সাদাকো অ্যান্ড দ্য থাউজেন্ড পেপার ক্রেনস
প্রথম সংস্করণ | |
| লেখক | এলিনর কোয়ার |
|---|---|
| অঙ্কনশিল্পী | রোনাল্ড হিমলার |
| প্রকাশনার স্থান | কানাডা |
| ভাষা | ইংরেজি |
| ধারাবাহিক | নয় |
| বিষয় | হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার ফলে সৃষ্ট বিকিরণ থেকে লিউকেমিয়া আক্রান্ত একটি শিশু |
| ধরন | শিশুদের অ-কল্পকাহিনীভিত্তিক সাহিত্য |
| প্রকাশক | জি. পি. পুটনাম'স সন্স |
প্রকাশনার তারিখ | ১৯৭৭ |
| মিডিয়া ধরন | মুদ্রণ |
| পৃষ্ঠাসংখ্যা | ৮১ |
| আইএসবিএন | ৯৭৮০৩৯৯২০৫২০০ |
সাদাকো অ্যান্ড দ্য থাউজেন্ড পেপার ক্রেনস হল কানাডীয়-মার্কিন লেখক এলিনর কোয়েরের লেখা একটি শিশুতোষ ঐতিহাসিক উপন্যাস এবং এটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার শিকার সাদাকো সাসাকির জীবনের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। বোমার বিকিরণ থেকে সৃষ্ট লিউকেমিয়া অসুখে মারা যাওয়ার আগে সে এক হাজারটি অরিগামি (কাগজ দিয়ে তৈরি শিল্পকলা) সারস তৈরির সংকল্প নিয়েছিল।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শান্তি শিক্ষা কর্মসূচিতে ব্যবহারের জন্য বইটি অনেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং অনেক জায়গায় প্রকাশিত হয়েছে।
সংক্ষিপ্ত আখ্যান
[সম্পাদনা]হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলার ফলে সৃষ্ট বিকিরণের কারণে লিউকেমিয়া রোগাক্রান্ত হওয়ার পর, সাদাকোর বন্ধু তাকে কাগজ ভাঁজ করে অরিগামি সারস (ওরিজুরু) তৈরি করতে বলে, তার আশা ছিল যে সে এক হাজার সারস তৈরি করবে। জাপানি কিংবদন্তিতে বলা আছে, যে কেউ একহাজার অরিগামি সারস তৈরি করবে তার একটি ইচ্ছা পূরণ হবে। এর থেকে সাদাকো অনুপ্রাণিত হয় হাজার সারস তৈরি করতে। তার একমাত্র ইচ্ছা ছিল তার রোগটিকে জয় করে বেঁচে থাকা, যাতে সে দৌড় প্রতিযোগিতার দলে থাকার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তার গল্পের এই নতুন রূপায়ণে, সে মাত্র ৬৪৪টি সারস ভাঁজ করতে সক্ষম হয়, কিন্তু এরপর সে এতই দুর্বল হয়ে পড়ে যে আর ভাঁজ করার ক্ষমতা তার ছিল না, এবং ১৯৫৫ সালের ২৫শে অক্টোবর তারিখে সকালে ঘুমের মধ্যে সে মারা যায়, সে জানত যে তার পরিবার সর্বদা তার পাশেই থাকবে। তার বন্ধুবান্ধব এবং পরিবার বাকি সারসগুলিকে ভাঁজ করে তার স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করে এবং সেগুলিকে সাদাকোর সাথেই সমাহিত করে।[১]
গল্পের অসঙ্গতি
[সম্পাদনা]কোয়েরের বইয়ে লেখায় এই দাবি আছে যে সাদাকো "১০০০টি সারস তৈরির আগেই মারা গিয়েছিল এবং তার দুই বন্ধু কাজটি সম্পন্ন করার পর তৈরি করা সারসগুলো তার কফিনে ভরে দিয়েছিল"। কিন্তু তার পরিবারের জীবিত সদস্যরা তা অস্বীকার করেছেন। তার পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে তার বড় ভাই মাসাহিরো সাসাকি, যিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বোনের জীবন নিয়ে কথা বলেন, বলেছেন সাদাকো কেবল ৬৪৪টি সারসই তৈরি করেনি, বরং সে তার ১,০০০টি সারস তৈরির লক্ষ্যও অতিক্রম করে গিয়েছিল এবং প্রায় ১,৪৫০টি কাগজের সারস ভাঁজ করার পর মারা গেছে। পিস ক্রেন প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা সু ডিসিকোর সাথে যৌথভাবে লেখা তার বই, দ্য কমপ্লিট স্টোরি অফ সাদাকো সাসাকি (২০১৮) -তে মাসাহিরো বলেছেন যে সাদাকো তার লক্ষ্য অতিক্রম করেছিল।[২]
চলচ্চিত্র অভিযোজন
[সম্পাদনা]জর্জ লেভেনসন পরিচালিত, কোয়ের ও লেভেনসনের যৌথভাবে রচিত একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সাদাকো অ্যান্ড দ্য থাউজেন্ড পেপার ক্রেনস, ১৯৯১ সালে মুক্তি পায়, এবং এখানে লিভ উলম্যান কথক হিসেবে অভিনয় করেছেন।[৩]
উলম্যানের বর্ণনা সমন্বিত এবং জর্জ উইনস্টনের সঙ্গীত পরিচালনায় একই নামের একটি অ্যালবামের সাউন্ডট্র্যাকটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।[৪]
২০১৫ সালের নভেম্বরে, জাপানি আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা মিয়ুকি সোহারা ওরিজুরু ২০১৫ (ওরিজুরু হলো কাগজের সারসের জাপানি শব্দ) তৈরি করেন। এটি শিশুদের জন্য একটি শিক্ষামূলক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রটি ২০১৫ সালে হিরোশিমা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ২৭ মে তারিখে লস অ্যাঞ্জেলেসে এর মার্কিন প্রিমিয়ার স্ক্রিনিংয়ে মুক্তি পায়।[৫]
এই চলচ্চিত্রটি একটি বন্ধুত্বের গল্প বলে। এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের স্কুলছাত্রী, হলিউড অভিনেতা এবং কলাকুশলীদের নিয়ে তৈরি। সাদাকোর ভাগ্নেকে ছবিতে দেখা যায় এবং সে সাদাকোর জীবন সম্পর্কে একটি গান "ইনোরি" গায়। একই সময়ে, সাদাকোর দুটি সারস মিউজিয়াম অফ টলারেন্স এবং জাপানি আমেরিকান জাতীয় জাদুঘরে দানের ক্ষেত্রে মিয়ুকি সোহারা সহযোগিতা করেন।[৬][৭]
২০১৯ সালে, ইভলভিং পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট সাদাকো অ্যান্ড দ্য ম্যাজিক অফ পেপার ক্রেনস নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করে,[৮] এটি লিখেছেন ব্রিটিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা ম্যালকম ক্লার্ক। এই গল্পটি নিউ মেক্সিকোর আলবুকার্কের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি দলের আখ্যান, যারা তাদের শিক্ষকের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সাদাকোর কিংবদন্তি এবং আত্মাকে সম্মান জানাতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের স্বপ্ন দেখে।[৯][১০]
২০১৯ সালে, রিচার্ড রেমন্ড পরিচালিত ওয়ান থাউজেন্ড পেপার ক্রেনস নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করার ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে এলেনর কোয়ের চরিত্রে অভিনয় করবেন ইভান র্যাচেল উড। এই ছবিতে কোয়ের এবং সাদাকোর গল্প এবং "তাদের জীবন কি করে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত" তা বলা হয়েছে।[১১]
সম্পর্কিত কাজ এবং প্রভাব
[সম্পাদনা]অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বেল শেক্সপিয়ার থিয়েটার কোম্পানি তাদের ১৯৯৭ সালের মরশুমে এবং আবার ২০০০ সালে সাদাকো অ্যাণ্ড থাউজেন্ড পেপার ক্রেন নাটকের একটি প্রযোজনা নিয়ে আসে।[১২]
তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সপ্তাহের দিনগুলিতে এটি পরিবেশন করে।
হিরোশিমা বোমা হামলার বার্ষিকীতে জাপানি স্কুলগুলিতে শেখানো হয় সাদাকো সাসাকি শান্তির একটি প্রধান প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার প্রতি উৎসর্গ করে, সারা বিশ্বের মানুষ ৬ আগস্টকে বার্ষিক শান্তি দিবস হিসেবে উদযাপন করে।[১৩]
আরও দেখুন
[সম্পাদনা]- শিশুদের শান্তি স্মৃতিস্তম্ভ
- হিরোশিমা সাক্ষী
- পিস পার্ক (সিয়াটল)
- ওরিজুরু
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- ↑ Coerr, Eleanor; illustrated by Ronald Himler (১৯৭৭)। Sadako and the Thousand Paper Cranes। Putnam Juvenile। আইএসবিএন ৯৭৮০৩৯৯২০৫২০০।
- ↑ "Sadako Sasaki"। ১৩ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০২০।
- ↑ "Sadako and the Thousand Paper Cranes (1991)"। rarefilmm। ৯ জুলাই ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০২৪।
- ↑ "Sadako and the Thousand Paper Cranes" (Album liner notes)। ১৯৯৫।
- ↑ "Orizuru 2015"। Laemmle.com। ১২ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০২৪।
- ↑ "Miyuki Sohara, a film director, producer, actress, and freelance announcer who moved to the United States in 1999"। Discover Nikkei। ৬ এপ্রিল ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০২৪।
- ↑ "Peace, Hope and Friendship"। Rafu Shimpo। ১৬ জুন ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ২৬ জুন ২০২৪।
- ↑ "Evolving Pictures Entertainment Presents, 'Sadako and the Magic of Paper Cranes'"। ৩ মে ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৯।
- ↑ "BRIDGEGATE FILMS – MOTION PICTURES – REALITY TV"। BRIDGEGATE FILMS – MOTION PICTURES – REALITY TV। ৮ অক্টোবর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১৩।
- ↑ "Special Exhibition 5"। www.pcf.city.hiroshima.jp। ৬ জুলাই ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১৩।
- ↑ Clarke, Stewart (৩ মে ২০১৯)। "Evan Rachel Wood to Star in Hiroshima-Inspired 'One Thousand Paper Cranes'"। Variety। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০১৯।
- ↑ "Past productions"। Bell Shakespeare। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৪।
- ↑ "Special Exhibition 4"। www.pcf.city.hiroshima.jp। ১২ নভেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ অক্টোবর ২০১৩।