বিষয়বস্তুতে চলুন

সাঁওতাল সংস্কৃতি জাদুঘর

সাঁওতাল সংস্কৃতি জাদুঘর
ᱥᱟᱱᱛᱟᱞ ᱟᱹᱨᱤᱪᱟᱹᱞᱤ ᱫᱚᱦᱚ ᱡᱚᱜᱟᱣ ᱵᱟᱠᱷᱚᱞ
মানচিত্র
স্থাপিত২০০৭; ১৯ বছর আগে (2007)
অবস্থানবিষ্ণুবাটি, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ
স্থানাঙ্ক২৩°৪২′১১″ উত্তর ৮৭°৩৮′৫৩″ পূর্ব / ২৩.৭০৩° উত্তর ৮৭.৬৪৮° পূর্ব / 23.703; 87.648
ধরনজাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর
সংগ্রহের আকার১৫০
প্রতিষ্ঠাতাবোরো বাস্কি
তত্ত্বাবধায়কবিমল বাস্কি
মালিকবিষ্ণুবাটি আদিবাসী মার্শাল সংঘ

সাঁওতাল সংস্কৃতি জাদুঘর একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর। এই‌ জাদুঘরটি পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুবাটি গ্রামে অবস্থিত[][]। এই জাদুঘরে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ইতিহাস সংরক্ষিত আছে। জাদুঘরে তাদের অতীত, স্মৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রার ধারা তুলে ধরা হয়েছে। বিষ্ণুবাটি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দাকে নিয়ে শিক্ষাবিদ ডঃ বোরো বাস্কি জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন।[] বিষ্ণুবাটি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় অবস্থিত একটি সাঁওতাল অধ্যুষিত গ্রাম। এই গ্রামে ৭০০-এরও কম মানুষ বাস করেন।[]

পটভূমি

[সম্পাদনা]

২০০৭ সালে ভারতীয় জাদুঘরের সহায়তায় সাঁওতাল সংস্কৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি এমন জাদুঘর, যা পুরোপুরি সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এই সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্যই গড়ে তোলা হয়েছে। জাদুঘরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ড. বোরো বাস্কি জানিয়েছেন, এই জাদুঘরের সাঁওতালি নাম হলো সান্তাল আরিচালি দহ - জগাও বাখোল, যার অর্থ—সাঁওতাল সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করার পরিবার[] এই সংগ্রহশালা একটি একতলা ঘর, যার স্থাপত্য ঐতিহ্যবাহী সাঁওতালি বাড়ির মতো। এর দেওয়ালে আঁকা রয়েছে সাঁওতালি ধাঁচের প্রাচীন চিত্রকলা। জাদুঘরটি শুধুমাত্র সাঁওতাল সম্প্রদায়ের অতীতকে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই উৎসর্গীকৃত। জাদুঘরের সংগ্রহে থাকা জিনিসপত্রের বেশিরভাগই স্থানীয় মানুষজন দান করেছেন। কিছু বিরল জিনিস কেনা হয়েছে। আবার কিছু সংগ্রহ করা হয়েছে বাঁকুড়া জেলার অন্যান্য সাঁওতালি এলাকা এবং ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগনার বিভিন্ন স্থান থেকে।[]

পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুবাটিতে সাঁওতাল সংস্কৃতি যাদুঘর

সাঁওতাল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য আরও কয়েকটি জাদুঘর রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ঝাড়গ্রামের আদিবাসী জাদুঘর, পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদিশা প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর, পুরুলিয়ার সিধো কানো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘর এবং ঝাড়খণ্ডের জোহার হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার।[][] তবে সাঁওতাল সংস্কৃতি জাদুঘর এই জাদুঘরগুলোর থেকে কিছুটা ভিন্ন। এটি সাঁওতাল দৃষ্টিভঙ্গি সংরক্ষণ এবং উপস্থাপনের এক বিশেষ উপায় অনুসরণ করে। এই জাদুঘর গড়ে উঠেছে বিষ্ণুবাটি গ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারের অবদানে। তবে এর জন্ম শুধু কারও অনুদানে নয়, বরং একটি স্বাভাবিক প্রয়োজনে—নিজেদের অতীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য।[] যাতে তারা জানতে পারে, তারা কারা এবং কোথা থেকে এসেছে। প্রথম দিকে গ্রামের অনেকে এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দিগ্ধ ছিলেন। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন তাদের সংস্কৃতি আলাদা করে তুলে ধরার প্রয়োজন আছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে। এখন এই জাদুঘর পুরোপুরি পরিচালিত হয় স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় ও উদারতায়।‌ জাদুঘরের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাও একটি বড় কাজ ছিল। এ জন্য সময় ও পরিশ্রম লেগেছে।[][]

ঐতিহাসিক এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট

[সম্পাদনা]
তত্ত্বাবধায়ক বিমল বাস্কি
জাদুঘরের ভিতরে (দ্বিতীয় তলা)
জাদুঘরের ভিতরে ঐতিহ্যবাহী ছাদ

ঘোষালডাঙ্গা আদিবাসী সেবা সংঘ (জিএএসএস)-এর উদ্যোগে ঘোষালডাঙ্গা গ্রামে সাঁওতালি সম্প্রদায়ের লোকজনের দ্বারা পরিচালিত একটি স্কুল আছে—রল্ফ শেমস বিদ্যাশ্রম (আরএসভি)।[] এই বিদ্যালয় ও সাঁওতাল সংস্কৃতি জাদুঘর একসঙ্গে কাজ করে। উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা এবং তাদের পরিবার নিজেদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।[১০][১১][১২] ড. বাস্কির মতে, সাঁওতালদের নিজেদের লিখিত ইতিহাস আগে কখনও রচিত হয়নি। অধিকাংশ স্মৃতি ও ঐতিহ্য মুখে মুখেই চলে এসেছে। কারণ, সাঁওতালি ভাষার কোনো লিখিত লিপি আগে ছিল না।[১৩][১৪] তিনি বলেন, "আদিবাসী জনগোষ্ঠীর লিখিত ইতিহাস সাধারণত সমাজের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দ্বারা লেখা হয়েছিল।"[] বীরভূম জেলার অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে সাঁওতালদের সম্পর্কে খুব সামান্য ধারণা আছে।[][] এমনকি উনিশ শতকে খ্রিস্টান মিশনারিরা সাঁওতাল সংস্কৃতি ও রীতিনীতির যথাযথ মর্যাদা দেয়নি। সেই সময় থেকে সাঁওতাল সম্প্রদায় এবং তাদের অতীত সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক ধারণা গড়ে উঠেছে—এমনকি এই ধারণা সাঁওতাল সমাজের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছে।[][]

সংগ্রহশালা

[সম্পাদনা]

জাদুঘরে প্রায় ১৫০টি বস্তু সংরক্ষিত রয়েছে, যেগুলো সাঁওতাল সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো ছয়টি আলাদা বিভাগে ভাগ করা হয়েছে—শিকার করার উপকরণ, সঙ্গীত যন্ত্র, পোশাক ও গহনা, গৃহস্থালি সামগ্রী, সাঁওতালদের পুরনো ছবি এবং পাথরের তৈরি সাঁওতাল ভাস্কর্য।[][১৫] জাদুঘরের অন্যতম একটি দুর্লভ সংগ্রহ হলো বানাম—একটি প্রাচীন তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্র। এটি সাঁওতালি সঙ্গীত ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।[১৬]

সাঁওতাল সংস্কৃতি জাদুঘরে প্রদর্শিত ভাস্কর্য

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "Dorfentwicklung Indien: Santal Museum"www.dorfentwicklung-indien.de। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  2. "Visiting the Museum of Santal Culture,West Bengal"indiantribalheritage.org। ২৭ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  3. "Meet Boro Baski: The Educator Who Set Up a School for Indigenous Children in West Bengal"The New Leam (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  4. 1 2 3 4 "In West Bengal's Birbhum, a unique community museum that archives Santal history and culture"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ১০ এপ্রিল ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  5. 1 2 3 Baski, Boro (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১)। "The Museum of Santal Culture in Bishnubati"Articulate (মার্কিন ইংরেজি ভাষায়)। ২৭ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  6. 1 2 Baski, Boro (১২ জুলাই ২০১৬)। "Lost in translation | D+C - Development + Cooperation"www.dandc.eu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  7. 1 2 Dasgupta, Sneharshi (২০২২)। "Preserving the Santali Self: History, Memory, and Culture"www.travellersuniversity.org। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  8. 1 2 3 Baski, Boro (১০ জুলাই ২০১৬)। "Saving our heritage | D+C - Development + Cooperation"www.dandc.eu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  9. "Ghosaldanga Adibasi Seva Sangha – Did it make a difference? (Lecture) | Martin Kämpchen" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  10. Marandi, Rosemary। "The Indian school where Indigenous children are 'never outsiders'"www.aljazeera.com (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  11. Dasgupta, Sneharshi (১২ ডিসেম্বর ২০২২)। "The Ghosaldanga Model of Indigenous Development"TravellersUniversity (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  12. "In their own language: a school in West Bengal's Birbhum for Santal children"The Indian Express (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০ মার্চ ২০২২। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  13. Baski, Boro (৪ মে ২০২১)। "The pros and cons of the Ol-chiki script | D+C - Development + Cooperation"www.dandc.eu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  14. Baski, Boro (৪ মে ২০২১)। "An Indian Adivasi community is divided by scripts | D+C - Development + Cooperation"www.dandc.eu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩
  15. Boro Baski (২০ নভেম্বর ২০১৭)। Museum of Santal Culture: A Catalogue on Santal Cultural Items
  16. "eBook | Free catalogue: Banam: One of the ancient musical instruments of the Santals – West Bengal – Tribal Cultural Heritage in India"indiantribalheritage.org। ২৭ জুন ২০২৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুন ২০২৩

আরও পড়ুন

[সম্পাদনা]
  • হেমব্রম, রুবি। (প্রকাশনার তারিখ নেই)। "বডিং এন্ড দ্যা সান্তাল পিউপিল: এনট্যুইন্ড ইন টাইমলেসনেস" (আসন্ন অমঙ্গলের আশঙ্কা ও সাঁওতাল সম্প্রদায়: কালজয়ী সম্পর্কে আবদ্ধ)। প্রকাশিত: কালচারাল হিস্ট্রি জাদুঘর, অসলো বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে পড়ুন।
  • হেমব্রম, রুবি। (প্রকাশনার তারিখ নেই)। "মাই লাইফ। মাই টেলিং। ইন মাই ভয়েস" ("আমার জীবন। আমার কাহিনী। আমার কণ্ঠে।)। এখানে পড়ুন।
  • ক্যাম্পচেন, মার্টিন। (২০০৬)। "সান্তালস রিচ আউট টু দ্যা ওয়ার্ল্ড" (সাঁওতালদের বিশ্বজয় করার প্রচেষ্টা)। ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার কোয়ার্টারলি, ৩২(৪), ১০০–১০৯। জেস্টোর 23005898

বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]