সাবেকুন নাহার সনি হত্যাকাণ্ড
| সাবেকুন নাহার সনি হত্যাকাণ্ড | |
|---|---|
| বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার অংশ | |
| স্থান | বুয়েট ক্যাম্পাস, ঢাকা |
| তারিখ | ৮ জুন, ২০০২; ২৩ বছর আগে |
| নিহত | হত্যা |
| ভুক্তভোগী | সাবিকুন নাহার সনি |
সাবেকুন নাহার সনি বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। তিনি ২০০২ সালের ৮ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।[১]
পরিচয়
[সম্পাদনা]সনির বাবার নাম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া (মৃত্যু ২০২৩)।[২] সনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাসায়নিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।[২]
ঘটনা
[সম্পাদনা]২০০২ সালের ৮ জুন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে টেন্ডারবাজিকে কেন্দ্র করে বন্দুকযুদ্ধ হয়।[১] সনি দুই পক্ষের সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।[১] সনি সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসানউল্লাহ হলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।[৩] টেন্ডার নিয়ে দুই পক্ষের গোলাগুলির একটি অংশের নেতৃত্বে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বুয়েট শাখার সভাপতি মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি এবং অপর অংশের নেতৃত্বে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার ছাত্রদল নেতা মুশফিক উদ্দিন টগর।[৪]
তার মৃত্যুর পর সারা বাংলাদেশে প্রতিবাদ হয়।[৫] সনি হত্যার বিচারের দাবিতে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা আবিরাম আন্দোলন করে ও আন্দোলনের একপর্যায়ে ‘সন্ত্রাস বিরোধী বুয়েট ছাত্র ঐক্য’ গঠিত হয়।[৬]
বিচার
[সম্পাদনা]সনির বাবা জনাব হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া অভিযোগ করেন ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার, পুলিশ ও বুয়েট প্রশাসন অভিযুক্তদের মদদ দিচ্ছে।[৭]

২০০৩ সালের ২৯ জুন বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ সনি হত্যা মামলার রায় হয়।[৮] রায়ে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।[৯]
২০০৬ সালের ১০ মার্চ বাংলাদেশ হাইকোর্ট আপিলের ভিত্তিতে হত্যা মামলার তিন পলাতক আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।[৯] মামলার চার আসামি কারাগারে এবং দুইজন পলাতক।[৯] যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে দুই আসামি খালাস পান।[১]
মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি:
- মোকাম্মেল হায়াত খান মুকি (পলাতক)
- নূরুল ইসলাম সাগর ওরফে শুটার নূরু (পলাতক)
- মুশফিক উদ্দীন টগর (কারাভোগের পর মুক্ত)
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকা তিন আসামী:
- মকবুল হোসেন বকুল
- দুলাল
- ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে ইয়ার
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে খালাসপ্রাপ্ত দুই আসামি:
- এস এম মাসুম বিল্লাহ
- মাসুম
রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুর রেজাক খান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুর রহমান চন্দন। অন্যদিকে আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও বিচারপতি আবদুল মালেক।
২০২০ সালের ২০ আগস্ট যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মুশফিক উদ্দীন টগর কাশিমপুর কারাগার থেকে কারাবিধি ৫৬৯ ধারায় মুক্তি পায়। এরপর ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর র্যাব-৩ মুশফিক উদ্দীন টগরকে অস্ত্রসহ আটক করে।[১০]
উত্তরাধিকার
[সম্পাদনা]৮ জুন সনি হত্যার দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।[১১] ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র মহিলা ছাত্রাবাসটির নামকরণ করা হয় সাবেকুন নাহার সনি হল।[১২]
ডেইলি স্টার দুঃখ প্রকাশ করে লিখে যে আবরার ফাহাদকে হত্যার পর তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু আরিফ রায়হান দ্বীপের হত্যা এবং সাবেকুন নাহার সনির মৃত্যুর পর তা হয়নি।[৭] এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে আরিফ রায়হান দ্বীপের মৃত্যুর একমাত্র আসামি গ্রেপ্তার হয়নি এবং সাবেকুন নাহার সনির মৃত্যুর দুই আসামিকে ২২ বছরেও আটক করা হয়নি।[৭] সনির মৃত্যুকে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে ছাত্র রাজনীতিমুক্ত রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়ে থাকে।[১৩]
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- 1 2 3 4 ইসলাম, নজরুল (৮ জুন ২০২৪)। "কেটেছে ২২ বছর, বুয়েট ছাত্রী সনি হত্যার প্রধান দুই আসামি এখনো পলাতক"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- 1 2 প্রতিবেদক, বিশেষ (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)। "নিহত বুয়েট ছাত্রী সাবেকুন নাহার সনির বাবার মৃত্যু"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ প্রতিবেদক, নিজস্ব (৮ জুন ২০১৯)। "সনি: সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক অনির্বাণ আলোকবর্তিকা"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ "আফসোস নিয়েই পৃথিবী ছেড়ে গেলেন সনির বাবা"। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ প্রতিবেদক (৮ জুন ২০২২)। "বুয়েটের ছাত্রী সনি হত্যার দিনটিকে 'সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন দিবস' ঘোষণার দাবি"। দৈনিক প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ "দেড় যুগেও হয়নি বুয়েট ছাত্রী সনি হত্যাকাণ্ডের বিচার"। thedailycampus.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- 1 2 3 রহমান, আসিফুর; বাপ্পি, ইমরুল হাসান (২৩ ডিসেম্বর ২০২১)। "Sony, Dwip Murder Trials: Neglected, they see no closure"। দ্য ডেইলি স্টার (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪।
- ↑ "শাহেদ নূর উদ্দিনের আলোচিত যত রায়"। বাংলাদেশ প্রতিদিন। ১২ অক্টোবর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- 1 2 3 "১৯ বছর পালিয়ে আছে প্রধান দুই আসামি"। দৈনিক সমকাল। ৮ ডিসেম্বর ২০২১।
- ↑ "বুয়েট শিক্ষার্থী সনি হত্যা মামলার আসামি টগর গ্রেপ্তার"। kalbela.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
- ↑ "বুয়েট ছাত্রী সনির ১৯তম মৃত্যুদিবস আজ"। thedailycampus.com। সংগ্রহের তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৪।
- ↑ হক, অর্চি (৬ নভেম্বর ২০২১)। "বুয়েটে সনির নামে হল: চাপা কষ্টের মাঝেও সন্তুষ্ট মা-বাবা"। দৈনিক আজকের কাগজ।
- ↑ "বুয়েটে রাজনীতির বিরোধিতার একটি পরিপ্রেক্ষিত রয়েছে"। দৈনিক আজকের কাগজ। সংগ্রহের তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২৪।