বিষয়বস্তুতে চলুন

সাইফ ইবনে উমর

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

সাইফ ইবনে উমর উসাইয়্যিদি আল-তামিমি ( আরবি: سيف بن عمر; ৯০–১৮০ হি./ ৭০৮–৭৯৬ খ্রি.)[][][] ছিলেন অষ্টম শতাব্দীর একজন মুসলিম ইতিহাসবিদ, যিনি কুফা নগরীতে বসবাস করতেন। তিনি "কিতাবুর রিদ্দাহ ওয়াল ফুতুহুল-কাবীর ওয়াল-রিদ্দা" নামে একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেন। [] এই গ্রন্থটিই পরবর্তী যুগের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ তাবারির (৮৩৯–৯২৩ খ্রি.) রচনায় রিদ্দার যুদ্ধ ও প্রাথমিক ইসলামি বিজয়সমূহের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ তাঁর গ্রন্থে ইসলামি বিজয়সমূহের যাবতীয় বিষয়াদি পূর্ণ সনদ সহকারে বিস্তৃত ও সামগ্রিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর গ্রন্থে প্রাথমিক মুসলিম সেনাবাহিনীর গঠনপ্রণালী ও ইসলামি শাসনব্যবস্থার কাঠামো সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ইমাম যাহাবির মতে, খলিফা হারুন অর রশিদের শাসনামলে (৭৮৬–৮০৯ খ্রি.) সাইফ ইবনে উমরের মৃত্যু ঘটে।[]

সাইফ ইবনে উমর
سيف بن عمر
জন্মআনু. ৯০ হি./ ৭০৮ খ্রি.
মৃত্যু১৮০ হি./ ৭৯৬ খ্রি.
পেশাইতিহাসবিদ
যুগউমাইয়া-আব্বাসীয়
পরিচিতির কারণইমাম তাবারির (৮৩৯–৯২৩) ইতিহাস রচনার অন্যতম সূত্র হওয়া
উল্লেখযোগ্য কর্ম
কিতাবুর রিদ্দা ওয়াল ফুতুহুল কবির ( كتاب الردة والفتوح الكبير)

তিনি জীবনের প্রথমার্ধ মদিনায় অতিবাহিত করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে ইরাকে চলে যান[] এবং কুফা নগরীতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কুফায় অবস্থানকালে তিনি সেখানকার প্রসিদ্ধ আলিম ও পণ্ডিতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক জ্ঞান অর্জন করেন এবং জীবদ্দশাতেই তাঁর খ্যাতি মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি নিজের সমসাময়িক লেখক ও ইতিহাসবিদদের মধ্যে আবু মিখনাফ (প্রায় ১১০–১৭০ হি.)[][] ও শিয়া ঐতিহাসিক নাসর ইবনে মুযাহিম (১৩০–২১২ হি.) তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।[][১০][১১] 'খলিফা ইবনে খাইয়্যাত' (১৬০–২৪০ হিজরি) শুয়াইব ইবনে হাইয়্যান, আবু মাদি ও আমর ইবনে ইয়াহইয়া হামদানির সূত্রে সাইফের বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন। এছাড়াও সাইফের মৃত্যুর পরেও বহু লেখক তাঁর থেকে বর্ণিত বিভিন্ন তথ্য সনদ উল্লেখ না করেই উদ্ধৃত করেছেন। [১২]

জীবনী

[সম্পাদনা]

সাইফ আনুমানিক ৯০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মদিনায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। ধারণা করা হয় যে, ১০৫ হিজরি সালের দিকে অল্প বয়সেই তিনি হাদিস ও ঐতিহাসিক বর্ণনা শ্রবণ ও সংগ্রহ করা শুরু করেন। মদিনার বিশিষ্ট আলেমদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান আহরণ করেন, বিশেষ করে রিদ্দা যুদ্ধসংক্রান্ত ইতিহাস ও সংবাদে পারদর্শী ছিলেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে। তাঁর শিক্ষকগণের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিস কাসিম ইবনে মুহাম্মদ, যিনি খলিফা আবু বকরের নাতি ছিলেন। সাইফ তাঁর কাছ থেকে কিছু ঐতিহাসিক বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।[১৩] ১০৫ বা ১০৭ হিজরি সালে কাসিম ইবনে মুহাম্মদের মৃত্যু হলে সাইফ তাঁর শিষ্য সাহল ইবনে ইউসুফ আনসারির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ঐতিহাসিক তথ্য গ্রহণ করতে থাকেন।[১৪] সাহল ইবনে ইউসুফ মদিনার একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন; মদিনায় তাঁর নামাঙ্কিত কিছু শিলালিপিও আজও পাওয়া যায়।[১৫]

তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে সাবিত ইবনুল জায আল আনসারির কাছ থেকেও কিছু বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তিনি আনুমানিক ৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৫ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তিনি সাঈদ ইবনে সাবিতের পুত্র ও সাবিত ইবনুল জাযের নাতি ছিলেন, যাঁরা উভয়ই তায়েফের যুদ্ধের সময় নিহত হন। ইতিহাসবিদ তাবারি উল্লেখ করেন যে, সাইফের শিক্ষক এই আব্দুল্লাহ বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।[১৬] তবে সাইফ তাঁর থেকে মাত্র দুটি বর্ণনা গ্রহণ করেছেন বলে জানা যায়। এতে ধারণা করা হয় যে, সাইফ তাঁর সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাননি। তবুও সাইফ যাঁদের থেকে জ্ঞানার্জন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদই সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। [১৭]

সাইফ মদিনার একদল ইতিহাসবিদ ও মুহাদ্দিস থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, মূসা ইবনে উকবা (৫৫–১৪১ হি.) ও হিশাম ইবনে উরওয়া (৬১–১৪৬ হি.)। হিশাম থেকে সাইফ বহু বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন।[১৮][১৯] এছাড়াও তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরী (৭১ – ১৪৬ হি.) থেকেও বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।[২০][২১] উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাঁরা সাহাবি উম্মা বিনতে খালিদ ইবনে সাঈদকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। সাইফ তাঁর কাছ থেকে কয়েকটি বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন। [২২]

সাইফ হারাম ইবনে উসমান আনসারি (৭০–১৩৬ হি.) থেকে কিছু বর্ণনা গ্রহণ করেছেন তবে মুহাদ্দিসরা হারাম ইবনে উসমানকে পরিত্যাগ করেছিলেন, কারণ তাঁর মধ্যে ব্যাপক শিয়া-প্রবণতা ছিল। সহিহ সনদে ইমাম বুখারি বর্ণনা করেন, বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে হিশাম ইবনে উরওয়াসহ অনেকেই হারাম ইবনে উসমানের দাফনে অংশ নিয়েছিলেন এবং আব্দুল্লাহ আল-মাহদি তাঁর কবরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

তবে সাইফ হারাম ইবনে উসমান থেকে মাত্র একটি সংবাদ বর্ণনা করেন, যা তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে উমরের আরেকটি বর্ণনার মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন। [১৭]এসবের পাশাপাশি সাইফ মদিনার আরো অনেক আলেম ও জ্ঞানী ব্যক্তির কাছ থেকে জ্ঞান ও ঐতিহাসিক বর্ণনা গ্রহণ করেছিলেন।

ইরাকে

[সম্পাদনা]

সাইফ উমাইয়া খিলাফতের শেষের দিকে মদিনা ত্যাগ করে ইরাক গমন করেন এবং আনুমানিক ১৩১ হিজরি সনে কুফা নগরীতে এসে বসতি স্থাপন করেন। একই সময়ে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ও আবু মা‘শার আল-মাদানিও মদিনা থেকে অন্যত্র গমন করেছিলেন। কুফা ও ইরাকে অবস্থানকালে সাইফ সেখানকার বহু আলেম ও বর্ণনাকারীর নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করেন। তিনি কুফার প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব জাবির ইবনে ইয়াজিদ জুফির (মৃ. ১৩২ হিজরি)[২৩] সংস্পর্শে থেকে তাঁর নিকট থেকে হাদিস ও ঐতিহাসিক বর্ণনা শোনেন এবং তাঁর সূত্রে একাধিক বর্ণনা সংকলন করেন।[২৪][২৫][২৬]

এছাড়াও তিনি মুগিরা ইবনে মুকসিম দুব্বির (মৃ. ১৩৩ হি.) সান্নিধ্যে থেকে তাঁর কাছ থেকেও বর্ণনা গ্রহণ করেন।[২৬] তিনি মুস্তানীর ইবনে ইয়াজিদ নাখাঈর (৫০–১৩৫ হি.) কাছ থেকেও বর্ণনা সংগ্রহ করেছেন, সাহাবি আরতা ইবনে কাব নাখাঈর নাতি ছিলেন। আরতাআ ইবন কা‘ব কাদিসিয়ার যুদ্ধে নাখা‘ গোত্রের পতাকাবাহক ছিলেন এবং তিনি যুদ্ধে শহীদ হন। এরপর তাঁর ভাই দুরাইদ ইবনে কাব পতাকা গ্রহণ করেন এবং পরে তিনিও নিহত হন।[২৭]

ইমাম তাবারির তারিখে দেখা যায় যে, সাইফ মুস্তানির ইবনে ইয়াজিদের সূত্রে মোট পনেরোটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। এসব বর্ণনার মধ্যে ইয়েমেনের রিদ্দা (ধর্মত্যাগ) সংক্রান্ত ঘটনা এবং কাদিসিয়ার যুদ্ধে নাখা গোত্রের ত্যাগ ও বীরত্বের ঘটনাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[২৮][২৯]

এছাড়াও তিনি বিখ্যাত তাবেঈ মু‘আম্মার আব্দুল মালিক ইবনে উমাইরের (৩৩–১৩৬ হি.) কাছ থেকেও একাধিক বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তবে সাইফ তাঁর বর্ণনাগুলো দুই ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।[৩০] তিনি কুফার কাজি আশআস ইবনে সাওয়ার কুফি ( মৃ. ১৩৬ হি.) ও আবু ইসহাক শায়বানি (মৃ. ১৩৮ হি.) থেকেও একাধিক বর্ণনা গ্রহণ করেছিলেন।[৩১][৩২]

তিনি প্রসিদ্ধ মুফাসসির আতিয়্যা ইবনুল হারিস হামদানির (৫০–১৩৮ হি.) কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন।[৩৩][৩৪] আতিয়া সাহাবি আদি ইবনে হাতিমের (৩০ হি.পূ.– ৬৮ হি.) সাক্ষাৎ লাভ করেন এবং তাঁর কাছ থেকে হাদিসও বর্ণনা করেন।[৩৫] আতিয়া সাইফের অন্যতম শিক্ষক ছিলেন এবং তার থেকে তিনি অনেক বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, যা তাবারির ‘তারিখ’ গ্রন্থে সংরক্ষিত রয়েছে। আতিয়া আবু মিখনাফেরও শিক্ষক ছিলেন এবং তাঁর থেকে আবু মিফনাফও বেশ কিছু বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।[৩৬][৩৭][৩৮]

তিনি উসমান ইবনে হাকিম আল-আনসারি (মৃ. ১৩৯ হি.) থেকেও কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন।[৩৯][৪০] সাঈদ ইবনে মারজবান আল-বাক্কাল (মৃ. ১৪০ হি.) সম্পর্কে বলা হয় যে, তাবারির তারিখ গ্রন্থে তাঁর সূত্রে প্রায় পনেরটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যা তিনি সাইফের সূত্রে উল্লেখ করেন। সাইফ 'কাসিম বিন ওয়ালিদ হামদানি' (মৃ. ১৪১ হি.) থেকেও কিছু বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। [৪১][৪২][৪৩]

এছাড়াও তালহা ইবনুল আ‘লাম আল-কুফির (মৃ. ১৪২ হি.) সূত্রে সাইফ বিপুল পরিমাণে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, যিনি প্রখ্যাত তাবেয়ী ইমাম শাবির শিষ্য ছিল।[৪৪][৪৫]

কুফায় সাইফের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শিক্ষক ছিলেন মুজালিদ ইবনে সাইয়্যাদ (মৃ. ১৪৪ হি.)। তিনি তার কাছ থেকে আমির আল-শা'বি সম্পর্কে কয়েক দশকীয় রূপকথা (রাওয়ায়াত) শিখেছেন। মুজালিদের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শিক্ষার্থী ছিলেন সাইফ ইবনে উমর ও আবু মিখনাফ, যারা উভয়ই তার কাছ থেকে প্রচুর রূপকথা (রাওয়ায়াত) গ্রহণ করেছেন। যখন তারা মুজালিদের থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করতেন, তখন তাদের বর্ণনা প্রায় একরকমের হত। সাইফ বজিলা গোত্রের দাস ইসমাইল ইবনে আবি খালেদ থেকেও কিছু বর্ণনা গ্রহণ করেছেন। তাবারির মধ্যে তার সূত্রে দশটিরও বেশি রূপকথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বজিলা গোত্রের দৃষ্টিভঙ্গি ও ঘটনার বিবরণ প্রদান করে।[৪৬] ইসমাইল একজন প্রসিদ্ধ কাসসাস (গল্পকার) ছিলেন। এছাড়া তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক[৪৭]আল-ওয়াকেদি থেকে ইতিহাস শিখেছেন। তবে আল-ওয়াকেদি যেহেতু সরাসরি ইসমাইলকে দেখেননি, তাই তিনি সুফিয়ান সাওরির মাধ্যমে তার বর্ণনা শ্রবণ করেছেন।[৪৮]

সাইফ আ'মশ (৬১ হি.–১৪৮ হি.) থেকে পাঁচটি রেওয়ায়াত গ্রহণ করেছেন।[৪৯][৫০] এছাড়াও তিনি ইউনুস ইবনে আবি ইসহাক (৭০ হি.–১৫৯ হি.) থেকেও কিছু বর্ণনা নথিভুক্ত করেছেন। তবে আবু মিখনাফ তার তুলনায় ইউনুস থেকে অধিক বর্ণনা সংগ্রহ করেছেন।[৫১][৫২]

বসরায় তিনি খালেদ ইবনে মাহরান (১৪১ হি.),[৫৩] মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ সলমি (১৪২ হি.),[৫৪] আসিম ইবনে সুলাইমান (১৪২ হি.),[৫৫] আবু বকর হুজলি (১৫৯ হি.), [৫৬] ও আবু বকর মদায়িনীর কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন।[৫৭]

হাদিসে গ্রহণযোগ্যতা

[সম্পাদনা]

হাদিস শাস্ত্রে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত বিষয় হিসেবে ছিল।[] তাঁর প্রসঙ্গে মুসলিম ইতিহাসবিদ ও রিজাল শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ পণ্ডিতরা নানা মন্তব্য করেছেন। যাহাবি বলেছেন: সাইফ একজন ঐতিহাসিক ছিলেন এবং এই বিষয়ে তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। [৫৮] তিনি আরব-ইসলামি ইতিহাসের প্রাচীন ইতিহাসবিদদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন এবং এই ক্ষেত্রে তাকে ইবনে ইসহাকআবু মিখনাফের পর্যায়ভুক্ত মনে করা হয়।[৫৯] হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসরা তাঁকে অন্যান্য ইতিহাসবিদদের মতোই দুর্বল (যঈফ) বলে গণ্য করেছেন[৬০] এ প্রসঙ্গে ইবনে হাজার বলেন: “তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল, তবে ঐতিহাসিক বর্ণনায় তিনি নির্ভরযোগ্য উৎস।”[৬১]

নিজের সংকলিত অনেক ঐতিহাসিক বর্ণনার একমাত্র সূত্র হওয়ার কারণে কিছু ইতিহাসবিদ তার বিরুদ্ধে কাহিনি গড়া বা বর্ণনায় অতিরঞ্জন করার অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে জুলিয়াস ওয়েলহাউসেনের মতো বাইবেল-পণ্ডিত ও প্রাচ্যবিদরা এই বিষয়ে তাঁর ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। কিন্তু অধিকাংশ মুসলিম ইতিহাসবিদ সাইফের ঐতিহাসিক বর্ণনার গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে তেমন নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। কেবল এতটুকু বলা হয়েছে যে, তার কিছু বর্ণনা বনু তামিম গোত্র কর্তৃক প্রভাবিত হয়েছে। তবে তিনি এমন কিছু কাহিনীও সংগ্রহ করেছেন, যা অন্যান্য গোত্রের কৃতিত্ব ও ঘটনাবলী প্রকাশ করে।[]

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাইফ ইবনে উমরকে পূর্বে যতটা নির্ভরযোগ্য মনে করা হতো, মূলত তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।[৬২] ডব্লিউ. এফ. টাকার ও এলা ল্যান্ডাউ-টাসারন উল্লেখ করেছেন যে, সাইফ হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে তেমন সতর্ক না হলেও এটি তার ইতিহাস বর্ণনার নির্ভরযোগ্যতাকে হ্রাস করে না।[৬২] টাকার আরো বলেছেন যে, পক্ষপাতের অভিযোগ একইভাবে অন্যান্য সমকালীন ইতিহাসবিদের ক্ষেত্রেও করা যেতে পারে।[৬২] এছাড়াও ফুয়াত সেজগিন, আলব্রেঠ নথ ও মার্টিন হিন্ডসও ওয়েলহাউসেনের সমালোচনাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং সাইফকে অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসবিদদের সমপর্যায়ে বিবেচনা করেছেন।[৬৩]

পাশ্চাত্য গবেষক ও প্রাচ্যবিদ ফ্রেড ডোনার সাইফ ইবনে উমরকে নির্ভরযোগ্য বলে অভিহিত করেন এবং তাঁকে আরব ইতিহাসের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করেন।[৬৪] বিশিষ্ট গবেষক জাওয়াদ আলি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “সাইফ ইবনে উমর হিজরি ২য় শতাব্দীর একজন সক্রিয় ইতিহাসবিদ ছিলেন। তিনি কখনো ইতিহাসচর্চা পরিত্যাগ করেননি; বরং ইতিহাসই তাঁকে আকৃষ্ট করে এবং মানুষের মধ্য থেকে তাকে নির্বাচন করে নিয়েছিল। অবশেষে ১৮০ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।”[৬৫]

ইতিহাসবিদ ইমাম তাবারি সাইফ ইবনে উমরের "কিতাবুর রিদ্দা ওয়াল-ফুতূহ’ নামক গ্রন্থের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন।[৬৬] তাবারির ইতিহাস গ্রন্থে সাইফ ইবনে উমরের নাম প্রায় তিন শতাধিক স্থানে উল্লেখিত হয়েছে। প্রথমবার তাঁর নাম আসে ১০ হিজরি সনের ঘটনাবলিতে, যে বছরে নবি মুহাম্মদের জীবদ্দশায় মুসাইলিমা নবুয়তের মিথ্যা দাবি শুরু করে। সর্বশেষ তাঁর নাম পাওয়া যায় ৩৬ হিজরি সনের ঘটনাবলিতে, যখন আলি ইবনে আবি তালিব সিফফিনের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন এবং এরপর তাঁর নাম আর উল্লেখ করা হয়নি।[৬৭][৬৮][৬৯]

সাইফ ও আবু মিখনাফ উভয় যখন তাঁদের অভিন্ন শিক্ষক থেকে একই ঘটনা বর্ণনা করতেন, তখন তাঁদের বক্তব্যে মিল দেখা যেত। কিন্তু যখন তাঁরা নিজ নিজ গোত্রের লোকদের সূত্রে সংবাদ বর্ণনা করতেন, তখন মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠত। এতে দেখা যায়, সাইফ তাঁর গোত্র তামিমকে উচ্চ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আবু মিখনাফ তাঁর গোত্র আযদকে প্রাধান্য দেন। তাই জাওয়াদ আলি বলেন যে, সাইফ অন্যান্য অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতই আবেগপ্রবণ স্বভাবের মানুষ ছিলেন এবং নিজ গোত্রের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। ... তবে আমি তাকে তাঁর এই প্রবল আবেগের দোষ দিতে চাই না; কারণ তাঁর যুগ গোত্রভিত্তিক যুগ ছিল এবং তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থা এমনই গোত্রকেন্দ্রিক ছিল, যা গোত্রীয় পক্ষপাত ও ঐক্যের ওপরই নির্ভরশীল ছিল।[৬৫]

রচনাবলী

[সম্পাদনা]
  • কিতাবুর রিদ্দা ওয়াল ফুতুহ আল-কাবির[৭০]
  • কিতাবুল জামাল

মৃত্যু

[সম্পাদনা]

সাইফ ইবনে উমর হারুনুর রশিদ খিলাফতের (শা. ১৭০–১৯৩ হি.) সময়ে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। তিনি দীর্ঘায়ু ছিলেন এবং বর্ণিত হয়েছে যে, শেষ জীবনে তিনি অন্ধত্বে ভোগেন। [৭১] এই প্রসঙ্গে ইবনে হাজার বলেছেন, কিতাবুর রিদ্দাহের লেখক সাইফ ইবনে উমর হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে রশিদের শাসনামলে মৃত্যুবরণ করেন।[৭২] আবু ইসহাক ইসফারায়িনী দাবী করেছেন যে, সাইফ ইবনে উমর ১৭০ হিজরিতে মারা গিয়েছিলেন[৭৩] এবং ইসফারায়িনির এই বক্তব্যকে অন্যান্য অনেকেই স্বীকার করেছেন।[৭৪]

আরো দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. Conversion to Islam - Ayman S. Ibrahim - Page 107 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৫ তারিখে
  2. تاريخ الدولة العباسية - إيناس البهيجي - ج2 - الصفحة 202 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  3. Warraq, Ibn (৩০ সেপ্টেম্বর ২০১০)। Why I Am Not a Muslim (ইংরেজি ভাষায়)। Prometheus Books। আইএসবিএন ৯৭৮-১-৬১৫৯২-০২৯-৭
  4. Thomas, David। "Kitāb al-futūḥ al-kabīr wa-l-ridda"। Thomas, David; Mallett, Alex (সম্পাদকগণ)। Christian-Muslim Relations 600 - 1500। Brill।
  5. 1 2 3 Donner, Fred (১৯৯৫)। "Sayf B. ʿUmar"। Encyclopaedia of Islam। খণ্ড ৯ (2nd সংস্করণ)। Brill Academic Publishers। পৃ. ১০২–১০৩। আইএসবিএন ৯০-০৪-১০৪২২-৪
  6. موسوعة مكة المكرمة والمدينة المنورة - مجموعة مؤلفين - ج 2 - الصفحة 223 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  7. الجمل - الشيخ المفيد - الصفحة ٦٣. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-০২-০৩ তারিখে
  8. الجمل - الشيخ المفيد - الصفحة 128. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২৩-০১-২৫ তারিখে
  9. صفين - نصر بن مزاحم - الصفحة ٥، ٦، ٩، ١٠. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২০-০২-০৭ তারিখে
  10. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٣ - الصفحة ٤٧٦ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১২ তারিখে
  11. تاريخ الطبري - الطبري - ج4 - الصفحة 465 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  12. تاريخ خليفة بن خياط - خليفة بن خياط العصفري - الصفحة ٩٣ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  13. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1450"hadith.islam-db.com। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  14. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 975"hadith.islam-db.com। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  15. "د. عبدالرزاق الرميحي on Twitter"Twitter (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  16. الإصابة - ابن حجر - ج4 - الصفحة 99
  17. 1 2 تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٤٧٩ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  18. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٥٥٠ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  19. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٤٦٣ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  20. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٥٠٣ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  21. الجامع - الترمذي - رقم الحديث : 3830 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  22. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٤٨٨ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  23. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1450"hadith.islam-db.com। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  24. تاريخ مدينة دمشق - ابن عساكر - ج ٥٨ - الصفحة ٤١٤. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-০৯-১৬ তারিখে
  25. أعلام النبلاء - الحاج حسين الذهبي - ج3 - الصفحة 199. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৮-৩০ তারিখে
  26. 1 2 التاريخ الكبير - البخاري - ج ٧ - الصفحة ٣٢٢ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৮-৩০ তারিখে
  27. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٤٦٣ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  28. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٥٠٣ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  29. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٤٨٨ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  30. الجامع - الترمذي - رقم الحديث : 3830 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  31. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1193"hadith.islam-db.com। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  32. "تاريخ الطبري - الطبري - ج ٣ - الصفحة ٣٣٦"shiaonlinelibrary.com। ৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  33. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1059"hadith.islam-db.com। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  34. "الطبقات الكبرى - ط العلميه - ابن سعد - مکتبة مدرسة الفقاهة"ar.lib.eshia.ir (ফার্সি ভাষায়)। ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  35. "تاريخ الطبري تاريخ الرسل والملوك وصله تاريخ الطبري - الطبري، ابن جرير - مکتبة مدرسة الفقاهة"ar.lib.eshia.ir (ফার্সি ভাষায়)। ১৫ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  36. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1450"hadith.islam-db.com। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  37. تاريخ الطبري - الطبري - ج3 - الصفحة 569 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  38. مقتل الحسين (ع) - أبو مخنف الأزدي - الصفحة ٢٩٨ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০১-২৫ তারিখে
  39. "الطبقات لخليفه بن خياط - خليفة بن خياط العصفري - مکتبة مدرسة الفقاهة"ar.lib.eshia.ir (ফার্সি ভাষায়)। ১৫ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  40. التاريخ - الطبري - ج4 - الصفحة 398 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৫ তারিখে
  41. إسماعيل/البخاري, أبي عبد الله محمد بن (১ জানুয়ারি ২০০৮)। التاريخ الكبير 1-9 مع الفهارس ج7 (আরবি ভাষায়)। Dar Al Kotob Al Ilmiyah دار الكتب العلمية।
  42. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1367"hadith.islam-db.com। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  43. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1220"hadith.islam-db.com। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  44. "الجرح والتعديل - الرازي - ج ٤ - الصفحة ٤٨٢"shiaonlinelibrary.com। ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  45. "تاريخ الطبري - الطبري - ج ٣ - الصفحة ٤٩٣"shiaonlinelibrary.com। ৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  46. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1045"hadith.islam-db.com। ১৫ মার্চ ২০২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  47. "تاريخ الطبري تاريخ الرسل والملوك وصله تاريخ الطبري - الطبري، ابن جرير - مکتبة مدرسة الفقاهة"ar.lib.eshia.ir (ফার্সি ভাষায়)। ১৩ জুলাই ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  48. "تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ١٠٩"shiaonlinelibrary.com। ৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  49. "موسوعة الحديث  : تاريخ الطبري : 1221"hadith.islam-db.com। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  50. "تاريخ الطبري تاريخ الرسل والملوك وصله تاريخ الطبري - الطبري، ابن جرير - مکتبة مدرسة الفقاهة"ar.lib.eshia.ir (ফার্সি ভাষায়)। ২৮ মে ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  51. تاريخ الطبري - الطبري - ج6 - الصفحة 345 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  52. تاريخ الطبري - الطبري - ج ٢ - الصفحة ٥٦٨ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  53. سعد, محمد بن منيع الهاشمي البصري/ابن (১ জানুয়ারি ২০১৭)। الطبقات الكبرى 1-9 مع الفهارس ج7 (আরবি ভাষায়)। Dar Al Kotob Al Ilmiyah دار الكتب العلمية।
  54. التاريخ - الطبري - ج 4 - الصفحة 455 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৫ তারিখে
  55. টেমপ্লেট:استشهاد بويكي بيانات
  56. التاريخ - الطبري - ج 4 - الصفحة 124 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৫ তারিখে
  57. التاريخ - الطبري - ج 4 - الصفحة 266 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৫ তারিখে
  58. سامعي, أ د إسماعيل; الاكاديمي, مركز الكتاب (১ জানুয়ারি ২০১৬)। علم التاريخ - دراسة في المناهج و المصادر (আরবি ভাষায়)। مركز الكتاب الأكاديمي। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৭-৩৫-১৩৪-২
  59. الحنفي, علاء الدين مغلطاي بن قليج/البكجري (১ জানুয়ারি ২০১১)। إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال 1-6 ج3 (আরবি ভাষায়)। Dar Al Kotob Al Ilmiyah دار الكتب العلمية।
  60. هرنشو (১ জানুয়ারি ২০২০)। علم التاريخ (আরবি ভাষায়)। Al Manhal। আইএসবিএন ৯৭৯৬৫০০৪২৮৬৯৭
  61. تقريب التهذيب - ابن حجر - ج ١ - الصفحة 257 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  62. 1 2 3 Tucker, William Frederick (২০০৮)। Mahdis and millenarians: Shī'ite extremists in early Muslim Iraq। Cambridge University Press। পৃ. ১০–১২। আইএসবিএন ৯৭৮-০-৫২১-৮৮৩৮৪-৯
  63. Landau-Tasseron, Ella (জানুয়ারি ১৯৯০)। "Sayf Ibn 'Umar in Medieval and Modern Scholarship"। Der Islam৬৭: ১–২৬। ডিওআই:10.1515/islm.1990.67.1.1আইএসএসএন 1613-0928এস২সিআইডি 164155720
  64. سامعي, أ د إسماعيل; الاكاديمي, مركز الكتاب (১ জানুয়ারি ২০১৬)। علم التاريخ - دراسة في المناهج و المصادر (আরবি ভাষায়)। مركز الكتاب الأكاديمي। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৭-৩৫-১৩৪-২
  65. 1 2 سيف بن عمر - جواد علي - مجلة الرسالة/العدد 856، بتاريخ: 28 - 11 - 1949. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  66. الحنفي, علاء الدين مغلطاي بن قليج/البكجري (১ জানুয়ারি ২০১১)। إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال 1-6 ج3 (আরবি ভাষায়)। Dar Al Kotob Al Ilmiyah دار الكتب العلمية।
  67. هرنشو (১ জানুয়ারি ২০২০)। علم التاريخ (আরবি ভাষায়)। Al Manhal। আইএসবিএন ৯৭৯৬৫০০৪২৮৬৯৭
  68. فتوح البلدان - البلاذري - ج ٢ - الصفحة ٣٧٧. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০১৯-১২-৩০ তারিখে
  69. فتوح البلدان - البلاذري - ج ٢ - الصفحة ٣١١. ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০২১-০৭-১৩ তারিখে
  70. فهرسة ابن خير الإشبيلي। পৃ. ২০৪।
  71. سامعي, أ د إسماعيل; الاكاديمي, مركز الكتاب (১ জানুয়ারি ২০১৬)। علم التاريخ - دراسة في المناهج و المصادر (আরবি ভাষায়)। مركز الكتاب الأكاديمي। আইএসবিএন ৯৭৮-৯৯৫৭-৩৫-১৩৪-২
  72. "تقريب التهذيب - ابن حجر - ج ١ - الصفحة ٤٠٨"shiaonlinelibrary.com। ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২২ জানুয়ারি ২০২৬
  73. الحنفي, علاء الدين مغلطاي بن قليج/البكجري (১ জানুয়ারি ২০১১)। إكمال تهذيب الكمال في أسماء الرجال 1-6 ج3 (আরবি ভাষায়)। Dar Al Kotob Al Ilmiyah دار الكتب العلمية।
  74. هرنشو (১ জানুয়ারি ২০২০)। علم التاريخ (আরবি ভাষায়)। Al Manhal। আইএসবিএন ৯৭৯৬৫০০৪২৮৬৯৭