বিষয়বস্তুতে চলুন

সাঈদ ইবনে সালিম আল-বাহিলি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাঈদ ইবনে সালিম আল-বাহিলি
سعيد بن سالم الباهلي
আব্বাসীয় খিলাফতের আল-জাজিরা প্রদেশের গভর্নর
কাজের মেয়াদ
৭৯৬  ৭৯৭
সার্বভৌম শাসকহারুনুর রশিদ
আর্মেনিয়ার আব্বাসীয় গভর্নর
কাজের মেয়াদ
৭৯৬  ৭৯৭
সার্বভৌম শাসকহারুনুর রশিদ
পূর্বসূরীআহমদ ইবনে ইয়াজিদ
উত্তরসূরীনাসর ইবনে হাবিব আল-মুহাল্লাবি
ব্যক্তিগত বিবরণ
মৃত্যুআব্বাসীয় খিলাফত
পিতামাতাসালিম ইবনে কুতায়বা
সামরিক পরিষেবা
আনুগত্যআব্বাসীয় খিলাফত
শাখাআব্বাসীয় সেনাবাহিনী
যুদ্ধআরব–কাজার যুদ্ধ

সাঈদ ইবনে সালিম আল-বাহিলি ছিলেন প্রাথমিক আব্বাসীয় খিলাফতের একজন আরব গভর্নর ও সামরিক কমান্ডার। তিনি উমাইয়া গভর্নর সালিম ইবনে কুতায়বার পুত্র এবং মাওয়ারান্নাহর বিজয়ী প্রখ্যাত উমাইয়া সেনাপতি কুতাইবা ইবনে মুসলিমের পৌত্র ছিলেন।।

জীবনী

[সম্পাদনা]

সাইদ ইবনে সালিম বনু বাহিলা গোত্রের একটি প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম নেওয়া একজন আরব সৈনিক ছিলেন। তার পিতা সালিম ইবনে কুতাইবা উমাইয়া ও আব্বাসীয় উভয় খিলাফতের অধীনে বসরা প্রদেশের গভর্নর হিসেবে কাজ করেন এবং তার দাদা মাওয়ারান্নাহর বিজয়ী কুতাইবা ইবনে মুসলিম একজন খ্যাতিমান সেনাপতি ছিলেন। সাইদ ছাড়াও তাঁর একাধিক ভাই ও চাচাতো ভাই আব্বাসীয় খিলাফতে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন।[]

৭৭৬/৭ সালের দিকে তিনি খোরাসান অঞ্চলে ইউসুফ আল-বার্মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন।[] সাইদ ছিলেন খলিফা আল-হাদির (শা. ৭৮৫–৭৮৬) ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং তাঁর সাহচর্যিক সঙ্গী।[] যখন আল-হাদি জুর্জান প্রদেশে ছিলেন, তখন তার পিতা খলিফা আল-মাহদির মৃত্যুর সংবাদ আসে এবং আল-হাদির সিংহাসনে অধিষ্ঠানের খবর পাওয়া যায়। তখন সাইদ আল-হাদির সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী বাগদাদে যান, যেখানে আল-হাদি সিংহাসনে আরোহন করেন। ইমাম আল-তাবারি উল্লিখিত এক বিবরণ অনুযায়ী, খলিফা আল-হাদির দরবারে সাঈদ সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তিনি তার নিজ ভাই ইব্রাহিমের স্থলাভিষিক্ত হন।[][]

খলিফা হারুনুর রশিদ ( শা. ৭৮৬–৮০৯) শাসনামলে তাকে একাধিক প্রাদেশিক গভর্নর পদে নিযুক্ত করা হয়। ৭৯৬/৭ সালে তাকে জাজিরা অঞ্চলের গভর্নর নিযুক্ত করা হয় এবং ৭৯৯ সালে তিনি আর্মিনিয়া প্রদেশের গভর্নর ছিলেন, যখন কাজাররা আব্বাসীয় ভূখণ্ডে আগ্রাসন চালায়।[][]

এক বিবরণ অনুসারে, এই আগ্রাসনটি সম্ভবত সাইদ আল-মুনাজ্জিম আস-সুলামিকে (দের্বেন্টের স্থানীয় শাসক) ফাঁসি দেওয়ার কারণে হয়। কারণ তাঁর সন্তান কাজারদের কাছে গিয়ে নিজের পিতাকে হত্যার প্রতিশোধ চায়। কাজাররা সাইদকে পরাজিত করে এবং তাকে পালিয়ে যেতে হয়। পরে হারুনুর-রশিদ খুজায়মা ইবনে খাজিম ও ইয়াজিদ ইবনে মাজযাদকে সেখানে পাঠান। তারা যুদ্ধে কাজার বাহিনীকে পরাজিত করে প্রদেশে সুশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে।[] সাইদ মসুল তাবারিস্তান ও সিন্ধ প্রদেশের গভর্নর হিসেবেও কাজ করেছেন। এরপর সেখানে তার ভাই কাতিরকে তার প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়।[]

৮০৭ সালে খলিফা হারুন তাকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী মির’য়াশ দুর্গ শহরের কমান্ডার হিসেবে নিযুক্ত করেন। বাইজেন্টাইনরা ওই অঞ্চলে হামলা চালায় এবং কয়েকজন বন্দিকে নিয়ে যায়। তবে সাইদ তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে যাননি।[][] তাঁর মৃত্যুর সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তারিখে তাবারিতে তার শেষ উল্লেখ পাওয়া যায় ৮০৮/৯ খ্রিস্টাব্দে।[১০]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Crone 1980, পৃ. 136–137।
  2. 1 2 3 Crone 1980, পৃ. 137।
  3. Bosworth 1989, পৃ. 59 (note 243), 84।
  4. Bosworth 1989, পৃ. 59।
  5. Bosworth 1989, পৃ. 68।
  6. Bosworth 1989, পৃ. 163।
  7. Bosworth 1989, পৃ. 170–171।
  8. Bosworth 1989, পৃ. 268।
  9. Crone 1980, পৃ. 138।
  10. Bosworth 1989, পৃ. 331–332।

গ্রন্থপঞ্জি

[সম্পাদনা]
  • Bosworth, C.E., সম্পাদক (১৯৮৯)। The History of al-Ṭabarī, Volume XXX: The ʿAbbāsid Caliphate in Equilibrium: The Caliphates of Mūsā al-Hādī and Hārūn al-Rashīd, A.D. 785–809/A.H. 169–192। SUNY Series in Near Eastern Studies.। Albany, New York: State University of New York Press। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৮৮৭০৬-৫৬৪-৪
  • Crone, Patricia (১৯৮০)। Slaves on Horses: The Evolution of the Islamic Polity। Cambridge: Cambridge University Press। আইএসবিএন ০-৫২১-৫২৯৪০-৯