowning in Plastics – Marine Litter and Plastic Waste Vital Graphics, United Nations Environment Programme।

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. 1 2 Weisman, Alan (২০০৭)। The World Without Us। St. Martin's Thomas Dunne Books। আইএসবিএন ৯৭৮-০৩১২৩৪৭২৯১
  2. 1 2 3 4 5 6 7 "Marine plastic pollution"IUCN (ইংরেজি ভাষায়)। নভেম্বর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২৭ মে ২০২৩
  3. "Nanoplastics in snow: The extensive impact of plastic pollution"Open Access Government (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
  4. Jang, Y. C.; Lee, J.; Hong, S.; Choi, H. W.; Shim, W. J.; Hong, S. Y. (২০১৫)। "Estimating the global inflow and stock of plastic marine debris using material flow analysis: a preliminary approach"Journal of the Korean Society for Marine Environment and Energy১৮ (4): ২৬৩–২৭৩। ডিওআই:10.7846/JKOSMEE.2015.18.4.263
  5. "The average person eats thousands of plastic particles every year, study finds"Environment (ইংরেজি ভাষায়)। ৫ জুন ২০১৯। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০২৩
  6. 1 2 3 4 Microplastics and Micropollutants in Water: Contaminants of Emerging Concern (প্রতিবেদন) (ইংরেজি ভাষায়)। European Investment Bank। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
  7. Yuan, Zhihao; Nag, Rajat; Cummins, Enda (১ জুন ২০২২)। "Human health concerns regarding microplastics in the aquatic environment – From marine to food systems"। Science of the Total Environment (ইংরেজি ভাষায়)। ৮২৩: ১৫৩৭৩০। ডিওআই:10.1016/j.scitotenv.2022.153730পিএমআইডি 35143789
  8. García Rellán, Adriana; Vázquez Ares, Diego; Vázquez Brea, Constantino; Francisco López, Ahinara; Bello Bugallo, Pastora M. (১ জানুয়ারি ২০২৩)। "Sources, sinks and transformations of plastics in our oceans: Review, management strategies and modelling"Science of the Total Environment৮৫৪: ১৫৮৭৪৫। ডিওআই:10.1016/j.scitotenv.2022.158745পিএমআইডি 36108857
  9. 1 2 3 "Drowning in Plastics – Marine Litter and Plastic Waste Vital Graphics"UNEP – UN Environment Programme। ২১ অক্টোবর ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ২১ মার্চ ২০২২
  10. Wright, Pam (৬ জুন ২০১৭)। "UN Ocean Conference: Plastics Dumped In Oceans Could Outweigh Fish by 2050, Secretary-General Says"। The Weather Channel। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০১৮
  11. Ostle, Clare। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  12. "Research | AMRF/ORV Alguita Research Projects"। ৪ মে ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০০৯
  13. 1 2 3 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "UNEP" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  14. "Six pack rings hazard to wildlife"helpwildlife.com। ১৩ মে ২০০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত।
  15. "'Ghost fishing' killing seabirds"BBC News। ২৮ জুন ২০০৭।
  16. 1 2 Efferth, Thomas; Paul, Norbert W. (নভেম্বর ২০১৭)। "Threats to human health by great ocean garbage patches"। The Lancet Planetary Health (8): e৩০১ – e৩০৩ডিওআই:10.1016/s2542-5196(17)30140-7
  17. 1 2 3 Jambeck, Jenna R.। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  18. Schmidt, Christian। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  19. Harald Franzen (৩০ নভেম্বর ২০১৭)। "Almost all plastic in the ocean comes from just 10 rivers"Deutsche Welle
  20. Weisman, Alan (গ্রীষ্ম ২০০৭)। "Polymers Are Forever"Orion। ২ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৫
  21. Thompson, R. C. (২০০৪)। "Lost at Sea: Where is All the Plastic?"Science৩০৪ (5672): ৮৩৮। ডিওআই:10.1126/science.1094559
  22. Moore, C. J.; Moore, S. L.; Leecaster, M. K.; Weisberg, S. B. (২০০১)। "A Comparison of Plastic and Plankton in the North Pacific Central Gyre"Marine Pollution Bulletin৪২ (12): ১২৯৭–৩০০। ডিওআই:10.1016/S0025-326X(01)00114-X
  23. "Plastic Pollution – Facts and Figures"Surfers Against Sewage (ব্রিটিশ ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ আগস্ট ২০২১
  24. "We know plastic pollution is bad – but how exactly is it linked to climate change?"। ১৯ জানুয়ারি ২০২২।
  25. Geyer, Roland ...। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  26. "Ocean Plastics Pollution"
  27. Petterson, Michael G., {{citation}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  28. Eriksen, Marcus ...। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  29. 1 2 Woodall, Lucy C.। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  30. Wilcox, Chris। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  31. Galgani, F.। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  32. US EPA, OW (৬ নভেম্বর ২০২০)। "Plastic Pollution"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  33. "Discover the plastic islands that pollute our oceans"
  34. "We Depend on Plastic. Now We're Drowning in It."। ১৬ মে ২০১৮। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  35. "Marine Microplastics"। Woods Hole Oceanographic Institution {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  36. Urbanek, A.K., Rymowicz, W. and Mirończuk, A.M. (2018) "Degradation of plastics and plastic-degrading bacteria in cold marine habitats". Applied microbiology and biotechnology, 102(18): 7669–7678. ডিওআই:10.1007/s00253-018-9195-y.
  37. 1 2 Juan Bofill (২২ জুলাই ২০২০)। "Development Solutions: Big plans to cut microplastics" (ইংরেজি ভাষায়)। European Investment Bank। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২০
  38. World Economic Forum; Ellen MacArthur Foundation; এবং McKinsey & Company (২০১৬)। "The New Plastics Economy: Rethinking the future of plastics" (পিডিএফ)। Ellen MacArthur Foundation। পৃ. ২৯। সংগ্রহের তারিখ ১১ জানুয়ারি ২০২০
  39. Knight, Geoffrey David (২০১২)। Plastic Pollution (ইংরেজি ভাষায়)। Capstone। পৃ. ১২। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৪৩২৯-৬০৩৯-১
  40. Rosane, Olivia (২০ আগস্ট ২০২০)। "Atlantic Ocean Holds 10x More Plastic Pollution Than Previously Believed, New Study Finds"। The National Oceanography Centre (NOC)। Ecowatch। সংগ্রহের তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২০
  41. "Dumped fishing gear is biggest plastic polluter in ocean, finds report"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। ৬ নভেম্বর ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ৯ এপ্রিল ২০২১
  42. Hannah Leung (২১ এপ্রিল ২০১৮)। "Five Asian Countries Dump More Plastic into Oceans Than Anyone Else Combined: How You Can Help"Forbes (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৩ জুন ২০১৯
  43. 1 2 "Plastic Pollution in the World's Oceans..."। PLOS ONE
  44. Pabortsava, Katsiaryna; Lampitt, Richard S. (১৮ আগস্ট ২০২০)। "High concentrations of plastic hidden beneath the surface of the Atlantic Ocean"। Nature Communications১১ (1): ৪০৭৩।
  45. Harvey, Fiona (১৮ আগস্ট ২০২০)। "Atlantic ocean plastic more than 10 times previous estimates"। সংগ্রহের তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২০
  46. Ryan, Peter G.; Dilley, Ben J.; Ronconi, Robert A.; Connan, Maëlle (২০১৯)। "Rapid increase in Asian bottles in the South Atlantic Ocean indicates major debris inputs from ships"। PNAS১১৬ (42): ২০৮৯২–২০৮৯৭।
  47. "Multimedia"। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২। ৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২৫
  48. Muhammad Taufan (২৬ জানুয়ারি ২০১৭)। "Oceans of Plastic: Fixing Indonesia's Marine Debris Pollution Laws"। The Diplomat
  49. Stephanie B. Borrelle। "Why we need an international agreement on marine plastic pollution"। PNAS১১৪ (38): ৯৯৯৪–৯৯৯৭।
  50. Derraik, José G.B.। "The pollution of the marine environment by plastic debris: a review"। Marine Pollution Bulletin৪৪: ৮৪২–৮৫২।
  51. Craig S. Alig। "Control of Plastic Wastes Aboard Naval Ships at Sea"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  52. 1 2 3 4 Plastics in the Marine Environment: The Dark Side of a Modern Gift। ২০১২।
  53. Cozar, Andres। "Plastic debris in the open ocean"। PNAS১১১ (28): ১০২৩৯–১০২৪৪।
  54. "Great Pacific Garbage Patch"। NOAA। ১১ জুলাই ২০১৩। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  55. "More than 1000 rivers account for 80% of global riverine plastic emissions into the ocean"। Science Advances (18)।
  56. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "nature.com" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  57. Jambeck, Jenna R.। "Plastic waste inputs from land into the ocean"। Science৩৪৭ (6223): ৭৬৮–৭৭১।
  58. 1 2 Winton। "Macroplastic pollution in freshwater environments"। Science of the Total Environment৭০৪
  59. Segar, D. (১৯৮২)। "Ocean waste disposal monitoring – Can it meet management needs?"। Oceans 82
  60. "The effect of particle properties on the depth profile of buoyant plastics in the ocean"। Scientific Reports
  61. "Microplastic pollution in the surface waters of the Laurentian Great Lakes"। Marine Pollution Bulletin৭৭
  62. "Ecological and ecotoxicological effects of microplastics"। AquaBiota। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  63. "Plastic debris in the Laurentian Great Lakes: A review"। Journal of Great Lakes Research৪১
  64. Barnes, D. K. A.। "Accumulation and fragmentation of plastic debris in global environments"। Philosophical Transactions of the Royal Society B৩৬৪ (1526): ১৯৮৫–১৯৯৮।
  65. North, Emily J.। "Plastics and environmental health: the road ahead"। Reviews on Environmental Health২৮ (1): ১–৮।
  66. "Validation and application of..."। Marine Pollution Bulletin১৪৩
  67. "Contributing to marine pollution by washing your face..."। Marine Pollution Bulletin
  68. "Abundance and distribution of microplastics on sandy beaches..."। Marine Pollution Bulletin
  69. "Comparison between manta trawl..."। Environmental Science and Pollution Research
  70. 1 2 3 "Microplastics in aquatic environments..."। Science of the Total Environment
  71. "Fate of microplastics and mesoplastics carried by surface currents..."। Marine Pollution Bulletin
  72. "Examination of the ocean as a source for atmospheric microplastics"। PLOS ONE
  73. "Are We Underestimating Microplastic Contamination..."। Environmental Management
  74. "Study finds 14 million metric tons of microplastics on the seafloor"। CNN {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  75. "A global inventory of small floating plastic debris"। Environmental Research Letters
  76. Detecting Microplastics Pollution in World Oceans...
  77. "Distribution of Surface Plastic Debris..."। Environmental Science & Technology
  78. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Nature Communications" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  79. "Microplastic contamination in east Antarctic sea ice"। Marine Pollution Bulletin
  80. "Impact of microplastic pollution on breaking waves"। Physics of Fluids
  81. 1 2 3 4 "Microplastics and Human Health..."। Journal of Medical Toxicology
  82. "Microplastics and synthetic particles ingested by deep-sea amphipods..."। Royal Society Open Science
  83. "Microplastics are in our bodies. How much do they harm us?"। National Geographic {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  84. "Microplastics in Seafood and the Implications for Human Health"। Current Environmental Health Reports
  85. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  86. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":7" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  87. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "López‐Martínez" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  88. "Microplastic pollution in deep-sea sediments"। Environmental Pollution
  89. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":3" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  90. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":4" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  91. "Hidden Beneath the Ocean's Surface, Nearly 16 Million Tons of Microplastic"। The New York Times
  92. "14 million tonnes of microplastics on sea floor: Australian study"। phys.org
  93. "Microplastic Pollution in Deep-Sea Sediments From the Great Australian Bight"। Frontiers in Marine Science
  94. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":111" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  95. "Plastic pollution is growing relentlessly..."। OECD {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  96. "World leaders set sights on plastic pollution"। UNEP {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  97. "Evaluating scenarios toward zero plastic pollution"। Science
  98. 1 2 MacLeod, Matthew। "The global threat from plastic pollution"। Science৩৭৩
  99. "Oceanic long-range transport of organic additives present in plastic products"। Environmental Sciences Europe৩৩
  100. "Plastic Debris: from Rivers to Sea"। Algalita Marine Research Foundation। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  101. "The Complex Interaction between Marine Debris and Toxic Chemicals in the Ocean"। Environmental Science & Technology৪৬
  102. 1 2 "Plastics and Marine Debris"। Algalita Marine Research Foundation। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  103. "Persistent organic pollutants carried by synthetic polymers in the ocean environment"। Marine Pollution Bulletin৫৪
  104. "Marine microbes digest plastic"। Nature
  105. "Great Pacific Garbage Patch"। Santa Barbara News-Press।
  106. "Plastics in oceans decompose, release hazardous chemicals"। American Chemical Society। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  107. "Systematic Review and Meta-Analysis of Early-Life Exposure to Bisphenol A..."। Environmental Health Perspectives
  108. "Plastic Breaks Down in Ocean, After All And Fast"। National Geographic Society। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  109. Seeker (৩ ডিসেম্বর ২০১৮)। "The Great Pacific Garbage Patch Is Not What You Think It Is"Seeker। সংগ্রহের তারিখ ১০ ডিসেম্বর ২০১৮
  110. "Midway's albatross population stable | Hawaii's Newspaper"The Honolulu Advertiser। ১৭ জানুয়ারি ২০০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০ মে ২০১২
  111. Jordan, Chris (১১ নভেম্বর ২০০৯)। "Midway: Message from the Gyre"। সংগ্রহের তারিখ ১৩ নভেম্বর ২০০৯
  112. "Fish consumption and cancer risk"। The American Journal of Clinical Nutrition
  113. "Microplastic Contamination in Human Stools..."। Environments
  114. "Drowning in debris..."। Marine Pollution Bulletin
  115. "Ocean Plastics Pollution"। biologicaldiversity.org {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  116. UNESCO Science Report...। UNESCO।
  117. "Ocean Debris: Habitat for Some..."। National Geographic
  118. "Rubbish menaces Antarctic species"। BBC News
  119. marine-plastic-pollution-issues-brief_nov21-april-2024-small-update_0.pdf (iucn.org)
  120. marine-plastic-pollution-issues-brief_nov21-april-2024-small-update_0.pdf (iucn.org)
  121. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Reisser2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  122. "Microbial Biofilms..."। Microbiology and Molecular Biology Reviews
  123. "Lost at Sea: Where is All the Plastic?"। Science
  124. "Plastic Breaks Down in Ocean, After All – And Fast"। National Geographic {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  125. "Production of methane and ethylene from plastic in the environment"। PLOS ONE
  126. "What Is Plastic Photodegradation?"। Pollution Solutions Online। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  127. "The fundamental links between climate change and marine plastic pollution"। Science of the Total Environment
  128. "Plastic waste and climate change - what's the connection?"। wwf.org.au {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  129. "Why plastics can be garbage for the climate"। Yale Climate Connections {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  130. "We know plastic pollution is bad – but how exactly is it linked to climate change?"। World Economic Forum {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  131. "Black carbon"। Climate & Clean Air Coalition {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  132. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "STRP Ban Plastic Bags" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  133. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Moore et al, 2007" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  134. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "Plastic Pollution2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  135. Weiss, Kenneth R.। "Plague of Plastic Chokes the Seas"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  136. "The Dutch boy mopping up a sea of plastic"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  137. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "natural-history" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  138. "Plastic ingestion as an evolutionary trap"। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য)
  139. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "env implications2" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  140. "Half of dead baby turtles..."।
  141. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":42" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  142. "Whale dies from eating more than 80 plastic bags"।
  143. Hill, Marquita K. (1997). Understanding Environmental Pollution
  144. "'Plasticosis': a new disease caused by plastic"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য)
  145. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":6" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  146. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":12" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  147. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":14" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  148. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":72" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  149. Waring, R.H.। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  150. Wright। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  151. Huang। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  152. Kim। {{সাময়িকী উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); উদ্ধৃতি journal এর জন্য |journal= প্রয়োজন (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  153. "Is global plastic pollution nearing an irreversible tipping point?"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  154. {{সংবাদ উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  155. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "boyanslat.com" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  156. "The Ocean Cleanup"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  157. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":02" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  158. "Strategy"। ৩ সেপ্টেম্বর ২০২২।
  159. "OPUSS Project: First Results and Roadmap of Development"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  160. {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  161. {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  162. "Research group finds way to turn plastic waste products into jet fuel"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  163. {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  164. {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  165. 1 2 উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; ":8" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  166. । ২ মার্চ ২০২২। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  167. {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  168. উদ্ধৃতি ত্রুটি: <ref> ট্যাগ বৈধ নয়; "cookson" নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি
  169. 1 2 3 Rochman, Chelsea M. (২০২০)। "THE STORY OF PLASTIC POLLUTION: From the Distant Ocean Gyres to the Global Policy Stage"Oceanography৩৩ (3): ৬০–৭০। ডিওআই:10.5670/oceanog.2020.308আইএসএসএন 1042-8275জেস্টোর 26962482এস২সিআইডি 234663649
  170. "What is plastic soup?"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  171. {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |title= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  172. "End Plastic Soup"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  173. "Mission and vision"। {{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: |url= অনুপস্থিত বা খালি (সাহায্য); লেখা "..." উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)
  174. "Microplastic, adj. and n.: B. n."অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি (অনলাইন সংস্করণ)। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। (Sসাবস্ক্রিপশন বা পার্টিশিপেটিং ইনস্টিটিউট মেম্বারশিপ প্রয়োজনীয়.)

আরও পাঠ

[সম্পাদনা]