বিষয়বস্তুতে চলুন

সরোজ নলিনী দত্ত মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
সরোজ নলিনী দত্ত মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন
সংক্ষেপেএসএনডিএমএ(SNDMA)
গঠিতফেব্রুয়ারি ১৯২৫ (1925-02)
উদ্দেশ্যনারী ক্ষমতায়ন
সদরদপ্তরবালিগঞ্জ কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ ভারত
অবস্থান
  • ২৩/২, বালিগঞ্জ স্টেশন রোড, বালিগঞ্জ, কলকাতা ৭০০ ০১৯
নেতাসুমিতা সান্যাল
মূল ব্যক্তিত্ব
অদিতি চৌধুরী
ওয়েবসাইটwww.sarojnaliniduttmemorialassociation.com

সরোজ নলিনী দত্ত মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন (সংক্ষেপে- এসএনডিএমএ) বা সরোজ নলিনী দত্ত স্মৃতি সমিতি হলো মহিলাদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে গঠিত অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। বাংলার ব্রতচারী আন্দোলনের প্রবক্তা গুরুসদয় দত্ত কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন শতাব্দী প্রাচীন সংস্থাটি। []

ইতিহাস

[সম্পাদনা]

ব্রিটিশ ভারতে অর্ডার অফ দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ারে ভূষিতা সরোজ নলিনী দে ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি নারীবাদীসমাজ সংস্কারক। বাংলায় নারীদের উন্নয়নের আন্দোলনে একজন সংস্কারক ও পথিকৃৎ। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিবাহ করেন সেসময়ের দক্ষ আইসিএস অফিসার গুরুসদয় দত্তকে, যিনি কর্মজীবনে পল্লী উন্নয়নের কাজে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন। সেকারণেই ব্রিটিশ ভারতের বাঙালি নাগরিকদের দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা, নাগরিকত্ববোধ জাগাতে শুরু করেন ব্রতচারী আন্দোলনের মাধ্যমে। সরোজ নলিনীও স্বামীর কর্মক্ষেত্রে যখন যেথায় ছিলেন, আরম্ভ করেন স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের কাজ। এর পাশাপাশি গৃহ বিজ্ঞান ও গৃহ শিল্পশিক্ষা (যেমন কাঁথা বোনা সহ নানা হস্ত শিল্প) প্রসারে নানা স্থানে একাধিক মহিলা সমিতি স্থাপন করেন। প্রথম মহিলা সমিতি স্থাপন করেন পাবনা জেলায়। তারপর একে একে বীরভূম (১৯১৬), সুলতানপুর (১৯১৭) এবং রামপুরহাটে (১৯১৭)। প্রথমদিকে প্রতিষ্ঠিত মহিলা সমিতিগুলি সরোজ নলিনী দত্ত নারীমঙ্গল সমিতি নামে পরিচিত ছিল। "কমলা" পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লেখেন-

আমাদের দেশের মা-বোনেদের অনুরোধ ক'রছি, জেগে উঠুন.....স্ত্রীশিক্ষার প্রভাবে দেশ ছেয়ে ফেলুন।

কিন্তু নারীদের প্রতি তার এই আহ্বান প্রকাশের পরপরই প্রয়াত হন। স্ত্রী অসম্পূর্ণ কাজকে পূর্ণতা দিতে গুরুসদয় দত্ত ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে স্ত্রী সরোজ নলিনী দেবীর স্মরণে কলকাতার বালিগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেন সরোজ নলিনী দত্ত মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন। গুরুসদয় দত্তের অনুরোধে সংস্থার প্রথম সভাপতি হন হেমলতা ঠাকুর। তিনি ছিলেন রাজা রামমোহন রায়ের বংশের কন্যা, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্যা দ্বিপেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী। 'সরোজনলিনী’ আর ‘বসন্তকুমারী’ নামের দুটি বিধবা আশ্রম ও সমিতির মুখপত্র সচিত্র মাসিক পত্রিকা বঙ্গলক্ষ্মী-র সম্পাদনার ভার ছিল তারই উপর। সংস্থাটি সমাজের সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের কল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত আছে। দীর্ঘদিনের সুনামে পরিচালন করছে। বিগত শতবর্ষ ধরে নারী স্বাস্থ্য ও শিশু যত্ন, শিশুশিক্ষা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, বয়স্ক শিক্ষা, শিল্পশিক্ষা, মহিলা ও ছাত্রীদের হস্টেল, বৃদ্ধাশ্রম, বিধবা আশ্রম পরিচালনা, শিল্পশিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, নার্সিং প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার শিকাসহ চব্বিশ বিভাগে সংস্থাটির কর্মকাণ্ড বিস্তৃত। সংস্থাটি যুক্তরাজ্যের 'অ্যাসোসিয়েট কান্ট্রি উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড' এর পরিকল্পিত "মহিলাদের ক্ষমতায়ন" প্রকল্পে নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।[]

প্রতিষ্ঠানের সভাপতিত্বে যারা-

২০২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৫ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় শতবার্ষিকী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শতবর্ষ স্মারক গ্রন্থ (শতবর্ষের যাত্রাপথ) ক্যালিডোস্কোপ প্রকাশ করেন প্রসার ভারতীর প্রাক্তন মহাপরিচালক ও রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্য আইএএস জহর সরকার[]

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  1. "কলকাতার কড়চা - শতবর্ষ পরে"আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৫[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. "সরোজনলিনী দত্ত স্মৃতি সমিতি"। ২২ মে ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভকৃত। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৫{{ওয়েব উদ্ধৃতি}}: উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: বট: মূল ইউআরএলের অবস্থা অজানা (লিঙ্ক)
  3. "শতবার্ষিকী অনুষ্ঠান পালন করল সরোজ নলিনী দত্ত মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশন"। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২৫