সামাজিক দূর্ভীতি ব্যাধি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
সামাজিক দূর্ভীতি ব্যাধি
অন্যান্য নামসামাজিক ভীতি
বিশেষায়িত ক্ষেত্রমনোরোগ বিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান
উপসর্গসামাজিক বিচ্ছিন্নতা, হীনমন্যতাবোধ, আত্ম-সম্মানবোধের অভাব, সামাজিকীকরণে অসুবিধা বা অন্যদের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশতে অপারগতা
সূত্রপাতসচরাচর বয়ঃসন্ধিকালের সময় থেকে
ঝুঁকিসমূহজিনগত কারণ

সামাজিক দূর্ভীতি ব্যাধি বা সোশ্যাল অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার (সংক্ষেপেঃ SAD) হলো এক জাতীয় উদ্বেগজনিত মানসিক সমস্যা যা আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মাঝে সামাজিক ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের প্রতিদিনকার জীবনে যথেষ্ট সংকট ও প্রতিবন্ধকতার তৈরী করে।[১] এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যাক্তিদের সামাজিক ভীতি আরো প্রকট হয়ে উঠে, যখন তাদের নিয়ে কেউ নেতিবাচক মূল্যায়ন বা সামান্য সমালোচনাও শুরু করে দেয়।

এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যাক্তিদের শারীরিক উপসর্গের মধ্যে লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠা, অতিরিক্ত ঘামা, কাঁপুনি, বুক ধড়ফড়ানি এবং বমিভাব অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি দ্রুত কথা বলার সময় তোতলামির সমস্যাও থাকতে পারে। এছাড়া তীব্র ভীতি ও অস্বস্তিতেও অনেকে প্যানিক অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে অনেকে মদ এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই নিজে নিজে ঔষুধ সেবন করে; যা পরবর্তীতে তাদের মাঝে মদ্যাসক্তি ও স্বল্পাহার এবং অতি-আহারের মতো ব্যাধি তৈরী করে।[২][৩] আইসিডি-১০ এর মানদন্ড অনুসারে, সামাজিক দূর্ভীতি ব্যাধির মূল মানদন্ডগুলো হলো - অন্যদের মনযোগের কেন্দ্রীভূত হওয়ার ভয়, লজ্জাজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা, অন্যদের এড়িয়ে চলা এবং অন্যান্য উদ্বেগজনিত উপসর্গসমূহ চিহ্নিত।[৪]

সামাজিক দূর্ভীতি ব্যাধির মূল চিকিৎসা হলো জ্ঞানীয় আচরণগত থেরাপি বা কগনিটিভ বিহেভিরিয়াল থেরাপি (সংক্ষেপেঃ সিবিটি) (এক জাতীয় কাউন্সিলিং থেরাপি) যা রোগীর চিন্তার ধরন এবং উদ্বেগের ফলে যে শারীরিক প্রতিক্রিয়াগুলো হয়, তার পরিবর্তন সাধন করে। এছাড়া উক্ত কাউন্সেলিং থেরাপির পাশাপাশি ঔষুধের মধ্যে 'সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেইক ইনহিবিটর' (বা সংক্ষেপেঃ এস.এস.আর.আই) (এক জাতীয় অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট ঔষুধ)-ও দেওয়া হয় যা রোগ নিরাময়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।[৫] মূলত ১৯৯৯ সাল থেকে চিকিৎসার জন্য ওষুধের অনুমোদন এবং বিপণনের মাধ্যমেই সামাজিক দূর্ভীতি ব্যাধির প্রতি নজর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. National Institute for Health and Clinical Excellence: Guidance. Social Anxiety Disorder: Recognition, Assessment and Treatment. Leicester (UK): British Psychological Society; 2013. PubMed
  2. Stein, MD, Murray B.; Gorman, MD, Jack M. (২০০১)। "Unmasking social anxiety disorder" (PDF)Journal of Psychiatry & Neuroscience। 3। 26 (3): 185–9। PMID 11394188পিএমসি 1408304অবাধে প্রবেশযোগ্য। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৪ 
  3. Shields, Margot (২০০৪)। "Social anxiety disorder— beyond shyness" (PDF)How Healthy Are Canadians? Statistics Canada Annual Report15: 58। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মার্চ ২০১৪ 
  4. Social Phobia (F40.1) in ICD-10: Diagnostic Criteria and Clinical descriptions and guidelines.
  5. Liebowitz, Michael R.; Schneier, Franklin R.; Bragdon, Laura B.; Blanco, Carlos (২০১৩-০২-০১)। "The evidence-based pharmacotherapy of social anxiety disorder"International Journal of Neuropsychopharmacology16 (1): 235–249। doi:10.1017/S1461145712000119আইএসএসএন 1461-1457