বিষয়বস্তুতে চলুন

সাপোজিটর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
গ্লিসারিন সাপোজিটরি (জোলাপ)

সাপোজিটর বা সাপোজিটরি হলো এক ধরনের ঔষধ বিতরন ব্যবস্থা যার মাধ্যমে কঠিন, তরল বা বায়বীয় ঔষধ উপাদান বিতরন করা হয় পায়ুপথে প্রয়োগ করার জন্য। সাপোজিটরিকে সাধারণ মানুষ ডুস বলে। সাধারণত মুখে ওষুধ খাওয়ানো সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ, কিন্তু যদি কোনোভাবেই মুখে খাওয়ানো সম্ভব না হয়, যেমন রোগী অচেতন কিংবা শিশুদের ক্ষেত্রে গলায় আটকে যাবার ভয় থাকলে কিংবা রোগী ক্রমাগত বমি করছে, কেবল তখনই পায়ুপথে সাপোজিটর প্রয়োগ করা যাবে, অন্যথায় নয়।

সাপোজিটরির শক্ত অথবা স্থিতিস্থাপক আবরণ জিলাটিন নামক আমিষ (প্রোটিন) দিয়ে বা অন্যান্য উপাদান দ্বারা তৈরী হতে পারে যা পায়ুপথের সাধারণ তাপমাত্রায় সহজেই গলে যায় এবং পায়ুপথের ভেতরে ওষুধের সক্রিয় উপাদান বা অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়ান্টকে মুক্ত করে দেয়। ওষুধের সক্রিয় উপাদান পায়ুপথের রক্ত নালী দ্বারা রক্তে শোষিত হয় এবং রোগ উপশমের কাজ শুরু করে।

ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও অন্যান্য ঔষধ উপাদান বিতরন ব্যবস্থার পাশাপাশি অনেক ওষুধের সক্রিয় উপাদান বা অ্যাকটিভ ইনগ্রেডিয়ান্ট'সাপোজিটর বা সাপোজিটরি ফর্মে পাওয়া যায়। যেমন প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, সিরাপ, সাসপেনশন ও সাপোজিটর ফর্মে পাওয়া যায়।

সাপোজিটরির সুবিধা

[সম্পাদনা]

সাধারণত কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে সাপোজিটরির মুখের ঔষধের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক। মুখের খাওয়ানো ঔষধের তুলনায় এটা দ্রুত রক্তে মিশে যায়, ফলে খুব দ্রুত ওষুধের কার্যকারীতা পাওয়া যায়। মুখের খাওয়ানো ঔষধের পাকস্থলীতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে বা পাকস্থলীর এসিড ঔষধের কার্যকারীতা কমিয়ে দিতে পারে, অথবা কিছু কিছু এসিডিক ঔষধের পাকস্থলীতে জ্বালা-পোড়ার সমস্যা তৈরী করতে পারে বা গ্যাস্ট্রিক জাতীয় সমস্যা তৈরী করতে পারে। সাপোজিটরি প্রয়োগের মাধ্যমে এসব সমস্যা এড়ানো যায়। কিছু কিছু মুখে খাওয়া ওষুধ পাকস্থলী থেকে শোষিত হয়ে লিভারে গিয়ে সাইড ইফেক্ট তৈরী করতে পারে। সাপোজিটরি ওষুধ পায়ুপথে প্রয়োগস্থল থেকে শোষিত হয় এবং সরাসরি লিভারে যায় না বলে সাপোজিটরি ওষুধ এ জাতীয় সাইড ইফেক্ট তৈরী করে না। * M. Rahman (২০১৫)। Pharmaceutical Dosage Forms: Capsules। LAP Lambert Academic Publishing, Germany। আইএসবিএন ৩৬৫৯৭৮৩১৪৫


তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]