সাইরাজ বাহুতুলে

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সাইরাজ বাহুতুলে
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামসাইরাজ বসন্ত বাহুতুলে
জন্ম (1973-01-06) ৬ জানুয়ারি ১৯৭৩ (বয়স ৪৮)
মুম্বই, ভারত
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনলেগ ব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার, কোচ
সম্পর্কভিএস বাহুতুলে (পিতা)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৩৫)
১৮ মার্চ ২০০১ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ টেস্ট২৯ আগস্ট ২০০১ বনাম শ্রীলঙ্কা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ১০৮)
২২ ডিসেম্বর ১৯৯৭ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ ওডিআই৬ নভেম্বর ২০০৩ বনাম নিউজিল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই
ম্যাচ সংখ্যা
রানের সংখ্যা ৩৯ ২৩
ব্যাটিং গড় ১৩.০০ ৭.৬৬
১০০/৫০ -/- -/-
সর্বোচ্চ রান ২১* ১১
বল করেছে ৩৬৬ ২৯৪
উইকেট
বোলিং গড় ৬৭.৬৬ ১৪১.৫০
ইনিংসে ৫ উইকেট
ম্যাচে ১০ উইকেট -
সেরা বোলিং ১/৩২ ১/৩১
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১/- ৩/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ২৫ অক্টোবর ২০২০

সাইরাজ বসন্ত বাহুতুলে (এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ ; মারাঠি: साईराज बहुतुले; জন্ম: ৬ জানুয়ারি, ১৯৭৩) মহারাষ্ট্রের বোম্বে এলাকায় জন্মগ্রহণকারী সাবেক ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও কোচ। ভারত ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯০-এর দশকের শেষদিক থেকে শুরু করে ২০০০-এর দশকের সূচনালগ্ন পর্যন্ত ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে অন্ধ্র, আসাম, মহারাষ্ট্র, মুম্বই ও বিদর্ভ এবং ইংরেজ ক্রিকেটে সারে ক্রিকেট বোর্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন সাইরাজ বাহুতুলে

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সেন্ট জাভিয়ার্স হাই স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৯৮৮ সালে লর্ড হ্যারিস শীল্ড আন্তঃবিদ্যালয়ের খেলায় সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরের পক্ষে শচীন তেন্ডুলকরবিনোদ কাম্বলি’র মধ্যকার ৬৬৪ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটিতে সেন্ট জাভিয়ার্স হাই স্কুলের বোলারদের অন্যতম ছিলেন তিনি।

১৯৯১-৯২ মৌসুম থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সাইরাজ বাহুতুলে’র প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ঘরোয়া ক্রিকেটের শুরুতে মুম্বই ও পরবর্তীতে বিদর্ভের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। ঘূর্ণায়মান লেগ স্পিনার হিসেবে সাইরাজ বাহুতুলে ভারসাম্য বজায় রেখে যে-কোন ধরনের ক্রিকেট দলের পক্ষে আক্রমণাত্মক মেজাজে বোলিং করার অধিকারী ছিলেন। পাশাপাশি, ব্যাট হাতেও তার দক্ষতা ছিল। তাদের সাথে একত্রে মুম্বই থেকে স্নাতকধারী হয়েছিলেন। তবে, তার বোলিংয়ে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি একদিনের আন্তর্জাতিকেও। ফলশ্রুতিতে, তাকে পুণরায় ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে আসতে হয়।

১৫ বছর মুম্বই দলে খেলার পর আরও বেতনের প্রত্যাশায় মহারাষ্ট্র দলের সাথে যুক্ত হন। এ দলে তিন বছর অবস্থান করেন ও ২৮.২২ গড়ে ৫৪ উইকেট লাভ করেন। ২০০৮ সালে পুণরায় মুম্বই দলে প্রত্যাবর্তন করেন ও রঞ্জী ট্রফির শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এ পর্যায়ে দলটি হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত খেলায় উত্তরপ্রদেশের মুখোমুখি হয় ও ৩৮তম শিরোপা বিজয়ী হয়।

ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার ডিভিশনে রেলিগেট প্রাইয়োরির সারে চ্যাম্পিয়নশীপে পাঁচ মৌসুম খেলেন। ২০০৫ সালে দলটি শিরোপা জয় করে। ব্যাট ও বল হাতে নিয়ে সাইরাজ বাহুতুলে জোড়ালো ভূমিকা রাখেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট[সম্পাদনা]

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে দুইটিমাত্র টেস্ট ও আটটিমাত্র একদিনের আন্তর্জাতিকে অংশগ্রহণ করেছেন সাইরাজ বাহুতুলে। ১৮ মার্চ, ২০০১ তারিখে চেন্নাইয়ে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর, ২৯ আগস্ট, ২০০১ তারিখে কলম্বোয় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ইরানী ট্রফিতে একটি খেলায় ১৩ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। ফলশ্রুতিতে, ১৯৯৭ সালে ভারতীয় দলে খেলার জন্যে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিন বছর বাদে অনিল কুম্বলে’র আঘাতপ্রাপ্তির ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। তবে, দুই টেস্টে অংশ নিয়ে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হয়েছিল।

অবসর[সম্পাদনা]

১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে নিজের অবসরের কথা ঘোষণা করেন সাইরাজ বাহুতুলে।[১]

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন তিনি। জুন, ২০১৪ সালে কেরালা দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন।[২] এরপর, জুলাই, ২০১৫ সালে বাংলা দলের কোচ হন। এছাড়াও, রাজস্থান রয়্যালসের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

তথ্যসূত্র[সম্পাদনা]

  1. "Sairaj Bahutule announces first-class retirement"। Wisden India। ২ জানুয়ারি ২০১৩। ২৩ আগস্ট ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২০ 
  2. "Sairaj Bahutule appointed Kerala coach"espncricinfo.com। ১১ জুন ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ১২ জুন ২০১৪ 

আরও দেখুন[সম্পাদনা]

বহিঃসংযোগ[সম্পাদনা]